বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ২৯

🟢

জায়ান বাসায় ফিরেছে রাত প্রায় একটার দিকে।আরিবা তখনো ঘুমায় নি মূলত তার ভেতর অপরাধ বোধ কাজ করছে।

আয়রা তার দাদুর সাথে ঘুমিয়েছে। আরিবা জায়ানের কাছে কি করে ক্ষমা চাইবে বুঝতে পারছে না।জায়ান বর্তমানে ওয়াসরুমে মূলত সে সাওয়ার নিচ্ছে। এতো রাতে সাওয়ার নিচ্ছে নিশ্চিত জ্বর আসবে মনে মনে ভাবছে আরিবা।

কিছুক্ষণ পর জায়ান বেরিয়ে আসলো পরনে তার শুভ্র রাঙা টাওয়েল আরিবা তা দেখে চোখ সরিয়ে নিলো জায়ান আবারো নিজের কাপড় নিয়ে ভেতরে চলে গেলো।

কিছুক্ষণ পর বেড়িয়ে আসলো।

চুপচাপ শুয়ে পরলো বিছানার একপাশে। মাথার ওপর একহাত রেখে চোখ বন্ধ করে ফেললো।

আরিবা তখনো অসহায়ের মতো চেয়ে আছে। তার প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে।

এসবে তার কি দোষ ছিলো নুর এমনভাবে তাকে বুঝিয়ে ছিলো পিক দেখিয়েছিলো যে সে বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছিলো।এসব ভাবতে ভাবতেই একপর্যায়ে ফুপিয়ে উঠলো আরিবা। অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তার কান্না থামতে না দেখে জায়ান বিরক্ত হয়ে একপর্যায়ে উঠে পরলো। বেলকনিতে গিয়ে সিগারেট ধরালো এ পর্যায়ে এসে আরিবা কিছুটা জোরে কেদে ফেললো।

জায়ান সিগারেটে দুটো টান দিয়ে তা ফেলে দিলো চোখমুখ শক্ত করে হনহন করে হেটে আরিবার সামনে এসে হেচকা টানে তাকে বিছানা থেকে টেনে তুললো আরিবা মুখ থুবড়ে জায়ানের বুকে গিয়ে পরলো তবে জায়ানের তা সহ্য হলোনা সে ধাক্কা মেরে তাকে বুক থেকে তুলে সোজা করে দার করালো।দাঁতে দাত চেপে বললো

"" সমস্যা কি তোমার কাদছো কেনো তুমি? আমি কি তোমাকে মেরেছি নাকি তোমার সাথে জোরজবরদস্তি করেছি কোনটা?

"" আরিবা নিশ্চুপ কেঁদেই চলছে।

"" জায়ান ধৈর্য হারা হয়ে গেলো,,

স্পিকআপ ইডিয়ট মুখ নেই তোমার,,প্রচন্ড ধমকে কেঁপে উঠলো আরিবা।

"" I,,I'am sorry jayan,,প্লিজ মাফ করে দাও আমায়,,

হেচকি তুলতে তুলতে বললো আরিবা।

"" জায়ান কপাল কুচকে তাকালো কিছু সময় চুপ থেকে বললো,,

বাহ হঠাৎ সরি বলছো যে?

আচ্ছা যাও তোমারে মাফ করলাম কিন্তু কোন ভুলের জন্য মাফ করবো বলতো।বিয়ের পরেই কোনোকিছু না বলে আমার থেকে ডিভোর্স চাওয়ার জন্য, আমার সামনে মিথ্যা অভিনয় করার জন্য, নাকি আমাকে ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য,নাকি আমার মেয়েকে অন্য কারো মেয়ে বলার জন্য। আচ্ছা যাও এসব কিছু বাদ দিলাম,,

তুমি শুধু আমাকে আমার মেয়েকে গর্ভে ধারন করার সময় তোমার পেটে কান দিয়ে তার প্রথম প্রতিক্রিয়া শুনার তার জন্মের সময় তাকে প্রথম বার বুকে জরিয়ে ধরার তার মুখের প্রথম বুলি আওরানোর যে অনুভুতি গুলো আমি পাইনি সেগুলো আমায় ফিরিয়ে দাও। তোমাকে ভালোবেসে পাচটা বছর আমি যে যন্ত্রনা অনুভব করেছি তা লাঘব করে দাও।আরিবা আমি সত্যি সব ভুলে গিয়ে তোমায় বুকে টেনে নিবো। এ পর্যায়ে জায়ানের চোখ ছলছল করে উঠলো।গলা ভাড়ি শোনালো বেশ।

আরিবা মাথা নিচু করে চুপচাপ করে চোখের পানি ফেলছে।

"" হাহ,,পারবেনা তাইনা, তাহলে আমি কিভাবে এসব ভুলে যাবো বলতো? তুমি আমায় নুরের বিষয় টা ক্লিয়ার করতে পারতে আরিবা।তা না করে তুমি আমায় ভুল বুঝে আমায় মৃত্যু সমান যন্ত্রণা দিয়ে গেলে।আমি পারবোনা এসব ভুলতে আরিবা। বলেই জায়ান বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরলো।

আরিবা অনেকটা সময় কান্না করে চলেছে।

"" কান্না করার হলে বাহিরে গিয়ে কান্না করো এসব ন্যাকামি সহ্য হচ্ছে না আমার।

ধমকে বললো জায়ান।

কাদতে কাদতে বেলকনিতে চলে গেলো।

বিজ্ঞাপন

প্রায় একঘন্টা পর রুমে আসলো সে চোখমুখ ধুয়ে রুমে আসতেই দেখলো জায়ানের মৃদু কম্পন। সে জায়ানের কপালে হাত রাখতে চাইলো তবে জায়ান যদি রেগে যায়।অনেকটা সময় ভাবার পর কপালে হাত রাখতেই চমকে উঠলো। প্রচন্ড জ্বর বইছে জায়ানের গায়ে আরিবা চিন্তিত হয়ে গেলো।

ভাবলো কাউকে ডাকবে তারপর এতো রাতে তাদের বিরক্ত করা উচিত হবে না বলে নিজেই একটা বাটিতে পানি এনে কাপড় ভিজিয়ে জ্বলপট্টি দিতে লাগলো।জ্বর কিছুটা কমে আসলে সে তার শরীর মুছে দেওয়ার চিন্তা করলো।কিন্তু এতো বড়ো মানুষ তারওপর আরিবার লজ্জাও লাগছে কিন্তু তার করার ও কিছু নেই।অনেক ভেবে চিন্তে সে সিদ্ধান্ত নিলো।

"" জায়ান,, জায়ান বলে ডাকতে ডাকতে তাকে উঠিয়ে দিলো জায়ান তাকালো তবে তার সম্পুর্ন জ্ঞান নেই।

আরিবা অনেক কষ্টে তার গায়ের টিশার্ট খুলে দিলো।তারপর ভিজা তোয়ালে দিয়ে তার শরীর মুছিয়ে দিলো।

জায়ান তাকিয়ে আছে তার দিকে তবে কিছু বলছে না।

"" আপনি শুয়ে পরুন,, জায়ান চুপচাপ বিছানায় শুয়ে পরলো। আরিবা উঠতে গেলেই তার হাত চেপে ধরলো জায়ান।আরিবা হকচকিয়ে উঠলো।

আব,,কি করছেন ছুরুন এগুলে রেখে আসি আমি।

"" না,,বলেই আরিবাকে টেনে তার পাশে শুইয়ে তাকে জরিয়ে ধরলো। আরিবা ইতস্তত করছে কারন জায়ানের এখন জ্ঞান নেই। জায়ান আপনি,,

"" আই লাভ ইউ আরিবা,,তুমি জানো তুমি চলে যাওয়ার পর কতো খুজেছি তোমায় আমি।কেন চলে গেছিলে তুমি।জায়ানের কন্ঠে গভীর আবেগ ব্যাথা মনে হচ্ছে এখনি কেঁদে দেবে।সে আরিবার গালের সাথে নিজের গাল ঘসলো আরিবা আবেসে চোখ বুজে নিলো।তার নিজের চোখ ও ছলছল করে উঠলো জায়ান সত্যি তাকে ভালেবাসে যার ভালেবাসা পাওয়ার জন্য সে এতো কষ্ট পেয়েছে সেই কষ্ট যেনো সার্থক। জায়ান আরিবার গালে একটু পর পর ছোট ছোট চুমু খাচ্ছে।

"" জায়ান আপনি,,

"" হুসস,আবার পালিয়ে যেতে চাও তুমি আমার থেকে কি মনে হয় তোমার যেতে দেবো আমি তোমায়,,!বলেই আরিবার গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো। তার দুই হাত আরিবার কোমরে বিরাজমান। এমন আরো অনেক কথা বিরবির করতে করতে একসময় ঘুমে তলিয়ে গেলো জায়ান।

আরিবা তখনো জেগে আছে।জায়ানকে ঘুমিয়ে যেতে দেখে সে তাকে ছারিয়ে নিতে চাইলে তা সম্ভব হলো না এতো বড়ো মানুষের ভর সরাতে না পারায় অগত্যা সেও একসময় ঘুমে তলিয়ে গেলো।

--------------------------

"" সকালে ঘুম থেকে উঠতেই নিজের বাহুডোরে নিজপর স্ত্রী প্রিয়তমাকে দেখে থমকে গেলো জায়ান প্রথমে অবাক হলেও ধিরে ধিরে রাতের সব কথা মনে পরে গেলো।তার কেমন শান্তি শান্তি অনুভব হচ্ছে নিজের বউকে বুকে দেখে।

আরিবা পরম আবেসে জায়ানের বুকে মাথা রেখে ঘুমে তলিয়ে আছে কয়েক গাছি চুল তার মুখের ওপর পরে আছে যার ফলে মুখটা আরো সুন্দর লাগছে।

অতি যত্নে জায়ান সরিয়ে দিলো,,এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো এই নিস্পাপ মুখের দিকে সে জানে যা হয়েছে তাতে আরিবার কোনো দোষ নেই আর সে আরিবার ওপর রেগেও নেই শুধু তাকে কিছুটা শাস্তি দিতে চাচ্ছে এই যা।এসব ভেবে আরিবার কপালে চুমু খেলো।

তারপর নিজের বুক থেকে খুব সাবধানে তাকে বালিশে শুইয়ে দিলো। নিজে উঠে ওয়াসরুমে চলে গেলো।

আরিবার ঘুম ভাঙলো একটু বেলা করেই সে ফ্রেশ হয়ে বাইরে আসতেই দেখলো জায়ান আর আরমান গল্প করছে আশেপাশে আয়রাকে না দেখে বুঝলো সে হয়তো জোভান এর সাথে কোথাও বেরিয়েছে।

আরমান তাকে দেখেই দাড়িয়ে গেলোমুখে মিষ্টি হাসি বজায় রেখে বললো কেমন আছিস।

"" আরিবাও হাসলো,,ভালো এতোদিন বাসায় থাকলি যে?

"" অসম্পূর্ণ কাজ সম্পুর্ন করে আসলাম এই নে মিষ্টি খা বলেই একটা মিষ্টি আরিবার মুখে চালিয়ে দিলো,,

"" আরে কি এমন হলো তোর কি প্রমোশন হয়েছে,,

"" হুম তবে এটা চাকরির নয় অন্যকিছুর,,,

"" মানে আমার বিয়ে।

"" What,,,?

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প