বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ২২

🟢

নিজের শরীরের ওপর কারো অস্তিত্ব পেয়ে রক্ত হিম হয়ে আসলো আরিবার।

ছটফটিয়ে উঠলো সে। কিছু যে বলবে সে অবস্থাও নেই লোকটি তার ঠোঁট অনবরত কামরে যাচ্ছে।

যেনো আরিবার ওপর তার রাগ ঝারছে।

আরিবার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরছে।

প্রায় বিশ মিনিট পর লোকটি আরিবার ঠোঁট ছাড়লো।

আরিবা জোরে জোরে শ্বাস ফেললো।

নিজের সর্বশক্তি দিয়ে লোকটিকে ধাক্কা মারলো।

বিছানার পাশে থাকা সুইচ চেপে সামনে তাকাতেই তার চোখ বড়ো বড়ো হয়ে উঠলো।

"" আপনি??

"" জায়ান কিছু বললো না। স্থির চাহনি দিয়ে আছে আরিবার ওপর।

আরিবার চোখ দিয়ে তখনও পানি পরছে।

"" আপনি কোন সাহসে এখানে এসেছেন। আর আপনার সাহস তো কম না আপনি আমায় স্পর্শ করেন।

"" তখন ও জায়ান এর কোন হেলদোল না দেখে আরিবার কপাল কুচকে গেলো।

আজব এই লোক কথা কেন বলছে না।

"" আচমকা জায়ান আরিবার গলা চেপে ধরলো খাটের সাথে চেপে ধরলো

বল কেন বলিস নি আয়রা আমার মেয়ে। হ্যা ও আমার সন্তান।

কেন সেদিন আরমানের সাথে নাটক করছিস হ্যা বল কেন?

আয়রা আমার সন্তান আর তুই আমার সামনে তার বাবা বলে অন্য কাউকে পরিচয় করিয়ে দিস। তোকে এতো সাহস কে দিয়েছে।

হ্যা বল।

জায়ান প্রচন্ড রেগে হিসহিসিয়ে বললো কথাগুলো।

আরিবার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে গলা এতো জোরে জায়ান চেপে ধরেছে যেনো জানটা এখনি বের হয়ে জাবে।।

কিছুক্ষণ পর জায়ান আরিবাকে ছুরে বিছানায় ফেললে আরিবা কাশতে শুরু করলো।

আরেকটু হলে তার জান বেরিয়ে যেতো।তার এখন প্রচন্ড ভয় লাগছে

সে জানতো জায়ান যখন জানতে পারবে তখন এমনটাই হবে।

জায়ান আবারো ধমকে উঠলো আরিবাকে টেনে বসিয়ে দিলো।

জায়ানের ধমকে আরিবার মনে হলো আত্মাটা বেরিয়ে যাবে।

এই বলছিস না কেনো বল তোর এতো কিসের নাটক আমার সাথে হ্যা বল আর এতোগুলা দিন ধরে তোকে পাগলের মতো খুজেছি আমি কেন পালিয়ে ছিলি বল আমায় বল।

জায়ান আরিবার দুই কাধ শক্ত করে ধরে উক্ত কথাগুলো বললো।

তবে আরিবা একদম নিস্তেজ হয়ে তার ভার ছেড়ে দিলো পরে যেতে

নিলেই জায়ান তাকে ধরে ফেললো নিজের বাহুতে আবদ্ধ করে নিলো।

"" শিট এখন নিজের ওপরেই রাগ হচ্ছে কেনো যে নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারি না।

আরিবা প্লিজ সরি আমি এমন করতে চাইনি আসলে নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারি নি।

আরিবা চুপচাপ চোখ বুজে শুনছে জায়ানের কথা।

তার ভেতর থেকে তাচ্ছিল্য হাসি আসতে চাইলো এসব শুনে।

কেনো জায়ান কেনো এসেছিলেন আমার জীবনে আপনি।

আমাকে একটু ভালোবাসলে কি ক্ষতি হতো আপনার।আমার কাছে আপনার মেয়ে আছে বলে আপনি নুর ম্যামকেও ছেড়ে দিতে চাইছেন এতোটা জঘন্য আপনি।

অনেকটা সময় পর আরিবা নিজেকে স্বাভাবিক করলো।

তখনও সে জায়ানের বুকে চুপচাপ পড়ে আছে।

হঠাৎ আরিবা জায়ানকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে দিলো।

আচমকা ধাক্কায় জায়ান কিছুটা পিছিয়ে গেলো।

"" অসভ্য লোক আয়রা আমার মেয়ে আপনার কেউ না ও।

আর কোন সাহসে আপনি আমার রুমে এসেছেন হ্যা। আর আমি আপনার কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নই।

বেড়িয়ে জান আমার বাসা থেকে।

"" জায়ানের রাগটা যেনো আবার তরতর করে বেড়ে গেলো।

হিসহিসিয়ে বললো কিসের অধিকারের কথা বলিস তুই আমায় হ্যা বল?

তোর ওপর সবথেকে বেশি অধিকার আমার।

আর আয়রা তোর মেয়ে কি টুপ করে আকাশ থেকে পরেছে কেন বলিসনি ও আমার মেয়ে।

"" আরিবা অবাক হলো জায়ানের শেষ কথাগুলে বেশ করুন শোনালো।

কেন বলবো আপনাকে হ্যা আপনার মনে নেই সেইদিন আপনি আমাকে কি বলেছিলেন

এটা একটা ভুল ছাড়া কিছু নয় বলেছিলেন তো আপনি তাহলে ও কিভাবে আপনার মেয়ে হয়। ও তো একটা এক্সিডেন্ট।

"" ঠাসসস,,

"" আরিবা ছিটকে পড়লো নিজের বিছানায় জায়ান ওকে আবার

টেনে তুলে বললো

এই সামান্য কথার জন্য তুই আমাকে এতো বড়ো শাস্তি দিবি হ্যা।কথাটা আমি রাগের মাথায় বলেছিলাম।

আরিবা তবুও দমে গেলো না,,

বিজ্ঞাপন

"" আপনার মতো চরিত্র হীন লোকের কাছে আমি আমার মেয়েকে কখনোই রাখবো না।তাই পালিয়ে এসেছিলাম।

ব্যাস এটাই যেনো আগুনে ঘি ঢালার মতো অবস্থা হয়ে গেলো,,

"" জায়ান নিজের পরনের কফি কালার শার্ট এর বোতাম খুলে খুলতে বললো

কি বললি আমি চরিত্র হীন হ্যা,,

তোকে এতো সাহস কে দিয়েছে যে তুই আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলিস,,

"" আরিবা ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেলো,,

কি,,কি করতে চাইছেন আপনি,,

শার্ট কেনো খুলছেন?

"" আমি যে চরিত্র হীন তার প্রমান দিতে বলেই

আরিবাকে বিছানার সাথে চেপে ধরে তার গোলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো

গায়ের শার্টটা ছুড়ে ফেলে দিয়েছে কোথাও,,

"" আরিবা চোখ খিচে বন্ধ করে নিলো,,

"" জায়ান অনবরত তার গলায় কামর দিয়ে যাচ্ছে,,

ব্যাথায় কুকরে উঠলো আরিবা

জায়ানকে হাত দিয়ে সরাতে চাইলেও জায়ান নিজের দুই হাত দিয়ে ওর হাত ধরে ফেললো।

আরিবা পারছে না জায়ানের শক্তির সাথে। পারবেই বা কি করে জায়ানের শক্তির কাছে ও চুনোপুঁটি।

"" জায়ান প্রচন্ড রাগে কামড়াতে কামড়াতে চুমু দিতে থাকলো আরিবার গলায়।এবার তার কামর বন্ধ হলো সফটলি চুমু দিতে থাকলো।

"" কেপে উঠলো আরিবা,,

"" জায়ান এবার গলা থেকে কিছুটা নিচে নেমে আসলো সেখানে চুমু দিতেই আরিবা খামচে ধরলো জায়ানের হাত।

জায়ান ঘোরের মধ্যে চলে গেছে।

সে কি করছে হয়তো নিজেও জানেনা।

নিজের হাত আরিবার জামার হুকে দিতেই আরিবা শব্দ করে কেঁদে উঠলো।

এতেই যেনো জায়ানের হুস ফিরলো। মুখ তুললো আরিবার গলা থেকে।

সে কি করছিলো এসব ভাবতেই রাগ হলো আরিবার মুখের দিকে আরিবা তখনো চোখ বন্ধ করে নিয়ে কাদছে ঠোঁট ভেঙে।

জায়ান কোনো মতে নিজেকে সামলে নিয়েই

উঠে দারালো মেঝে

থেকে নিজের শার্ট তুলে গায়ে জরাতে জরাতেই বেলকনির দিকে চলে গেলো।

আরিবা অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও জায়ানের কনো সারা শব্দ না

পেয়ে চোখ খুললো সারা রুমে চোখ বুলিয়ে জায়ানকে না দেখতে পেয়ে উঠে দারালো কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলো জায়ান চলে গেছে।

সে অভাবেই পড়ে রইলো সারারাত। চোখে আর ঘুম দেখা গেলো না।

তার বাবা মার রুমটা নিচে হওয়ায় তারা এসব কিছু শুনতে পারেনি।

-------------------------

এতো রাতে কোথায় গিয়েছিলি তুই জায়ান।

আর তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন? কি হয়েছে তোর?

রহিতের প্রশ্নে ফিরে তাকালো জায়ান

এতেই আতকে উঠলো রহিত আর নুর।

জায়ানের চোখ এতোটাই লাল হয়ে আছে যেনো রক্ত পরবে একটু পর।

চুল গুলো কেমন হয়ে আছে।

মোট কথা তাকে দেখতে উন্মাদ এর মতো লাগছে।

জায়ান কোন উত্তর না দিয়ে আবারো নিজের রুমে যেতে লাগলে হঠাৎ প্রশ্নে তার পা জোরা থেমে গেলো,,

"" ভালোবাসিস তুই আরিবাকে?

"" জায়ান স্থির হয়ে গেলো এই একটা প্রশ্নে নুর ও উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে।

"" কি হলো বল?

"" না ওই ব্যায়াদবটাকে আমি ভালোবাসিনা।জায়ানের স্বর খুবই শিতল।

"" ওহ তাই?

"" তাহলে ছেড়ে দে ওকে নিয়ে আয় নিজের মেয়েকে।তোর তো পাওয়ার কম না।

"" নুর জায়ানের ও রহিতের দুজনের কথায় খুশি হলো।

"" তাহলে আরিবা বাচবে না।

"" তাতে তোর কি?

ও মরলো কি বাচলো এসব তুই কেন ভাবছিস?

হ্যা ওকে ছেড়ে দে তুই জায়ান আয়রাকে আমরা দেখে রাখবো।

জায়ান হুংকার দিয়ে বলে উঠলো ওকে কখনো ছারবো না আমি।তবে ভালেবাসি না আমি ওকে বুঝতে পেরেছিস।

এখন বেরো তোরা আমার আাসা থেকে।বলেই মুখের ওপর দরজা লাগিয়ে দিলো জায়ান।

"" রহিত হেসে ফেললো আচমকা।

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প