আরিবা চোখ পিটপিট করে খুলতেই নিজেকে আবিষ্কার করলো।
একটা সুন্দর রুমে।সাদা বেডে সে শুয়ে আছে। নিজে কোথায় আছে তা বুঝতে না পেরে তার কপাল কুচকে গেলো। তবে এটা বুঝলো এখন সকাল।
মাথায় কিছু টা চাপ দিতেই মনে পরে গেলো সব কথা চমকে উঠলো সে।
ফ্লাসব্যাক,,,,
হঠাৎ কারেন্ট চলে গেলে।
অন্তরা বেগম লাইট খুজতে চলে গেলেন।কাজিও বিয়ে পড়ানো বন্ধ করে দিলো।
সচারাচর এখানে তেমন কারেন্ট যায়না।হঠাৎ চলে যাওয়ায় সবাই বেজায় বিরক্ত হলো।
আয়রা তখনও মায়ের কোলে ঘাপটি মেরে আছে।
হঠাৎ অনুভব করলো আয়রাকে কেউ তার কোল থেকে নিয়ে নিয়েছে।
চারিপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার তাই আরিবা বুঝলো না।
সে ভাবলো হয়তো তার মা নিয়েছে আয়রাকে।
হঠাৎ কেউ তার মুখ চেপে ধরলো। সে প্রতিক্রিয়া করার মতো সময়ই পেলো না তার আগেই অজ্ঞান হয়ে গেলো।
বর্তমান,,,,
সবটা মনে পরতেই তাড়াতাড়ি ওঠার চেষ্টা করলো আরিবা।
কিন্তু একি তার হাত পা সবটাই খাটের সাথে বাধা।
ভয়ে গলা শুকিয়ে আসলো। ছটপট করতে শুরু করলো সে।
অনেক্ক্ষণ ছটপট করলো কোন লাভ না হলে হাঁপিয়ে উঠে চুপ করে গেলো সে।
কে তাকে নিয়াসলো এখানে কেন নিয়ে আসলো তার তো কারো সাথে শত্রুতা নেই।
তাকে মেরে ফেলবে।
তাহলে তার মেয়ের কি হবে।মেয়ে তো প্রচুর কান্না করবে তাকে ছাড়া।এতো সব ভাব আর কান্নার মাঝে সে খেয়াল করেনি রুমে আরেকজনের উপস্থিতি।
জায়ান এতোক্ষণ ধরে আরিবাকে পর্যবেক্ষণ করছে।
আরিবা যে কিছু একটা বিরবির করছে তা বুঝতে পারছে সে তবে কি তা বুঝতে পারছে না।
কিছুক্ষণ ঠোঁট কামরে কপাল গুটিয়ে তাকিয়ে রইলো সেদিকে।
"" আরিবা,,
গম্ভীর ভারি কন্ঠ শুনে চমকে উঠলো আরিবা।
সামনে জায়ানকে দেখে বিস্ফোরিত চোখে তাকালো।
এক মূহুর্তে তার সব ভাবনা পালিয়ে গেলো।জায়ানকে চোখের সামনে দেখে তার মনে হচ্ছে সে কোনো সপ্ন দেখছে।
নিজের ভাবনাকে ভুল প্রমান করতে কয়েকবার পালক ঝাপটালো। নাহ সে ভুল দেখছে না।
তারমানে জায়ান তাকে নিয়ে এসেছে। কিন্তু কেন।
এসব ভাবনার মাঝে জায়ান তার পা ও মুখ খুলে দিলো।
কিন্তু হাত তখনো তার বাধা।
কি হলো চোখ দিয়ে গিলছো কেন?কখনো দেখো নি আমায়।
""নিজের বিস্ময় কাটিয়ে আরিবা বললো,,
আপনি,,আপনি আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন কিন্তু কেন?
জায়ানকে কোন উত্তর না দিতে দেখে আরিবা জেন অস্থির হয়ে উঠলো।
চিৎকার করে বললো
কি সমস্যা আপনার কেন নিয়ে এসেছেন আমায় এখানে?কি চাই আপনার?
আমার মেয়ে,,আমার মেয়ে কোথায় বলুন?
"" আছে?
"" কোথায় আছে?
আপনি কেন আমার কাছ থেকে আমার মেয়েকে কেরে নিতে চাইছেন।
আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারবোনা।
আরিবার কান্না বড়ো করুন শোনালো শেষ পর্যায়ে এসে।
"" একসময় আরিবা হাঁপিয়ে উঠলো। কান্না থামিয়ে দিলো।
ধির কন্ঠে বলে উঠলো কি চাই আপনার।আপনার যা চাই তাই দেবো আমি তবুও আমার মেয়েকে নেবেন না প্লিজ।
"" জায়ান নিজের ঘার চুলকে বলে উঠলো
দেখো আর যাই হোক আমি
আমার মেয়েকে আমার কাছেই রাখবো।আর সে অন্য কাউকে তার বাবা বলবে এটাও আমি মানবো না।
"" আরিবা নিষ্প্রাণ চোখে তাকালো।
"" একটা ডিলে আসা যাক,,
"" আরিবার ভ্রু জোরা কুচকে গেলো।
মুখ দিয়ে অস্ফুটে বললো ডিল,,
"" হ্যা ডিল
যেহেতু আমি আমার মেয়েকে দিবো না আর তুমিও ওকে ছাড়া থাকতে পারবেনা।
তাই তুমি এই বিয়েটা করবে না আর আমার সাথে থাকবে।
আর আমি এ বিষয়ে কোন এক্সকিউজ শুনবো না।
যদিও তোমাকে আমার সহ্য হয় না তবুও আমার মেয়ের জন্য এটুকু আমি সহ্য করতেই পারি।
বলতে বলতে আরিবার হাতও খুলে দিলো জায়ান।
বেরিয়ে যাওয়ার আগে বললো
ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নাও।
জায়ান বেড়িয়ে যেতেই আরিবা ফুপিয়ে উঠলো তবে কোন শব্দ করলো না।
মনে মনে ভাবলো
নিজের রক্তের জন্য আমাকেও এখন সহ্য করবেন আপনি।
কিন্তু আমি এভাবে আপনার বোঝা হয়ে কেন থাকবো।
আরিবা উঠে দারালো অনেকটা সময় কান্নার জন্য শরির দুর্বল হয়ে পরেছে।
কোন রকমে বেড়িয়ে আসতেই দেখলো
জায়ান আয়রাকে খাওয়াচ্ছে।
কিছুক্ষণ চোখ ভরে দেখলো সে।
"" মাম্মা,,,
আয়রার উচ্ছসিত গলায় জায়ান ও ফিরে তাকালো দেখলো আরিবার বিধস্ত চেহারা।
আরিবা চট করে এসে আয়রাকে কলে নিয়ে কয়েকটা চুমু খেলো।
জায়ানের দিকে তাকিয়ে বললো আপনার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো।
জায়ান সায় জানালে আয়রাকে খেলতে রেখে পাশের রুমে এলো তাড়া।
আমাকে কিভাবে এনেছেন এখানে?
"" কিভাবে আবার তোমার বাড়ি থেকে কোলে নিয়ে তারপর গাড়ি করে তারপর আবার কোলে নিয়ে সোজা বেডরুমে।
আরিবা দাতে দাত চেপে বললো
আমি বলছি আপনি আমাকে আনলেন আমি টের পেলাম না কেন?আর আমার বাসায় আপনি ঢুকলেন কি করে।
বাসার কারেন্ট যাওয়ার কারন আপনি ছিলেন তাইতো।
"" জায়ান ভিলেন এর মতো একটা হাসি দিলো।
ক্লোরোফোর্ম দিয়ে অজ্ঞান করে।
"" কিহ,,
"" কানে কম শোনো তুমি?
"" আর,,,
আরিবাকে বলতে না দিয়ে বললো
বয়াস অনেক হয়েছে বাকিটা ধিরে ধিরে জানতে পারবে।
বেড়িয়ে গেলো জায়ান।
কোন কথা না বলেই আরিবা আয়রাকে নিয়ে বেরিয়ে যেতে লাগলে পেছন থেকে শুনতে পেলো
তোমার কাছে একদিন এর সময় আছে কালকের মধ্যে আমি তোমাকে এই বাসায় দেখতে চাই।
-------------------------
বাহিরে আসলেই সামনে আরমানকে দেখে অবাক হলেও আরিবা কিছু বলার মতো মনমানসিকতা পেলো না।
আরমান ও চুপচাপ ড্রাইভ করছে।
বাসায় আসতেই আরিবার বাবা মা তাকে নানান রকম প্রশ্ন করলো।
কিন্তু আরিবা কোনো রকম উত্তর না দিয়েই আয়রাকে তার মার কাছে রেখে দরজা আটকে দিলো।
"" কি ব্যাপার আরমান তুমি আরিবা আর আয়রাকে কোথায় পেলে আর ওরা কোথায় ছিলো।
"" জায়ান ভাইয়ার কাছে আংকেল।
বাকিটা আমি জানিনা।
আরিবার বাবা চমকে উঠলো।
আমি এই ভয়টাই পাচ্ছিলাম ওই ব্যায়াদবটা আমার মেয়েকে শান্তি দেবেনা কোনোদিন।
আরিবা এসেছে খবর পেয়েই তুষার ছুটে এসেছে তার কাছে।
পুরো একটাবদিন আরিবা উধাও ছিলো তুষার প্রচন্ড চিন্তায় ছিলো।
কোথায় কোথায় না খুজেছে।পুলিশ এ ইনফর্ম করেছে।পাগল প্রায় অবস্থা তার।
সে এসে দরজা ধাক্কালে আরিবা চুপচাপ দরজা খুললো।
""আরিবা তুমি কোথায় ছিলে আমি কতো চিন্তা করছিলাম জানো তুমি,,
বলে ওনেকটা কাছে আসলে আরিবা দুরে সরে গেলো।
"" আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারবো না তুষার।
""হঠাৎ এমন কথায়
তুষার অবিশ্বাস্য চোখে তাকালো।
হঠাৎই আরিবা ঠোঁট ভেঙে শব্দ করে কেদে ফেললো।
আমি আমার মেয়েকে ছাড়া থাকতে পারবোনা তুষার প্লিজ বোঝার চেষ্টা করুন আর আমার মেয়ের কাছে থাকতে হলে আমার জায়ানের সাথেই থাকতে হবে।
"" আরিবা তুমি কেন চিন্তা করছো আয়রাকে কেউ নেবেনা ও তোমার কাছেই থাকবে তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যেওনা আরিবা।
আরিবা চিৎকার করে উঠলো
আপনি কেন বুঝতে পারছেন না।জায়ান ওর বাবা আপনি ওর কেউ না আমি কোনোভাবে আমার কাছে ওকে রাখতে পারবোনা।
কিন্তু আরিবা জায়ান তোমাকে ঠকিয়েছে।
"" ঠোকাক একজন মায়ের কাছে তার সন্তান এর থেকে বড়ো কিছু হয়না তুষার আমিও একজন মা।
জায়ান আমাকে ভালো না বাসুক কিন্তু তার কাছে থাকলে যদি আমার মেয়ে আমার সাথে থাকে তবে তার প্রতারণা নিয়েই থাকবো আমি।
আর এটাই আমার শেষ কথা।