রিক্ত বসন্ত

পর্ব - ২৩

🟢

কলিং বেল বাজানোর কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে একজন মাঝ বয়সি ভদ্রমহিলা এসে দরজাটা খুলে দিল।পরনে তার বেশ রংচঙে একটা সুতি ময়লা শাড়ি।সাজগোজ দেখেই মিলি আন্দাজ করতে পারলো বোধহয় ফরহাদের বাড়িতে কাজ করে।ভদ্র মহিলাকে দেখতেই মিলির সাথে ফরহাদ আলাপ করিয়ে দিল।

“মিলি,উনি সীমা আপা।দূরের কিন্তু খুব কাছের একজন।আমার বাড়ির,বাড়ির মানুষদের খুব খেয়াল রাখে।”

মিলি আলতো হেসে সালাম দিল।ভদ্রমহিলা তার ফকফকে সাদা দাঁতগুলো বের করে হেসে আন্তরিকতার গলায় বললেন,

“ওয়ালাইকুম আসসালাম আপা।আহেন ভিতরে আহেন।”

ফরহাদ আগবাড়িয়ে সীমাকে বলল,

“আপা আপনি একটু ওনাকে ধরে ভিতরে আনুন।সাবধানে আনবেন কেমন।”

ফরহাদের কথাটা সীমা আদেশের মতন মেনে চলল।মিলির হাতটা ধরে খুব সাবধানে ভেতরে নিয়ে এলো।

“মিতু কোথায় আপা?”

“মিতু আপা তো আব্বারে লইয়া উপরের ঘরে আছে।”

“ওহ্।মিলি আপনার উপর ওঠার দরকার নেই।দাঁড়ান আমি ওকে ডেকে আনছি।আপনি বসুন।”

কথাটা বলে ফরহাদ যেতে নিলে মিলি প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,

“মিতু কে?”

ফরহাদ স্বভাব সুলভ আলতো হেসে বলল,

“আমার সুখ।আপনি বসুন।আপা,মিলি কি খেতে চায় দেখুন।সেটা নিয়ে এসে দিন।”

কথাটা বলে ফরহাদ সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল।সীমা হাস্যজ্জ্বল গলায় মিলিকে বলল,

“কি খাইবেন আপা?”

“শুধু একটু পানি দিন।”

“আপনি বসেন,আনতাছি।

মিলির কেমন যেন হাঁসফাঁস লাগছে।কাকে আনতে গেল ফরহাদ?কে ওর সুখ?ফরহাদের মা?না তাহলে তো নাম ধরে ডাকত না।বোন হতে পারে।কিন্তু লাবিবা তো বলেছিল ফরহাদের ভাই বোন কেউ নেই।তাহলে স্ত্রী?না এটাও তো সম্ভব না।লাবিবা তো বলেছিল ফরহাদ নাকি অবিবাহিত।

তাহলে কে হতে পারে?মিলির এসব প্রশ্নের মাঝেই সিঁড়ি বেয়ে কারোর নামার শব্দ হলো।মিলি তাকিয়ে দেখল একটা কম বয়সী মেয়েকে শক্ত করে ধরে ফরহাদ নামছে।খুব যত্ন করে ধরে নামাচ্ছে যেন মেয়েটা পড়ে না যায়।মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্ছে বোধহয় দীর্ঘদিন যাবত কোন কঠিন রোগে ভুগছে।গায়ের হারগুলো যেন গোনা যাবে এখন।চোখের নিচটা ডেবে গেছে,শুষ্ক ঠোঁট,এলোমেলো চুল।ওদেরকে মিলির দিকে এগিয়ে আসতে দেখে মিলি বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো।মিতু এবারে ফরহাদের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে মিলির দিকে এগিয়ে এসে ওকে জড়িয়ে ধরলো।মিলি ভিষণ অবাক হল।এতটাই অবাক হলে যে পাল্টা মিতুকে জড়িয়েও ধরতে পারল না।মিতু উচ্ছ্বসিত গলায় বলল,

“তোমার সাথে আলাপ করার কতদিনের ইচ্ছে ছিল।ফরহাদকে অনেকদিন বলেছি যেন তোমায় একটু নিয়ে আসে আমার সাথে দেখা করানোর জন্য কিন্তু আনতোই না।তুমি যে এসেছো আমি খুব খুশি হয়েছি।”

মিলি এখনও একটা ঘোরের মাঝে আছে।ঘোরের মধ্যে থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না কোনমতেই।এদিকে মিলিকে চুপ করে থাকতে দেখে মিতু একটু ভয় পেল।ভাবলো হয়তো এভাবে হুট করে জড়িয়ে ধরায় বিরক্ত বোধ করেছে।তাড়াহুড়ো করে ছেড়ে দিয়ে মিলির থেকে একটু দূরত্বে দাঁড়িয়ে বলল,

“আমি হঠাৎ করে জড়িয়ে ধরলাম জন্য কি রাগ করলে?কিছু মনে করো না।আসলে আমার তোমাকে খুব পছন্দ।আর আজ তো প্রথম দেখা হল তাই তোমায় জড়িয়ে ধরলাম।তবে তুমি রাগ করলে আর ধরবো না।”

মিলি নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে একটু হেসে বলল,

“না না আমি রাগ করিনি।বরং আপনার আন্তরিকতা আমার ভীষণ ভালো লেগেছে।”

মিলি যে এখন প্রশ্ন করবে মিতু কে,ফরহাদের সাথে কি সম্পর্ক সেটাও করতে পারছে না।মিতু সামনে থাকার জন্য ফরহাদ কে কিছু জিজ্ঞেস করতে পারছে না।ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছে।ফরহাদ বোধহয় সেসব বুঝল।এগিয়ে এসে এক হাতে মিতুকে নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়ে মিলিকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“ও আমার সুখ মিলি।আমার স্ত্রী আর আমার ছেলের আম্মু।মিতালি নাম।আমি ভালোবেসে মিতু বলে ডাকি।আপনাকে বলেছিলাম না আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আমি আমার জীবনের সুখগুলোকে ধরে রাখতে পারি?আমার স্ত্রী আর আমার ছেলেই আমার সুখ।”

মিলি বাক রুদ্ধ হয়ে গেল।কি থেকে কি হয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারছে না।মানে ফরহাদ বিবাহিত অথচ অফিসের কেউ জানে না?লাবিবাও জানেনা।ফরহাদ তো কখনো কিছু জানায়নি।মিলি যেন বুঝতে পারছে না ও স্বপ্ন দেখছে কিনা।মিলি কে চুপ করে থাকতে দেখে ফরহাদ আবারো বলে উঠলো,

“আপনি বিয়েটা ভেঙ্গে দেওয়ার পর মিতু আমায় প্রপোজ করেছিল।জানেন আমরা দুইজন ব্যাচমেট।খুব ভালো বন্ধু ছিলাম ভার্সিটি লাইফে।কিন্তু এই মেয়েটা ভয়ে আমায় কখনো নিজের মনের কথাটা জানাতেই পারেনি।পরে যখন শুনল যে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে তখন জানিয়েছিল।ভাগ্যিস জানিয়েছিল।না হলে ওকে আমি পেতাম কি করে বলুন তো?”

মিলি আলতা হেসে বলল,

“সত্যিই তো যদি ঠিক সময় না জানাতেন তাহলে কি হতো বলুন তো?এজন্য মনের কথা সব সময় ঠিক সময় জানিয়ে দিতে হয়।ভাগ্যিস জানিয়ে দিতে পেরেছিলেন।খুব সুন্দর মানিয়েছে কিন্তু আপনাদের দুজনকে।”

মিতু অসন্তুষ্ট গলায় বলল,

“ওর সাথে আমায় মানায় না।আমাকে দেখো আমি একটুও সুন্দর না।আমাকে দেখে কি মনে হয় যে আমি ওর বউ?এজন্য ওকে কিছু বলতে চাইনি।”

মিলি আবারো আলতো হেসে বলল,

“একবার ওনার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখুন বুঝতে পারবেন আপনি ঠিক কতটা সুন্দর।উনি আপনাকে ওনার জীবনের সুখ বলে পরিচয় দেয়।আমি খুব অল্প সময়ে ওনার দৃষ্টিতে,ওনার কন্ঠে আপনার জন্য মুগ্ধতা খুঁজে পেয়েছি।সব সময় বাহ্যিক সৌন্দর্যই ভালোবাসার কারণ হয় না।হয়তো আপনার চেহারা বাদেও আপনার মাঝে উনি এমন কিছু দেখেছেন যার কারণে আপনাকে ওনার জীবনের সুখ বানিয়ে নিয়েছেন।”

“বাহ্ তুমি তো খুব সুন্দর কথা বলো।কিন্তু তুমি আমায় আপনি করে বলছ কেন?তুমি করে বল।আমার ভালো লাগবে।আপনি করে বললে কেমন দূরের দূরের লাগে।”

“আচ্ছা ঠিক আছে তুমি করে বলবো।তা ফরহাদ আপনার ছেলের সাথে পরিচয় করাবেন না?ও কোথায় ডাকুন।কত বড় ও?”

“আসলে মিলি ওকে এখন নিচে আনতে পারব না,ও ঘুমোচ্ছে।খুব কষ্টে ঘুম পাড়িয়েছে ওকে মিতু।আবার আপনিও উপরে উঠতে পারবেন না।ভাগ্যে থাকলে অন্য কোনদিন দেখাই?”

“আচ্ছা।কত বয়স ওর?নাম কি?”

“মিহাদ নাম।দুই বছর বয়স।”

“ও আচ্ছা।ফরহাদ পরিচয় তো হয়ে গেল তাহলে এখন আমি আসি।”

মিলি যেতে চাইলে মিতু বাঁধা দিয়ে বলে উঠলো,

“এখনই তো এলে আবার যাবে বলছ কি?রাতে খাওয়া দাওয়া করে তারপর যাবে।তুমি আগে আসবে জানলে আমি নিজের হাতে রান্না করতাম।আসলে এখন না রান্নাবান্না,ঘরের কাজ কিছুই করতে পারি না।ছেলেটাকে সামলে আর এসব কাজ করতে শরীর সায় জানায় না।অবশ্য ছেলেটাকেই বা কি দোষ দেবো।ও তো নিজের শরীরেই আরাম পায় না।অতটুকু শরীর কি আর এসব রোগ সহ্য করতে পারে বল?”

মিলি প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করলো,

“কি রোগ হয়েছে?”

মিতু আর ফরহাদের মুখটা কেমন কালো হয়ে উঠল।ফরহাদ তো বলতেও পারবে না কথাটা তবে মিতু বেশ স্বাভাবিকভাবে বলল,

“ছেলেটা আমার খুব অসুস্থ মিলি।ক্যান্সার,ব্লাড ক্যান্সার ওর।”

মিলির বুকটা ধক করে উঠল।নিজের কানকে যেন ঠিক বিশ্বাস হলো না।ঠিক শুনলো নাকি ভুল শুনলো এই নিয়ে সংশয় তৈরি হল।নিশ্চিত হতে পুনরায় শুধালো,

“কি বললে?”

মিতু মলিন হেসে বলল,

“বিশ্বাস হলো না তো?হ্যাঁ গো মিলি আমার ছোট ছেলেটার ক্যান্সার।ছেলেটা আমার খুব কষ্ট পায় জানো।অতটুকু একটা শরীর কি এত ধকল নিতে পারে?”

“কি বলছেন এসব?অতটুক একটা বাচ্চা।”

মিলি নিজেই অস্থির হয়ে উঠলা।তবে মিতুকে বেশ স্বাভাবিক দেখালো।এখন আর হয়তো এই কথাটা শুনতে খুব বেশি অদ্ভুত লাগে না মিতুর কাছে।

মিলি অস্থির চিত্তে বলল,

“আমাকে একবার একটু ওকে দেখতে দেবেন?আমি ওর সাথে একবার দেখা করবো।”

ফরহাদ চিন্তিত গলায় বলল,

“কিন্তু আপনি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠবেন আবার?”

“কোন সমস্যা হবে না।আমি আস্তে আস্তে উঠবো।প্লিজ আমি একবার ওকে দেখতে চাই।”

“আচ্ছা ঠিক আছে আপনাকে উঠতে হবে না।দাঁড়ান আমি ওকে নিয়ে আসছি।”

কথাটা বলে ফরহাদ গেল ছেলেকে আনতে।মিলির যেন আর তর সইছে না।মিলি তো নিজেও নিজের মাঝে একটা ছোট্ট প্রাণকে ধারণ করছে।এখনো যার মুখটাই দেখেনি তার প্রতি কত টান অনুভব করে মিলি আর সেখানে বাচ্চাটা দু'বছর হলো ওর মা-বাবার সাথে আছে।কতটা কষ্ট হচ্ছে না জানি ওই ছোট্ট প্রাণটার।মিলির মাতৃ মনটা কেমন উতলা হয়ে উঠল মিহাদ কে দেখার জন্য।সিঁড়ি দিয়ে কারো নামার শব্দ পেতেই মিলি সে দিকে তাকালো।ফরহাদের কোলে ছোট্ট একটা বাচ্চা।ফরহাদ মিলির দেখে এগিয়ে এসে বলল,

“আমাকে আর কষ্ট করে ওকে তুলতে হয়নি।আমি গিয়ে দেখি ও জেগে গেছে।ওর ও আপনার সাথে আলাপ করার খুব ইচ্ছে আছে মনে হয়।”

মিলি একবার তাকালো মিহাদের দিকে।ছোট্ট শরীরটা শুকিয়ে গেছে।চোখের নিচে কালি জমেছে।শুষ্ক ঠোঁট দুটোতে কোন হাসি নেই।চেহারায় কেমন যেন একটা দুর্বল ভাব।চুপচাপ শান্তভাবে ফরহাদের কাঁধের উপর মাথাটি এলিয়ে দিয়ে রেখেছে।মিলি কাঁপা কাঁপা হাতে মিহাদের হাতটা ধরল।হাতটা ধরতেই আৎকে উঠলো মিলি।

“ওর গায়ে তো অনেক জ্বর।”

মিতু একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,

“এসব জ্বর তো ছেলেটার নিত্য দিনের সঙ্গী এখন।”

মিলি কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,

“আমি একটু ওকে কোলে নেই?”

ফরহাদ সন্দেহী গলায় বলল,

“আপনার অসুবিধা হবে না তো?”

“না হবে না।”

ফরহাদ বাড়িয়ে দিল মিহাদ কে মিলির দিকে।মিহাদ চুপচাপ মিলির কোলে এলো।একটুও আপত্তি জানালো না,কোন কান্নাকাটিও করলো না।মিলির কোলে আসতেই মাথাটা মিলির কাঁধের উপরে এলিয়ে দিল।যেন কত ক্লান্তি বাচ্চাটার শরীরে।মিলি কোলে নিয়ে ওভাবেই দাঁড়িয়ে থাকলো।বারবার ওই নিষ্পাপ মুখটা মিলির মুখের সামনে ভেসে উঠছে আর কেমন যেন কান্না পাচ্ছে।এইতো সবেমাত্র এই পৃথিবী তে এলো এত তাড়া চলে যাওয়ার?এখনো তো কিছুই দেখল না এই ভালো খারাপ মেশানো পৃথিবীতে।কিছু উপভোগই করল না।এখনো তো একটু বাবা মার সাথে নিজের শৈশবটাই ভালোমতো কাটাতে পারেনি এর মাঝে ওর চলে যাওয়ার এত তাড়া?

কাঁধ থেকে মিহাদের মাথা তুলে কপালে গালে আলতো করে চুমু খেল।মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আদর করলো।মিলির অজান্তে ওর দু'চোখ বেয়ে চল গড়িয়ে পড়লো।তা দেখে মিতু ব্যতিব্যস্ত গলায় বলল,

বিজ্ঞাপন

“কাঁদছো কেন তুমি?”

মিলি নিজের চোখের জলটা মুছে নিয়ে মিতুকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“জানো তো মিতু আমি যখন আমার হাসবেন্ডকে আমাদের বাচ্চাটার কথা বলেছিলাম ও একটুও খুশি ছিল না।ও আমায় বাচ্চাটাকে মে/রে ফেলতে বলেছিলে এবং চেষ্টাও করেছিল।কিন্তু জানো আমি পারিনি।বারবার শুধু মনে হতো যেন ও আমায় আকুতি করে বলছে যে আমি যেনো ওকে না মা/রি।যখনি মনে হয় যে একটা ছোট্ট প্রাণ আমার ভেতরে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে কী যে আনন্দ হয় তোমাকে বলে বোঝাতে পারবো না।ওকে না দেখে,ওর সাথে সময় না কাটিয়ে, ওর সাথে কোন কথা না বলেই ওকে খুব ভালোবেসে ফেলেছি।সেখানে তুমি তো তোমার বাচ্চাটাকে দু'বছর ধরে বড় করছো,যত্ন করছো।খুব কষ্ট হয় তোমার তাই না?”

মিতু ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,

“ও যতটা কষ্ট পায় তার থেকে বোধহয় কমই পাই গো মিলি।”

“চিন্তা করো না দেখো ও ভালো হয়ে যাবে।ফরহাদ আমায় বলেছিল এই পৃথিবীতে মন থেকে দোয়া করে এমন মানুষ নাকি খুব কম পাওয়া যায়।তবে আমি তোমায় বলছি আমি ওর জন্য মন থেকে দোয়া করে দিলাম।আমার সকল মোনাজাতে আমি আজ থেকে ওর জন্য দোয়া করবো।আমি আমার আর আমার সন্তানের আগে ওর জন্য দোয়া করব।ও সুস্থ হয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।তোমাদের কোলে ঠিক ফিরে আসবে।”

______

সময় তখন রাত নয়টার কাছাকাছি।তন্ময় জেসির ফ্ল্যাটের সামনে অপেক্ষা করছে জেসির জন্য।জেসির ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখে যে জেসির ফ্লাটে তালা ঝুলছে। পাশের ফ্ল্যাটে জিজ্ঞাসা করতেই উনি জানালেন যে জেসি নাকি সে সকালে কোন এক ছেলের সাথে বেরিয়েছে।ওনাকে জিজ্ঞাসা করে তন্ময় আরও জানতে পারলো যে কোন এক ছেলের নিয়মিত জেসির ফ্ল্যাটে যাতায়াত আছে।কথাটা শুনতেই তন্ময় আন্দাজ করতে পারলো যে ছেলেটা রাজীব ছাড়া আর কেউ হতে পারে না।

প্রায় দু'ঘণ্টারও বেশি হলো তন্ময় অপেক্ষা করছে অথচ এখনো ওদের আসার কোন নামই নেই।এর মাঝে জেসির নাম্বারে একবার কল করেছিল তন্ময়।জেসি ওকে বলেছে তখন যে ও নাকি বাসাতেই আছে।তন্ময়ও আর জেসিকে কিছু বলেনি,চুপচাপ ফোনটা কেটে দিয়েছে।এখন শুধু দেখতে চায় এখানে তন্ময়কে দেখার পর জেসির অভিব্যক্তি কি হয়।ঠিক কতটা,কি কি মিথ্যা আরো বানিয়ে বলতে পারে।

অবশেষে জেসির দেখা পেল তন্ময়।তবে একা না,সাথে রাজীবও আছে।রাজীবের বাইক থেকেই জেসি নামলো।রাজীবও বাইকটা কে দাঁড় করিয়ে নেমে দাঁড়ালো।তন্ময়কে দুজনের একজনও খেয়াল করেনি তবে তন্ময় ওদের দুজনকে ঠিকই দেখেছে।দুজনের মাঝে বেশ কিছুক্ষণ হেসে খেলে কথাবার্তা হলো।বলা যায় টুকটাক নোংরা ছোঁয়াছুঁয়ির খেলাও হলো।তন্ময়ের সারা শরীর ঘৃণায় রি রি করে উঠলো।অথচ এই কথাটা একবারও মনে হলো না যে এক সময় একই নোংরামো গুলো ও নিজেও করেছে।বরং এর থেকে আরও অনেক বেশি নোংরামো করার চেষ্টা করেছে শুধু জেসি আস্কারা দেয়নি জন্য কিছু করতে পারেনি।আসলেই মানুষ অন্যের ভুল দেখার বেলায় খুবই নিখুঁত হয়ে যায় অথচ নিজের খুব বড় বড় ভুলগুলো তাদের চোখে পড়ে না।

রাজীবের সাথে কথাবার্তা শেষে জেসি নিজের ফ্ল্যাটের দিকে পা বাড়াতেই তন্ময়কে দেখল।সঙ্গে সঙ্গে সেখানে থমকে গেল।চোখে মুখে তার ভয়ের ছাপ ফুটে উঠলো।জেসিকে দাঁড়িয়ে পড়তে দেখে তন্ময় নিজেই ওর দিকে এগিয়ে এলো।চোখ দুটো রাগে লাল টকটকে রং ধারণ করেছে।চোয়াল শক্ত হয়ে এসেছে।

জেসি কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,

“তন্ময় তুমি এখানে কি করছো?”

তন্ময় রাগান্বিত গলায় বলল,

“অসভ্য,নোংরা,চরিত্রহীন মেয়ে কোথাকার।এভাবে তুমি আমায় ঠকালে?লজ্জা করল না তোমার?”

জেসি নিজের হয়ে কিছু সাফাই গাইতে যাবে তার আগেই তন্ময় ঠা/স করে ওর গালে একটা চ/ড় লাগালো।সেই চড়ের আঘাত সহ্য করতে না পেরে জেসি পিচ ঢালা রাস্তার উপরে হুমড়ি খেয়ে পড়লো।কনুইয়ে বোধহয় একটু ব্যথাও পেল।সেই সাথে হাতের তালু তেও।তবে জেসি কে মা/রার কিছু সময়ের ব্যবধানে তন্ময় নিজের গালেও একটা শক্ত হাতের চ/ড়ের ব্যথা অনুভব করলো।হুমড়ি খেয়ে পড়লো না ঠিকই তবে একটু তাল হারালো।

রাজীব তন্ময়ের কলার ধরে ওকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দাঁতে দাঁত পিষে বলল,

“তোর সাহস হলো কি করে ওর গায়ে হাত দেওয়ার?”

তন্ময়ও পাল্টা দুহাতে রাজীবের কলার ধরে বলল,

“তোর সাহস হলো কি করে ওর সাথে নোংরামি গুলো করা?তুই জানতি না যে আমি আর ও একটা সম্পর্কে আছি?তারপরও তুই কোন সাহসে ওকে ছুঁয়েছিস?”

“আমি আমার স্ত্রীকে ছুঁয়েছি বুঝতে পেরেছিস?জেসি আমার স্ত্রী।তোর সাহস হলো কি করে আমার স্ত্রীর সম্বন্ধে এরকম নোংরা কথা বলার,ওর গায়ে হাত তোলার?”

কথাটা বলে রাজীব বেশ কয়েকটা আঘাত করলো তন্ময় কে।দুজনের মাঝে বেশ কিছুক্ষণ হাতাহাতি চলল।এর আগের দিন রাজীব যেমন তন্ময়ের হাতে মা/র খেয়ে চুপচাপ ছিল আজ যেন তার বেশ ভালোই প্রতিশোধ নিলো।জেসি তাড়াতাড়ি করে উঠে রাজীবকে সরানোর চেষ্টা করল।অবশেষে সফলও হলো।

তন্ময় খেয়াল করল ওর ঠোঁটের কোণা দিয়ে র/ক্ত পড়ছে।বৃদ্ধাঙ্গুলের সাহায্যে সেটুকু মুছে নিয়ে ঘৃণা ভরা দৃষ্টিতে জেসির দিকে তাকিয়ে বলল,

“ছিঃ জেসি।তুমি যে এমন সেটা যদি আমি আগে বুঝতাম তাহলে কখনোই তোমার সাথে কোন সম্পর্কে জড়াতাম না।মিলি একদম ঠিক বলেছিলে তোমার সম্বন্ধে।তুমি একটা নোংরা মেয়ে।তুমি শুধুমাত্র আমার পিছনে পড়েছিলে আমার চাকরি,আমার টাকা,একটা সিকিওর লাইফের আশায়।ছিঃ।”

রাজীব আবারো তন্ময়ের দিকে তেড়ে আসতে নিলে জেসি ওকে আটকালো।ইশারায় বোঝালো যে ও নিজেই তন্ময়ের জন্য আপাতত যথেষ্ট।যদি দরকার পড়ে তখন তো রাজীব আছে।

জেসি এবার তন্ময়ের থেকে দৃষ্টিপাত করে তাচ্ছিল্য হেসে বলল,

“কি বললে আমি নোংরা?তবে তুমি কি তন্ময়?আমি তো তবু নিজের স্বামীকে রেখে অন্য কোন পুরুষের সাথে সম্পর্কে জড়ায়নি তাই না?কিন্তু তুমি তো নিজের বউকে রেখে আমার সাথে সম্পর্কের জড়িয়ে ছিলে।আর কি বারবার আমার দিকে আঙুল তুলছো?তুমি কি কখনো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখটা দেখেছো?লিসেন তন্ময় আমার গায়ে কাঁদা ছিটানোর আগে না একবার নিজের চরিত্রটা ভালো করে পরখ করে দেখো।আমাকে ছিঃ বলছো যেখানে তোমার ওপরেই সবাই থুতু ফেলে।”

“মুখ সামলে কথা বলো জেসি।”

“জাস্ট শাট আপ।তোমার সাহস হয় কি করে আমাকে এই ধরনের কথা বলার?আসলে তুমি একটা গা/ধা।যদি তুমি গা/ধা না হতে তাহলে কি মিলিকে ছেড়ে দিয়ে আমার কাছে আসার জন্য পা/গল হয়ে যেতে?আরে যে কোন ছেলে আমার কথা শুনে বুঝতে পারতো যে আমি কেন তোমার পেছনে পড়ে আছি কিন্তু তুমি তো এতটাই অন্ধ হয়ে গিয়েছিলে আমার পেছনে যে কিছুই বুঝতে পারোনি।আমি কিন্তু কখনো তোমাকে আমার পেছনে পড়তে বলিনি।তুমি নিজে আমার পেছনে কুকুরের মতন পড়ে ছিলে।আর তোমার স্বভাবও কুকুরের লেজের মতনই,সোজা হয় না।”

“বাড়াবাড়ি করছ কিন্তু তুমি।”

“করলে করছি।তোমার ক্ষমতা থাকে তো আটকাও?শোনো তন্ময় আমার জীবনে তুমি আর কোন প্রকারের হস্তক্ষেপ করবে না।এখন রাজীব আমার হাসবেন্ড।”

তন্ময় এবার ক্ষেপে গিয়ে বলল,

“কি তখন থেকে বউ হাসবেন্ড লাগিয়েছো?আজেবাজে কথা বলছো কেন?”

“আজেবাজে কথা বলছি না।আমরা এক সপ্তাহ আগে বিয়ে করেছি।আমি ভাবছিলাম যে তোমাকে কিছুদিনের মাঝে সবটা বলে দেবো কিন্তু ভালো হয়েছে তুমি নিজেই সবটা জানতে পেরেছো।তোমার মতন একটা ইউজলেস,বোকা ছেলেকে বিয়ে করতে চাওয়াটাই আমার জীবনের ভুল।কি আছে তোমার কাছে এখন? না নিজের বাড়ি আছে,না চাকরি আছে,টাকা-পয়সা,পরিবার কিচ্ছু নেই।আমাকে কি তোমার বোকা মনে হয় যে আমি এখনো তোমার পেছনে ছুটবো?”

তন্ময় এবার বিষ্ময় ভরা কন্ঠে বলল,

“বিয়ে করে নিলে তোমরা?তাই বলে তুমি আমাকে এভাবে ঠকালে?আমার ভালোবাসার কোন মূল্য ছিল না তোমার কাছে?তোমার একটুও বিবেকে বাঁধলো না আমায় ঠকাতে?”

“রাখো তো তোমার ভালোবাসা।তুমি যে আমাকে কত ভালোবাসতে সেসব আমার জানা আছে।তুমি আমার পেছনে ছুটতে শুধুমাত্র আমার শরীর পাওয়ার লোভে,আমার মন পাওয়ার লোভে না।তোমার শুধু দরকার ছিল একটা নতুন কোন শরীরের স্পর্শে তোমার ক্ষুধা মেটানো।আর আমি তোমাকে ঠকিয়েছি এতে এত অবাক হচ্ছ কেন?এমন ভাব করছো যেন তুমি কাউকে ঠকাওনি।তোমার বউকে ঠকানোর সময় যেমন তোমার বিবেকে বাঁধেনি তেমনই আমারও তুমি নামক আমার বয়ফ্রেন্ড কে ঠকানোর সময় বিবেকে বাঁধেনি।এখন আমার জীবন থেকে বেরিয়ে যাও।না হলে কিন্তু আমি আর রাজীবকে আটকাবো না।এরপর কিন্তু ওর যা ইচ্ছে তোমার সাথে তাই করবে।”

“থাক তোমায় আর আমার ওপরে কোন দয়া করতে হবে না।তবে আমি আজ একটা জিনিস খুব ভালো করে বুঝে গেলাম,জীবনে ভুল জায়গায় ভুল মানুষকে গুরুত্ব দিয়ে আমি ঠিক মানুষকে হারিয়েছি।জীবনে এমন কিছু ভুল করেছি যা আমি কোনদিনও ঠিক করতে পারব না।তার শাস্তি হয়তো আমায় সারা জীবন পেয়ে যেতে হবে।”

_____

ঘড়ির কাঁটায় তখন সময় রাত দশটা বাজতে চলেছে।এই সময়ে কে এভাবে পা/গলের মতন কলিং বেল বাজাচ্ছে সেটা ভাবতেই রাগ হচ্ছে জ্যোতির।নাইম ওকে যেতে দিল না,নিজে গিয়ে দরজাটা খুলে দিল।অপর পাশে তন্ময় কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একটু চমকালো,সেই সাথে রাগও হলো।গম্ভীর গলায় বলল,

“কি দরকার?”

তন্ময় অস্থির কন্ঠে বলল,

“আপনার ওয়াইফ কে একটু ডেকে দেবেন প্লিজ!”

“কি দরকার আমায় বলুন?”

“আপনাকে বললে তো বুঝবেন না,আপনার ওয়াইফ কে দরকার।প্লিজ একটু ডেকে দিন না!বেশিক্ষণ কথা বলব না।”

ভেতর থেকে তন্ময়ের কণ্ঠ পেয়ে জ্যোতি নিজেই বেরিয়ে এলো।এই অসময়ে তন্ময় কে দেখে সে নিজেও অবাক হলো।

“কি হয়েছে আপনার?যা দেখানোর সব সকালে দেখিয়ে দিয়েছি।আমার কাছে আর কিছু দেখানোর নেই আপনার জেসির বিষয়ে।”

“না আমি ওই জন্য আসিনি।আমি আপনার কাছে অন্য একটা অনুরোধ নিয়ে এসেছি।”

“কিসের অনুরোধ?”

“দেখুন প্রথমেই বলছি প্লিজ আমায় মিথ্যে বলবেন না।আমি জানি মিলির সাথে আপনার যোগাযোগ অবশ্যই আছে।আমায় একবার মিলির সাথে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা করে দেবেন?আমি কথা দিচ্ছি আমি আর কখনো ওকে বিরক্ত করব না।শুধু আজ একটা বারের জন্য আমি ওর সাথে কথা বলতে চাই।”

জ্যোতি রাগান্বিত গলায় বলল,

“আছে আমার কাছে মিলির নাম্বার কিন্তু আপনাকে জীবনেও দেব না।এই আপনি কেমন ধাঁচের মানুষ বলুন তো?খোদা আপনাকে বানিয়েছে কি দিয়ে?”

জ্যোতির করা কোনো অপমানই এখন আর তন্ময়ের গায়ে লাগছে না।পারছেনা শুধু জ্যোতির পায়ে পরে যেতে।দুই হাত জোর করে অনুনয়ের গলায় বলল,

“প্লিজ,প্লিজ জ্যোতি মিলির সাথে একটাবার কথা বলার সুযোগ করে দিন।আমার আজ মিলি কে ভীষণ দরকার।প্লিজ জ্যোতি এতটুকু সাহায্য করুন আমায়।”

তন্ময়ের এত অনুরোধেও জ্যোতির মন নরম হলো না।কাটকাট গলায় বলল,

“সম্ভব না।নাইম ওনাকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করো।”

কোনো উপায় না পেয়ে তন্ময় এবারে সত্যি জ্যোতির পায়ের কাছে বসে পড়লো।জ্যোতি চমকে দু কদম পিছিয়ে গেল।তন্ময় কাঁদছে।ওর চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে।তবে নিজের ভুল গুলো উপলব্ধি করতে বোধহয় একটু বেশি সময় লাগলো।

“মিলি কে আমি ফেরত পাবো না সেটা আমি জানি জ্যোতি।ওকে আমার থেকে ভালো আর কেউ চেনে না।আমি ওকে ফিরতে বলবোও না।শুধু একটু কথা বলবো।আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে,এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে চাই।একবার ওর সাথে কথা বলিয়ে দিন জ্যোতি প্লিজ।”

তন্ময়ের এত অনুনয়ে জ্যোতির এখন খারাপ লাগছে।তবে কি করবে বুঝতে পারছে না।নাম্বার দিলে যদি মিলি রাগ করে?নাইম জ্যোতির কাঁধে হাত রেখে বলল,

“তোমার ফোন থেকেই ওনাকে কল দিয়ে দাও।তন্ময় কে নাম্বার দেওয়ার দরকার নেই।”

“কিন্তু মিলি যদি রাগ করে?”

“করবে না।ওনারও তো জানা দরকার যে তন্ময় নিজের ভুলটা বুঝতে পেরে আজ ঠিক কতটা পস্তাচ্ছে।”

জ্যোতি এবারে রাজি হলো।ভেতরে গিয়ে ফোনটা এনে মিলির নাম্বারে ডায়াল করে ফোনটা তন্ময়ের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

“ধরুন।”

তন্ময় মাথা তুলে তাকালো।কাঁপা কাঁপা হাতে ফোনটা নিল তবে হাতটা কাঁপতে থাকায় ফোনটা পরে গেল হাত থেকে।তন্ময় খুব তাড়াতাড়ি আবার ফোনটা হাতে নিয়ে কানে ধরলো।রিং হয়ে গেল কিন্তু মিলি ফোনটা রিসিভ করলো না।তন্ময় ফোনটা জ্যোতির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

“ধরলো না,আবার দিন।”

জ্যোতি তাই করলো।এবারে মিলি ফোনটা ধরলো।হাস্যজ্জ্বল গলায় বলল,

“হ্যাঁ জ্যোতি বলো।কেমন আছো তুমি?”

তন্ময়ের এবার বুক চিরে কান্না গুলো বেড়িয়ে আসতে চাইছে।মিলির কন্ঠটা ভীষণ ঝলমলে শোনালো।তবে কি মিলি তন্ময় কে ছাড়া বেশ ভালো আছে।

ফোনের অপর পাশ থেকে পিনপতন নীরবতা ভেসে আসছে।কেউ কথা বলছে না তবে মিলির মনে হচ্ছে ফোনের অপর পাশে থাকা মানুষটা যেন ফুঁপিয়ে কাঁদছে।হয়তো অনেক কিছু বলতে চাইছে কিন্তু কিছু বলতে পারছে না।মিলি কান থেকে ফোনটা নামিয়ে একবার নাম্বারটা চেক করে নিলো।জ্যোতিরই তো নাম্বার তাহলে মিলির কেন মনে হচ্ছে যে কান্নার শব্দটা জ্যোতির না?কেন মনে হচ্ছে যে মিলির ভীষন আপন কেউ কাঁদছে?অবশেষে সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে মিলি বলেই ফেলল,

"তন্ময়?"

তন্ময় এবারে ডুকরে কেঁদে উঠলো।সত্যি দম বন্ধ হয়ে আসছে তন্ময়ের।কথা বলতে গিয়ে শব্দগুলো গলায় কেমন আটকে যাচ্ছে।খুব কষ্টে কয়েকটা বাক্য উচ্চারণ করল,

"আমি কার জন্য কাকে হারিয়ে ফেললাম মিলি?

আমি এই ভুল কি করে করলাম?এখন আমি এই ভুলটা শোধরাবো কি করে?কথা বলো মিলি প্লিজ,

একটু কথা বলো আমার সাথে।আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।আমি তোমাকে হারিয়ে ফেললাম মিলি,হারিয়ে ফেললাম।"

বিজ্ঞাপন
রিক্ত বসন্ত গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সামাজিক ও পারিবারিক উপন্যাস