বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ২৫

🟢

তুষার রাস্তা দিয়ে হাটছে। কোথায় যাচ্ছে তার ঠিক নেই।নিজেকে খুব ব্যার্থ মনে হচ্ছে। জীবনের প্রথম কাউকে ভালোবেসেছে সে।তাকেও পেলো না।

কেন আরিবা তার হলো না।তার কলিজা চিরে যাচ্ছে।

ওই মেয়েটা সার্থপরের মতো তাকে ছেড়ে চলে গেলো।একবারো তুষারের কথাটা ভাবলো না।

সে তো চেয়েছিলো আরিবার মেয়ে আয়রাকেও আপন করে নিতে।কেন আরিবা তার হলোনা।

তার পরিবার ও তো আরিবাকে মানতে চায়নি আরিবা বিবাহিত বলে।তার মা তো বলেই দিয়েছিলো আরিবাকে মানলেও আয়রাকে মানবে না।

কত কাঠখড় পুরিয়ে রাজি করিয়েছিলো।

তার খুব কান্না পাচ্ছে কলিজা চিরে যাচ্ছে। কিন্তু ছেলে মানুষকে তো কাদতে নেই।

ধপ করে বসে পরলো রাস্তার মাঝে হাটু মুড়িয়ে।

"" ইশশশশশ,,, খুব খারাপ লাগছে তোমার জন্য আমার।

এমন শব্দে ঘুরে তাকালো তুষার সামনে জায়ানকে দেখতে পেলো।

তুষারের চোখজোড়া রক্তলাল হয়ে আছে।

তোমার জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে। কিন্তু আমি তো এতোটা ভদ্রলোক নই যে নিজের বউ বাচ্চা কে অন্যকাউকে দিয়ে দিবো।

আসলে ভুলটা তোর ভুল যায়গায় হাত বারিয়েছিলি তুই।

তার ওপর আবার আমাকে চ্যালেঞ্জ করেছিস।

"" তুষার চোখ তুলে তাকিয়ে ক্ষিন হাসলো,,

তুই বাধ্য করেছিস আরিবাকে

তোর কাছে ফিরে যেতে।আর ও শুধু ওর মেয়ের জন্য তোর কাছে ফিরে গেছে নাহলে ও তোকে ঘৃণা করে।

""জায়ান নিজের চোখে সানগ্লাস টা স্টাইল নিয়ে পরলো।

তারপর তুষারের কানে ফিসফিস করে বললো আরিবা আমাকে ভালোবাসুক আর ঘৃণা করুক ওই বাচ্চাটা কিন্তু আমারি হরমোনের ফল।

বলেই একটা চোখটিপ মারলো।

তারপর উঠে দারিয়ে চলে গেলো।

তুষার দাতে দাঁত চেপে চোখ কটমট করে তাকালো।

কিছুদিন আগেই জায়ান নিজে তুষার এর সাথে কথা বলতে এসেছিলো। তবে তুষার তার কথা না মেনে জায়ানকে চ্যালেঞ্জ করে বসে।

------------------------

আমরা কুতায় যাচ্ছি মাম্মা?

"" মেয়ের কথায় আরিবা মুখ তুলে চাইলো সে ব্যাগ গুছাচ্ছিলো এতোক্ষণ।

কি বলবে আয়রা তো আর জানেনা জায়ান তার বাবা হয়। আর বাবা কি জিনিস সেটাও বোঝেনা সে।

আয়রার সামনে এসব নিয়ে কখনো কেউ কথা বলনি কখনো।

"" জায়ান আংকেল এর বাসায় যাবো মাম্মা।

আয়রা যেনো নিমেষে খুশি হয়ে গেলো।

সত্যি মাম্মা।

আরিবা দেখলো তার ছোট্ট মেয়েটার চকচকে মুখ।তার মেয়েটা জায়ান এর

কথা শুনলেই খুশি হয়ে যায় কত দিনি হবে পরিচয় হয়েছে তাদের। এইতো মাস ও পুরেনি তাম মাঝে কয়েকদিন দেখা হয়েছে তাতেই জায়ান বলতে পাগল সে।

কই তুষারকে তো কখনো আপন করতে পারেনি এতোটা তবে কি এটা রক্তের টান।

হয়তো হবে।

"" তোমায় জায়ান আংকেল অনেক ভালোবাসে মাম্মা।

"" হুম অনেক।আমাকে কতো আদর করে চকলেট দেয়।মনে হয় আংকেল এর কাছেই থেকে যাই।

হু মাম্মা এখন থেকে আমরা তোমার জায়ান আংকেল এর বাসাতেই থাকবো।

এবার চলো তোমাকে খাইয়ে দি।

মেয়েকে খাইয়ে আরিবাও তার পাশে শুয়ে পরলো। তার বাবা তার সাথে কথা বলছে না কিন্তু তিনি তো জানেন না এসব কিছু।

-------------------------

যেখান থেকে পালিয়ে বেরালি এতো বছর যার কাছে নিজের মেয়েকে দিবিনা বলে তাকে মেয়ের কথা বলিস নি ঘুরেফিরে তার কাছেই ফিরে যাচ্ছিস।

মায়ের কথায় থমকে গেলো আরিবা।

চোখ থেকে দুই ফোটা জল গরিয়ে পরলো লুকিয়ে তা মুছেও ফেললো।

হাসি মুখ নিয়ে বললো

তুমি তো জানো মা আমি কেন যাচ্ছি বাবাকে প্লিজ বুঝিয়ে বলো।আমি ভালো থাকবো কথা দিলাম।আর সিলেটের বাড়ি টাও পরিস্কার করতে দিয়েছি ওখানেই ফিরে যাবে তোমরা।

বলে আয়রার হাত ধরে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে আসলো।

বাহিরে আসতেই আরমান কোলে নিলো আয়রাকে।আরমানই পৌঁছে দেবে জায়ানের বাসায় আরিবাকে।

যাওয়ার আগে আরিবা একবার বাবার রুমের দিকে তাকালো।

সে জানে তার বাবা কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু সেই বা কি করতো নিজের মেয়েকে ছারা থাকতে পারবে না আরিবা।

গাড়িতে গিয়ে বসলে আরমান গারি স্টার্ট দিলো।

"" আমি তোর থেকে এটা আসা করিনি আরমান।তুই আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ হয়ে আমাকে ধোকা দিলি।

বলার সময় আরিবার চোখ ছলছল করে উঠলো।

"" আরমানের বুকটা ধ্বক করে উঠলো।

আরিবা যে বুঝতে পেরেছে তার কিডন্যাপ এর সাথে আরমান জরিত ছিলো।কিন্তু সে আরিবার ভালো চেয়েই কাজটা করেছে এখন হয়তো রাগ করছে তবে সবটা জানতে পারলে আরিবার রাগ পরে যাবে সে জানে।তাই মুখে কিছু বললো না।

একসময় গাড়ি এসে থামলো জায়ানের বাড়ির সামনে।

জায়ান গেটের সামনেই দারিয়ে ছিলো।যেনো তাদের পথ চেয়ে আছে।

গাড়ি থেকে নেমেই আয়রা ছুটে চলে গেলো জায়ানের কোলে।

জায়ান ও মেয়েকে আগলে নিলো।

আরিবা ধিরে ধিরে ব্যাগ নিয়ে এগিয়ে আসলো তার মনোভাব বোঝা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে কোন যন্ত্র সে।

"" ভাইয়া আমায় অফিস যেতে হবে।

আমি আসছি।

জায়ান সায় জানালো।আরমান চলে গেলো।

বিজ্ঞাপন

আরিবা স্থির হয়ে দারিয়ে মাটির দিকে তাকিয়ে আছে। পরনে তার গাঢ়ো খয়েরি সুতি থ্রি পিছ।

"" এসো।

"" আরিবা চুপচাপ পা চালালো।

জায়ান নিজের এপার্টপেন্ট এর দরজা খুললে আরিবা ভেতরে আসলো।

আরিবাকে একটা রুম দেখিয়ে ফ্রেশ হতে বললে আরিবা চুপচাপ নিজের ড্রেস নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো।

জায়ান আরিবার যাপয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। তার

এখন শান্তি শান্তি লাগছে নিজের প্রিয় মানুষ গুলোকে পাওয়ার তৃষ্ণায় সে

এতোদিন মূর্ছা যাওয়ার অবস্থায় ছিলো আজ যেনো নতুন করে প্রান ফিরে পেলো।

তবে আরিবার এমন নির্লিপ্ত মনোভাব তাকে কষ্ট দিচ্ছে প্রচন্ড।

আরিবা ফ্রেশ হয়ে রুমে আসলে জায়ান আয়রা কাউকেই দেখলো না।

সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। কোনোকিছুতেই শান্তি পাচ্ছে না।হ্যা একদিন সে চেয়েছিলো এই মানুষটার সাথে সংসার করতে।

তার তো বেচে থাকাটা কোন যন্ত্রের মতো ছিলো।

এই মানুষটার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য কতোরাত ছটপট করেছে সে কিন্তু আজ সব পেয়েও সে শান্তি পাচ্ছে না।

---------------------------

কি করছে আমার মামুনিটা?

""আংকেল আমি ডল দেখছি এগুলো কি আমার জন্য।

সাথে সাথে জায়ানের মুখ কালো হয়ে গেলো।

আয়রার জন্য সে আসার আগেই অনেক খেলনা পুতুল এনে ঘর সাজিয়ে রেখেছে।

কিন্তু নিজের মেয়ের মুখে আংকেল ডাক শুনে মুখ ভারি হয়ে গেলো জায়ানের।

দুর থেকে সে দৃশ্য অবলোকন করছিলো আরিবা।

তার নিজের ও কিছুটা খারাপ লাগছে।

সে মুখ লটকে বললো আমি তো তোমার আংকেল হইনা মা।

"" আয়রা অবুঝ স্বরে বললো তাহলে?

আমি তোমার বাবা হই মা।

আয়রা বুঝতে পারলো না বাবা কি কই তার মাম্মা তো তাকে কখনো বলেনি তার একটা বাবা আছে।

"" বাবা কি আংকেল?

জায়ান এবার সত্যি অসহায় ফিল করছে বাবা কি কিভাবে বোঝাবে সে।

দুরে দারিয়ে থাকা আরিবার দিকে তাকালো সে।

আরিবা ধির পায়ে এগিয়ে এসে জায়ানের মতো করেই ধপ করে আয়রার সামনে বসলো তারপর তাকে বোঝানোর স্বরে বললো

তোমার নানুকে আমি কি বলে ডাকি মাম্মা?

"" মায়রা কিছুটা সময় ভাবুক হয়ে বললো

উমমম,,বাবা,,,

তারপর সে নিজেই উচ্ছাসিত হয়ে বললো আংকেল আমার সেরকম বাবা মাম্মা।

আরিবা হেসে ফেললো তার মেয়েটা বেশ বুদ্ধিমান নিজে থেকেই বুঝতে পেরেছে।

তাহলে তোমার বাবার মতো আমার বাবা আমার কাছে ছিলো না কেন?

"" আরিবার মুখটা সাথে সাথে ফ্যাকাশে হয়ে এলো।

জায়ান তা অবলোকন করে বললো মা আমার তো কাজ ছিলো তাই পাপা তোমার কাছে ছিলো না।

কিন্তু এখন থেকে সবসময় থাকবো।

""প্রমিজ..

জায়ান হেসে বললো প্রমিস।

আরিবা উঠে দারালো।

জায়ানের দিকে তাকিয়ে বললো কিচেন,,,

তার আগেই জায়ান ঝটপট জবাব দিলো ওইদিকে,,,

আরিবা এগিয়ে গেলো আয়রা অনেকটা সময় না খেয়ে আছে তাছাড়া সে নিজেও রাত থেকে কিছু খায় নি।

কিছুক্ষণ পর জায়ান ও আসলো আয়রাকে কোলে নিয়ে আরিবার কাছে।

আরিবা মনোযোগ দিয়ে সবজি কাটছে।

আর চোখে একবার তাকালো নিজের মেয়ে ও তার বাবার দিকে।

আরিবা লবনের কৌটার জন্য তাকের দিকে যেতই জায়ান ও সেদিকে গেলো। ফিরে আসতে নিলে সেও আরিবার পিছু পিছু আসলো।

আরিবা ঝালের কৌটো নিতে গেলে সেও পিছু পিছু যাচ্ছে।

এরোকম কয়েকবার হতেই ঠাস করে জায়ানের সাথে ধাক্কা খেলো আরিবা।থতমত খেয়ে গেলো জায়ান।

আয়রা খিলখিল করে হেসে দিলো বাবার কোলে চেপে।

আরিবা অনেকটা সময় ধরে খেয়াল করছিলো এসব।

সে দাত কটমট করে বললো সমস্যা কি আপনার? এমন পিছু পিছু ঘুরছেন কেন?

"" আব,,আ,,আমার মেয়ের খুদা পেয়েছে তাই?

"" আরিবা একবার সরু চোখে নিজের হাস্যউজ্জল মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো আপনি জান আমি দিচ্ছি।

বলে সে আবার নিজের কাজে মনোযোগ দিলো।

কিছুক্ষণ পর আয়রা নেমেগেলো জায়ানের কোল থেকে।

তবে জায়ানকে দেখে মনে হলো না তার কানে কিছু ঢুকেছে।

সে একই কাজ আবার করতে লাগলো।

আরিবা এবার প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে হাতের খুন্তি তাক করে বললো,,

এই আপনার সমস্যা কি বলুন তো? আমাকে কেন জানাচ্ছেন?

"" জায়ান ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললো,,

তোমার পিছু কে নিয়েছে মতো মেয়ে।

আমি আমার বউ এর পিছু নিয়েছি।

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প