বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ৩৩

🟢

""জায়ান সেদিনই তার কাজের যায়গায় ফিরে গেছে।যাওয়ার আগে সবার থেকে বিদায় নিয়েছে নিজের মেয়েকে কথা দিয়েছে এরপর সে একেবারে পোস্টিং নিয়ে ফিরে আসবে নিজের অর্ধাঙ্গিনী কে বুঝিয়েছে কোনো ভালো কিছুর জন্য অপেক্ষা করতে হয় আর অপেক্ষার ফল মিষ্টি হয়।আরিবাও সেদিন চোখে জল আর মুখে হাসি নিয়ে জায়ান কে বিদায় জানিয়েছিলো।

এই একটা মাস নুর রহিত জায়ান নিজেদের নিষ্ঠার সাথে তাদের ডিউটি পালন করেছে।আজ নুর এসেছে শেষ বারের মতো জায়ানের সাথে কথা বলতে।

"" কে?

"" আমি,,

"" ইয়েস মিস নুর বলুন কি বলতে চান।

"" নুর কাপা কাপা স্বরে বললো,, তোর সাথে একটু কথা ছিলো জায়ান?

জায়ানের কপালে ভাজ পরলো নিজের ঘড়ির দিকে চাইলো দেখলো নুরের ডিউটি এখনো শেষ হয়নি।

নুর এটা আপনার কাজের যায়গা পার্সোনাল টাইমস্পেন্ড করার যায়গা এটা নয়।তীক্ষ্ণ কন্ঠ নুরের বুকে গিয়ে বিধলো।সে ছলছল চোখে তাকিয়ে আবার চোখ নিচু করে নিলো।

"" সরি স্যার আর এমন হবে না বলেই নুর প্রস্থান করলো।এর মাঝেই তার ফোন বেজে উঠল স্ক্রিনে ভেসে উঠলো জান শব্দ টি নুরের চোখেও পরলো তা।

নুর চোখ মুছে বেড়িয়ে আসলো পথে রহিতের সাথে দেখা হলে সে একটা খাম তার দিকে এগিয়ে দিলো,,

এটা জায়ান কে দিয়ে দিস প্লিজ,,আর তুই ভালো থাকিস।

"" রহিত বুঝলো না এ কথার মানে কপাল কুচকে চাইলো শুধু।

------------------------------

ডিউটি শেষ করে রহিএলো জায়ানের কাছে।

"" নুর এসেছিলো তোর কাছে?

"" জায়ান তাকিয়ে বললো

কি বলতে এসেছিস বল।

রহিত হাতের খাম টা এগিয়ে দিলো।জায়ান বিরক্ত হয়ে তা হতে নিলো। খামটা খুলতেই বেরিয়ে এলো নুরের চাকরির অবসরের আবেদন।আর তার সাথে একটা চিঠি এতে জায়ান রহিত দুজনেই বিস্মিত হলো

প্রিয় জায়ান,,

তোকে আমি প্রিয়ই বলবো।কারন সেই কলেজ লাইফ থেকে আজ পর্যন্ত আমি শুধু তোকেই চেয়ে এসেছি। জানিস তোর জন্য আমি আমার পছন্দ বদলেছি আমি তোর ছোট ছোট বিষয় গুলো নিজের মধ্যে ধারন করেছি।বাবার অঢেল সম্পদ থাকার পরও আমি তোর সাথে তোর পাশে থাকার জন্য এই চাকরিতে জয়েন করেছি।কিন্তু তুই কখনো আমার দিকে ফিরেও তাকাসনি।কেন তাকাসনি জায়ান?কেন বুঝিসনি আমার ভালোবাসা?হঠাৎ একদিন শুনলাম তুই বিয়ে করেছিস কথাটা শুনে আমি ঠিক থাকতে পারিনি হিংস্র হয়ে উঠেছিলাম আমি তাইতো এসব করেছি। আর কিছু দিন গেলে হয়তো তোর বাচ্চাটার ও কোনো ক্ষতি করে দিতাম।কি করবো বল ভালোবাসতাম তো।আর ভালোবাসায় সব জায়েজ।

ভালোই হয়েছে তুই সব জানতে পারলি নাহলে আমার দারা আরো পাপ হতো। যাই হোক তোকে তো আর পাওয়া হলো না তাই এখানে থাকার কোনো মানেই হয় না। বাবার ও তো বয়স হয়েছে তিনি চান শেষ বয়সে আমি তার দেখাশোনা করি তাই আমিও অ্যামেরিকা সিফট করছি।

সবশেষে আফসোস রয়ে গেলো,,

এতো ভালোবাসার পরেও তুই আমায় বুঝলি না।আমার ভালোবাসাও বুঝলি না।তোকে ভালোবেসে আজ আমি নিঃশ্ব তুই তোর ভালোবাসা পেয়ে ঠিকি পূর্ণ। ভালো থাকুক আমার ভালোবাসা।

ইতি

বেইমান নুর,,,

রহিতের বুক টা খা খা করে উঠলো যতোই নুর তাকে ভালো না বাসুক কিন্তু সে তো তাকে দেখতে পেতো এরপর থেকে তাও পারবে না।

জায়ানের ভেতরে কি কোনো আবেগ কাজ করলো?হয়তো হ্যা হয়তো বা না।তার মুখে ঠিক প্রকাশ পেলো না।

আগামীকাল সেও সিলেট চলে যাবে তার প্রিয় মানুষ গুলোর কাছে।যারা তার অপেক্ষায় অধির আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে।তার সন্তান তার পথ চেয়ে আছে কখন বাবা তাকে কোলে নিবে চকলেট দিবে।তার অর্ধাঙ্গিনী পথ চেয়ে আছে তার। একটুখানি ভালেবাসা পাওয়ার।

------------------------------

মাম্মা ও মাম্মা?

"" কি হয়েছে আমার প্রিন্সেস এর ফুপি কে রেখে মনে পরলো মাম্মার কথা?

"" আয়রা মায়ের গলা জরিয়ে ধরলো তার কপালে একটা চুমু দিয়ে বললো আমার তো সবসময় তোমার কথা মনে পরে মাম্মা।

"" আরিবা হাসলো।এখানে আসার পর থেকে আয়রাকে সে কাছেই পায় না একবার দাদু একবার ফুপি একবার চাচ্চু এভাবেই দিন যায় তার মেয়েটার।

আমি জানিতো আমার মেয়েটা আমায় অনেক ভালোবাসে।এখন বলো আমার আম্মাটার মন খারাপ কেন?

বিজ্ঞাপন

"" বাবা কবে আসবে মাম্মা।

"" আরিবার মুখটা একটুখানি হয়ে গেলো তার মেয়েটা এতো বাবা বাবা করে।আর এদিকে বাবা দুরে আছে।

চলে আসবে মা আসলে অনেক ঘুরবে তোমাকে নিয়ে।

"" আয়রা এবার ছলছল চোখে তাকিয়ে রইলো মাম্মার দিকে,,

তুমি তো সেই কবে থেকে এই কথা বলছো কই আসে না তো বাবা।

"" আসোলেই তো আয়রার মাম্মা শুধু মিথ্যা বলে।

"" বাবা,,আরিবা নিজেও অবাক জায়ানের তো আরো কিছু দিন পর আসার কথা ছিলো।

আয়রা দৌড়ে গিয়ে বাবার গলা জরিয়ে ধরলো।

"" আমার মা টা আমাকে মিস করেছে তাইনা?

"" হ্যা বাবা আমি তোমায় অনেক মিস করেছি।ততক্ষণে জাফরিন, জয়া বেগম ও বেড়িয়ে আসলো। জোভান বাসায় নেই কোন কাজে বাহিরে গেছে।জায়ান সবার সাথে কুশল বিনিময় করে নিজের রুমে চলে গেলো ফ্রেশ হতে। ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে আসলেই দেখতে পেলো আরিবা সরবত হাতে দাড়িয়ে আছে। জায়ান গ্লাসটা নিয়ে সবার করে দিলো।তারপর আরিবার হাতের ট্রে টি টেবিলে রেখেই তাকে নিজের সাথে জরিয়ে ধরলো।

"" আরে আরে কি করছেন টা কি?আমার অনেক কাজ এখন।

"" কিসের কাজ এখন আপনার স্বামী এসেছে না এখন তাকে সময় দিন।

"" কিন্তু জায়ান,,

"" কোনো কিন্তু নয়। তোমার কি মায়া হয় না জান পুরো একটা মাস আমি তোমায় কতো মিস করেছি আর তুমি কী না স্বামী র কাছেই আসছো না।খুশি হওনি আমি এসেছি দেখে।

"" আরিবার চোখ ছলছল করে উঠলো কি বলছে এই মানুষ। এই লোকটা কি জানে তাকে দেখার তৃষ্ণায় আরিবার গলা শুকিয়ে আসে।ফোনের ওপাসে দেখে এতটুকু শান্তি পায়নি সে।পথ চেয়ে ছিলো কবে আসবে।

"" আরিবার চোখে পানি দেখে জায়ান বিচলিত হয়ে উঠলো।

কি হয়েছে জান কাদছো কেন?

"" আরিবা জায়ানকে শক্ত করে জারিয়ে ধরলো,,

আমি আপনাকে ভালোবাসি জায়ান নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসি। প্লিজ কখনো ছেড়ে যাবেন না আমায়।

"" জায়ানের মনের ভেতর দিয়ে শীতল হাওয়া বয়ে গেলো সে জানতো আরিবা তাকে ভালেবাসে।কিন্তু আজ প্রথম তার মুখে শুনলো।

"" আমিও তোমাকে ভালোবাসি জান অনেক ভালোবাসি।তোমাকে ছেড়ে থাকার কথা আমি চিন্তাও করতে পারিনা।

বলতে বলতেই আরিবার গলার ওরনা সরিয়ে তাতে মুখ ডুবিয়ে দিলো। ছোটো ছোট চুমুতে ভরিয়ে দিতে লাগলো সে।

মা ডাকবে তো?

"" মা জানে তার ছেলে আর ছেলের বউ ব্যাস্ত তাই একদমি আমাদের বিরক্ত করবে না তারা।উল্টে মেয়েকে সামলে রাখবে।

আরিবাও চুপ করে গেলো।নিজেও সায় জানালো স্বামীর পাগলাটে ভালোবাসার কাছে।

দুজনে ভালোবাসাময় মূহুর্ত পেরিয়ে আরিবা বলে উঠলো আপনাকে আমার কিছু দেখানোর আছে?

জায়ান আরিবার কপালে চুমু খেলো,, কি দেখাও?

"" আরিবা ড্রয়ার থেকে জিনিসটা এনে দিলে জায়ান চোখ খুলতেই তার চোখ ছলছল করে উঠলো।

সত্যি,,?

"" আরিবা মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো।

জায়ান আবারো শক্ত করে জারিয়ে ধরলো আরিবাকে আমি অনেক খুশি জান অনেক।আমার মেয়েকে আমি নবজাতক অবস্থায় কোলে নিতে পারিনি তোমার সেবা করতে পারিনি এবার সব আমি করবো।তোমার অনেক কষ্ট হয়েছে তাইনা?জায়ান কাদছে একটা দম ফেলে আবারো বললো।

তোমাকে কবে এতোটা ভালোবেসে ফেলেছি জানিনা। তবে তুমি আমার সব শুখের মূল।

আরিবা মনোযোগ দিয়ে শুনছে জায়ানের কথা।আর চোখের পানি ফেলছে।

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প