এসব কি বলছিস তুই। আর তুই বিয়েই বা করলি কবে? আমরা তো
কেউ কিছু জানিনা।
আর মেয়েটা যদি তোর বউ হয়ে থাকে তাহলে এখানে কেনো সে।
আর তুইও তো এই পাঁচ বছরে শুধু ৩বার বাসায় গেছিস তাও আন্টির
অসুস্থতার জন্য।
জায়ান সবটা বল আমায় আমি জানতে চাই।
জায়ান একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে পুরোটা বলে দম নিলো।
আর আমি বিয়েটা কখনোই করতে চাইনি তবে আম্মাকে মানাও করতে পারিনি।
তিনি নাকি ছোটো বেলায় আরিবার মা কে কথা দিয়েছিলেন।
শেম অন ইউ জায়ান।একটা মেয়ের সাথে এমন জঘন্য ব্যাবহার কি করে করতে পারলি তুই? মেয়েটা কতো কষ্ট পেয়েছে তুই ভাবতে পারছিস।
আর তোর উচিৎ ছিলো ওর কাছে জানতে চাওয়া ও কেনো তোর থেকে ডিভোর্স চায়।
"" আমি জানি তাই তো তার একমাস পরই আমি সব খোঁজখবর নিয়ে
জানতে পারি আরমান জাস্ট ওর ফ্রেন্ড ছিলো আর ওইদিনের সবটাই
ওর প্ল্যান ছিলো যেনো আমি ওকে ডিভোর্স দেই।
আমি যখন এসব এর কারন জানার জন্য ওর সাথে যোগাযোগ করার
চেষ্টা করি তখন ও হারিয়ে যায় অনেক চেষ্টা করেছি ওকে খোজার কিন্তু পাই নি।
ওর কলেজ বাসা সব ছেড়ে দিয়েছিলো ইভেন কেউ কিছু জানতোও না।
মাও কোনো খোজ পায়নি কেউ জানতো না ওদের খোজ।
নিজের ভেতর অনেক গিল্টি ফিল হয় আমার এসব নিয়ে।
"" কিন্তু তোরা কি ভেবে দেখেছিস আরিবার সাথে ওই বাচ্চা আবার ওই ছেলেটা ওরা কে?
নুর এতো রাতে তুই এখানে কেনো?
আসলাম তোদের পেছনে পেছনে আফটার অল আমিও তো তোদের ফ্রেন্ড।
হ্যা নুর রহিত জায়ান তিনজনই বেস্ট ফ্রেন্ড।
হ্যা যেটা বলছিলাম ওই বাচ্চাটা তো আর তোর না। হয়তো ওই ছেলেটাকে আরিবা বিয়ে,,,
""সাট আপ,,ননসেন্স জায়ানের ধমকে দমে গেলো নুর।
তোরা সবাই যা এখান থেকে আমাকে একা থাকতে দে প্লিজ।
"" কিন্তু,,
রহিতের ইশারায় নুর আর কিছু বললো না।
রহিতের পেছন পেছন চলে আসলো।
সে প্রচন্ড বিরক্ত আরিবার হঠাৎ আগমনে।
-----------------
"" মাম্মা মাম্মা ওথো তোমাল তো আফিস যেতে হবে তাইনা।
আরিবা পিট পিট করে চোখ খুলতেই দেখলো মেয়েতার সামনে বসে তাকে ডাকছে।
ওথো মাম্মা।
আরিবা মুচকি হেসে মেয়ের কপালে চুমু খেলো।
তাকে কোলে নিয়ে বললো
আমার মা টা কখন উঠেছে?
অনেক আগে উতেছি।
"" খেয়েছো মাম্মা।
হুম।
আরিবার ঘড়ির দিকে চোখ যেতেই চমকে উঠলো।
ইস কতো লেট হয়ে গেছে মাম্মা।
আমায় তো অফিস যেতে হবে।
মায়ের তারাহুরোয় আয়রা খিলখিল করে হেসে দেয়।
আরিবা রেডি হতে হতে দেখলো আরমান চলে এসেছে।
আরমান তাদের পাশের বিল্ডিং
এই থাকে।কতো করে বলেছে তাদের সাথে থাকতে কিন্তু সে কিছুতেই থাকবে না।
চল চল।
হ্যা ম্যাম তাড়াতাড়ি চলুন।
আরমানের কথায় আরিবা চোখ পাকিয়ে তাকালো, মেয়েকে আদর দিয়ে বাবা মা কে বলে বেড়িয়ে আসলো।
--------------------
তুষার ছটপট করছে শুধু এপর্যন্ত আরিবা দুবার কাজে এসেছে তার রুমে কিন্তু সে প্রশ্ন করতে পারেনি।
আরিবা আবারো আসলে তুষার চোখ তুলে তাকালো,,,
"" স্যার এই ফাইলটা কমপ্লিট সই করে দিন আর আগামী আপনার চৌধুরী কোম্পানির সাথে মিটিং আছে,,,
"" আব,,,আরিবা,,
"" জি স্যার কিছুক্ষণ পর তো ব্রেক টাইম আপনার একটু সময় হবে?
""হুম অবস্যই মিসেস,, মিস,,
"" মিস আমাকে মিস ই বলবেন স্যার,,
""তুষার এর মুখে যেনো হাসি ফুটলো।
তুষার আর আরিবা একটা রেস্টুরেন্টে এসেছে। আরিবা যদিও অফিস এর ক্যান্টিনে কথা বলতে চেয়েছিলো।
কিন্তু তুষার তাকে এখানে নিয়ে এসেছে।
আরিবার কাছেও বিষয় টা
ঠিক মনে হয়েছে কারন অফিস এর অনেক সুন্দরী মেয়েরা আছে যাদের ক্রাস তুষার সেখানে আরিবার সাথে একাকী
কথা বললে সবাই বিষয় টা ভালোভাবে নিতো না।
"" বলুন আরিবা কি বলতে চান?
"" আরিবা একটু দম নিয়ে বললো।
দেখুন স্যার এতোকিছুর মাঝে আপনাকে আমার ধন্যবাদ জানানো হয়নি আমার মেয়েকে খুজে বের করতে অনেক সাহায্য করেছেন আপনি।
পাশাপাশি আমার পরিবারকেও অনেক সাপোর্ট করেছেন।
"" তুষার হালকা হেসে বললো এসব বলে আমাকে লজ্জা দিবেন না আরিবা
তাছাড়া আপনি আমার ম্যানেজার আমার কম্পানিটা আপনার ভরসাতেই চলে
তাই একটু সাহায্য কোনো ব্যাপার না।
আর রইলো বাকি আয়রা কে খুজে বের করা সেটা মি,জায়ান আহসান মানে আয়রার বাবাই করেছে।
"" এ কথা শুনে আরিবার মুখ শুকিয়ে গেলো।
সরি স্যার!
"" স্যারি কেনো আরিবা?
"" আসলে আয়রার বাবার সাথে আমার সম্পর্ক পাঁচ বছর আগে শেষ হয়েছে। তবে আমাদের ডিভোর্স হয়নি।
আর আয়রা যে অনার মেয়ে এটাও উনি জানেন না।
তাই অফিসে আমার বায়োডাটায় সব যায়গায় আমি অবিবাহিত এটাই দেওয়া আছে।
"" মানে?
"" প্লিজ স্যার আমি আপনাকে সবটা বলতে পারবো না শুধু এটা যেনে রাখুন আয়রা শুধুই আমার মেয়ে।
মি.জায়ান আহসানের নয়।
"" আরিবার চোখ মুখ শক্ত হয়ে যাওয়া দেখে তুষার আর কোন প্রশ্ন করলো না।
""আব,,স্যার আমি একটু আসছি বলেই আরিবা ছুটলো ওয়াসরুমে।
আরিবা যেতেই তুষারের মুখে হাসি ফুটলো।
মিস আয়রা বিষয় টা যদি
এমনি হয় তবে আমি হবো আয়রার বাবা। আপনার মনের সব দুঃখ আমি ঘুচিয়ে দেবো নিজের ভালোবাসা দিয়ে।
-----------------------
আরিবা ওয়াসরুমে নিজের মুখটা ধুয়ে নিয়ে মলিন হাসলো।
এই পাঁচ বছরে খুব কম বারই সে জায়ানের নাম মুখে নিয়েছে।
আর যতবারই নিয়েছে নিজেকে সামলাতে পারেনি।
নিজেকে অনেকটা শান্ত করে বেড়িয়ে আসলেই আরিবার চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো।
"" আ,,আপনি,, আপনি এখানে কেনো?
"" জায়ান কোনো প্রতিত্তোর করলো না।
সে তো তাকিয়ে আছে আরিবার দিকে।
একুশ বছর আর ছাব্বিশ বছরের আরিবার মাঝে আকাশ পাতাল তফাত।
এই আরিবার চোখে মুখে দুষ্টুমি ফুটে না।কথায় কথায় হাসে না।
আচ্ছা আরিবা কি আগের মতো জায়ানকে ভয়ও পায় না?
জায়ানকে দেখিয়ে হঠাৎ আকাশ সমান সাহস নিয়ে আবার ভয়ে পিছিয়ে যাবে না।
নিজের দিকে জায়ান এর এমন তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখে আরিবা হকচকিয়ে গেলো।
নিজেকে অনেকটা শক্ত করে বললো
"" কি,,কি সমস্যা আপনার এভাবে পথ আটকে দাড়িয়ে আছেন কেনো?
সরুন আমি যাবো।
"" জায়ান এবার নিজের মুখ খুললো
ওই বাচ্চাটা কার ছিলো আরিবা?
""এই একটা প্রশ্নে যেনো আরিবা থমকে গেলো,,
সে নিজের জিভ দিয়ে ঠোঁট জোরা ভেজালো,,
কার মানে আপনি শুনেন নি ওই বাচ্চাটা আমার আমাকেই তো মা বলে ডেকেছিল বাচ্চাটা তাইনা।
মিথ্যা বলবেনা আরিবা,,ওটা আমার বাচ্চা,,
"" স্টপ আমি বলেছি ওটা আমার বাচ্চা। আমি এটা কখনও বলিনি যে বাচ্চাটা আমার।
"" What,,কি বলতে চাইছো তুমি?
জায়ান এর চোখে অবিশ্বাসের ছাপ
"" মানে এটাই যে বাচ্চাটা আপনার নয়।
"" তাহলে,,
আমার,,বাচ্চাটা আমার আর আরিবার
সাথে সাথে পিছনে ফিরে তাকালো জায়ান তুষার কে দেখে সে
আবার আরিবার দিকে তাকালো যে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলো
তবে জায়ানের দৃষ্টি দেখে নিজেকে স্বাভাবিক করে নিলো।
"" এটা কে আরিবা ওহ আপনি তো সেই অফিসার। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমার মেয়েকে খুজে দিয়েছেন।
আর আমি তোমার জন্য সেই তখন থেকে অপেক্ষা করছি।
বাসায় বাচ্চাটা একা একা আছে আমাদের তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে।
"" আরিবা জায়ানের দিকে ভিত চোখে তাকিয়ে আছে কারন জায়ানের
চোখমুখ লাল হয়ে আছে মনে হচ্ছে নিজের রাগ সংবরণ করতে চাইছে।
তার চোখ আরিবা আর তুষারের হাতের দিকে।
আরিবার ভিত চোখ দেখে জায়ান স্মিথ হাসলো
ওহ তো আপনি আরিবার হাসবেন্ড?
"" জি,,আপনি কে?
"" আমি,,আমি আরিবার এক কাজিন।
"" এতে তুষার আরিবা দুজনেই ভরকে গেলো আরিবা তুষারের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়াতে চাইলো।
কিন্তু তুষার ছারছেই না।
"" ওহ দেখা হয়ে ভালো লাগলো আমরা আসি।
বলে তুষার আরিবাকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো কিন্তু আরিবা তখনও জায়ানের দিকে তাকিয়ে।
তার কেনো যেনো মনে হচ্ছে জায়ান তাদের কথা বিশ্বাস করে নি।