স্যার আপনার তো অনেক চেনা জানা আছে একটু খোজ নিয়ে দেখুন না আমার বাচ্চাটার।
"" হুম অবস্যই নিবো তার আগে আপনি খাবারটা শেষ করুন।
"" আরিবা তাড়াতাড়ি খাবারটা তুষারের হাত থেকে নিলো।
এমন ভাবে খাচ্ছে যেনো কোনোভাবে খাবারটা শেষ করতে পারলেই মেয়েকে পেয়ে যাবে।
"" দুর থেকে অন্তরা বেগম মুখ চেপে কাদছেন।
আরিবার বাবা আর আরমান ও অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে।
আরিবা যখন প্রেগন্যান্ট অবস্থায়ী একা একা সারভাইভ করত তখনও তার এতটা বেহাল অবস্থা হয়নি।
তিনি শুধু ভাবছেন যদি আয়রার কিছু হয়ে যায় তাহলে তার মেয়েটার কি হবে।
খুব তাড়াতাড়ি আরিবা নিজের খাবার শেষ করলো।
পুরোটা সময় তুষার অসহায় চোখে তাকিয়ে ছিলো আরিবার দিকে।
একজন মা তার সন্তানকে হারিয়ে কতটা উতলা হতে পারে তা সে নিজের চোখে দেখছেন
"" স্যার প্লিজ একবার খোজ নিয়ে দেখুন।
"" হ্যা।
তুষার ফোন করলো অফিসারকে।
ওপাশ থেকে ভেসে আসলো।
""স্যার আপনারা চিন্তা করবেন না সেনাবাহিনীর ফোর্স অলরেডি আমাদের এখানে চলে আসছে আর আমরা খোঁজ পেয়েছি এখনো বাচ্চাদের পাচার করা হয়নি।
আর আজ রাতেই সেনাবাহিনীরা হয়তো ওই যায়গাটাকে ট্রেস করে ফেলবে।
"" ইডিয়ট তাড়াতাড়ি করতে বলো।
শাড়িচুরি পরে ঘুমিয়ে থেকো না।
"" ওপাস থেকে অফিসার থতমত খেয়ে বললো জি স্যার।
তুষার কল কেটে শান্ত চোখে তাকালে আরিবার দিকে।
"" আপনি চিন্তা করবেন না আরিবা আয়রার খোজ আমরা ঠিক পেয়ে যাবো।
কাল পরশুর মধ্যে।
অনেকটা সময় আরিবার সাথে কাটিয়ে তুষার বেড়িয়ে এলো তার রুম থেকে।
"" তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ বাবা তুমি বলেই খাওয়াতে পেরেছো।
তোমাকে যে,,,,
"" আরে আন্টি প্লিজ এসব বলে লজ্জা দেবেন না।আর আশা রাখছি আয়রাকে খুব তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবো আমরা।
আব,আমি এখন আসছি, আসলে অফিসে কিছু কাজ আছে।
"" কিছু খেয়ে যাও বাবা।
"" না আন্টি অন্য একদিন।
তুষার বেড়িয়ে আসলো।
বাসায় ফিরলে।
"" কিরে বাবা কি হয়েছে তোর?আজকাল নাকি অফিসে থাকিস না?
"" বাবার প্রশ্নে তুষার হকচকিয়ে গেলো,
আসোলে বাবা একটু কাজ ছিলো।
তুষার তাড়াহুড়ো করে নিজের রুমে চলে গেল।
"" শোনো আজকাল তোমার ছেলের মতিগতি আমার ঠিক লাগছে না।
"" কেনো?
"" তুষার আজকাল খুব অন্যমনষ্ক হয়ে গেছে।
কোথায় যায় না যায় তাও বুঝি না।
তার থেকে ওর বিয়ের ব্যাবস্থা করো।বয়স তো কম হলো না।
"" হুম তা ঠিক বলেছো কিন্তু দেখতে হবে তোমার ছেলের কোনো পছন্দ আছে কিনা।
"" ও তুমি ভেবো না আমি কথা বলে নেবো।
"" ঠিকআছে তাই করো।
---------------------------
"" আমাকে সব ডিটেইলস দিন এখন পর্যন্ত কতো গুলো বাচ্চা হারিয়েছে কিভাবে হারিয়েছে সবটা।
"" ইয়েস স্যার।
জায়ান সব ফাইল চেক করলো।
তার পেছনে শাড়ি হয়ে দারানো প্রায় ৩০জনের মতো সেনাবাহিনীর ফোর্স আর ২০জনের মতো পুলিশ সদস্য। তাদের মধ্যে মেজর নুর ও একজন।
"" হুম সব ডিটেইলস দেখে যা বুঝলাম সব বাচ্চা একই ভাবে চুরি গেছে।
এদের কেনো ক্লু পাওয়া গেছে।
"" না স্যার।
"" পুলিশ অফিসার এর কথা শুনে জায়ানের কপালে বিরক্তিকর ভাজ ফুটে উঠলো।
তবে সে কিছু বললো না।
একটা কাজ করুন আমাকে একটা পাঁচ ছয় বছরের বাচ্চা জোগার করে দিন।
আর মেজর নুর,
"" ইয়েস স্যার। নুর এগিয়ে গেল।
"" আপনি আপনার পোশাক পাল্টে শড়ি পরে নিন।আমরা পার্কে যাবো।
"" কেনো স্যার? ঘুরতে যাবো আমরা।
লজ্জা পাওয়ার ভান করে বললো নুর।
"" জায়ান বিরক্তিকর শ্বাস নিয়ে বললো
ইডিয়ট কথাকার
আমি আর তুমি ওই বাচ্চাকে নিয়ে যাবো পার্কে বাকিটা যাওয়ার পথে বোঝাচ্ছি তোমায়।
"" উপস্থিত সবাই মিটমিটিয়ে হাসতে লাগলে তবে কারো সাহস হলো না জোরে হাসার।
----------------
জায়ান আর নুর একটা বাচ্চাকে নিয়ে পার্কে এসেছে বাচ্চাটাকে অন্য বাচ্চাদের সাথে খেলতে দিয়েছে।
"" নুর এসেছে একটা লাল শাড়ি পরে অনেকটা সেজেছে সে তবে জায়ান এতে বেশ বিরক্ত।
"" মেজর নুর আমরা এখানে বিয়ে খেতে আসিনি যে আপনি এতো সেজে আসবেন।
উপস্থিত সবার মাঝে আবার হাসির রোল পাওয়া গেলো।
নুর ভেতরে ভেতরে রাগে ফেটে পরছে।
তবে কিছু বলতে পারছে না।
এমন সুযোগ আবার কবে আসবে কে জানে।
জায়ানকে আজ বেশ লাগছে দেখতে কালো একটা শার্ট জরানো তার গায়ে।
"" এভরিবডি জার জার পজিশন মতো দারিয়ে যাও।
"এর মঝেই জায়ান খেয়াল করলো একটা লোক আশেপাশে নজর রাখছে আবার বাচ্চাদের দিকে তাকাচ্ছে।
জায়ানের সন্দেহ হলে সে ব্লুটুথ এ সবাইকে সতর্ক করে দিলো সবাই জার জার পজিশন নিলো।
"" কিছুক্ষণ পরেই সেই লোকটি একটি বাচ্চাকে সায় বুলিয়ে তার সাথে নিয়ে যেতে লাগলো।
জায়ান ও তার পিছু নিলো।
আচমকা লোকটি যখন বুঝতে পারে কেউ তার পিছু নিচ্ছে সে দৌরাতে শুরু করলো।
জায়ান সহ বেশকিছু লোক তার পিছু নিলে একসময় সে ধরা পরে গেলো জায়ানের হাতে।
হ্যাংলা পাতলা লোকটি জায়ানের শক্ত পোক্ত হাতে একটা চর খেয়েই অজ্ঞান হয়ে গেল।
জায়ান বিরক্ত হয়ে একজনকে অর্ডার করলো লোকটিকে সাথে নিয়াসতে।
পুলিশের ডেরায় নিয়েসে তার গায়ে এক বাল্টি পানি ঢেলে দিলেই লোকটি হকচকিয়ে জেগে উঠলো,,
"" কাদতে কাদতে বললো
স্যার আমারে আর মাইরেন না স্যার আমি কিছু করিনাই স্যার আপনার মার খুব লাগে স্যার আর করুম না স্যার।
নুর ফিক করে হেসে দিলো লোকটির অবস্থা দেখে।
জায়ান চোখ গরম করে তাকালে সে মুখ ঢেকে নিলো।
"" আর মারবো না তোকে তোদের ডেরা কোথায় আর কে কে আছে সব বল আমায়।
"" বললে ওরা আমায় মেরে ফেলবে স্যার।
"" না বললে আমি তোকে মেরে ফেলবো।
"" লোকটি ভয়ের চোটে সব বলে দিলো।
সে এই কাজে নতুন ছিলো পাশের বস্তিতে থাকে সে দুবেলা খাওয়ার জন্য এমন কাজ করে।
জায়ানের কাছে মাফ চাইলে সে তাকে হুমকি দিয়ে মাফ করে দেয়।
এটাও জানা যায় আজ রাতেই বাচ্চাদেরকে পাচার করা হবে।
এ কথা শুনে উপস্থিত সবার চোখমুখ শুকিয়ে উঠলো।
"" জায়ান সবাইকে তৈরি থাকতে বললো আজ রাতেই তারা হামলা
করবে সেখানে।
সবাই জার জার মতো প্রস্তুতি নিতে লাগলো।
---------------------
রাত বাজে বাড়োটা,,
বাচ্চাদের নেওয়ার জন্য গাড়ি চলে এসেছে।
বস একটা বাচ্চা সাতদিন হইলো তেমন কিছুই খায়না অসুস্থ হইয়া পরছে সারাডা দিন খালি মা মা কইরা চিল্লায়।
বস লোকটি এতে বেজায় বিরক্ত হলো।
খেকিয়ে উঠে বললো,,
"" তো এখন কি আমি ওরে আমার দুদ খাওয়াইতে যামু।যা সর এনথে
একটু পরেই টাকা পুরাটা হাতে পাইয়াই ওদের চালান কইরা দিমু।তারপর সব মরুগগে তাতে আমার কি।
লোকটি চলে গেলো সেখান থেকে।
এর মধ্যেই বাহির থেকে আওয়াজ এলো
ভেতরে জারাই আছো তাড়াতাড়ি স্যারেন্ডার করো আমরা তোমাদের ঘেরোয়া করে নিয়েছি।
লোকগুলোর মধ্যে আতংক দেখা গেলো।
কেরি এনথে এই মাদা**রচো**দ আইনের লোক কোনথে আইলো এবার আমরা কি করবো।
কিছুক্ষণ পরেই সবাই তাদের ধরে ফেললো যেহতু জায়ানের ফোর্স সব দিক ঘেরোয়া করে রেখেছিলো তাই পালানোর পথ পায় নি কেউ।
-------------------
সব বাচ্চাদের থানায় নিয়েসে তাদের অভিভাবক দের হাতে তুলে দেওয়া হলো।
তবে রয়ে গেলো একটি বাচ্চা।
বাচ্চাটা তখন থেকে ফুপিয়ে কেদে যাচ্ছে মাম্মা মাম্মা বলে।
জায়ান তেমন বাচ্চা পছন্দ করেনা।মূলত বাচ্চা দের থেকে সে দুরে থাকে অনেকটা।
তবে বাচ্চাটার দিকে তাকিয়েই সে থমকে গেলো।
কতো সুন্দর বাচ্চাটা গলুমলু তবে তার মুখের আদল দেখে জায়ান কোথাও একটা টান খুজে পেলো।
কি হয়েছে বাচ্চা কাদছো কেনো?তোমার বাবা-মা তো আসছে।
বাচ্চাটা পিটপিটিয়ে চাইলো জায়ানের দিকে।
আচমকা বাচ্চাটা জায়ানকে জরিয়ে ধরলো।
জায়ান যেনো থমকে গেলো। তার কিছু একটা অনুভব হলো।
আনতেল আমাল খিদে পেয়েছে।
বাচ্চাটার ফুপিয়ে বলা কতা জায়ান বুঝলো একজনকে ইশারা করলে সে চলে গেলো সেখান থেকে।
জায়ান আয়রাকে কোলে তুলে অনেকটা আদর করলো খাওয়ালো।
তারপর তাকে নামিয়ে দিতেই একজন রমনি ছুটে এসে বাচ্চাটিকে জারিয়ে ধরলো।
সবার চোখ সেখানেই আটকে গেলো।
আরিবা,,,