এতো জোরে চিৎকার এ আরমান নিজের দুই কান চেপে ধরলো। জায়ান সেখানেই উপস্থিত ছিলো যে বর্তমানে কপাল কুচকে তাকিয়ে আছে আরিবার দিকে। আরিবা সবটা বুঝতে পেরে হাসার চেষ্টা করে একবার জায়ানের দিকে তো একবার আরমানের দিকে তাকালো।তারপর আওয়াজ নিচু করে বললো
"" তোর বিয়ে মানে? তুই বিয়ে করলে রাইসার কি হবে?তুই ভুলে যাচ্ছিস আংকেল আন্টি জানে তোরা দুজনে সম্পর্কে আছিস।
"" ওকেই তো বিয়ে করছি
"" কিহ,,সত্যি,,? উচ্ছসিত কন্ঠে বললো আরিবা।
"" হ্যা,,তুই তো বললি আমি না হলে অন্যকেউ ওকে নিয়ে যাবে আমি তা কি করে হতে দেই বল এমনিতেই আমার এক বান্ধবীরে একজন নিয়ে নিছে বলে আর চোখে একবার জায়ানের দিকে তাকালো। জায়ান ফোনে ব্যাস্ত থাকলেও তাদের দুজনের কথাও শুনছে আরমান তাকাতেই সেও তাকালো তীক্ষ্ণ চোখে আরমান একটা ঢোক গিলে নিজের চোখ সরিয়ে নিলো।
আর একজনকে কিভাবে ছাড়ি বল।এমন কথা শুনে আরিবা শব্দ করে হাসলো।
"" যাক আমার কথার অর্থ যে তুই বুঝতে পেরেছিস এতেই আমি খুশি।
আবারো চিন্তিত স্বরে বললো কিন্তু রাইসা।সাথে সাথে আরমানের মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো।
ও আমাকে বিয়ে করতে চাইছে না।
আবারো ঝটপট জবাব দিলো আমি মানবো কেনো তাছাড়া আংকেল আন্টি আমার পক্ষে। আর শোন বিয়েটা এই সপ্তাহের পরের সপ্তাহে সিলেটেই হবে তুই সহ তোর পুরো পরিবার আসছিস আমি জায়ান ভাইকে বলে দিয়েছি।
এখন আসছি।আরিবা মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো।
জায়ান এতক্ষণ দুই পাগলের কাহিনি দেখছিলো।সে আজ বুঝলো আসলেই এই দুইজন মেন্টাল।যখন সে আরিবার খোজ করেছিলো তখন সে জানতে পেরেছে তাদের তিনজনের মধ্যে এই দুজন দুষ্ট বেশি।
এসব ভাবতে ভাবতেই দেখলো আরিবা রেডি হয়ে বেরিয়েছে তা দেখে কিছুটা কপাল কুচকালো,,
"" কোথাও যাচ্ছো?
"" আরিবা দাঁড়িয়ে পরলো খুব শান্ত গলায় বললো হুম,,
"" কোথায়?
"" অফিস,,
"" জায়ানের কপালের ভাজটা আরেকটু বাড়লো। অফিস মানে ওখানে তো আবার ওই তুষার টা থাকবে। মানেটা কি তার বউয়ের আশেপাশে তারই পাগল প্রেমিক ঘুরে বেরাবে আর এটা সে মেনে নেবে অসম্ভব। যতোই আরিবা সায় না দিক তারপরও।
"" মানে টা কি?কিসের অফিস? আর ওখানে তোমার ওই না হওয়া হাসবেন্ড থাকবে তুমি যাবেনা।
"" আরিবা তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বললো তুমি কি জেলাস?
"" জায়ান হকচকিয়ে উঠলো জেলাস মানে আলবাত সে জেলাস রীতিমতো জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার মতো।
"" নিজেকে এতোটা দামি ভেবোনা। সামনে সপ্তাহে আমরা সবাই সিলেট সিফট করছি তাই এই চাকরির কোনো মানে হয় না।আর আমিও আমার পোস্টিং এর জন্য এপ্লাই করেছি কয়েক মাসের মধ্যে সিলেট চলে যাবো।
"" আমি চাকরি টা ছেড়ে দেওয়ার জন্যই যাচ্ছি।
""জায়ান মনে মনে প্রচন্ড খুশি হলো। যাক তার বউটার বুদ্ধি আছে।
"" আমি যাবো তোমাকে পৌঁছে দিতে।
আরিবা বারন করতে চাইলো তবে নতুন করে জায়ানকে আর রাগাতে ইচ্ছে হলো না তার তাই মাথা নেড়ে সায় জানালো।
------------------------------
নিজের চাকরি ছারার জন্য ছারপত্র জমা দিয়েছে আরিবা।সামনে তুষার বসা।আরিবার প্রচন্ড ইতস্তত লাগছে। যতোই হোক তুষার তাকে ভালোবাসে।
"" চাকরিটা কেন ছাড়ছো আরিবা?জায়ান তোমায় বাধ্য করেছে?
"" একদমি না স্যার আসলে আমরা আমাদের দেশের বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।
"" কেমন আছো তুমি আরিবা?জায়ান তোমায় কোনো টর্চার করছে না তো?আমি জানি ও শুধু ওর মেয়ের জন্য তোমাকে নিয়ে গেছে আসলে ও একটা চরিত্র হীন।
"" আরিবার যেনো সহ্য হলোনা নিজের ভালেবাসার মানুষ সমন্ধে এমন ঘৃণ্য কথা। সে আচমকাই উঠে পরলো শক্ত কন্ঠে বললো,,
"" আপনি ভুল মি.তুষার আমার স্বামী আমায় যথেষ্ট ভালোবাসে আর সে কোনো চরিত্র হীন নয়।আপনি আগে যা জেনেছেন সবটাই ভুল আমার স্বামী শুধু আমাকেই ভালোবাসেছে আর বাসে।ভালো থাকবেন।বলে বেড়িয়ে গেলো।
"" তুষার আরিবার প্রস্থান এর দিকে চেয়ে বেদনাদায়ক হাসি হাসলো।তার বুকটা যেনো আবারো জ্বলন ধরলো নিজে অফিসের সাথের বিশাল কাচের দরজার কাছে গিয়ে নিচে তাকালো।
দেখলো জায়ান দাঁড়িয়ে আরিবা আসতেই গাড়ির দরজা খুলে দিলো আরওবা বসে পরলো।
জায়ান নিজের চোখের সানগ্লাস টা পরে একবার ওপরে তাকালো চোখ পারলো সরাসরি তুষারের দিকে মুখে বাঁকা হাসওর রেখা টেনে নিজেও গাড়িতে বসে পরলো গাড়ি চলতে শুরু করলো।
তুষার সেদিকে নির্বিশেষে তাকিয়ে রইলো।
"" তুমি তোমার ভালেবাসা নিয়ে সুখে থাকো।আমি নাহয় এটা ভেবেই নিজেকে শান্তনা দেবো যে আমার ভালোবাসা তার ভালোবাসা নিয়ে সুখে সংসার করছে।
তুষারের চোখ দিয়ে আবারো একফোঁটা জ্বল গরিয়ে পরলো।
দুর থেকে ও ভালোবাসা যায়।
----------------------------
জায়ান শান্ত হয়ে গাড়ি ড্রাইভ করছে। আরিবার মুখ কিছুটা ভার।
"" আ,,,আপনার জ্বর ঠিক আছে মানে ছেরেছে,,।
"" আরিবা দিকে একবার তাকিয়ে জায়ান উত্তর দিলো,,
এতক্ষণ পর মনে পরলো। মিসেস জায়ান আহসান।
"" আব না,,আসোলে,,,
আচমকাই গাড়ি থামিয়ে দিল জায়ান তড়িৎ গতিতে আরিবার একদম কাছে চলে আসলো সে এতোটাই কাছে যে একে ওপরের নিশ্বাস বাড়ি খাচ্ছে। আরিবা এমন হঠাৎ আক্রমণে ভিত হয়ে গাড়ির সিটের সাথে চেপে গেলো।
"" কি,,কি করছো জায়ান,,?
"" তুমি সত্যি করে বলতো তুমি তুষারকে ভালোবাসতে?
"" এমন একটা কথা শুনে আরিবা অবাক না হয়ে পারলো না।যাকে এতগুলো বছর ধরে ভালোবেসে আসলো সেই কিনা বলছে যে সে অন্যকাউকে ভালোবাসে কিনা।তবে সে মজাও পেলো কিছুটা এটা দেখে যে জায়ান জেলাস ফিল করছে।সে জায়ানকে বাজিয়ে দেখার জন্য বললো,,,
বাসতেই পারি,,
"" ব্যাস এই কথাটাই যেনো যথেষ্ট ছিলো জায়ানের রাগের জন্য। জায়ানের দুই চোখের কোনা লাল হয়ে উঠেছে,,
আরিবা এবার কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো,,
"" দে,,দেখু,,বাকিটা শেষ করার সময় পেলো না আরিবা তার আগেই তার ঠোঁট জোরা আলে গেলো জায়ানের পুরো ঠোঁটের মাঝে,, এমন হওয়াতে আরিবা হতবাক। জায়ান অনবরত আরিবার ঠোঁটে কামর ও ছোট ছোট চুমু দিয়ে যাচ্ছে যেনো নিজের রাগ সবটাই আরিবার ঠোটের ওপর ঝারছে।আরিবার চোখ ভরে উঠলো ব্যাথায়।সে চাইলেও পারছেনা ছাড়াতে কারন জায়ান খুব শক্ত করে তার হাত দুটো ধরে আছে।
অনেক্ক্ষণ পরে জায়ান মুখে রক্তের নোনা স্বাদ পেতেই আরিবাকে ছেড়ে দিলো।
আরিবা হাপিয়ে যাচ্ছে জায়ানের বুকে পরে সে অনেকটা নেতিয়ে পরেছে গায়ের সব শক্তি যেনো হাওয়া।জায়ান ও আরিবাকে নিজের বুকের সাথে চেপে রেখে হাপিয়ে যাচ্ছে। অনেকটা সময় পর নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,,
"" মিসেস জায়ান আহসান তুমি যে সাহসটা আজ করলে এই সাহস দ্বিতীয় বার দেখাবেনা।তুমি আমার স্ত্রী আমার সন্তানের মা তোমার মুখে অন্য পরপুরুষের নাম সুনলে জিভ টেনে ছিড়ে ফেলবো।
ফুপিয়ে উঠলো আরিবা,, এতকিছুর পরও তার শান্তি লাগছে কারন তার ভালোবাসা এখন শুধু তার, তার জন্য সে ভাবে শুধু ভাবে না প্রচন্ড ভালোবাসে।হয়তো সাময়িক সমেয়ের জন্য রেগে আছে কিন্তু ভালোবাসে।
অনেকটা সময় জরিয়ে রাখার পর জায়ান আরিবাকে ছেড়ে দিলো। তার চোখের পানি মুছিয়ে দুই গালে হাত রেখে তাকালো আরিবার চোখের দিকে আরিবার চোখ দিয়ে তখনো পানি পরছে। জায়ান শব্দ করে চুমু খেলো আরিবার কপালে আরিবা নিজের চোখ বন্ধ করে নিলো।
জায়ান এবার আরিবার থেকে স্বরে এসে গাড়ি স্টার্ট করলো। গমগমে কন্ঠ নিয়ে বললো নেক্সট টাইম এমন মিথ্যা বলবে না আমি জানি তুমি আমায় ভালোবাসো। আর যদি নাও বাসো তাতেও আমার সমস্যা নেই কারন তোমার ভালোবাসা ছারাও তোমায় সারাজীবন আমার সাথেই থাকতে হবে।
আরিবা অবাক হলো জায়ান কি করে জানলো আরিবা তাকে ভালোবাসতো।
"" অবাক হওয়ার কিছু নেই আরমান আমায় সবটাই বলেছে তাই অন্যকারো নাম নেওয়ার সাহস করবেনা।
"" আরিবা ফোস করে দম ছারলো,,,,