বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ২

🟢

" ভয়ে গলা শুকিয়ে আসলো আরিবার।চোখ খিচে বন্ধ করে রইলো সে।

"" কিছুক্ষণ পরেই খট করে ফোন কাটার শব্দ পেলো আরিবা।সাথে সাথে সে সহ উপস্থিত আরো দুজনেই যেনো সস্তির নিশ্বাস নিলো।

"" চোখ খুলতেই দেখতে পেলো রাইসা তার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে।

আরমান ও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

আরিবা একটা ঢোক গিলে একটু হাসার চেষ্টা করে বললো।হে হে বুঝলাম না উনি চিনলো কিভাবে।

কিরে তুই যে বললি তোর হাসবেন্ড নাকি তোর সাথে কথা বলে না।

""হ্যা তাই তো।সত্যি,কথা বলিনি আমরা কখনো।

""আচমকা রাইসা উঠে দারালো,, রাইসাকে উঠতে দেখেই আরিবা একটা ঢোক গিললো রাইসার ভাব বুঝতে পেরেই জোরে ছুটে দৌড় দিলো।সাথে সাথে তার পিছু পিছু রাইসাও ছুটলো,,

ব্যায়াদব মেয়ে ওর হাসবেন্ড নাকি ওরে চিনে না,ও নাকি ডিভোর্স দিবে।আমি তোরে অভিশাপ দিলাম ওই কাঠখোট্টা লোকের সাথেই তোকে সারাজীবন থাকতে হবে তুই জীবনেও ডিভোর্স পারবি না।

"" ছি বইন এমন অমঙ্গল কথা বলিস না ওই বেটারে আমি ডিভোর্স দিয়েই ছারবো।

এসব বলতে বলতে দুজন চরকির মতো ঘুরছে।

মাঝখানে আরমান দারিয়ে দুজনকে তাকে কেন্দ্র করে এমন ঘুরতে দেখে তার যেনো মাথা ঘুরানো শুরু হয়ে গেছে।

তাই সে বিরক্ত হয়ে বললো বইন তোরা কি থামবি আমার মাথা ঘুরছে।প্লিজ তোরা থাম আর নাহলে আমাকে

কেন্দ্র করে ঘুরা বাদ দে।আর আসেপাশে তাকিয়ে দেখ ভার্সিটির

সব স্টুডেন্ট তোদের দিকে তাকিয়ে আছে। মানসম্মান টা রাখ প্লিজ।

আরমানের কথা শুনে এবার দুজনেই থেমে গেলো আশেপাশে তাকাতেই

দেখলো সাবাই তাদের দিকে উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছে।

যা দেখে তারা দুজনেই খুব লজ্জা পেলো।

আরমানের যেনো জানে পানি আসলো।

এই তোদের মতো পাগলের সাথে আমার বন্ধুত্ব করাটাই ভুল হইছে।

আমার মতো একটা ভালো ছেলেকে তোরা বন্ধু হিসেবে পেলি কিভাবে।বলে সামনে তাকাতেই দেখলো

রাইসা আরিবা দুজনেই ভ্রু উচু করে তাকিয়ে আছে।

আরমান এবার হে হে করে ক্যাবলার মতো হেসে বললো আরে চোটছিস কেনো তোরা পাগলি হলে আমিও পাগল নাহলে কি আমরা এমনি বন্ধু হয়েছি।

তার কথা শুনে দুজনেই হেসে ফেললো।

আরমান একটা শান্তির

শ্বাস ফেললো নাহলে আর দুজনে মিলে তাকে পিটিয়ে শেষ করে দিতো।

----------------------

আরিবা ভার্সিটি থেকে রিক্সায় ফিরছে।তবে তার বেশ ভয় করছে।ভয়ের কারনটা হলো তার মা।

যদি লোকটা মাকে সব বলে দেয়।তহলে তো সকালের খুন্তিটা আমার পিঠে ভাঙবে।

ভাবতে ভাবতে রিক্সা বাসার সামনে এসে থামলো।

কলিং বেল বাজাতেই বাড়ির কাজের লোক এসে দরজা খুলে দিলো।

আরিবার মা অন্তরা বেগম তেরে এলেন।

আরিবা তো ভয়ে শেষ

মা বিশ্বাস করো আমি এমন কিছু করতে চাইনি প্লিজ প্লিজ মেরোনা।

কিরে এতো দেরি হলো কেনো তোর আর তোকে মারবোই বা কেনো আমি কি করেছিস তুই সত্যি করে বল।

আরিবা ফট করে চোখ খুললো তার মানে মা কিছু জানেনা। যাক বাবা বাচা গেলো।

সে হেসে বললো আরেহ মা কিছু করিনি তো আমি।

আর এক্সট্রা ক্লাস ছিলো তাই দেরি হয়ে গেছে।

বলেই দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেলো।

"" অন্তরা বেগম তাকিয়ে রইলো মেয়ের দিকে তার মনে হচ্ছে মেয়ে কিছু একটা পাকাচ্ছে।

এমনিতেও বিয়েটা তিনি অনেকটা জোর করেই দিয়েছেন নাহলে আরিবার বাবা বা আরিবা কেউই তেমন রাজি ছিলো না বিয়েটাতে।

"" তবে ছোটবেলার বান্ধবীকেও তিনি হারাতে চান নি। তাছাড়া সেই

বয়সেই তিনি বলে রেখেছিলেন তার মেয়ে হলে তিনি বান্ধবীর ছেলের সাথে বিয়ে দেবেন।

"" তবে মাঝে যোগাযোগ না থাকায় সবটা ভুলে গেছিলেন।

পর্ব ২

ফ্রেশ হয়ে খাওয়াদাওয়া শেষ করে আবার রুমে এসে ভাবতে শুরু করলো।

কতোবড় সাহস আমাকে ইডিয়ট বলে।আমি নাকি তাকে ডিসটার্ব করি ব্যাটা খাটাস।

বিজ্ঞাপন

করবো না তোর সাথে সংসার আমি দেখে নিস।কিন্তু কি করা যায়।

কি করলে ওই লোক ছেড়ে দিবে আমায়।আর কোনো ভাবে মা জানতে পারলে আমারে খুন্তি দিয়ে পিটাবে।

অনেক ভেবে আবার একটা বুদ্ধি বের করলো।

তাড়াতাড়ি করে আরমানকে কল করলো।

কিরে পাগলি কি হইছে তোর??

"" দোস্ত তুই আমার জানের দোস্ত আমার প্রানের দোস্ত। তুই ছাড়া

আমার কেউ নাই তুই জানিস।কাঁদো কাঁদো গলায় বললো আরিবা।

""এই এই নাটকবাজ মহিলা থাম তুই। এতো পিরিত আসতেছে কেনো তোর ঝেড়ে কাসো তো মনা।

"" আরিবা আরেকটু নাটকীয় গলায় বললো ছি দোস্ত তোকে কি শুধু আমি প্রয়োজনে ডাকি।নাহলে কি তোর

কথা মনে করিনা আমি।তুই এ কথা বলতে পারলি একথা সোনার আগে আমার মরন হলো না কেনো।

""এই চুপ।আর নাটক করিস না ঝেড়ে কাশ দেখি।

""সোন দোস্ত তুই তো দেখলি ওই লোকটা আমাকে ইডিয়ট বললো আবার কেমন ধমকালো।তার পরও ওনার সাথে আমার সংসার করা উচিৎ তুই বল।

"" একদমি না দোস্ত তুই ওই ব্যাটারে ডিভোর্স দে জাস্ট ডিভোর্স।

"" হ্যা সেটাইতো কিন্তু এটার জন্য আমার তোর সাহায্যের প্রয়োজন।

"" আ,,আমার সাহায্য মানে আমি কি করবো।

"" দেখ তুই আমার বয়ফ্রেন্ড হয়ে যা।

"" আস্তাগফিরুল্লাহ দোস্ত আমি এমন করতেই পারিনা কেবল নতুন

একটা মেয়ে পটাইছি। জানতে পারলে আমারে কেলানি দিবে।

তাছাড়া তোর বরটাও আমারে ধইরা মারবে বোন।আমারে ক্ষমা কর।

"" আরিবা এবার বিরক্ত হলো।

এই তুই না বলিস তোর খুব সাহস। সেই সাহস কোথায় গেলো তাহলে ভিতুর ডিম।আর তোর গার্লফ্রেন্ড রে আমি সামলে নিবো।

"" তুই এখন ওনাকে কল দিয়ে বলবি তুই আমার বয়ফ্রেন্ড আমরা খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করবো।আপনি ওকে ছেড়ে দিন।

"" নাউজুবিল্লাহ,, আমি পারবো না।শুনেছি তোর বরের অনেক পাওয়ার

আর দেখতেও নাকি খুব সুন্দর গায়ে শক্তি প্রচুর।আমারে একবার ধরলে জান বের করে নিবে শিওর। আমি পারবো না।

""তুই পারবি না।

"" না।

"" ওকে আজ থেকে তোর আর আমর বন্ধুত্ব খতম।বায়।বলেই খট করে কল কেটে দিলো আরিবা।

"" আরমান তো পরেছে মহা ফ্যাসাদে সে এখন কি করবে।তার সন্টু মন্টু গার্লফ্রেন্ড টা তাকে ছেড়ে চলে যাবে।আবার তার কাছে বন্ধুত্ব টাও ইমপোর্টেন্ট।

তাই অনেক ভেবে চিন্তে তার গার্লফ্রেন্ড কে সবটা বুঝালো।

কাল আরিবার সাথে দেখা করাবে বলেছে তবেই রাজি হয়েছে মেয়েটা।

-----------------

আরিবা বসে বসে নখ কামরাচ্ছে আর একটু পর পর ফোনের দিকে তাকাচ্ছে।

একটু পরেই তার মুখে হাসি ফুটলো। কারন সে জানতো তার ফোন বেজে উঠবে একটু পর।

"" ব্যায়াদব মেয়ে দে তোর ভাতারের নাম্বার দে?

"" আরিবা হেসে ফেললো আর নাম্বারটা সেন্ড করলো।

--------------------------

আরিবা রাতের খাবার খেয়ে শুতেই তার ফোনটা বেজে উঠলো।

ফোন হাতে নিতেই তার জান শুকিয়ে এলো।কারন ফোনটা আর কেউ না জায়ান আহসান তার স্বামীর করা।

মনে অনেকটা সাহস যুগিয়ে ফোনটা কানে ধরলো আরিবা।

এই মেয়ে তুমি কি আমাকে শান্তি দেবেনা ভেবেছো।গম্ভীর কন্ঠে

ভেসে এলো কথাটা।কি চাই তোমার?তুমি যানো আমর একটা রেপুটেশন আছে তাতে দাগ লাগাবেনা একদম।

""আমার ডিভোর্স চাই দিয়েদিন।আপনাকে আর জালাবো না।

"" চুপ ননসেন্স আর একবার ডিভোর্স এর কথা উচ্চারণ করলে জিভ

ছিরে নিবো তোমার।আর তোমার বয়ফ্রেন্ড না কে আছে তার ব্যাবস্থা করছি আমি।বলে খট করে কল কেটে দিলো

"" কিছুক্ষণ পর আবার ফোন বেজে উঠল তবে ফোনটা জায়ান নয়

আরমান করেছে।আরিবা ফোনটা ধরলো না।তার প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে।

""ফোনটা ছুড়েফেলে বিছানার বালিশে মুখ গুজে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো সে।

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প