বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ১১

🟢

আরিবার স্থির হয়ে আছে।তার কলিজা ছিরে যাওয়ার মতো কষ্ট হচ্ছে।

জায়ানের ডিভোর্স দেওয়ার কথাটা সে কিছুতেই মানতে পারছে না।

অথচ সে নিজেই চেয়েছিলো জায়ান কে ছেড়ে দিতে।

কিন্তু সে তো ইচ্ছে করেও কিছু করেনি।জায়ান তো নুর ম্যাম কে ভালোবাসে।

তাইতো সে চেয়েছিলো

তাকে ছেড়ে দিতে নাহলে সে কখনোই এমনটা করতো না।

সেতো জায়ানকে ভালোবাসে সেই একটা বছর ধরে নিজের মনের মাঝে পুষে রেখেছিলো।

কিন্তু বিয়ের আগেরদিন হঠাৎ করেই নুর ম্যাম ফোন দিয়ে তাকে তাদের রিলেশনশিপ এর কথা বলে।

আরিবার কি কম কষ্ট হয়েছে তবুও নিজের বুকে পাথর চাপা দিয়ে সে জায়ানকে তার উদ্ভট কাজ দিয়ে উস্কাতো।

কালকের শপিং মলের ঘটনাটাও তো তার প্ল্যান ছিলো।

কিন্তু এক রাতের মাঝে সবটা এলোমেলো হয়ে গেলো।

আর জায়ান তাকে কি বলে গেলো তার সাথে আর আরিবার কনো সম্পর্ক নেই।

কিন্তু কাল রাতে যা কিছু হলো এটা কি মিথ্যা ছিলো।

আরিবা এসব কিছু ভাবতে ভাবতেই ডুকরে কেঁদে উঠলো।

সে এখন কি করবে কিভাবে বুঝাবে তার কষ্ট হচ্ছে।

কাঁদতে কাঁদতে সে ওই অবস্থায় মেঝেতে ঘুমিয়ে পরলো।

-------------------------

দরজার খট খট আওয়াজে আরিবার ঘুম ভেঙে গেলো।

মাথাটা প্রচন্ড ভার হয়ে আছে।কনো মতে নিজের গলা দিয়ে আওয়াজ বের করলো।

"" আম্মু আমি খাবো না।

"" মা কি হয়েছে তোর সেই সকাল থেকে রুম থেকে দরজা আটকে বসে

আছিস জায়ান বিকেলে চলে গেলো তখনো বের হলিনা।

ছেলেটা ঠিক মতো পৌঁছাতে পারলো কিনা তাও তো শুনলি না।

আরিবার হঠাৎ করেই প্রচন্ড রাগ হলো।এই সব কিছুর জন্য নিজের মা কে দায়ি মনে হচ্ছে।

সে ঝাঁজাল গলায় বলে উঠলো,,

তোমার আদরের জায়ানের খবর তুমি নিজেই নাও আমাকে কেনো বলছো।

সারাদিন জায়ান জায়ান বলে আমার মাথাটা খাও কেনো বলতো। যাও এখান থেকে তোমাকে সহ্য হচ্ছে না আমার।

বলেই মুখ চেপে ধরে কেদে উঠলো আরিবা।

""অন্তরা বেগম চমকে উঠলেন মেয়ের ভাঙা গলায় তিনি বেশ বুঝতে পারছেন মেয়ে তার কাঁদছে।

পাশে আরিবার বাবাও দাঁড়িয়ে ছিলেন।মেয়ের এমন কন্ঠ মেয়ে অন্ত প্রান বাবার বুকে গিয়ে লাগলো।

তিনি কোনো কথা না বলে নিজের রুমে চলে আসলেন।

অন্তরা বেগম ও স্বামীর পিছু পিছু আসলেন।

"" হঠাৎই আরিবার বাবা রাগি কন্ঠে বললেন আমার মেয়েকে আমি

রাজ কন্যার মতো করে বড়ো করেছি কখনো ফুলের টোকাও লাগতে দেইনি তার গায়ে।

অথচ আজ আমার মেয়ে কাদছে।কেনো কাদছে সেটাও জানিনা।

ছোটবেলা থেকে আমার মেয়ে আমাকে বাবা হিসেবে নয় বন্ধু হিসেবে দেখেছে।

সেখানে আজ আমার মেয়ে নিজের কষ্ট আমাকে শেয়ার করছে না।

বাবা হিসেবে নিজেকে কতোটা অসহায় লাগছে তুমি জানো অন্তরা।

অন্তরা বেগমের চোখ ছলছল করে উঠলো।তার কি কষ্ট হচ্ছে না মেয়েটা

কি তার নয়।এই লোক তাকেই কেনো বলছে।মেয়ের মতামত না নিয়ে

বিয়ে দিয়ে কি তিনি ভুল করে ফেললেন তার ফুলের মতো হাসিখুশি মেয়েটা কি আর আগের মতো হবে না।

"" আরিবার বাবা আবার বলে উঠলো শুনে রাখো অন্তরা ওই ছেলের

জন্য যদি আমার মেয়ে কোনো রকম কষ্ট পায় তবে আমি ওই ছেলের সাথে আমার মেয়েকে রাখবো না।

বলে তিনি শুয়ে পরলেন।

অন্তরা বেগমের বুকটা ধক করে উঠলো।এসব কেনো বলছে লোকটা

এমন কিছুই হবে না তার বিশ্বাস আছে জায়ানের ওপর।

কিছু হলে সবটা সামলে নিবে ছেলেটা।

এসব ভেবে তিনিও বিছানার এক পাশে শুয়ে পরলেন।

মেয়ের চিন্তায় বাবা মায়ের ও আজ খাওয়া হলো না।

----------------------------

সকাল সকালই আরিবার ঘুম ভেঙে গেলো

সচরাচর তার সকালে ঘুম ভাঙেনা আজ ভাঙায় সে নামাজটা পরে নিলো।

বিজ্ঞাপন

ততক্ষণে কিছুটা আলো ফুটে উঠেছে রান্নাঘর এ গিয়ে নিজের জন্য চা করে নিয়ে বেলকনিতে বসলো কতক্ষণ।

সময় পেরিয়ে গেলে ফ্রেশ হয়ে কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে বাহিরে গেলো সে।

যেতেই দেখলো তার মা রান্নাঘর এ সকালের নাস্তা তৈরি করছে পাশে কাজের মেয়েটা তাকে সাহায্য করছে।

মায়ের মুখের দিকে তাকালেই তার রাতের বলা কথা গুলো মনে করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

তার মা যে তার কথায় কষ্ট পেয়েছে এটা বুঝতে পেরেছে আরিবা। নিজের রাগটা যে কেনো কন্ট্রোল করতে পারলো না।

কিছুক্ষণ পর বাবার পশে বসলো আরিবা। গুড মর্নিং বাবা উৎফুল্ল

কন্ঠে বললো আরিবা।

মেয়ের মুখে হাসি দেখেও সন্তুষ্ট হতে পারলো না বাবা।

কারন আরিবার চোখমুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে ভালো নেই।

চোখের নিচে এক রাতেই কালি পরে গেছে ফর্সা মুখটা কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।

চোখমুখ অনেকটা শুকিয়ে গেছে।

তবুও মেয়েটা তাকে বোঝানোর চেষ্টা চালাচ্ছে যে সে ঠিক আছে।

ভেবেই তার বুকটা ভারি হয়ে উঠলো।

বাবা হয়ে তিনি মেয়েকে সরাসরি জিজ্ঞেস ও করতে পারবেন না যে কি হয়েছে।

আরিবা বাবার এমন স্থির চাহনি দেখে ভরকে গেলো।

মুখটা নামিয়ে নিলো।সে বেশ বুঝতে পেরেছে বাবার কাছে কিছু লুকানো যাবেনা।

"" তুই ঠিক আছিস তো মা?

"" আচমকা বাবার এমন প্রশ্নে আরিবার চোখ ছলছল করে উঠলো।করুন চোখে তাকালো বাবার দিকে মেয়েটা।

হুট করেই জোরে কেদে উঠলো আরিবা বাবাকে জরিয়ে ধরলো।

"" আরিবার বাবা চোখ বুজে নিলেন।মেয়ের মাথায় হাত রেখে বললেন বাবা আছিনা কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করবে না।

মনে রাখবে তোমার বাবা সবসময় তোমার পাশে আছে।

যেকোনো কিছু হলে আগে বাবাকে জানাবে।বাবা তার সবটা দিয়ে চেষ্টা করবে তোমাকে খুশি রাখার।

"" আরিবা নিজের চোখ মুছে নিয়ে বললো

আমি জানি বাবা।

আফজাল খান হেসে বললো তাহলে আমার মেয়েটা কষ্ট কেনো পাচ্ছে।

সে কি জানেনা তার কষ্টে তার বাবাও কষ্ট পায় বাবার বুক পুরে।

"" আরিবা হেসে বললো সরি বাবা আর এমন হবে না।

এখন আমার কলেজে দেরি হচ্ছে চলো ব্রেকফাস্ট করে নিবে।

"" হুম চলো।

আফজাল খান হতাশ হলেন মেয়ে তাকে সত্যি টা বললোনা আপসে

এরিয়ে গেলো বিষয় টা। কিন্তু তারি বা কি করার। সময় হলে মেয়ে নিজেই এসে বলবে ভেবে নিশ্চিন্ত রইলেন।

"" আরিবা ব্রেকফাস্ট শেষ করে কলেজে আসলো।

রাইসা আগে থেকেই ছিলো।

"" কিরে বিয়ের শপিং কেমন হলো?ভালোই তো বললি জায়ান ভাই

তোকে পাত্তা দেয় না কিন্তু কাল তো ঠিকই তোকে নিতে আসলো।

আরিবা মেকি হাসলো।সে মূলত আরমানের অপেক্ষায় আছে। না জানি ছেলেটার কি অবস্থা ওই লোকের যে শরীর ওনার হাতে একটা মার খেলে আরিবা হয়তো চাঁদ দেখতো দিনের বেলায়।

আরমানের যে কি অবস্থা।

ভাবতে ভাবতেই আরমানকে আসতে দেখা গেলো নাক পা তার ব্যান্ডেজ করা।

রাইসা তাকে দেখে চিল্লিয়ে বললো আবার কি করেছিস এমন কি করে হলো।

"" আরমান দাত কেলিয়ে বললো ওই আরকি প্র্যাকটিস করছিলাম।

রাইসা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে বললো কিসের প্র্যাকটিস??

"" বক্সিং।

"" উফ আরমান তুই কি ভালো হবি না?

বিরক্ত কন্ঠে বললো রাইসা।

"" তোর বোনকে দিয়ে দে ভালো হয়ে যাবো প্রমিস।

"" রাইসা আরমানের পিঠে চাপর দিয়ে বললো

ফর ইওর কাইন্ড ইনফরমেশন আমার কোনো বোন নাই।

"" ওহ দুক্কু পেলুম।

ন্যাকা কন্ঠে বললো আরমান।

"" রাইসা হেসে ফেললো শুধু হাসলো না আরিবা।

তার খুব খারাপ লাগছে এই নিয়ে দু দুবার মার খেলো আরমান তার জন্য।

"" আরমান হয়তো আরিবার মনের কথা বুঝলো তাই তাকে

স্বভাবিক করার জন্য নানা রকম মজা করতে লাগলো একসময় আরিবাও

স্বাভাবিক ভাবে তাদের সাথে মজা করতে লাগলো।

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প