বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ২৭

🟢

এমন মূহুর্তে কান্নায় বরো বিরক্ত জায়ান।

নিজের মুখটা আরিবার গলা থেকে তুলে তাকালো আরিবার দিকে।

আরিবা তখনো চোখ বন্ধ করে কেদে যাচ্ছে।

জায়ান বুঝলো দোষটা তার সে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারে নি।

তাই চুপচাপ আরিবার ওপর থেকে উঠে যেতে নিলেই শুনতে পেলো।

"" কেন আপনি আমার সাথে এমন করছেন?আপনার ছোয়ায় আমার ঘেন্না হয় বারবার মনে হয় আপনি আমায় ঠকিয়েছেন আমি ছাড়াও অন্যকাউকে ভালোবেসেছেন ছুয়েছেন।

"" জায়ানের বাড়ানো পা থমকে গেলো নিজের সম্পর্কে এমন অদ্ভুত কথা শুনে ঘুরে তাকালো আরিবার দিকে।

"" কি বলতে চাইছো তুমি? কার সাথে সম্পর্কে আছি আমি।

"" আরিবা চট করে বুঝতে পারলো নিজের ভুলটা সে তো ভেবেছিলো জায়ান চলে গেছে। সে এখন কি জবাব দিবে।

"" জায়ান এগিয়ে এলো আরিবার দিকে ততক্ষণে আরিবা বসে পরেছে।

জোর গলায় বললো কি হলো আমি তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করছি বলো কে বলেছে তোমায় এসব কার সাথে সম্পর্কে আছি আমি।

"" আরিবা চমকে উঠলো এমন ধমকে সে কেদেই যাচ্ছে।

"" ইডিয়ট বলো এসব কে বলেছে তোমায় বলো?

আরিবার চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে উক্ত কথাগুলো বললো জায়ান তার শিরা গুলো ফুলে উঠেছে রাগে।

"" হঠাৎই আরিবা জোরে ধাক্কা দিলো জায়ানকে,,

কি শুনতে চান হ্যা কেনো দয়া করছেন আমায় আপনার তো নুর ম্যাম এর সাথে সম্পর্ক আছে তবে কেনো আমার কাছে আসছেন আমাকে দুর্বল করে তুলছেন বলে আবারো কান্নায় ভেঙে পরলো আরিবা।

"" জায়ান স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো তারমানে এর জন্যই আরিবা তার থেকে ডিভোর্স চাইতো এর জন্য পাঁচ বছর আগে তাকে ছেড়ে গিয়েছিল আরিবা।

সে আর দারিয়ে থাকলো না বেড়িয়ে গেলো রুম থেকে।

আরিবা তখনো কেদে যাচ্ছে।

------------------------

তুই একবারো চিন্তা করেছিস নুর জায়ান এগুলো জানতে পারলে তোর কি অবস্থা করবে।

"" নুর রাগে ফোস ফোস করছে।

সে পারছে না আরিবাকে শেষ করে দিতে।ওই মেয়ের কতবড় সাহস ওকে রক্ষিতা বলে।

"" নুর,,,

রহিতের চিৎকার এ নিজের ভাবনা থেকে বের হয়ে আসলো নুর,,,

কি করবে জায়ান হ্যা কি করবে ভালোবাসি আমি ওকে ও শুধু ওই বাচ্চাটার জন্য আরিবাকে মেনে নিয়েছে তাইনা। যদি ওই বাচ্চাটাই না থাকে তাহলে,,,

"" রহিত বিস্ফোরিত চোখে তাকালো

তুি পাগল হয়েগেছিস নুর,,

হ্যা,,হ্যা,,পাগল হয়ে গেছি আমি কি না কি করেছি সারাটা জীবন জায়ানের আগেপিছে ঘুরেছি আমি আর ওই মেয়েটা আর ওই মেয়েটার বাচ্চা এসে ওকে নিয়ে নিবে হ্যা আমি এটা কিছুতেই মানবো না।

নুর কিছুটা পাগলের মতো ব্যাবহার করছে।

রহিত বুঝতে পারছে না এটা কি সেই নুর যেই মেয়েটাকে সে ভালোবেসেছিলো,,,,,

-----------------------

সকালে ঘুম থেকে উঠতেই হঠাৎ করে নিজের শাশুড়ী ননদ আর দেবরকে দেখে চমকে গেলো আরিবা সাথে সাথে অপরাধ বোধ ঘিরে ধরলো তাকে।

জায়ান তাকে ভালো না বাসলেও এই মানুষগুলো তাকে অনেক ভালোবাসতো আরিবা তা জানে সে মাথা নিচু করে নিলো।

তবে জয়া বেগম আর বাকি সবাই একদম স্বাভাবিক ছিলো।

"" কেমন আছো মা,,?

"" আরিবা একটু হাসার চেষ্টা করে বললো,,

জি,,জি আন্টি,, চোখ তুলে চাইতেই জয়া বেগমের মুখ দেখে নিয়ে নিজের ভুল সুধরে বললো,,

ভালো আম্মু আপনারা কেমন আছেন?

আরিবার চোখ হঠাৎই কেমন যেনো ভোরে উঠতে চাইলো নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে আচমকাই কেদে উঠলো মেয়েটা তা দেখে,

ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে পরলেন,,

"" কি হয়েছে মা কাদছো কেন,,?

আমি কি খরাপ কিছু বলেছি তোমায় কষ্ট পেয়েছো আমার কথায় জরিয়ে নিলো আরিবাকে।

"" সরি আম্মু,,,খুব সরি,,আমার উচিত হয়নি এভাবে চলে আসা।

"" জয়া বেগম আরিবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন।

তবে জাফরিন,জোভান এখনো দারিয়ে আছে কোনো কথাই বলছে না মূলত তারা অভিমান করে আছে আরিবার ওপর।

জাফরিন,,ভাইয়া,,,

"" আয়রা কোথায় ভাবি তাকেও তো দেখি পাচটি বছর তো লুকিয়েই রেখেছিলে এখন অন্তত দেখতে দাও,,

বিজ্ঞাপন

জাফরিনের খোচা মারানো কথায় আরিবা একটু কষ্ট পেলো।

আর পাবে নাই বা কেন এই মেয়েটা তাকে কতো ভালোবাসতো অথচ এই সবগুলো লোকের সাথে সে অন্যায় করেছে।

"" মাম্মা,,মাম্মা,,দৌড়ে আসলো আয়রা কিন্তু এসেই এতোগুলো অপরিচিত মুখ দেখে কিছুটা ভরকে গেলো সে।

আরিবা নিজের চোখ মুছলো মেয়ের ভিতু চেহারার দিকে তাকিয়ে হাসলো একবার।

""জয়া বেগম স্থির তাকিয়ে আছেন ঠিক যেনো জায়ানের মুখের আদল কতো আদুরে বাচ্চাটা তার চোখ ভোরে উঠলো। ধির পায়ে এগিয়ে গেলেন নাতনীর কাছে।

জাফরিন,, জোভান এরো একি অবস্থা।

আয়রা মানুষ গুলোকে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে দৌড়ে মা কে গিয়ে জাপটে ধরলো।

জয়া বেগম আহত হলেন।

আরিবা মেয়েকে কোলে নিয়ে বোঝানোর স্বরে বললো,,,

ওই দেখো এটা তোমার দাদু উনি তোমায় অনেক ভালোবাসেন মাম্মা ওনার কোলে যাও।

"" দাদু,,,

"" হু,,

আয়রা তাকালো,,আর ওনারা,,

"" উনি তোমার চাচ্চু আর উনি তোমার ফুপি মনি।

"" উপস্থিত তিনজনেই আয়রার দিকে তাকিয়ে হাসলো।

জাহিদ এগিয়ে এসে নিজের পকেট থেকে ক্যান্ডি বের করে এগিয়ে দিলো মায়রাকে কোলে নিয়ে বললো তুমি এটা পছন্দ করো আম্মা,,

"" হুম করিতো বাবা এনে দেয় আমাকে জানো তো আমার একটা বাবাও আছে আজ দেখি তাচ্চু,পুপি,দাদু ও আছে।

কিন্তু এতোদিন কেন ছিলে না তোমরা?আমরা অনেক মজা করতাম একসাথে।

"" আসোলে কি বলোতো সোনা আমাদের তো কাজ ছিলো তাই আসতে পারিনি কিন্তু এখন থেকে তোমার সাথেই থাকবো।

"" সত্যি,,,

জাফরিন এগিয়ে এসে গালে চুমু দিয়ে বললো সত্যি তো মা।

"" হঠাৎই আয়রা বলে উঠলো মাম্মা বাবা কুতায় বলোতো আমার যে একটা পুপি,একটা তাচ্চু,একটা দাদু হলো বাবাকে দেখাতে হবে তো নাকি।

আয়রার পাকা পাকা কথা শুনে তিনজনেই হেসে দিলো।

তবে হাসলোনা আরিবা লোকটা কোথায় যে গেছে রাত থেকে একবারো দেখেনি।

দীর্ঘশ্বাস ফেললো আরিবা।

"" মাম্মা তুমি ওনাদের সাথে খেলো তুমি তো সকালে কিছু খাওনি আমি কাবার আনছি।

আপনারা প্লিজ ফ্রেশ হয়ে নিন অনেকটা জার্নি করে এসেছেন।

------------------------

জায়ান হনহন করে বাসায় ঢুকেই থমকে গেলো।

আয়রা তার দাদু ফুপি,চাচ্চুর সাথে খেলছে।

এ দৃশ্য দেখে জায়ানের মনে প্রশান্তি খেলে গেলো রান্নাঘরের দিকে তাকিয়ে দেখলো আরিবা কিছু একটা করছে হয়তো রান্না।

এটা তার সংসার তার শান্তি এমন দিনের কথা এ পাঁচ বছরে কতোবার চিন্তা করছে সে।

"" বাবা,,বাবা,,তুমি এতে গেতো,,

মেয়ের কথায় ধ্যান থেকে বের হলো জায়ান মেয়েকে কোলে তুলে তার হাতে দুটো চকলেট ধরিয়ে দিলো।

"" বাবা তুমি জানো আমার পুপি, তাচ্চু,দাদু এসেছে,,

"" হুম মাম্মা দেখছি তো,, তুমি খুশি হয়েছো?

"" ওনেক,,

মেয়েকে নামিয়ে দিলো ভাই,বোন মায়ের সাথে কুশল বিনিময় করলো।

এর মাঝে রান্নাঘর থেকে আরিবা বেড়িয়ে আসলো।

মূলত সে জায়ানের গলা পেয়েই এসেছে রাত থেকে এখন দুপুর লোকটার মুখ দেখেনি সে।অস্থির অস্থির লাগছিলো ভেতরে শুধু বাইরে প্রকাশ করছিলো না।

এখন তাকে দেখে শান্তি পেলো।

"" মা আপনারা ফ্রেশ হয়ে আসুন আমি আয়রাকে ফ্রেশ করিয়ে খাবার দিচ্ছি।

সবাই চলে গেলো ফ্রেশ হতে।

আরিবা আয়রাকে নিয়ে জায়ানের রুমে এলো। এ ছারা আর কোনো উপায় ও ছিলো না তিনটা রুমের একটা জাহিদ আর আরেকটা জাফরিন আর মাকে দিয়েছে সে এখন শুধু জায়ানের রুমই আছে।আর তাছাড়া ওনাদের সামনে দুজন অন্য রুমে থাকলে তারা সন্দেহ করবে।

রুমে আসতেই আরিবার চোক বড়ো বড়ো হয়ে গেলো তারাতাড়ি নিজের চোখ নামিয়ে নিলো সে।

জায়ান নিজের শার্ট খোলায় এই প্রতিক্রিয়া তার তবে জায়ানের এতে কোনো ভাবান্তর হলো না।

আরিবা চটপট মেয়েকে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পরলো।

কি নির্লজ্জ লোক রে বাবা।মনে মনে ঝারছিলো সে জায়ানকে।

"" নিজে ফ্রেশ হয়ে মেয়েকে ফ্রেশ করে বের হলেই জায়ান শান্ত দৃষ্টিতে তার দিয়ে তাকিয়ে বললো,,

খাবার শেষ করে বিকেলে আয়রাকে আম্মার কাছে রেখে আসবে বেরোবো আমরা।

ব্যাস আরিবার পা সেখানেই জমে গেলো,,,

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প