বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ২১

🟢

আরিবার বুকটা ধক করে উঠলো সে তো এই ভয় টাই পাচ্ছিল।

"" বাবা আমি তো ঠিক আছি, আর তোমাকে আমি অনেকবার বলেছি আমি বিয়ে করতে চাইনা বাবা আমার জীবনে আয়রাই সব।আর আয়রার জীবনে তার মা।তার কোন বাবার প্রয়োজন নেই।

"" আরিবার বাবা দমে গেলেন না।

দেখ আরিবা আমি চিরকাল থাকবো না আজ আছি কাল নেই তখন

তোদের কে দেখবে।আর তাছাড়া একটা জিনিস ভেবে দেখেছিস

জায়ান যদি জানতে পারে আয়রা তার মেয়ে তাহলে কি হবে।

আরিবার অসহায় মনে হলো নিজেকে সে নিজের জীবনে অন্যকারো

স্থান দিতে পারবেনা জায়ান ছাড়া আর না অন্য কাউকে আয়রার বাবা হিসেবে মানতে পারবে।

"" কিন্তু বাবা,,

"" কোন কিন্তু না কাল তোকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে এটাই ফাইনাল।

শক্ত কন্ঠে কথাগুলো বলে বেড়িয়ে গেলো আরিবার বাবা।

"" আরিবার চোখ ছলছল করে উঠলো।

"" কিছু না ভেবেই আরমানকে কল দিলো সে।

-----------------------

তুমি মেয়েটার সাথে এমন কঠোর ব্যাবহার করলে কেনো বলতো?

তুমি তো জানো মুখে যতোই অস্বীকার করুক না কেনো জায়ানকে তোমার মেয়ে ভালোবাসে।

"" দেখো অন্তরা সব বিষয় এ ঢোকার প্রয়োজন নেই। আর আমি জা করছি আমার মেয়ের ভালোর জন্যই করছি।

আর কাল সব ব্যাবস্থা করে রাখো।

"" অন্তরা বেগম হতাস হলেন স্বমীর কথায়।

এদিকে আরিবার বাবা মনে করতে লাগলেন তখনকার ঘটনা যখন

আয়রাকে কোলে আদর করছিলো জায়ান।জায়ান হয়তো তাকে দেখেনি কিন্তু তিনি ঠিকই দেখেছেন।

আর জায়ান যদি আয়রাকে নিয়ে নেয় তবে তার মেয়েটা বাচবে না তাইতো তিনি আজ কঠোর হয়েছেন।

-------------------------

সকাল সকাল আজ অফিস যেতে দেয়নি আরিবাকে তার বাবা।

আরিবা প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে বসে আছে।

তারওপর অন্তরা বেগম

এসে তার হাতে একটা মিষ্টি রঙের শাড়ি

এনে ধরিয়ে দিলো

বিনিময়ে আরিবা অসহায় দৃষ্টিতে তাকালেও মায়ের পাত্তা সে পায় নি।

তাই আর কিছু না ভেবে শাড়িটা পরে নিলো সে।

আয়রা আজ ভিষন খুশি জীবনের প্রথম সে মাকে শাড়ি পরতে দেখলো।

"" মাম্মা,,

"" হ্যা মাম্মা,,

"" You look so parity,,, like a Queen,,

"" আরিবা হেসে দিলো মেয়ের কথায়।

"" মেয়ের গাল টেনে দিয়ে বললো Yes mamma and you ar my Princess,,,

"" অন্তরা বেগম আসলেন আয়রাকে নিতে তবে আরিবা এবার রাজি হলো না।

কিছুক্ষণ পর তাকে সেখানে যাওয়ার জন্য ডাকা হলো।

"" আরিবা ধির পায়ে এগিয়ে গেলো তার কোলে তখনো আয়রা আছে।

একজন মাঝ বয়স্ক সুন্দরী নারী তার দিকে এগিয়ে আসলো।

এসো মা বসো। তিনি আয়রাকে কোলে নিতে চাইলে আয়রা নাকচ করে মায়ের গলা জরিয়ে ধরলো।

থাক ও আমার কাছে।

মহিলাটও সায় জানিয়ে বসতে বললো।

আচমকা সামনের ব্যাক্তির কন্ঠ শুনে বিস্ময় নিয়ে চোখ তুলে তাকালো আারিবা।

"" স্যার আপনি,,,

হতভম্ব গলায় বললো আরিবা।

"" তুষার মাথা নিচু করে নিলো।

তুষারের মা হেসে দিয়ে বললো এখনো স্যার কেনো তুমি নাম ধরেই

বলতে পারো।ছেলে তো বিয়ের জন্য রাজি হচ্ছিল না এতো মেয়ের ছবি দেখিয়েছি তবে তার শুধু তোমাকেই পছন্দ।

আরিবা হতবাক তার সাথে ভিষন রাগ ও হলো।

স্যার আপনার সাথে আমার কথা আছে।

উঠে দাড়িয়ে বললো আরিবা।

তুষার সায় জানিয়ে তার পিছু পিছু এলো।

রুমে আসতেই আরিবা বললো

"" এসব কি স্যার কেনো করছেন এগুলো?

বিজ্ঞাপন

"" ভালেবাসি তাই,,

"" আরিবার মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো যেনো এসব কি বলছেন আপনি,,

আপনি ভুলে গেছেন আমি বিবাহিত আমার একটা মেয়ে আছে।

"" আমি কিছুই ভুলিনি আরিবা বরং আপনি ভুলে যাচ্ছেন সে আপনাকে ঠকিয়েছে।

"" আরিবা নিজের চোখ বন্ধ করে নিলো

"" দেখুন প্লিজ উনি আমাকে ঠকাক যাই করুক কিন্তু সত্যি এটাই

যে আমি ওনাকে এখনো ভালোবাসি।আর আয়রা ওনার মেয়ে।

"" তুষারের মনে কথাটা ভিষণ আঘাত হানলো তবুও সে বললো,,,

"" আপনি ভালেবাসুন সমস্যা নেই কিন্তু আমিও আপনাকে ভালোবাসি

আর যেখানে আমার ভালোবাসা পাওয়ার সুযোগ আছে তা আমি ছাড়বো না।

আর আপনার প্রয়োজন নেই আমাকে ভালেবাসার বলেই তুষার চলে গেলো।

আরিবা ধপ করে সেখানেই বসে পরলো একি ঝামেলায় পরলো সে।

সে তো ভেবেছিলো ছেলেকে কোনরকম বুঝিয়ে বিয়েটা ভেঙে দিবে কিন্তু কিছুই তো হলো না।

এবার কি করবে সে।

----------------------------

আয়রা আরমানের সাথে এসেছে ঘুরতে।

আচমকা সামনে জয়ানকে দেখেই সে উচ্ছসিত হয়ে জায়ানের কোলে যাওয়ার জন্য হাত বাড়ালো।

জায়ান আরমানের কোল থেকে নিজের মেয়েকে আগলে নিলো।কপালে চুমু খেলো।

আরমান অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। সে বুঝতে পারছে না জায়ান

কেনো আয়রাকে এতো আদর করছে সে কি জেনে গেছে আয়রা তার মেয়ে।তাহলে তো সর্বনাশ।

এসব ভেনে সে ভিতো চোখে তাকালো।

"" জায়ান মেয়ের থেকে চোখ সরিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বললো,,

তো আমার বউ এর ফেক বয়ফ্রেন্ড কেমন আছো তুমি?

আরমান একটা ঢোক গিললো।

"" আরে ভয় পাচ্ছো কেনো তোমাকে ঘুষি মারবো না আমি চিন্তা করোনা।

আরমানের এবার কাঁপা-কাঁপি শুরু হয়ে গেছে। সে কি বলবে

আর যাই হোক সে ঘুষি খেতে চায় না তার আজো মনে আছে জায়ানের

ঘুষির কথা ভেবেই চট করে হাত টা নাকে চলে গেলো।

আরমান এর অবস্থা দেখে জায়ান বাকা হাসলো।

"" তাহলে এবার বলো কেনো করেছিলে এসব নাটক।কেনো এতোগুলা

বছর আমার মেয়ের থেকে দুরে রেখেছিলে তেমরা আমায়।

আমার কি দোষ ছিলো যে আমার যে একটা মেয়ে আছে আমার অংশ আছে তা আমি জানতেই পারলাম না।

কথাগুলো বলতে গিয়ে গলা কাপছিলো জায়ানের যা বুঝতে পারলো আরমান।

তাবুও জায়ানের করা অন্যায় এর কথা মনে হতেই আবার রাগ হলো তার,,

"" মি.জায়ান আহসান পৃথিবীতে সবকিছুরই কোনোনা কোনো কারন

থাকে আর আরিবার আপনার থেকে দুরে যাওয়া আর আপনার মেয়ের কথা না জানানোর ও কিছু কারন ছিলো।

জায়ানের কপাল কুচকে গেলো,,,

আংকেল ওই দেখো ক্যান্ডি

জায়ান মেয়ের দিকে তাকিয়ে আবার আরমান এর দিকে তাকালো বললো

তুমি কিছুক্ষণ পর এসে ওকে নিয়ে যেয়ো।

আরমান কিছু বলতে গিয়েও বললো না চলে গেলো।

জায়ান আয়রাকে অনেকগুলো ক্যান্ডি কিনে দিলো আয়রা তার ভাঙা ভাঙা মুখের বুলিতে অনেক কথাই বলছে জায়ান কিছু বঝছে কিছু বুঝছে না।

"" জানো আনতেল কাল মাম্মাকে কুইন এর মতো লাগছিলো

আর ওই আনতেলরা এসেছিলো আমাকে অনেক আদর দিয়েছে।

"" জায়ান কপাল গুটালো কে এসেছিলো যে তার জন্য আরিবা শড়ি পরেছিলো।

কে এসেছিলো মা?

"" ওই আনতেল তা আর নানু বললো আমি আর মাম্মা তার কাছে থাকবো।

জায়ানের গোটাবো কপাল আরো গুটিয়ে গেলো।

-------------------------

রাতে খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পরলো আরিবা আয়রা নেই তার কাছে

অন্তরা বেগম নিয়ে গেছে সে দিতে চায়নি তবুও নিয়ে গেলেন তিনি।

নিজের বাবা মায়ের এমন বাড়াবাড়ি তার কাছে বিরক্ত লাগলেও সে কিছু বলছে পারছে না বাবা মা কষ্ট পাবে ভেবে।

এসব ভাবতে ভাবতে একসময় ঘুমে তলিয়ে গেলো।

মাঝরাতে হঠাৎ অনুভব করলো তার দমবন্ধ হয়ে আসছে।

শরিরের ওপর ভাড়ি কিছুর অস্তিত্ব টের পাচ্ছে।

শ্বাস আটকে আসায় তার ঘুম ভেঙে ছটপট করতে শুরু করলো।

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প