বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ৪

🟢

আরিবা একটা সবুজ রঙের থ্রিপিস পরে নিলো।

আরিবা দেখতে মাশাআল্লাহ বলার মতো সুন্দর দুধে আলতা গায়ের রঙে সবুজ রঙটা যেনো আরো ফুটে উঠেছে।

সে একটু পাউডার দিয়ে মুখটা সেট করে নিলো।

সবকিছু ঠিকঠাক দেখেই বেড়িয়ে আসলো।

"" ড্রইংরুমে আসতেই দেখলো তার সাশুরি,একমাত্র ননদ জাফরিন,আর তার দেবর জোভান বসে আছে।তাকে দেখতেই তিনজনের মুখেই হাসি ফুটলো।

আরিবা নিজেও একটা হাসি দিলো।

কাছে যতেই তার শাশুড়ী পাশে বসতে বললেন।

আরিবার ননদ জাফরিন এবছর ইন্টার পরিক্ষা দিবে।আর তার দেবর জোভান এবার অনার্স 3rd ইয়ারে পরছে।

জোভান অনেক হাসিখুশি একটা ছেলে আরিবা তার থেকে ছোট

হলেও জোভান বড়ো ভাবি হিসেবে আরিবাকে সম্মান করে।

জাফরিন তো বিয়ের পর থেকেই ভাবি ভাবি বলে পাগল।মেয়েটা খুব মিষ্টি।

এক কথায় আরিবার শশুর বাড়ির সবাই খুব ভালো।তবে এটা আর কতোদিন আমার শশুর বাড়ি থাকবে কে জানে।

"" কি ভাবি কি এতো ভাবছো।

""তেমন কিছু না।

"" আরিবা ওকে তোর রুমে নিয়ে যা গল্প কর সবাই মিলে।

"" হ্যা চলো।

আমি জাফরিন কে নিয়ে রুমে চলে আসলাম।

"" ভাবি?

"" হ্যা বলো?

"" তোমার আমার ভাইয়া কে কেমন লাগে?

"" আরিবা ইতস্তত করে বললো কেমন আর লাগবে ভালোই।

"" ওহ হো তারমানে তো তুমি ভাইয়ার সাথে কথা বলো তাইনা।

তোমাদের তো প্রেম আলাপ চলে তাইনা?তুমি নিশ্চই ভাইয়ার সাথে অনেক রোমান্টিক কথা বলো তাইনা।

এই ভাবি বলোনা কি বলে তোমরা।

"" আরিবার গাল লাল হয়ে গেছে লজ্জায় এইটুকু মেয়ে তাকে লজ্জা দিচ্ছে।

তুমি কি বলছো এসব আমার তোমার ভাইয়ার সাথে তেমন কথা হয় না।

"" তাহলে কেমন কথা হয় ভাবি বলো না?

""ওহ খুব শখ বড়ো ভাই ভাবির রোমাঞ্চ এর গল্প শোনার তাইনা?বলবো বড়ো ভাইয়াকে যে আজকাল তুমি পড়াশোনা বাদ দিয়ে রোমাঞ্চ নিয়ে পরে থাকো।হুম।

বললো জোভান।

"" জোভান কে দেখেই আরিবা উঠে দারালো।

আরে ভাইয়া আসুন ভেতরে আসুন।বসুন এখানে।

"" জোভান ভেতরে গেলো।বোনের পাশে বসতেই।

"" ভাইয়া একদম এর মাঝে বড়ো ভাইয়ারে টানবা না।আর আমি পড়াশোনা করি হুহ।

"" হ্যা হ্যা ওসব আমার জানা আছে তাইতো ছোট হয়ে বড়ো ভাবিকে লজ্জা দিচ্ছিস।

"" ভাবি তুমি ওর কথায় লজ্জা পেয়ো না ও তো গাধা তাই তোমাকে জিজ্ঞেস

করেছে, নাহলে এটা তো জানা কথা তুমি ভাইয়ার সাথে ফোনে প্রেম আলাপ

করো যেহেতু তোমাদের বিয়ের তিন মাস পেরিয়ে গেছে।

"" আরিবা যেনো হতভম্ব হলো।সেতো ভেবেছিলো বড়ো ভাইকে দেখে ছোট বোন চুপ করে যাবে এখন

তো দেখছে সেও এসে তাকে লজ্জা দিচ্ছে। এ কেমন কথা।

"" আরিবা লজ্জা পেয়ে মিনমিন করে বললো ভাইয়া আপনিও?

"" তার কথা শুনে জাফরিন জোভান হেসে বললো আরে ভাবি দেখি লজ্জা পাচ্ছে।

"" হ্যা তাই তো দেখছি ভাইয়া।

বিজ্ঞাপন

"" আর ভাবি শোনো তোমার থেকে আমি বড়ো হলেও সম্পর্কে আমি তোমার থেকে ছোট তাই আমাকে তুমি বলবে।

আর দেবর হিসেবে টুকটাক মজা করলে তুমি কিন্তু মাইন্ড করবা না।

"" আরিবা মাথা ঝাকালো।তার ভালো লাগছে এ সব কিছু তার জন্য নয়।আর যে লোক কোনোদিন তাকে ফোন দেয় নি

কথা বলেনি বললেও

ধমক দেওয়ার জন্য আর বকার জন্য।তার সাথে নাকি প্রেম আলাপ বিষয় টা ভাবলেও হাসি পায় আরিবার।

সন্ধার দিকে আরিবার শশুর বাড়ির লোকজন সবাই বাসায় চলে গেলো।তারা মুলত এসেছিলো আরিবাকে

উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুষ্ঠান নিয়ে কথা বলতে।আরিবার বাবা মায়ের

একমাত্র মেয়ে হওয়ায় অনুষ্ঠান না করে তারা মেয়ে পাঠাবেন না।

তিনমাস পর জায়ানের ছুটি হলে তখন অনুষ্ঠান হবে বলে ঠিক করা হয়েছে।

পর্ব 4

আরিবার ফোনে ম্যাসেজ আসলে তা অপেন করতেই দেখলো নুর ম্যাম ম্যাসেজ করেছে।তার ওপেন করতে মন না

চাইলেও নিজের কৌতুহল দমিয়ে রাখতে পারলো না। তাই ওপেন করতেই

দেখলো নুর আর জায়ানের ছবি তারা হয়তো কিছু নিয়ে কথা বলছে।জায়ানের ঠোঁটের কোনে চাপা হাসি লেগে আাছে।

সেই হাসি দেখেও আরিবা এর খারাপ লাগলো। কেননা এই লোককে কখনো হাসতে দেখেনি আরিবা। অথচ এখন ঠিক হাসছে।কতো খুশি উনি নুর ম্যাম এর সাথে।

ছবির সাথে একটা ম্যাসেজ ও আছে তাতে লেখা।

দেখো আরিবা জায়ান আমার সাথে কতোটা সুখি। তাই তুমি তাড়াতাড়ি ডিভোর্স এর ব্যাবস্থা করো।

আরিবা চট করে জায়ানের নাম্বারে ডায়াল করলো।কিন্তু কল উঠালো না।তা কেনো উঠাবে আছে তো গার্লফ্রেন্ড এর সাথে কিছুক্ষণ পরেই তার ফোন বেজে উঠল।

"" ফোন তুলতেই ওপাশ থেকে ভেসে আসলো ফোন কেনো করেছো?কি চাই?

"" আরিবা একটা দম ছেড়ে বললো আপনি কোন সাহসে আমার বয়ফ্রেন্ড এর গায়ে হাত দিয়েছেন।

"" ফর ইওর কাইন্ড ইনফরমেশন আমি তার গায়ে হাত দেইনি ওন্যকে দিয়ে দিয়েছি।

"" আরিবা যেনো হতবাক হলো কতো সহজে বললো কথাটা।

আপনি কেনো করেছেন এমনটা?

"" অন্যের বউয়ের সাথে প্রেম করার শখটা যেনো না হয় তাই।

"" আপনি কি মনে করেছেন হ্যা আপনি ওকে মারলেন আর আমি ওকে ছেড়ে দিলাম আমি ওকেই বিয়ে করবো আর আপনাকেও ডিভোর্স দেবো দেখে নিয়েন।

বলে খট করে ফোন কাটলো আরিবা।

"" পরপরই ফোন আবার বেজে উঠল কিন্তু আরিবা ফোন তুললো না।

অনেকটা সাহস নিয়ে বলেছে কথাটা এবার যে তাকে ধমক দিবে বেশ বুঝতে পারছে।

"" দরজা ধাক্কানোর শব্দে সে খুললো দরজা।

"" কিরে জামাই নাকি তোকে ফোন দিচ্ছে তুলছিস না এই নে কথা বল।বলে ফোন দিয়ে চলে গেলো।

"" আরিবা ফোন কানে নিতেই

"" ইডিয়ট চাপকে সোজা করে দেবো আমি গেলে তুমি চেনো না আমায়।আর তোমার ওই সোকল্ড বয়ফ্রেন্ড থেকে দুরে থাকবা নাহলে এইবার শুধু চোট পেয়েছে নেক্সট টাইম পা ভেঙে হাতে ধরিয়ে দিবো।

আর আমাকে শান্তি দাও সারাদিন তোমায় নিয়ে পরে থাকবো না আমি আমার অনেক কাজ আছে।

"" আরিবা মনে মনে বললো তা কেনো থাকবে আছেন তো গার্লফ্রেন্ড কে নিয়ে আমার পেছনে পরে কেনো থাকবেন আপনি।

কিন্তু মুখে বললো।

"" আপনি কেনো বুঝছেন না আমার আপনাকে পছন্দ না আমার ডিভোর্স চাই।

"" এই মেয়ে আমি যদি যাই তোমার মাথা থেকে ডিভোর্স এর ভুত ছাড়িয়ে তবে থামবো।

ফোনটা কেটে দিলো।

"" অন্তরা বেগমকে ফোন দিতে গেলে তিনি বললেন কিরে তোর ফোন কি হয়েছে তুই কি ছেলেটার সাথে ঝগরা করেছিস।

"" না মা তেমন কিছু না।

"" তাই যেনো হয় ছেলেটা অনেক ভালো শুধু একটু রাগি এই যা।

"" আরিবা রুমে চলে আসলো।তার কিছু ভালো লাগছে না।

হঠাৎ করেই তার জীবনটা এলোমেলো হয়ে গেছে। আগে সে কতোটা হাসিখুশি ছিলো।

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প