অনেক হয়েছে এবার চল তোকে বললাম তুই চলে যা গেলি না কেনো সয়তান।
আরমান দাত কেলিয়ে বললো তোকে ছারা যাই আমি কখনো।
আরিবা তাকে কিছু না বলে মেয়ের কাছে আসলো। মেয়ের মাথায় একটা চুমু দিয়ে আদর করলো
একদম দুষ্টুমি করবেনা মাম্মা নানা নানুকে একদম জালাবেনা।একদম গুড গার্ল হয়ে থাকবে।
আয়রা আরিবার ফোলা ফোলা দুই গালে নিজের হাত চেপে বললো
মাম্মা আয়রা তো এমনিতেই গুড গার্ল তুমি চিন্তা করোনা।
আরিবা হাসলো বাবা মাকে বিদায় জানিয়ে বেড়িয়ে আসলো।
গাড়ি আরমান ড্রাইভ করছে।
"" মাঝে মাঝে ভাবি জানিস যে আমি আমার এই বাচ্চা টাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলাম।অথচ সেই বাচ্চাটাই আমার বেচে থাকার কারন হয়ে দারিয়েছে।
"" তুই এখনো এসব কেনো ভাবিস বলতো বাদ দে।কতোবার বলি নিজের লাইফটাকে গুছা। অন্য কাউকে,,
"" কি করে ভাববো আমি যে ওই চরিত্র হীন লোকটাকেই ভুলতে পারিনা নিজের ব্যাহায়া মন এখনো সেই লোকটার জন্য পুরে।
অথচ সেই লোকটার সাথে আমার সুখের কোনো স্মৃতি নেই।কোনো সুখকর মূহুর্ত নেই।যা আছে সবটাই ভয়ংকর।
কথাগুলো মনে মনে ভাবলো আরিবা।
মুখে বললো,,
"" রাইসার কি খবর কথা হয়েছে তোর সাথে?
"" আরমান একটা দীর্ঘ শ্বাস বললো
কি আর বলবো ভাই ও ওখানে
তো জব করছে তবে আজকাল আংকেল এর শরীর খারাপ যাচ্ছে তাই তিনি চাচ্ছেন রাইসার বিয়ে দিতে।
"" হুম দিবেন,,,
"" তুই কি পাগল হয়েছিস ভুলে গেছিস আমরা কি করেছিলাম।
আংকেল আন্টি তো এটাই যানে আমাদের এখনো রিলেশন আছে।
একন কি করবো মাথা কাজ করে না।রাইসা বলছিলো আংকেল নাকি আমায় ফোন করতে চেয়েছেন
"" তো করে ফেলতে বল বিয়ে।
"" আরমান চমকে উঠলো
কিহ কাকে বিয়ে করবে ও
"" ভেবে দেখ।
ততক্ষণে গারি অফিসের সামনে এসে গেছে।আরিবা গাড়ি থেকে নামতে নামনে বললো
ভেবে দেখ।
রাইসার অন্যকথাও বিয়ে হবে।অন্যকেউ সবসময় ওর আগেপিছে ঘুরবে।
"" মা,,মানে,,,
আরিবা ততক্ষণে উধাও হয়ে গেছে।
আরমান তখনও ভাবছে।
-------------------------
কর্নেল জায়ান আহসান,,
মেজর নুর,,,
"" ইয়েস স্যার দুজেনেই একসাথে।
কিছুক্ষণ পর নূর বেরিয়ে গেলে।
আরে জায়ান বসো বসো।তুমি এতো অল্প বয়সে যা অর্জন করেছো তা অনেক কঠিন বিষয়। সবাই সেটা পারেনা।
তোমার মতো একজন সৈনিক থাকা আমাদের দেশের জন্য গর্ভের।
জায়ানের কোনো মুখের অভিব্যাক্তি বদলালো না।
সামনের ব্যাক্তিটি এতে বিচলিত হলো না।কারন তিনি জানেন তার সামনে বসা ব্যাক্তিটি এমনি।
জায়ান আমি তোমার ওপর ভরসা করে একটি দায়িত্ব দিতে চাই।
যদিও এটি তোমার কর্তব্য তবে আমি তোমাকে পার্সোনালি বলছি।
"" জি স্যার বলুন।
সিলেট শহরে ইদানীং একটি বড়ো র্র্যাকেট এর দেখা মিলছে জারা ছোট ছটো বাচ্চাদের অপহরন করছে।
সেখানকার পুলিস অন্যান্য কর্মকর্তা রা অনেক চেষ্টা করেছেন তবে তার ফলাফল শুন্য।
এই ছয়মাসে সেখান কার প্রায় পঞ্চাশ টি বাচ্চা অপহরন হয়েছে আর তাদের কোনো হদিস মিলছে না।
আমরা ধারনা করছি তারা এই বাচ্চাদের অপহরন করে বাহিরের দেশে পাচার করছে।
তাই আমি চাইছি তুমি এই মিশন এর দায়িত্ব নাও।
জায়ান মনোযোগ দিয়ে শুনলো সবাটা।
"" ঠিকআছে স্যার আমি আমার সবটা দিয়ে চেষ্টা করবো। আপনি আমাকে প্রয়োজনীয় সব ডিটেইলস মেইল করবেন স্যার।
"" আমি জানতাম তোমার ভেতর সাহস আছে।
আর তোমার যতো ফোর্স লাগে তুমি নাও।সব ধরনের ফ্যাসিলিটি তোমাকে দেওয়া হবে।
"" জায়ান নিজের মাথা নাড়লো।
এবার সামনের ব্যাক্তিটি বললো বয়স তো কম হলো না বিয়ে টা তো করো এতোদিনে দুটো বাচ্চা হওয়া উচিত ছিলো তোমার।
তুমি যদি বলো তাহলে আমার মেয়ে,,,,
"" জায়ান চট করে উঠে পরলো।
আমি বিবাহিত স্যার।
বলেই রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো।
"" স্যার নামক ব্যাক্তিটি অবাক হলো তিনি যতদুর জানেন জায়ান অবিবাহিত তাছাড়া এই পাঁচ-ছয় বছরে সে তেমন ছুটিও নেয়নি।
তার ইচ্ছে ছিলো নিজের মেয়ের সাথে জায়ানের বিয়ের প্রস্তাব দিবেন কিন্তু এখন তো আর সম্ভব না।
তিনি ফোস করে শ্বাস ফেলে নিজের কাজে মনোযোগ দিলেন।
জায়ান নিজের দাম্ভিকতার সাথেই হেটে আসছে।
পাঁচ বছর পরেও যেনো তার সৌন্দর্যে ভাটা পরেনি বয়স তো ৩৩এর কোঠায় চলে গেলো তবে এখনো আগের মতোই আকর্ষণীয়।
সে এসেই নিজের চিরাচরিত স্বভাব এ সবাইকে নিজেদের কাজ বোঝাচ্ছিলো।তাদের মাঝে মেজর নূর একজন। সেও নিজের কর্তব্যে যথেষ্ট সচল।
জায়ান কাজ বুঝিয়ে দিয়ে নিজের বিশ্রাম এর স্থানে যেতে নিলেই নুর ডেকে উঠলো
"" স্যার,,
"" জায়ান ঘুরে দারালো বলুন মেজর নুর,,
"" আব স্যার আমি যতদূর জানি আপনার বিয়ে হয়েছিল সেই পাঁচ বছর আগে কিন্তু আরিবা তো,,,
"" স্টপ,,
"" চমকে উঠলো নুর একটা ঢোক গিললো।
"" এটা আপনার কাজের যায়গা মেজর নুর আপনি সেটাই মনোযোগ
দিয়ে করুন।আর আপনি জানেন নিশ্চয় লুকিয়ে কারো কথা শোনাটা আপনার প্রফেশন এর সাথে যায়না।
কারো পারসোনাল বিষয় এ ঢোকার প্রয়োজন নেই।
নুর মাথা নিচু করে নিলো।
"" সরি স্যার,,,
জায়ান গটগট পায়ে হেটে যেতে লাগলো তার মুখব্যাক্তি খুবই স্বাভাবিক যেনো কিছুই হয়নি।
তবে ভতরের অবস্থা বোঝা গেলো না।
"" নুর বিরক্ত হলো। সে জানে আরিবার সাথে জায়ান এর সম্পর্ক নেই।
তবে নিজের জন্য যখনি একধাপ এগোতে চায় তখনি জায়ান তাকে থাপরিয়ে দশ ধাপ পেছনে ফেলে দেয়।
ওই সময় সে আরিবাকে মিথ্যা বলে জায়ানের থেকে দুরে রেখেছিলো।
যত যাই হোক কর্নেল জায়ান আহসান আপনার গন্তব্য এই মেজর নুর এ এসেই ঠেকবে।
--------------------
""স্যার এই যে ফাইলাটা।
"" কমপ্লিট করে ফেলেছো?
"" জি স্যার,,
"" ওকে আপনি ম্যানেজারকে একটু ডেকে দেবেন প্লিজ।
"" ওকে স্যার,,,
ব্যাক্তিটি চলে গেলে।কিছুক্ষণ পর নক হলো
"" মে আই কামিং স্যার,,
"" ইয়াহ সিওর,,,মিস আরিবা
আরিবা মিষ্টি হাসি দিয়ে ভেতরে আসলো
নিজের ফাইলটা বারিয়ে দিলো
"" ওয়াও গ্রেইট সব কাজ কমপ্লিট আশা করি ডিলটা আমরাই পাবো।
"" জি স্যার,,,
"" উম,,মিস আরিবা আপনার এখানে একটু কাজ বাকি আছে,,
"" ওহ স্যার আমি এক্ষুনি করে দিচ্ছি।
আরিবা ফাইলটা নিয়ে বেরিয়ে যেতে লাগলেই
"" আব,,মিস আরিবা অল্প একটু কাজ এখানে বসেই শেষ করতে পারেন।
আরিবা সায় জানিয়ে বসে পরলো সামনের চেয়ারে।
নিজের কাজ করতে শুরু করলো।
"" সামনের ব্যাক্তিটি তুষার জাওয়াদ। এই কম্পানির মালিক।
বয়স ৩০ এর কাছাকাছি।
আরিবা মনোযোগ দিয়ে কাজ করলেও সামনের ব্যাক্তির চোখের ভাষা ভিন্ন।
"" মিস আরিবা,,
"" জি স্যার,,
"" আপনার বাসায় কে কে আছেন,,
"" স্যার বাবা মা।
আরিবা যে বিবাহিত আর তার বাচ্চা আছে এটা অফিসের কেউ জানেনা।
"" তুষার একটু শান্তি পেলো।
আপনার আর কনো ভাইবোন নেই?
"" না স্যার,,,
আরিবার সম্পূর্ণ মনোযোগ নিজের কাজে।
তুষার এ কম্পনিতে এসেছে ছয়মাস হবে আগে তার বাবা দেখতো কম্পানিটা।
প্রথম দিনেই ছাব্বিশ বছর
বয়সী মেয়ে তার নজর কেরেছিলো।মেয়েটা নিজের বন্ধুর সাথে কথা
বলার সময় নিজের চঞ্চলতা প্রকাশ করলেও কাজের বেলায় একদম নিখাদ।
তার কথা বলা বাচন ভঙ্গি সবটাই তুষারকে মুগ্ধ করে।
মেয়েটা যে তার মনি কঠায় অল্প অল্প করে যায়গা করে নিচ্ছে তা বেশ
বুঝতে পারে সে।তাকে দেখার জন্য মনটা ছটপট করে আজকাল।
এর মধ্যে আরিবার ফোন বেজে উঠল। সে সাইলেন্ট করতে যাচ্ছিলো
"" ইট’স ওকে তুলুন ফোন।
"" আরিবা দেখলো বাবা ফোন করেছে,,,
"" What,,,কি বলছো বাবা আশেপাশে সব যায়গায় খুজে দেখেছো?
আরিবার কাঁদো কাঁদো গলা।
তুষার যেনো ভরকে গেলো