বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ১০

🟢

আরিবা ছিটকে সরে দাড়ালো আরমানের থেকে।জায়ানের দিকে তাকাতেই তার শরীর থরথর করে কেপে উঠলো।

আরমানের ও একই অবস্থা তবে অনেক কষ্টে সে মুখটা স্বাভাবিক রেখেছে।

জায়ান কনো কথা না বলেই জায়ানের নাক বরাবর ঘুসি মারলো আরিবা আতকে উঠলো ঘুসিটা এতই জোরে ছিলো যে আরমানের নাক ফেটে গেচে রক্ত পরছে।

জায়ান হিসহিসিয়ে বলে উঠলো তোর সাহস কিভাবে হয় আমার বউকে জরিয়ে ধরার।তোকে বারন করেছিলাম তাইনা যে ওর থেকে দুরে থাকবি আমি জায়ান আহসান নিজের জিনিসের ভাগ কাউকে দেইনা।

আরিবা ফুপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে অনেকটা সময় পরেও যখন ছাড়ছিলো না আসেপাশের লোকজন জায়ানকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেও পারচিলো না যেনো।

"" কি করছেন ছারুন ওকে ও মরে যাবে প্লিজ জায়ান ছেড়েদিন।

কাদতে কাদতে বললো।

"" আরিবার কথায় হঠাৎই জায়ান আরমানকে ছেড়ে দিলো।

"" হিংস্র চাহনি দিলো আরিবার দিকে।

আরিবার বুক কেপে উঠলো।

জায়ান টানতে টানতে নিয়ে যেতে লাগলো আরিবাকে। আরিবার হাত এতোটা শক্ত করে ধরেছে যেনো এক্ষুনি ভেঙে যাবে।

"" ছারুন জায়ান লাগছে আমার।

"" আরমান এর অবস্থা খুবি খারাপ হয়ে গেছে। নাকটা বালোই যখম হয়েছে।

তবে তার চিন্তা হচ্ছে আরিবাকে নিয়ে না জানি হই জানোয়ারটা কি করে ওর বান্ধবীর সাথে।

আরিবাকে গাড়ির ভেতরে ছুরে মারলো জায়ান।এতে মাজায় খানিকটা ব্যাথাও পেলো সে।

জায়ান মুখ শক্ত করে গাড়ি চালাতে লাগলো।

ভেসে উঠলো কিছুক্ষণ আগের ঘটনা।

সে ওয়াসরুমের সামনে যাইতেই দেখতে পায় আরিবা আরমান একে ওপরকে জরিয়ে ধরে আছে।

জায়ানের কেনো এতো রাগ হচ্ছে নিজেই বুঝতে পারছেনা।

আরিবা কেদেই যাচ্ছে।

বাসায় আসতেই আরিবাকে ছুরে ফেললো বিছানায়।

আরিবা উঠে ওভাবেই বলে উঠলো

আপনি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিন আমার ডিভোর্স চাই কাদতে কাদতে বললো আরিবা।

তোর ডিভোর্স চাই তাইনা চল তোর ডিভোর্স এর ব্যাবস্থা করছি।

রাগে ফোসফোস করছে জায়ান আরিবা উঠতে চাইলেই তার ঠোঁট জোরা আকরে ধরলো নিজের ঠোট দিয়ে। আরিবা চমকে উঠলো।

জায়ানের ছোয়া ক্রমশ হিংস্র হয়ে উঠছে।

সে তার ঠোঁট অনবরত কামরে যাচ্ছে হয়তো কেটেও গেছে।

আরিবার জান ভয়ে শুকিয়ে গেলো। আজ বাসায় তার বাবা-মাও নেই তার কোন এক আত্মীয় অসুস্থ থাকায় তার বাসায় গেছে।

জায়ান প্রায় ১০মিনিট আরিবার ঠোঁটের ওপর অত্যাচার চালালো।

তার ঠোঁট ছারতেই আরিবা জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো জায়ান ও একইভাবে শ্বাস নিচ্ছে।

জায়ান নিজের শার্টের বোতাম খুলে নিলেই আরিবা ভয়ে বলে উঠলো কি,,,কি করছেন আপনি?

"" সেটাই যেটা আমি করতে চাইনি।বলেই শার্ট ছুড়ে ফেলে দিলো ঝাপিয়ে

পরলো আরিবার ওপর অনেকটা সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে গিয়ে

আরিবা নিজেও সমর্পণ করলো। ভুলে গেলো নিজের প্রিয় পুরুষের সান্নিধ্যে এসে নিজের কার্যকলাপ। ভুলে গেলো তার প্রিয় পুরুষকপ ঘৃনা করে সে।ভুলে গেলো ডিভোর্স দেওয়ার কথা।

জায়ান প্রথম অবস্থায় নিজের হিংস্রতা দেখালেও একপর্যায়ে তার ছোয়া কোমল হয়ে উঠলো।

আরিবাকে নিয়ে নিয়ে গেলো শুখের সাগরে ভাসিয়ে। আরিবা নিজেও উপভোগ করতে লাগলো স্বামীর স্পর্শ।

-----------------------

সকাল হতেই আরিবা নিজেকে জায়ানের বাহুবন্ধনে আবিষ্কার করলো।

জায়ান তাকে জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে।ফর্সা পিঠে আচরের দাগ লাল হয়ে আছে।

আরিবা চট করে চোখ সরিয়ে নিলো।

কাল রাতের কথা মনে হতেই তার ভয় হতে লাগলো আবার লজ্জিত হলো নিজের প্রতি।যে ব্যাক্তিকে সে ঘৃণা করে।

যার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এতো সব আয়োজন। তার ছোয়া পেতেই সব ভুলে গেলো।

নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছে আরিবার।

সে কোনোরকমে নিজেকে ছাড়িয়ে কম্বল পেচিয়ে বাথরুমে চলে গেলো।

আয়নায় নজর যেতেই ভেসে উঠলো গলায় মুখে ও শরিরের বিভিন্ন যায়গায় ক্ষত।নিচে হয়ে আছে যায়গায় যায়গায়।

লজ্জায় লাল হয়ে গেলো আরিবার গাল।

ধপ করে বসে পরলো।নিঃশব্দে কান্না করতে লাগলো।

অনেকটা সময় পর নিজেকে সামলে নিয়ে

কোন কিছু না ভেবে গোসল সেরে বেরিয়ে আসলো।

বিজ্ঞাপন

রুমে চোখ বুলিয়েও কথাও জায়ানের অস্তিত্ব দেখতে পেলো না।

বেলকনিতে কাপড় শুকাতে দিলেই বাথরুমের দরজা লাগানোর শব্দ পেলো।

বুঝলো জায়ান ভেতরে। হয়তো বাহিরে কোথাও গেছিলো।

এতক্ষণ হয়তো মা-বাবা ও চলে এসেছে ভেবে সে বাহিরে চলে গেলো।

দেখলো সত্যি বাবা মা ফিরে এসেছে।বাবার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে আরিবা গেলো নিজের মায়ের কাছে।

টুকটাক মায়ের কাজে সাহায্য করতে লাগলো আরিবা।

অন্তরা বেগম বার বার মেয়ের মুখের দিকে তাকাচ্ছেন মূলত তিনি মেয়ের গম্ভীর ভাবটা নিতে পারছেন না।

তার মেয়েটা খুবি চঞ্চল প্রকৃতির দুষ্ট

"" আমার দিকে না তাকিয়ে থেকে নিজের কাজ করো মা।

অন্তরা বেগম থতমত খেলেন।তারপর কিছু না বলে নিজের কাজে লেগে পরলেন।

কাজ শেষে আরিবা নিজের রুমে যাওয়ার পথে দেখলো জায়ান তার বাবার সাথে গল্প করছে।

রুমে আসলে আরিবার ফোন বেজে উঠল।

নুর ম্যাম লেখা নাম্বার টা দেখে তার বুক ভারি হয়ে উঠলো। নিজেকে তার বড়ো অপরাধী মনে হলো কেনো জানি।

সে ফোনটা তুললো না।

চুপচাপ বিছানায় শুশে পরলো।

মাকে জানিয়ে দিয়েছে সে কিছু খাবে না।

--------------------

জায়ান রুমে আসলে দেখলো আরিবা ঘুমিয়ে গেছে।

তার হাতে খাবারের প্লেট।

সে টেবিলে রাখলো।

আরিবাকে দুবার ডাকলে সে উঠে পরলো।কাচা ঘুম ভেঙে যাওয়ায় প্রচন্ড বিরক্ত হলো আরিবা।

জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো জায়ানের দিকে।

"" জায়ান তার সামনে খাবারের প্লেট রাখলো।

যা দেখে আরিবা প্রচন্ড বিরক্ত হলো।

"" খাবোনা আমি মা কে বলে এসেছিলাম তো।

"" চুপচাপ সবটা ফিনিশ করো।

"" না।

"" জায়ান এবার প্লেট টা নিজের দিকে টেনে নিলো।

খাবার মাখিয়ে আরিবার মুখের সামনে ধরলো।

"" আরিবা তো অবাক হলো।

"" কি হলো নাও।

"" আরিবা আর কোনো কথা না বলে খাবারটা ফিনিস করলো।

জায়ান আরিবাকে পানি খাইয়ে প্লেট নিয়ে যেতে যেতে বললো এবার ঘুমিয়ে পরো।

"" আরিবাও আর কিছু না বলে শুয়ে পরলো।তার শরীরটা খুব খারাপ লাগছে।

অল্প সময়ের মধ্যে ঘুমিয়েও পরলো।

"" ঘুম ভাংলো একদম বিকেলের দিকে আরিবার।

এখন তার শরীর ভালো লাগছে কিছুটা।

"" সামনে তাকিয়ে দেখলো জায়ান তৈরি হচ্ছে।

সে অবাক হলো এমন সময় কেনো তৈরি হচ্ছে সে।

তারপর হঠাৎ করেই মনে হলো আজ তো জায়ানের বাসায় যাওয়ার কথা আর কাল ফিরে যাবে নিজের কর্মস্থলে।

হঠাৎ করেই আরিবার মন খারাপ হয়ে গেলো। তার বুকটা ভারি হয়ে উঠছে।কারনটা কি?

জায়ান ফিরে যাচ্ছে এটাই কি কারন কোনো উত্তর পেলো না।

তাকিয়ে রইলো জায়ানের দিকে।

জায়ান তৈরি হয়ে নিজের ব্যাগটা কাধে নিলো।

হঠাৎ করেই আরিবার দিকে তাকালো সে।

আরিবা নিজের চোখ নামিয়ে নিলো।

জায়ান আরিবার কাছে কিছুটা এগিয়ে এলো।তারপর নিজের গম্ভীর গলায় নিসৃত করলো কিছু বাক্য,,,

এরপর তুমি আমার সাথে আর কোনো রকমের যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে না।তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।

তোমার ডিভোর্স পেপার তুমি কিছুদিনের ভেতরে পেয়ে যাবে।

আর কোনো কথা না বলে কোনদিক না তাকিয়ে বেরিয়ে গেলো জায়ান।

আরিবা ধপ করে বসে পরলো মেঝেতে। স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো সেই পথের দিকে। যে দিক দিয়ে তার প্রিয় থেকে অপ্রিয় হওয়া পুরুষ টা ফিরে গেলো।

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প