বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ৯

🟢

"" আরিবা শ্বাস আটকে পরে আছে।উল্টো দিক হয়ে।

"" জায়ান আরিবার দিকে মুখ করে শুয়ে আছে।

তার হঠাৎ করেই মনে হচ্ছে সে এই বিরক্তিকর মেয়েটার প্রতি কোনো টান খুজে পাচ্ছে। সে দুর্বল হয়ে পরছে।

যা অন্য কনো মেয়ের প্রতি সে ফিল করেনি তা সে ফিল করছে এই মেয়েটার প্রতি যা ভেবেও সে বিরক্ত।

হয়তো এটাই কারন যে মেয়েটি তার জন্য হালাল।

"" শ্বাস নাও।নাহলে মারা যাবে ইডিয়ট।

ধমকে বললো জায়ান।

"" আরিবা তার ধমকে কেঁপে উঠল কিছুটা।

"" এদিকে ফিরো।

"" আরিবা কোনো জবাব দিলো না আর না এদিকে ফিরলো।

"" এই ব্যায়াদব কথা কানে যায় না।

"" আরিবার চোখ ছলছল করে উঠলো এমন ধমকে।সে আস্তে করে এদিকে ফিরলো।

"" আমি কি তোমাকে খেয়ে ফেলবো নাকি হ্যা?কি মনে হয় তোমার।

একই কন্ঠে বললো।

"" আরিবার চোখ দিয়ে এবার পানি ঝরতে শুরু করলো। তবে দাঁত কামড়ে পরে রইলো চুপ করে।

"" আরিবার হঠাৎ কান্নায় জায়ান বিচলিত হয়ে পরলো। সে আরিবার কাছে আসতে নিলেই আরিবা অভাবেই পিছিয়ে যেতে লাগলো।

যা দেখে জায়ান মুখ শক্ত করে আরিবার এক হাত চেপে ধরে নিজের কাছে এনে ফেললো।

এতে করে আচমকাই আরিবা জায়ানের বুকে এসে পরলো।

এবার আরিবা শব্দ করে কেদে ফেললো।জায়ান প্রচন্ড বিরক্ত হলো তার মাথায় ঢুকছে না আরিবার কান্নার কারন।

কি হয়েছে কাঁদছো কেনো তুমি?

জায়ানের গলায় অসহায়ত্ব। তার যেনো এই মেয়ের কান্না সহ্য হচ্ছে না হঠাৎ করেই।

আরিবা জোর করে ছেড়ে আসতে নিলেই জায়ান তাকে নিজের হাতের বাঁধনে চেপে ধরলো।

এতে আরিবা খানিকটা কেঁপে উঠল। এই প্রথম সে কোনো ছেলের এতোটা কাছে এসেছে তাও নিজের প্রিয়

পুরুষ তার স্বামী।

কিন্তু এই মানুষ টাই অন্যকাউকে ভালোবাসে তাহলে তার কাছে কেন আসছে?কেনো তর ইমোশন নিয়ে খেলছে লোকটা।

আরিবার কথাটা মাথায় আসতেই তার ভেতর জায়ানকে নিয়ে তিব্র ঘৃণা তৈরি হলো।

সে ধাক্কা দিলো জায়ানকে।

অনেকটা সময় চলে যাওয়াতে জায়ান হতের বাঁধন ঢিলে করেছিলো।

তাই আচমকা ধাক্কায় কিছুটা পিছিয়ে গেলো। আরিবা গর্জে উঠে বললো।

"" সমস্যা কি আপনার বার বার ছোয়ার চেষ্টা কেনো করছেন?এমন করে নিজেকে চরিত্রহিন প্রমান করবেন না।আমি আপনাকে অনেকবার বলেছি আমি অন্য একজনকে ভালোবাসি।আর আপনি আমাকে ডিভোর্স দিন?তাহলে কেনো দিচ্ছেন না সমস্যা কি আপনার আর,,,,,

"" আরিবা জায়ানের দিকে তাকাতেই আতকে উঠলো তার রক্ত হিম হয়ে আসলো যেনো।

"" জায়ানের চোখ যেনো রক্ত লাল হয়ে গেছে।কপালের রগ গুলো ফুলে উঠেছে। যেনো হিংস্র জানোয়ার এখনি সব ধ্বংস করে দিবে।

"" আরিবাকে চুপ করে যেতে দেখে আচমকা জায়ান আরিবার গলা চেপে ধরলো

হিসহিসিয়ে বললো,,

"" বল থেমে গেলি কেনো।বল তোর কি মনে হয় আমি ভালো মানুষ তোকে জাস্ট পিসে মেরে ফেলবো আর কি বললি তুই আমি তোকে ছোয়ার চেষ্টা করি।তোর মতো চুনোপুঁটি কে ধরলে তোর ক্ষমতা নেই আমার থেকে বাচতে পারিস।আর ডিভোর্স ওইটা তুই জীবনেও পাবি না।তাই এমন কিছু করিস না যে আমি যেটা দেরিতে করতে চাই তা এখুনি করতে বাধ্য হই।

"" আরিবার দম যেনো বন্ধ হয়ে আসছে এতোটা শক্ত করে ধরেছে তার গলা।

চোখ দিয়ে অনর্গল পানি পরছে। জায়ানের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করেও ছারছে না।

"" আচমকাই জায়ান তার গলা ছেড়ে তাকে ছুড়ে ফেলে দিলো।

"" সাথে সাথে আরিবা কাশতে শুরু করলো।

"" আরিবা অভাবেই পরে কাদতে লাগলো।

আল্লাহ তার সাথেই কেন এমনটা করলো।খুব কি খারাপ হতো লোকটা তাকে ভালোবাসলে।

কাদতে কাদতে একটা সময় ওভাবেই ঘুমিয়ে পরলো।

-------------------------

"" জায়ান ধুপধাপ করে হাটতে হাটতে বেলকনির দিকে চলে গেলো।

সে সচরাচর সিগারেট খায় না তবে আজ খাওয়াটা খুব প্রয়োজন।

একটা সিগারেট ধরিয়ে সে টানতে শুরু করলো।

তার সবকিছুই অসহ্য লাগছে তারমতো ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন একটা লোক নিজের ফিলিংস রাগকে কাবু করতে পারছে না।

এই মেয়েটাকে তার প্রথম থেকেই পছন্দ নয়।ট্রেনিং এর সময় দেখেছে মেয়েটা

অতিরিক্ত দুষ্ট। যা সবসময় তার কাছে বিরক্ত লাগতো।শুধু মেজর নূরের জন্য সবসময় বেচে যেতো।

বিয়েটাও সে করতে চায়নি কিন্তু

মায়ের কথাও ফেলতে পারেনি।নাহলে এ জীবনে তার হয়তো বিয়ে করা হতো না।সে নিজেকে বাধতে চায়নি নিজের অনিশ্চয়তার জীবনে।

বিজ্ঞাপন

"" অনেকটা সময় বেলকনিতে কাটিয়ে নিজের রুমে আসলো জায়ান।

"" আসতেই চোখ পরলো বিছানার মাঝে এলোমেলো হয়ে পরে থাকা আরিবার দিকে।

চোখগুলো কান্নার ফলে ফুলে উঠেছে। নাক গাল লাল টকটকে হয়ে গেছে। কান্নার দাগগুলো রয়ে গেছে গালে।

"" সে একটা নিঃশ্বাস ফেলে নিঃশব্দে থাকে একপাশে শুইয়ে দিলো এই মেয়ে যে ঘুমিয়ে গেলে কনো হুস থাকে না তা সে বুঝতে পেরেছে কাল রাতেই তাছাড়া আরিবার ঘুমনোর স্টাইল ও খুব খারাপ জামাকাপড় এর কনো ঠিক থাকে না।

"" সে একপাশে এসে শুয়ে পরলো কিছুক্ষণ আরিবার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো।

একসময় নিজেও ঘুমের দেশে পারি দিলো।

-----------------------

সকালে ঘুম থেকে উঠে আরিবা জায়ানকে দেখতে পাই তা নিয়ে বেশি কিছু ভাবেও নি।

সে চুপচাপ রেডি হচ্ছে কলেজের জন্য।

তার মা অনেকবার বারন করেছে তবে তা সে কানে নেয় নি।

অন্তরা বেগম ও কনো কথা বলেননি। তিনি দেখতে পাচ্ছেন তার মেয়ের মন মেজাজ ভালো নেই।

আরিবা রেডি হওয়ার মাঝেই জায়ান আসলে রুমে সে একটা কাজে বাহিরে গেছিলো।

কোনো দিকে না তাকিয়েই সে ওয়াসরুমে গেলো।

বের হয়ে আসলো তবে এসবের মাঝে আরিবার কোনো ভাবান্তর নেই।সে রেডি হয়েছে একটা কালো

থ্রিপিস পরেছে অরগান্জার।ওরনা একপাশে পিন করে মাথায় কালো হিজাব।মূলত তার পরনের সবকিছুই কালো।

মাথায় হিজাব পরায় তাকে অনেক সুন্দর লাগছে দেখতে।

আরিবা বেরিয়ে যাবে এমন সময়,,

"" কোথায় যাচ্ছো?

"" ভার্সিটি।এক কথায় গম্ভীর জবাব।

"" কিন্তু আজ তো আম্মারা আসবে শপিং এর জন্য।

"" হুম জানি।তারা আসতে আসতে আমি ফিরে আসবো।

"" তোমাকে আসতে হবে না আমি নিজেই গিয়ে নিয়াসবো।

আরিবা কোনো জবাব দিলো না।

এর মধ্যে জায়ানের ফোনে কল আসলো আরিবা খেয়াল করলো মেজর নূর লেখা।

সে চুপচাপ বেরিয়ে গেলো।

-------------------

ক্লাস এ মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করছে আরিবা।আরমান আর রাইসা দুজন দজনকে ঘুতাচ্ছে

একটু পর পর মূলত তারা আরিবার এতো শান্ত মেজাজে অভ্যস্ত নয়।

ক্লাস শেষে আরিবা বাহিরে আসলো।ক্যান্টিনে গিয়ে বসলো তিনজন।তাদের আরেকটা ক্লাস আছে।

আরিবা কি হয়েছে তোর।

""কিছুনা।

তাহলে তুই এতো চুপচাপ কেনো?

"" এমনি আমার ভালোলাগছে না।

ক্লাস শেষে বাহিরে আসতেই নূর দেখলো জায়ান দাঁড়িয়ে আছে সে কোনো কিছু না ভেবে চুপচাপ গাড়িতে বসে পরলো।

জায়ান খেয়াল করলো আরমানকে তীক্ষ্ণ চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে সেও গাড়িতে বসে গাড়ি স্টার্ট করলো।

পুরো রাস্তা কেউ কারো সাথে কোনো কথা বললো না।

"" গাড়ি থেকে নামলেই আরিবা দেখলো জাফরিন আর তার শাশুড়ী দাড়িয়ে আছে তাদের দেখেই সে একটা হাসি দিলো।

সালাম দিলো তার শাশুড়ী কে।

"" জায়ান তাকিয়ে আছে আরিবার দিকে এতক্ষণ মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিলো না। কিন্তু এখন ঠিকি হাসছে।

"" তারা শপিং মলে ঢুকলো।

""আরিবা জাফরিন মিলে বিয়ের ফাংশন এর জন্য মেরুন বেনারসি শাড়ি নিলো।

জায়ানের জন্য সাদা শেরওয়ানি।

তাছাড়াও হলুদের জন্য লেহেঙ্গা। বউভাত এর জন্য লেহেঙ্গা নিলো জায়ানের জন্য মেচিং করে সবটা কিনলো।

পুরোটা সময় জায়ান দুরে দাড়িয়ে ছিলো সে কাছে আসেনি।

মা বোনের ওপর সব দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে।

তাদের শপিং শেষ হলে জাফরিন তার মা অন্য গাড়িতে আসলো জোভান এসেছে তাদের নিতে।

তারা চলে গেলে আরিবা বললো তার ওয়াসরুম যাওয়া প্রয়োজন।

জায়ান সাথে যেতে চাইলে সে বললো একাই পারবে।

তাই জায়ান আর কিছু বললো না।

অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও যখন আরিবারকে আসতে দেখলো না তখন সে নিজেই বিরক্ত হয়ে গেলে নিজেই গেলো আরিবাকে খুজতে।

ওয়াসরুমের সামনে আসলে তার রক্ত হিম হয়ে আসলো।কপালের রগ গুলো ফুলে উঠল। হাতগুলো মুঠ করা।

সে হুংকার দিয়ে উঠলো

আরিবা,,,,,

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প