ক্লাসে বসে আছে আরিবা পাশে রাইসা ওর দিকে বিরক্ত মুখ করে বসে আছে। আরমান ও তাকিয়ে আছে তবে তার মুখের অভিব্যাক্তি বোঝা যাচ্ছে না।
সামনে লেকচারার তাদের ক্লাস নিচ্ছে তবে সেদিকে তাদের হুস নেই।
"" আরিবা তাদের দুজনকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললো
আমার মুখে কি কিছু বেড়িয়েছে তোরা এমন করে তাকিয়ে আছিস কেনো পারলে কোনো আইডিয়া দে যাতে ওই লোকটার থেকে আমি মুক্তি পাই।
"" এই পেছনের তিন জন স্ট্যান্ডআপ।
রাগি কন্ঠে বলে উঠলো ক্লাসের টিচার।
"" আরিবা দাতে জিভ কেটে উঠে দারালো সেই সাথে আরমান আর রাইসাও দাড়ালো।
"" তোমরা গল্প করতে এসেছো নাকি ক্লাস করতে। যদি ক্লাস করতে মন না চায় তাহলে বাহিরে যাও।
"" আরিবা বেরিয়ে আসলো সাথে রাইসা আর আরমান ও।
"" তোদের জন্য ক্লাসটা মিস করে গেলাম।বললো রাইসা।
"" হ্যা তাতে কেমন ক্লাস যে তুমি করছিলে ছিলে তো আমার মুখের দিকে তাকিয়ে।
"" আচ্ছা দোস্ত আমার খুব খুদা লাগছে চল ক্যান্টিনে যাই।
"" হ্যা তুই তো গেলার জন্য রেডি থাকিস সবসময়।
বলে তিনজন ক্যান্টিনের দিকে গেলো।
আচ্ছা তোরা আমাকে আইডিয়া কেনো দিস না বল তো আমি ওনার সাথে থাকতে চাই না।
রাইসা এবার প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে বললো দেখ আরিবা বিয়ে কোনো ছেলে
খেলা নয় এটা একটা পবিত্র বন্ধন আর তুই সিম্পল কিছু কারন দেখিয়ে সেই সম্পর্ক নষ্ট করতে পারিস না।তাই ওফ জা প্লিজ।
আরিবা এবার মলিন গলায় অন্যমনষ্ক হয়ে বললো সিম্পল কারন নয়।
"" আরমান রাইসা তারাক করে তাকালো আরিবার দিকে।
কি কারন আছে আর কি লুকোচ্ছিস তুই সত্যি করে বল তো।
তাছাড়া আমরাও জানি তুই বিয়ে বিষয় টা নিয়ে এতোটা ছেলে মানুষি করবি না।
"" আরিবা এবার হতাশ শ্বাস ফেললো বললো উনি অন্যকাউকে পছন্দ করেন।
"" কিহ!
"" হ্যা আমাদের ট্রেনিং এর সময় একটা ম্যাম ছিলেন নাম নুর জাহান।ওনার সাথে সম্পর্কে আছেন উনি।
"" রাইসা এবার সিরিয়াস হয়ে বললো তাহলে উনি তোকে কেনো বিয়ে করলো?
"" নিজের মায়ের কথা রাখতে।
"" আরমান এবার বললো এটা কি উনি নিজে থেকে বলেছেন যে উনি তোর সাথে থাকতে চান না।
"" না তবে নুর ম্যাম বলেছেন।
বলে হাতের ফোনটা ধরিয়ে দিলো রাইসার হাতে।
"" রাইসা আর আরমান খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ম্যাসেজ গুলো পরলো।
"" ওই সালারে তুই ডিভোর্স দিবি ও আমার পা ভাঙছে তো কি হইছে। তুই ওরে ডিভোর্স দিয়ে ছারবি। ও তোরেও রাখতে চায় আবার গার্লফ্রেন্ড রেও চায় বাহ।
বললো আরমান।বেচারা রেগে গেছে অনেক।
"" আচ্ছা আরিবা এটা তো মিথ্যা ও হতে পারে তাইনা?
"" রাইসার কথায় আরিবা জবাব দিলো
একদমি না এটা সত্যি আর এ বিষয় টা নিয়ে আমি একদম শিওর।
"" ওহ বিষয় টা এমন হলে আমিও বলবো তুই ডিভোর্স দিয়ে দে।
"" হ্যা ওই জন্য তো বলছি তোরা আমাকে সাহায্য কর।
"" তাহলে কি করবি ভাবছিস?
"" রাইসা তুই আমার আর আরমানের কিছু ক্লোজ পিক উঠিয়ে দে তো।
"" আবার আমারে ফাসায়। এবার ওই লোক আমার গলা কাটবে।
"" তুই চুপ থাক।
"" রাইসা আরিবা আরমানের কিছু ক্লোজ পিক উঠিয়ে দিলো
যার মধ্যে একটাতে আরমান রাইসা কে খাইয়ে দিচ্ছে। একটাতে তার চুল ঠিক করে দিচ্ছে। ঘারে হাত রেখে দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে।
"" আরিবা এবার পিক গুলো নিয়ে স্টোরি দিয়ে দিলো।
তা দেখে রাইসা আরমান আতকে উঠে বললো এটা কি করলি সবাই দেখবে তো।
"" তোদের কি আমাকে এতই বোকা মনে হয় আমি সবার থেকে হাইড
করে স্টোরি দিসি ওনার নিজের রেপুটেশন নিয়ে অনেক সিরিয়াস। উনি এটা মেনে নিতে পারবেন না আমি জানি।
এবার সবার সাথে সময় কাটিয়ে রাইসা বাসায় ফিরলো।
---------------------------
সে বার বার ফোন চেক দিচ্ছে তবে জায়ান তার স্টোরি সিন করছে না।
রাইসা ভাবছে তার প্ল্যান না আবার ফেল হয়ে যায়।তবে কিছুক্ষণ পরি জায়ান এর আইডিটা এক্টিভ দেখালো।
আর স্টোরি টাও সিন দেখালো
তার কিছুক্ষণ পরি ফোন বেজে উঠল।
"" এই ইডিয়ট এসব কি ধরনের স্টোরি দিয়েছো তুমি?
"" কি দিয়েছি?
"" কি দিয়েছো মানে তুমি জানো আমার একটা সম্মান আছে আর তুমি
বাহিরে এসব করে বেরাচ্ছো।আমাকে বাধ্য করোনা তোমার বিরুদ্ধে স্ট্যেপ নিতে সেটা তোমার জন্য ভালো হবে না।
"" কি করবেন আপনি হ্যা দিন না ডিভোর্স আমাকে।তাহলেই তো হয়ে যায়।
"" তোমার ডিভোর্স চাই তাইনা দেখাচ্ছি মজা তোমাকে আমি।
"" হ্যা হ্যা দেখ,,,,,
কথা শেষ হওয়ার আগেই ফোন কেটে গেলো।
"" আরিবার এবার খুশি খুশি লাগছে যাক কাজ হবে এবার।
---------------------
আরিবা, আরিবা কোথায় তুমি?
"" মায়ের ডাকে আরিবার পিলে চমকে উঠলো।
সে ভয়ে ভয়ে ড্রইং রুমে গেলো। দেখলো তার বাবাও সেখানে উপস্থিত তবে তার কোনো হেলদোল নেই।ময়ের দিকে তাকলে দেখলো তিনি প্রচন্ড রেগে আছেন।
"" কি হয়েছে মা।
"" কি হয়েছে মানে কি করেছো তুমি? তুমি কি চাচ্ছো তোমার বাড়ি থেকে বেরোনো বন্ধ করে দেই আমি এটাই চাও তুমি তাই না।
"" আরিবা অসহায় চোখে তাকালো বাবার দিকে।
"" আহ মেয়েটাকে বকছো কেনো কি হয়েছে টা কি বলোতো। সকাল সকাল মাথা কেনো খাচ্ছো।
"" সেটা তোমার মেয়েকে জিজ্ঞেস করো।জায়ান ফোন করেছিলো আমাকে।
তোমার মেয়েকে বলে দাও তার বাহিরে যাওয়া বন্ধ।
"" মা প্লিজ।
"" অন্তরা বেগম কোনো কথা না শুনেই চলে গেলেন।
আরিবা এবার বাবার দিকে তাকালো।
"" তুই চিন্তা করিস না বললেই হলো আমার মেয়ের যা ইচ্ছে তাই করবে।
"" আরিবা খুশি হয়ে গেলো।তার বাবাই তার একমাত্র ভরসা।ছোটবেলা থেকে যে জিনিসটার জন্য মা বারন
করবে তাতে যদি আরিবার মন খারাপ হয় তো তার বাবা সেটা কোনোভাবে না কোনোভাবে পুরন করবেই।
এক কথায় আরিবার শক্তি তার বাবা।
"" আরিবা টেনশন ফ্রী হয়ে রুমে আসলো।
তবে তার জায়ানের ওপর খুব রাগ হলো কি দরকার ছিলো মা কে বলার কথাটা।
আর ওনার আমাকে ডিভোর্স দিতে সমস্যা কি বুঝলাম না।
উনি কি একসাথে দুই বউ রাখতে চান নাকি।ভেবেই আরিবার চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো।
কতো বড়ো বাজে লোক উনি ওখানে এক বউ নিয়ে ফুর্তি করবে আবার আমাকেও রাখবে বাহ।
"" আরমানকে ফোন দিলো আরিবা।
"" হ্যা দোস্ত বল কি হইছে?
"" কি আর হবে ওই খবিশ লোক আম্মু কে বলে দিয়েছে।
"" কি বলিস তাহলে আন্টি কি বললো।
"" কি আর বলবে আমারে বকলো। ভাব একটা লোক কতো বাজে হতে পারে।
"" হ্যা তুই ঠিকি বলেছিস।তুই লেগে থাক ডিভোর্স না নিয়ে থামবি না।
তোর পাশে আমি আছি।
"" হ্যা হ্যা দোস্ত তুই আমার শক্তি।
"" হ্যা অবস্যই।
-------------------------
পরের দিন ঘুম থেকে উঠলো আরিবা।আরমোর ভেঙে পাশে তাকাতেই চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো তার। চিল্লিয়ে বলে উঠলো
"" আপনি,,,,,,?