বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ৭

🟢

আরিবা দৌড়ে পাশের রুমে চলে যায়।

তার মাথা ঘুরছে।কান্না পাচ্ছে।

ব্যাটা লুইচ্চা আমার ঠোঁটের ভার্জিনিটি খেয়ে দিলো।এএএএএহেএএএএ,,,,

""" কোনোকিছু না ভেবেই সে গ্রুপ কল করে দিলো।

"" বল বইন বল তোর ফোনের অপেক্ষায় আছি আমাদের জীবন এখন তুই নামক বিনোদনেই চলে।

আরমান বললো।

"" এ হেএএএ এএএ,,,

"" আরমান রাইসা থতমত খেয়ে গেলো।

"" এই বদ চুপ কর আরিবা কি হয়েছে তোর কাদছিস কেনো?

"" আমি আবার কি বললাম।

"" দোস্ত অ্যাএএএএএ,,

"" নাটকবাজ মহিলা নাটক না করে বল কি হয়েছে।

"" দোস্ত ওই লুইচ্চা ব্যাটা আমার ঠোঁটের ভার্জিনিটি খেয়ে দিলো।

"" মানেহ,,,

"" কিহ?কোন ছেলে তোর ঠোঁটের ভার্জিনিটি খাইলো নামটা বল একবার

ধইরা উগান্ডা যদি না পাঠাইছি আমার নাম আরমান নয়।

আমার দোস্ত এর ঠোঁটের সম্মানে হাত। এ আমি কিছুতেই মানবো না।

"" তুই চুপ করবি আরমান।

"" কেনো চুপ করবো।

"" আমি এই মুখ কিভাবে মানুষকে দেখাবো তোরাই বল আমার ঠোট টাকে খেয়ে দিলো,, অ্যাএএএএএ

"" চুপ বল কি হয়েছে।

"" ওই ব্যাটা লুইচ্চা জায়ান আহসান আমায় কিস করেছে দোস্ত।

"" এ্যাহ,,

"" কিহ,,,

"" হ্যা।

এখন তোরা আমারে বল আমি আমার ঠোঁটের ভার্জিনিটি কেমনে ফিরে পাবো।

"" উফ আরিবা তুই এমন নাটক করছিস কেনো বলতো।

উনি তো তোর হাসবেন্ড।

কিরে আরমান এমন তব্দা মেরে আছিস কেনো ওরে বোঝা কিছু।

"" দোস্ত আমার না!

"" কি

একসাথে বলে উঠলো রাইসা, আরিবা।

"" আমার না কিস করতে মন চাচ্ছে।

"" কিহ

একই ভাবে বলে উঠলো দুজন।

"" হ্যা।

"" গাধা আরিবার নাহয় বিয়ে হয়েছে ওর বর ওরে কিস করছে তোর কি বউ আছে যে তুই কিস করবি।

"" কেনো কিস করতে হলে বিয়ে করতে হবে?

"" অবস্যই।

"" তহলে তুই আমায় বিয়ে কর।

"" কি বললিহ..

"" আরিবা ফিক করে হেসে দিলো দুজনের কথায়।

"" এই ছেমরি হাসোস কেন।আমি ভুল কি বললাম কিস করতে হলে বিয়ে করতে হবে আর

তোর তো বিয়ে হয়ে গেছে আর থাকলো রাইসা এখন ওরে বিয়ে করবো আমি।

"" হ্যা ভাই তোরে বিয়ে করতে বয়ে গেছে আমার।

তোরে বিয়ে করার আগে আল্লাহ আমারে উঠায় নিক।

"" এতবড় অপমান।

"" এই তোরা থাম প্লিজ হাসতে হাসতে আমি শেষ। আসছিলাম নিজের

প্রবলেম এর সলিউশন নিতে কিন্তু তোরা দুজন লাগাইলি ঝগড়া। থাক মা ডাকছে না গেলে ঝাটা দিয়ে পেটাবে।

আরিবা ফোনটা রেখে দিলো।

কিছুক্ষণ আগের কথা মনে পরলেই তার হাতপা ঠান্ডা হয়ে আসছে।

আচমকা তার হাত চলে গেলো ঠোঁটে।

মনে হচ্ছে এখনো ওই লোকটার ছোয়া লেগে আছে।

সে আপাতত ঠিক করে নিয়েছে ওই লোকের সামনে পরবে না।

------------------------

বাহিরে বের হতেই শুরু হলো মায়ের বকবকানি।

"" ছেলেটা এসেছে আর তুই দরজা বন্ধ করে বসে আছিস।কতো বড়ো ব্যেয়াদব হয়েছিস তুই।কি ভাবলো ছলেটা।

"" আমি ভাবছি মা আজ আমাকে ধুয়ে দিবে কিন্তু ওই লোকটাও এসব শুনছে নাকি।

গেলো গেলোরে আমার মানসম্মান সব গেলো।

মিনমিন করে বললাম মা উনি কথায়?

রুমে আছেন?

"" হ্যা ছেলেটা তো তোমার জন্য বসে থাকবে সে বেরিয়েছে তোমার বাবার সাথে।

"" আরিবা সস্তির শ্বাস ফেললো।

যাক আলহামদুলিল্লাহ।

"" কিহ?কিছু বললি তুই?

"" আরিবা জিভে কামর দিয়ে বললো না মা কিছু না।আবার কবে আসবেন উনি?

"" আবার মানে এখানে দুদিন থাকবে ছেলেটা তারপর বাসায় যাবে আর

বিজ্ঞাপন

বিকেলে তোমার শ্বশুর বাড়ির লোকেরাও আসবে।

তিনদিনের ছুটিতে এসেছে সে।

"" কিহ?তিনদিন।

মানে উনি এখানে কেনো থাকবেন?

"" অন্তরা বেগম চোখ গরম করে তাকালেন মেয়ের দিকে।

"" আরিবা চুপ করে গেলো।

এবার কি হবে দিনের বেলা নাহয় উনার থেকে পালিয়ে বাচবো কিন্তু রাতে।

রাতের বেলায় তার কি হবে ভেবেই কান্না পেলো আরিবার।

"" অনেক হয়েছে তোমার বাজে কথা একটু হাতে হাতে সাহায্য করলেও তো পারিস।

"" মা আমি ভার্সিটিতে যাই।

"" না মা একদিন না গেলে মহাভারত অসুদ্ধ হয়ে যাবে না তোমার।

"" আরিবার চোয়াল ঝুলে গেলো।

কি আর করবে মুখ ভার করে মায়ের হাতে হাতে সাহায্য করতে লাগলো।

-------------------------

দুপুরের মধ্যেই আরিবার শাশুড়ী ননদ দেবর সবাই চলে এলো।

আরিবা তাদের সাথে গল্প করতে লাগলো।

ততক্ষণে আরিবার মাথা থেকে সকালের ঘটনা বেরিয়ে গেছে।

"" তবে কিছুক্ষণ পরেই আরিবার বাবা সাথে জায়ান আসলো জায়ানের

হাতে অনেকগুলো প্যাকেট।আরিবার বাবার হাতেও কিছু আছে।

"" তা দেখে আরিবার মা বললো এসবের কি দরকার ছিলো বলতো এতো সব কে খাবে বাসায় মানুষ আমরা তিনজন।

তবে জায়ান এর প্রতিত্তোরে কিছু বললো না।

মাকে দেখতেই জায়ান জরিয়ে ধরলো।

কেমন আছো আম্মা।

ভালো বাবা।জাফরিনের দিকে গিয়েই তার নাক টেনে ধরলো কিরে বুচি কেমন আছিস।

জাফরিন নাক কুচকে বললো ভাইয়া আমি মটেও বুচি নই।

দেখো জোভান ভাইয়ার নাক বোচা।

এ নিয়ে তিন ভাই বোন তর্ক করা শুরু করলো।

আরিবা তো অবাক এই লোকটা কতো কঠিন কিন্তু বাড়ির মানুষ জনের সাথে কতোটা হাসিখুশী।

কিন্তু বাহিরের জগতের মানুষের কাছে জায়ান আহসান একজন

কঠিন হার্ড ওয়ার্কিং মানুষ। যে নিজের কাজে কখনো কার্পণ্য করে না।

আরিবার খুব ভালোলাগলো তিন ভাইয়ের খুনসুটি দেখতে।

তার কোনো ভাইবোন না থাকায় সে কখনো ভাইবোনের আদর খুনশুটি বোঝেনি।

"" আচ্ছা তোমরা বসো আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি বলে জায়ান রুমে চলে গেলো।

"" কিরে মা আরিবা দেখ ছেলেটার কিছু লাগবে কিনা।

"" আরিবা পরলো ফ্যাসাদে এখন এতো লোকের সামনে না ও করতে

পারবে না তাই কটমট করতে করতে রুমের দিকে এগোলো।

----------------------

রুমে আসতে দেখলো জায়ান ওয়াসরুমে চলে গেছে হয়তো সাওয়ার নিচ্ছে।

আরিবা চুপচাপ বিছানায়

বসে পরলো। কি করবে ভাবছে।জায়ান কেনো তাকে ডিভোর্স দিতে চাচ্ছে না এই বিষয় টাও মাথায় ঢুকছে না।

অনেক্ক্ষণ পরেও জায়ানকে বেরোতে না দেখে আরিবা বির বির করে বললো

কি লোকরে বাবা

৪০মিনিট ধরে ওয়াসরুমে কি করে এই লোক।ঘুমিয়ে পরলো নাকি।

আর এসেই আমার রুম ওয়াসরুম সব দখল করে নিয়েছে অসহ্য।

তারও তো গোসল করা দরকার বোঝেনা নাকি।

এসব ভাবতে ভাবতেই এর মধ্যে জায়ান বেরিয়ে আসলো।

আরিবা দরজা খোলার শব্দে একবার তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে নিলো তাকাবেনা এই লোকের দিকে সে।

"" জায়ান আরিবাকে বিছানায় বসে থাকতে দেখে এগিয়ে গেলো তার দিকে।

সে বেশ বুঝতে পারছে সকালের বিষয় টা নিয়ে আরিবা অপ্রস্তুত বোধ করছে।

"" দেখো আমি বুঝতে পারছি তুমি সকালের বিষয় টা নিয়ে ঘাবরে আছো।

আসলে ঘটনাটা হঠাৎ করে ঘটে গেছে।

আমি বুঝতে পারিনি সরি।

"" আরিবা চট করে উঠে নিজের জামাকাপড় নিয়ে ওয়াসরুমে ঢুকে গেলো।

"" জায়ান হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো।

কি আজব সে আবার কি বললো।মেয়েটা এমন করে চলে গেলো কেনো?

"" আরিবা ওয়াসরুমে ঢুকেই চোখের পানি ছেড়ে দিলো।

তার প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে। সে স্পষ্ট দেখেছে জায়ান গিল্টি ফিল করছে।

জায়ান যদি সত্যি তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতো তবে এমন হতো না।

সে নিজের চোখের পানি মুছে।ভাবলো

যে করেই হোক ডিভোর্স টা তাকে তাড়াতাড়ি দিতেই হবে।

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প