আমার বউ,,,
এই কথাটা শুনে আরিবা যেনো স্তব্ধ হয়ে গেলো।
অবাক হয়ে তাকালো জায়ানের দিকে।
জায়ান তখনো নির্বিকার।
আরিবার কি এখন খুশি হওয়া উচিৎ। কিন্তু তার তো খুশি লাগছে না মনে হচ্ছে তাকে উপহাস করা হচ্ছে।
যে স্বীকৃতির জন্য সে একসময় তরপাতো।তা পেয়েও নিজের প্রতি তাচ্ছিল্য আসছে।
সে জানে জায়ান শুধু আয়রার জন্য তাকে মেনে নিয়েছে।
নুরকেও এর জন্যই ছেড়ে দিয়েছে।
আরিবার এখন নিজেকে বড়ো তুচ্ছ মনে হচ্ছে।
নিজেকে খেলনা বললেও ভুল হবে না।সে শুধু এখন জায়ানের প্রয়োজন যেখানে কোনো ভালোবাসা নেই।
তার হুস ফিরতেই জায়ানের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য স্বরে বললো
"" আমাকে দয়া দেখানোর প্রয়োজন নেই মি.জায়ান আহসান। আর এখানে আপনার মেয়েও উপস্থিত নেই।তাই এতো অভিনয় করার প্রয়োজন নেই। এই অভিনয় টা নাহয় আপনার মেয়ের সামনে করবেন।আমি আপনার কোনো বউ নই শুধু আপনার সন্তানের মা।
বলেই হনহন করে চলে গেলো।
""আরিবা যদি আর একবার পেছন ফিরে দেখতো তাহলে জায়ানের হিংস্র রুপ।
জায়ানের চোখমুখ লাল হয়ে গেছে দু হাত মুষ্টি বদ্ধ করে আছে।সে চাচ্ছে না আরিবার সাথে খারাপ ব্যাবহার করতে।
নিজেকে সামলে নিয়ে রান্নাঘর থেকে বের হতেই দেখতে পেলো আরিবা আয়রাকে খাওয়াচ্ছে।
সে হনহন করে নিজের রুমে গিয়ে ঠাস করে দরজা আটকে দিলো।আরিবা সেদিকে তাকিয়ে আবার মেয়েকে খাওয়াতে ব্যাস্ত হয়ে পরলো।
বিকেল হওয়াতে আরিবা মেয়েকে ঘুম পারাতে ব্যাস্ত হয়ে পরলো। জায়ান আর দরজা খুলে নি আর না আরিবা তাকে ডেকেছে।
আয়রা ঘুমতেই ড্রয়িংরুম থেকে কিছু আওয়াজ ভেসে আসলে আরিবা ধির পায়ে বেড়িয়ে আসলো কারন এই আওয়াজ তার চেনা।
বাহিরে আসতেই তার চোখে পরলো নুর ও রহিত।
আরিবা চিনতে পারলো রহিতকে তার ট্রেনিং এর সময় সেও ছিলো।তবে এখানে দেখে অবাক হলো তার পাশেই বসে আছে নুর।
বুকে চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করলো আরিবা।
"" আরে আরিবা তুমি এখানে?
অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো রহিত এতো বছর পরও চঞ্চল আরিবাকে চিনতে তার এতোটুকুও ভুল হলোনা।
তারপর হঠাৎই মনে হলো এটাইতো সেই মেয়েটা সেদিন রেস্টুরেন্টে এতোটা খেয়াল করেনি তারমানে এই আরিবাই জায়ানের স্ত্রী।
অবাক হয়ে তাকালো জায়ানের দিকে।
জায়ান আরিবার দিকে তাকিয়ে বললো,,
কাম হেয়ার,,
আরিবা এগিয়ে আসলো।
আসসালামু আলাইকুম স্যার কেমন আছেন?তারপর পাশে বসা নুরের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বললো কেমন আছেন ম্যাম।
"" নুর একটু হাসার চেষ্টা করলো।ভালো আছি আরিবা তুমি কেমন আছো?
"" রহিত হেসে বললো আরেহ আরিবা তুমি জায়ানের স্ত্রী আমি তো ভাবলাম অন্যকেউ তাহলে তো তোমার নাম নেওয়া যাবে না তুমি তো এখন আমাদের ভাবি তাইনা নুর?
"" নুর রহিত এর দিকে কটমটে চোখে তাকালো।আরিবা জায়ান তার দিকেই তাকিয়ে আছে। নুর একটু ইতস্তত করে বললো হ্যা এখনতো আরিবা আমাদের ভাবি।
জায়ান আরিবার হাত ধরে তার পাশে এনে বসালো।তারপর মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বললো তুমি তো এদের চেনোই তবে এদের আরেকটা পরিচয় আছে তা হলো এরা দুজন আমার কলেজ লাইফের বন্ধু।
আরিবা তখনো অবাক হচ্ছে জায়ানের নুরের সামনে তার সাথে এতো নরমাল ব্যাবহার দেখে।
এদিকে নুর ভেতরে ভেতরে রাগে ফেটে পরছে।জায়ান তখনো আরিবার হাত ধরে আছে আর নুর সেদিকেই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
আরিবা তা বুঝতে পেরে হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইলো তনে জায়ান ছারলে না আরো শক্ত করে ধরলো।
আব,,আমি আপনাদের জন্য কফি করে আনছি।বলেই আরিবা উঠে চলে গেলো।
"" তোরা থাক আমি আরিবা,,আব মানে ভাবিকে সাহায্য করি।
--------------------------
সেই ফিরেই আসলে আরিবা তুমি এতোটা নির্লজ্জ তা আগে জানতাম না।
নুরের কথায় আরিবা একবার ফিরে তাকালো তবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানালো না।
তা দেখে নুরের রাগ যেনো আরো বেরে গেলো সে আরিবার হাত জোর দিয়ে টেনে তাকে নিজের দিকে ফেরালো।
এই মেয়ে তোমাকে বলেছিলাম না তুমি ফিরবে না জায়ানের কাছে তারপরও কেন আসলে হ্যা জায়ান শুধু আমার।
আরিবা নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বললো আমি জায়ানের স্ত্রী তার সন্তানের মা। তাই কোনো বাহিরের মেয়ের কথা শুনতে বাধ্য নই আমি।জায়ানের সাথে তোমার জাই থাকুক বাহিরের মেয়ে তুমি রক্ষিতা তার।
বলে ট্রে নিয়ে চলে গেলো।
রক্ষিতা তার।এই একটা কথা যেনো তার কানে বার বার বেজে উঠছে।
তোমাকে ছারবোনা আমি আরিবা।
"" মাম্মা,,মাম্মা,,কুতায় তুমি?
মিষ্টি গলার কান্নার আওয়াজে চারজনেই ঘুরে তাকালো।পরির মতো দেখতে বাচ্চাটা অনেকটা জায়ানের মতোই দেখতে।
আরিবা মেয়ের কাছে গিয়ে তাকে কোলে নিলো তার মাথায় চুমু দিয়ে ঘার সোমান চুলগুলো পেছনে দিয়ে বললো,,
কান্না করেনা মাম্মা মাত্রই তো ঘুমালে এখনি উঠে পরলে?
"" গুম পায়না মাম্মা।
"" ওকে।
রহিত উঠেএলো আয়রার দিকে হাত বারালে আয়রা মুখ ঘুড়িয়ে মায়ের ঘারে মাথা এলিয়ে দিলো।
অচেনা আপনি তাই যেতে চাচ্ছে না ভাইয়া।
রহিত বুঝলো পকেট থেকে একটা চকলেট বের করে বললো।
শুনেছি আমাদের আয়রা বুড়ি চকলেট অনেক পছন্দ করে সে কি নেবে এই চকলেট টা।
তাও আয়রা ঘুরে তাকালো না।
"" যাও মাম্মা উনি তোমার আংকেল হন।
আনতেল,,
হ্যা তো তোমার বাবার বন্ধু।
এবারে আয়রা গেলো রহিতের কোলে।
নুরের যেনো এই বাচ্চাটাকেও সহ্য হচ্ছে না। এই বাচ্চার জন্যই আরিবা ফিরে এলো জায়ানের কাছে।প্রচন্ড ক্ষোভ নিয়ে তাকালো সে আয়রার দিকে।
সন্ধ্যা পর্যন্ত আড্ডা দিয়ে ফিরে গেলো তারা।
---------------------
আমি খাবোনা মাম্মা,,
এক দৌড়ে নিজের বাবার কাছে গেলো আয়রা।আরিবাও নিজের মেয়ের পিছু পিছু ছুটলো সেদিকে যদিও জায়ানের রুমে ঢুকতে তার একটু অস্বস্তি হচ্ছিল তবে সেদিকে পাত্তা দিলো না।
"" মাম্মা দুধ খেয়ে ঘুমাতে হবে তোমায় আর কতো দৌড় করাবে আমায়।
জায়ান ল্যাপটপে কিছু কাজ করছিলো হঠাৎ মেয়ে তার কোলের ভেতর উঠে বুকে মুখ গুজে দিলো।
কি হয়েছে মা?
বাবা মাম্মাকে বলোনা আমি এখানে।
"" আয়রা তাড়াতাড়ি দুধ শেষ করো।
আরিবা এসে দারালো বাবা মেয়ের সামনে।
জায়ান বুঝতে পারলো মেয়ে তার মাকে জালাচ্ছে দুধ খাবে না বলে।
"" তুমি আমাকে দাও আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
আরিবাও সায় জানালো দুধের গ্লাসটা জায়ানের হাতে দিলো।
মাম্মা খেতে হবে তো দুধ।দুধ না খেলে বড়ো হবে কি করে।
তোমার আর মাম্মার মতো বড়ো পাপা?
হ্যা তো মা।
ঠিকাছে।
আয়রা দুধ শেষ করে বাবার সাথে খেলতে লাগলো।
কিছুক্ষণ পর আরিবা আসলো।
চলো মাম্মা ঘুমাতে হবে।
"" আমি এখানেই ঘুমাবো বাবার কাছে।
"" কিন্তু তুমি,,,?
আয়রা শক্ত করে জরিয়ে ধরলো বাবার গলা।
আরিবা হতাশ হলো।
জায়ান বললো ও ঘুমালে নিয়ে যেয়ো।
আরিবা চলে যেতে লাগলেই আয়রা তার ওড়না ধরে টানলো।
মেয়ের দিকে তাকাতেই আয়রা বলে উঠলো
আমি জানি মাম্মা পাপারা একসাথে ঘুমায় আর তাদের বেবিরা দুজনের মাঝে।
তুমি আর পাপা আমি একসাথে ঘুমাবো আজ।
আরিবা অবাক হলো তার মেয়ে কিভাবে এসব জানলো।সে জায়ানের দিকে তাকালো।
জায়ানো মেয়ের দিকে তাকিয়ে ছিলো আারিবা তাকালে সে ও তাকালো।
আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছো কেন?
আমি তো কিছু বলিনি।
তোমাকে কে বলেছে মাম্মা বাবা একসাথে ঘুমায়?
রহিত আংকেল।
জায়ান এবার বুঝলো এটা তার বন্ধুর কাজ তবে সে বেশ খুশি হলো তার নিজের কষ্ট করতে হলো না আরিবাকে এ ঘরে আনতে।মেয়ে আর তার বন্ধু মিলেই সুবিধা করে দিয়েছে।
আরিবা অনেকটা সময় বোঝানোর পরেও মেয়ে না বুঝলে জায়ান ধির শুরে বললো
এ ঘরেই থাকো না আরিবা।
শেষ মেষ মেয়ের জেদের কাছে হার মেনে সে সিদ্ধান্ত নিলো থাকবে এ ঘরে।
জায়ান একপাশে আরিবা একপাশে শুয়ে আছে আর আয়রা মাঝে।
তোমরা আমাকে জরিয়ে ধরছো না কেন।
"" ধ,,ধরছি তো মা।
আরিবার প্রচন্ড রাগ হচ্ছে সে চায়না এই লোকটার সাথে থাকতে।
কাছাকাছি থেকে যদি মনের আবেগ বেড়িয়ে আসে।
এসব নানা চিন্তা করতে করতে একসময় ঘুমে তলিয়ে গেলো।
"" দুজন ঘুমিয়ে গেছে বুঝতে পেরেই জায়ান খুব ধিরে মেয়েকে একপাশে শুইয়ে দিলো। সে মাঝে গিয়ে শুলো ড্রিম লাইটের আবছা আলোয় তখনো আরিবার মুখটা আময়িক সুন্দর লাগছে। সে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে লাগলো আরিবাকে।
প্রথমে চোখ, তারপর সরু নাক।ঠোট,গলা তারপর আরো একটু নিচে।তারপর আবার ঠোঁট।
হঠাৎই তার খুব গরম লাগতে লাগলো গলা শুকিয়ে আসলো যেনো একটানা কয়েকবার শুস্ক ঢোক গিললো।
নিজেকে সামলে রাখতে চাইলেও পারলো না।নিজের ঠোঁট জোরা দাবিয়ে দিলো আরিবার ঠোঁটের মাঝে।
ঘুমের মাঝেই নিজের শ্বাস আটকে আসছে এবং নিজের ঠোঁটের ওপর অন্যকারো ঠোঁটের বিচরন অনুভব করতে পেরেই আরিবার ঘুম ছুটে গেলো ছটফটিয়ে উঠলো সে।
নিজের হাতদুটো দিয়ে জায়ানকে ছারানোর চেষ্টা করেও ব্যার্থ হলো কারন জায়ান তার হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় পুরে নিলো।
"" আরিবার চোখ ভরে উঠলো। না জায়ানের ঠোঁটের স্পর্শে কোনো হিংস্রতা নেই যা আছে সবটাই ভালোবাসা।খুব সফ্টলি ঠোটে কিস করে যাচ্ছে জায়ান।এক হাত দিয়ে আরিবা দুই হাত ধরে অন্য হাত জোরা দিয়ে আরিবা জামা গলিয়ে কোমরে স্লাইড করতে লাগলো।
আরিবা মানতে পারছে না।আবার ভালোবাসার আবেসে তলিয়ে যাচ্ছে সে।বাধা দেওয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছে।
অনেকটা সময় পর জায়ান তার ঠোঁট জোরা ছেড়ে গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো।
আরিবা তখনো জোরে জোরে শ্বাস টানছে।
জায়ান তখনো তার গলায় অনবরত চুমু খেয়ে যাচ্ছে। গলায় ঘারে গলার আরো কিছুটা নিচে আসলেই।
আরিবা শরীর মুচড়ে আসলো।সে চাচ্ছে জায়ানকে সরাতে তবে পারছে না।নিজের শরির শায় দিচ্ছে না।
জায়ান আরিবার গলা থেকে মুখ তুললো তাকালো আরিবা দিকে আরিবা চোখ বুজে জোরে জোরে শ্বাস টানছে। তার নিশ্বাস এর সাথে সাথে বুক আন্দোলিত হচ্ছে। যা দেখে নেশা ধরে গেলো জায়ানের আচমকা আরিবা ওপর থেকে উঠে তাকে কোলেতুলে নিলো।
আরিবা হকচকিয়ে গিয়ে জায়ানের গলা জরিয়ে ধরলো।
মুখ দিয়ে বললো
কো,,কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ছাড়ুন।
তবে জায়ান সে কথায় কান দিলো না খুব ধিরে দরজা আটকিয়ে পাশে রুমে আসলো বিছানায় সুইয়ে দিলো আরিবাকে।
আবার ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো আরিবার ঠোঁটের ভাহে এবার খুব এগ্রেসিভ হয়ে উঠলো সে।অনবরত আরিবার ঠোঁটের সুধা পান করতে থাকলো।দুই হাত দিয়ে আরিবার কোমর পেটে হাত বুলিয়ে যাচ্ছে।
আর সহ্য করতে না পেরে হঠাৎই শব্দ করে কেদে উঠলো আরিবা,,,,