বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ১

🟢

যে ছেলেকে দেখলেই ভয়ে হাত পা কেপে উঠে আমার যার মুখে কখনো হাসি দেখিনি আমি, তাছাড়া

কথায় কথায় ধমক দেয়। তার সাথে সংসার করবো কিভাবে আমি

বলতে বলতেই চোখ ছলছল করে উঠলো আরিবার।

সামনে দারানো মেয়েটিও আফসোস এর সুরে বলে উঠলো তোমার জন্য আমার সত্যি খারাপ লাগছে।

এতো ছোটো বয়সে কাউকে বিয়ে দেয়।আর তুমি তো তোমার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান তারপর ও এমন করার মানে বুঝলাম না।

""আসলে আমার বাবা মায়ের ডিফেন্স এর জব অনেক পছন্দের।

তারপর আবার খুব অল্প বয়সে সে মেজর পদে উপনিত হয়েছে।

তাই বাবা মাও হাতছাড়া করেন নি।

আমার বাবা-মা এর ইচ্ছে ছিলো আমাকেও সেনাবাহিনীতে জব করানোর আর শেখানেই প্রথম দেখছি আমি অনাকে।

উনি আমাদের ট্রেইনার ছিলেন।

""তোমার হাসবেন্ড এর নাম যেনো কি বললে?

জায়ান আহসান। আমার কোনো ইচ্ছে ছিলো না সেনাবাহিনীতে জব কারার বাবা মা জোর করেছিলো তাই আমিও

সায় জানিয়েছিলাম।এখন তারা আর আমাকে জব করাবে না। এতে অবস্য আমার কোনো আফসোস নেই আমি খুশি হয়েছি।

ওনার মা নাকি আমার মায়ের বান্ধবী ছিলো।তবে দুজনের বিয়ের পর তেমন আর যোগাযোগ হয়ে উঠে নি।

হঠাৎ নাকি রাস্তায় দেখা হয় তো আম্মু ও তাকে বাসায় নিয়ে আসেন।সেখানেই উনি আমাকে দেখে পছন্দ করেন।তারপর বিয়ে।

সামনে দরানো মেয়েটি এবার উঠে দারালো।

সত্যি তোমার জন্য অনেক

খারাপ লাগছে কতোটুকুই বা বয়স তোমার। কিন্তু চাইলেই সবকিছু

আমাদের মন মতো হয় না। ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেককিছু মেনে নিতে হয়।

তুমিও মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করো।

আজ উঠি সন্ধা হয়ে আসলো আমাকে বাসায় যেতে হবে।

"" আচ্ছা ঠিকাছে।বলে আমিও একটা রিক্সা করে বাসায় চলে আসলাম।

আমি আরিবা।পুরো নাম আরিবা নাওশিন।বাবামায়ের একমাত্র সন্তান আমি।আমাদের বাড়িটা দোতলা। নিচতলা ভাড়া দেওয়া আর ওপরে আমরা থাকি।

আসলে আমার বিয়ে হয়েছে তিন মাস হলো।যা সম্পুর্ন আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। আর আমি চাইনা ওনার সাথে সংসার করতে।

আর করবোই বা কেনো। উনার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে তিন মাস হলো।

ওনার কাছে আমার নাম্বার আইডি সবকিছু আছে কিন্তু একদিন ও আমার খোজ নেওয়ার চেষ্টা করেন নি।

বিয়ের দিন ও মুখটা এমন গম্ভীর করে রেখেছিলেন যেনো

উনি প্রচন্ড বিরক্ত। তা যখন এতই বিরক্তি তাহলে বিয়ে কেনো করলো।আর বিয়ে করলে উনি আমাকে আমার অধিকার কেনো দিবেন না।

এসব ভেবে মনে মনে ঠিক করলাম যাই হয়ে যাক অনাকে আমি

ডিভোর্স দিয়েই ছারবো নাহলে আমার নাম ও আরিবা নাওশিন না।কিন্তু

কি করা যায় মাথায় তো কিছুই আসছে না।অনেক ভেবে চিন্তে একটা আইডিয়া খুজে পেলাম।খুব খুশি খুশি লাগছে এবার।

কিন্তু তার জন্য আমাকে কাল ভার্সিটি যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

তাই খুশি মনে ঘুমিয়ে পরলাম।

-----------------------

সকালে ঘুম থেকে উঠতেই মনটা বেশ ফুরফুরে লাগছে।

"" কি ব্যাপার মামনি আজ মনে হয় তুমি একটু বেশি খুশি।

হ্যা বাবা একটা শুভ কাজ করতে যাচ্ছি দোয়া করো যেনো সফল হই।

"" আরিবার বাবা আফজাল হোসেন মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন অবস্যই তুমি সফল হবে।

"" এই বাবা মেয়েতে মিলে কি গুজুর গুজুর করছো আর তোমার মেয়েকে সাবধান করে দাও যেনো উল্টো পাল্টা

বিজ্ঞাপন

কিছু না করে। তার মাথায় তো সবসময় দুষ্টু বুদ্ধি ভর করে থাকে। শেষে শ্বশুর বাড়ি থেকে যেনো কোনো রিপোর্ট না শুনি আমি।

মায়ের কথায় আরিবার তেমন ভাবান্তর হলো না।আফজাল খান বলে উঠলেন আমার মেয়েকে আমি চিনি সে যথেষ্ট ভদ্র।

এতে আরিবার চোখ চকচক করে উঠলো।

"" অন্তরা বেগম আরিবার মা বলে উঠলো ভালো হলেই ভালো নাহলে এই খুন্তি দিয়ে আমি ওকে চাপকে সোজা করবো নলে দিলাম।

ওহ মাই মম চিল তোমার মেয়েকে তো তুমি চেনো সে কোনো ভুল করতে পারে বলো।

পর্ব ১

"" চিনি বলেই বলছি।

আরিবা বুঝলো মাকে পটাতে পারবে না তাই সে ভার্সিটির উদ্দেশ্য রওনা হলো।

ভার্সিটি যেতেই তার বান্ধবি রাইসার সাথে দেখা হলো সাথে ছিলো তার একমাত্র ছেলে বন্ধু আরমান।তাকে দেখতেই দুজন দাদ কেলালো।

তবে আরিবা নিজের মুখটা দুঃখী দুঃখী করলো এতে তার দুই বন্ধু যেনো অবাক হলো।

"" কিরে তোর আজ কি হয়েছে মুখটা এমন বাংলার পাঁচের মতো করে নিয়ে আছিস কেনো।

"" আরিবা এবার কিছুটা কান্না কান্না ভান করে বললো তোরা তো জানিস আমার বিয়ে হয়েছে।

"" হ্যা হয়েছে তো?

"" তো মানে আমি ওনার সাথে সংসার করবো না আমার ডিভোর্স চাই।

"" আরমান রাইসা দুজনেই চমকে উঠে বললো কেনো রে কি সমস্যা।

"" আরিবা আরেকটু দুঃখী হওয়ার ভান করে বললো সে আমাকে পাত্তা

দেয় না।তিন মাস হয়েছে বিয়ের কিন্তু তার কোনো খোজ নেই আর

ওনাকে দেখলেই আমার ভয় করে।কথায় কথায় ধমক দেন। তাই আমার ডিভোর্স চাই।

"" রাইসা বিরক্ত হয়ে বললো এই সামান্য কারনে তোর ডিভোর্স চাই।তুই কি পাগল।

"" এই তুই চুপ কর আমার দুঃখ টা বুঝ।

"" আমি তোর দুঃখ বুঝি দোস্ত তুই ওই ব্যাটারে ডিভোর্স দে।কোনো কথা ছাড়া ডিভোর্স দিবি।

"" রাইসা বিরক্ত হয়ে আরমানের দিকে তাকালো।এই ছেলে কিসের কি বোঝাবে তা না আরো এই বলদকে উস্কে দিচ্ছে।

"" হ্যা সেটাই আর তার জন্য রাইসাকে একটা কাজ করতে হবে।

"" কি কাজ?

"" আরিবা সবটা বলতেই রাইসা লাফিয়ে নিজের যায়গা থেকে উঠে পরলো।সে কখনোই এমন কিছু করবে না।

"" কিন্তু আরিবা তো নাছর বান্দা। তাই শেষ মেশ নিজের ফোন দিয়ে ডায়াল করলো জায়ান আহসান নামক ব্যাক্তিকে।

"" প্রথম দুবার কল করায় অচেনা নাম্বার হওয়ায় ধরলো না তবে তিন বারের বেলায় কলটা তুললো।

"" হ্যালো কে বলছেন?

ওপার থেকে গম্ভীর গলার আওয়াজ ভেসে আসলো।

আওয়াজ শুনেই রাইসার জান যায় অবস্থা। তবে আরিবা আরমান তাকে সাহস যোগালো।

"" জায়ান আহসান বলছেন?

"" হ্যা আপনি কে বলছেন?

"" আমাকে আপনি চিনবেন না। তবে আপনার স্ত্রী আরিবা নাওশিনকে খুব ভালো করে চিনি।

তাকে আপনি ছেড়ে দিন। তার অন্য যায়গায় রিলেশন আছে।তার সাথে ঘুরে বেরায় সে অনেক বাজে একটা মেয়ে।

"" কোনো প্রমান।

"" এতোকিছু সোনার পরেও এমন নরমাল গলার স্বর শুনে আরিবা সহ তিনজন একটু অবাক হলো।

রাইসা এবার আমতা আমতা করে বললো আছে তো প্রমান দেওয়া হবে আপনাকে।

"" ওহ তার আগে আপনার পাশে বসা মিসেস আরিবা নাওশিন কে ফোনটা দিন।

এ কথা সোনার সাথে সাথে তিনজন আতকে উঠলো।

জায়ান আবার গম্ভীর গলায় বললো দিন তাকে।

রাইসা ফোনটা আরিবার দিকে ছুরে মারলো। আরিবা ভয়ে ভয়ে ফোনটা হাতে নিতেই ওপার থেকে ভেসে আসলো।

ইডিয়ট, চাপকে সোজা করে দেবো।একদম জালাবে না আমাকে।

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প