জায়ান নিজের রুমে রাখা কাউচের ওপর ধপ করে বসে পরলো।
সে কি সত্যি আরিবা কে ভালোবাসে না।তাহলে ওই দিন গুলো যখন পাঁচ বছর আগে আরিবাকে কষ্ট দিয়ে সে চলে এসেছিলো একমাস যে তরপিয়েছে
নিজের ভুল বুঝতে পেরে যখন আরিবার কাছে ক্ষমা চাইতে গেলো। তখন মেয়েটা উধাও হয়ে গেলো।
জায়ান পাগলের মতো খুজেছে তাকে বাহিরে নিজেকে কঠিন রাখলেও বুকের ভেতর কোথাও অসহ্য যন্ত্রণা হতো।
যে মেয়েটাকে সে সহ্যই করতে পারতো না তাকে প্রচন্ড ভালোবেসে ফেলেছিলো জায়ান তবে তা বলতো কার কাছে আরিবা তো হারিয়ে গিয়েছিলো।
এতোগুলো বছর নিজের ভেতর সেই অসহ্য যন্ত্রণা চেপে রেখেছে জায়ান।
হ্যা সে ভালোবাসে ওই ব্যায়াদব বাচাল মেয়েটাকে।বারবার জানার চেষ্টা করছে কেন আরিবা তাকে ডিভোর্স দিতে চাইতো কিন্তু কোন উত্তর পায়নি।
আজ এতোগুলো বছর পর যখন পেলো তখন সে জানতে পারলো তার একটা মেয়েও আছে।
এটাকি তার জন্য কম যন্ত্রণার।
তবে অনেক হয়েছে এবার সে তার ভালোবাসা তার মেয়ে সব নিজের কাছে রাখবে নিজের করেই ছারবে।
--------------------------
"" কিরে তুই হাসলি কেন এভাবে?
"" নুরের কথায় রহিত বলে উঠলো কথাটা তোর কাছে খারাপ লাগলেও
এটা সত্যি যে জায়ান আরিবা কে অসম্ভব ভালোবাসে।
"" নুর রাগে ফেটে পরার মতো করে বললো হতেই পারে না জায়ান কখনো ওকে পছন্দ করতো না শুধু ওর কাছে এখন আয়রা আছে তাই আরিবাকে রাখতে চাচ্ছে।
"" রহিত শব্দ করে হাসলো,,
নিজেকে বাচানোর পথ খোঁজ নুর জায়ানকে তো তুই চিনিস তোকে ও জাস্ট শেষ করে দেবে।
বলেই সেখান থেকে চলে গেলো।
"" নুর প্রচন্ড ভয় পেলো এসব যদি জায়ান জানতে পারে তাহলে
তাকে খুন করে ফেলবে।ভয়ে তার কপাল দিয়ে ঘাম ঝরতে লাগলো।
-------------------------
সকাল হতেই আরিবার মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো
তার নাকি পরশু বিয়ে। আজ শপিং এ যেতে হবে তুষার আসছে তাকে ড্রপ করতে।
আরিবা না করার মতো স্কোপ পায়নি। তার কথা কেউ শুনছেও না। আরমান ও নাই যে কোন কুবুদ্ধি বের করবে।
মাম্মা আমরা কোথায় যাচ্ছি।
আমরা শপিং এ যাবো মাম্মা।
মায়ের কোথায় আয়রা উচ্ছসিত হয়ে উঠলো।
কিছুক্ষণ পরেই তুষার আসলো।
অদ্ভুত ভাবে তুষার আয়রাকে
প্রচন্ড ভালেবাসলেও আয়রা তাকে পছন্দ করে না।
আজকাম আরিবার ও তুষার কে সহ্য হয়না। লোকটাকে সে প্রচন্ড
রেসপেক্ট করে তবে তার এই কাজটা একদম পছন্দ হয়নি আরিবার।
আয়রা আরিবার কোলে ছিলো তুষার এসে তাকে কোলে নিতে চাইলে সে মায়ের গলা শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।
তুষার মন খারাপ করে নিজের হাতটা গুটিয়ে নিলো।
আরিবার দিকে তাকিয়ে বললো চলো।
আরিবা হন হন করে আগে বেড়িয়ে গেলো। তুষার বুঝলো আরিবা তাকে
বিয়ে করতে চায়না তবুও কেউ কি নিজের ভালোবাসা সহজে ছারতে চায়। তাই তুষার ও ছারবে না।
সে পেছন পেছন চলে গেলো।
---------------------
আরিবা একটার পর একটা শাড়ি দেখেই যাচ্ছে কিন্তু তার কিছুই ভালো লাগছে না।
তার প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে।
একটা করে দেখছে আর ফেলছে ফেলছে আর দেখছে।
তুষার দাড়িয়ে আছে তার পেছনে। হঠাৎ তার ফোনে কল আসায় সে আরিবাকে বলে বের হয়ে গেলো।
আরিবা তুষার চলে যেতেই হাতের সবগুলো শাড়ি ধপ করে রেখে দিলো নিজের ভেতর চেপে রাখা রাগ গুলো মনে
হচ্ছে ফেটে পরবে।পাসেই একটা চেয়ারে আয়রা বসে মনোযোগ দিয়ে তার চকলেট খাচ্ছে।
হঠাৎই পাশে তাকাতেই আয়রার মুখে হাসি ফুটলো আংকেল বলেই সে দৌড়ে চলে গেলো।
আরিবা বিরক্ত চোখে তখনও শারি দেখছিলো পাশে তাকাতেই আয়রাকে না দেখে তার পিলে চমকে উঠলো।
সে তারাতাড়ি আশেপাশে তাকালো অস্থির হয়ে উঠে খুজতে খুজতেই সে থমকে গেলো।
জায়ান আয়রাকে কোলে নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আয়রার হাতে অনেকগুলো হাওয়াই মিঠাই আইসক্রিম।
তবে সে সেগুলো খাচ্ছে না হাতে নিয়ে আছে আর কিছু একটা বলেই যাচ্ছে জায়ানকে।আর জায়ান মনোযোগ দিয়ে শুনছে কথাগুলো।
আরিবা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আজ প্রথম সে খেয়াল করলো আয়রা দেখতে অনেকটা জায়ানের মতো বিশেষ করে তার ঠোঁট আর নাকটা।
হঠাৎ জায়ান খেয়াল করলো আরিবা তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।
জায়ান এর সাথে চোখাচোখি হতেই আরিবা চোখ নামিয়ে নিলো এগিয়ে গেলো তাদের দিকে।
তাদের কাছে আসলেই আয়রা নিজের হাতের জিনিস গুলো দেখিয়ে বললো
মাম্মা দেখো আংকেল আমাকে এতোগুলো জিনিস কিনে দিয়েছে।
আরিবা শন্তস্বরে বললো না বলে চলে এসেছিলে কেন আয়রা মাম্মা ভয় পেয়ে গেছিলো।
আয়রা মুখটা কাচুমাচু করে নিলো,,
"" সলি মাম্মা,, কানে ধরে বললো আয়রা।
আরিবা হেসে ফেললো মেয়ের কাজে।
জায়ান তখনও আরিবার দিকে তাকিয়ে আছে।
আরিবা জায়ান এর দিকে একবার তাকিয়ে আয়রাকে নিলো তার থেকে তারপর একটা টুলে বসিয়ে দিলো।
মাম্মা এখানেই থাকবে হ্যা কোথাও যাবেনা আয়রা শন্ত বাচ্চাদের মতো সায় জানালো।
আরিবা এবার জায়ান এর হাত ধরে কিছুটা দুরে নিয়ে আসলো।
"" কি সমস্যা আপনার কেন এসেছেন আপনি?
দাতে দাত চেপে বললো আরিবা।
"" জায়ান স্বাভাবিক ভাবে জবাব দিলো
আমার মেয়েকে দেখতে এসেছি।
আমার মেয়ে,কথাটায় কেপে উঠলো আরিবার বুক।
"" এমনিতেই তুমি নাকি বিয়ে করছো তাহলে তো আমার মেয়ে আমার কাছেই থাকবে।
আরিবার বুকটা মোচর দিয়ে উঠলো।
সে আচমকা জায়ানের শার্ট এর কলার ধরে রাগি কন্ঠে বললো
কিসের আপনার মেয়ে ও শুধু আমার মেয়ে শুনেছেন আপনি,
শুধু আমার মেয়ে।
আর আমার মেয়েকে আমি কারো কাছে দিবো না কখনো না।
"" জায়ান নিজের কলারটা আরিবার হাত থেকে ছাড়িয়ে নিলো
"" তোমার কিভাবে মনে হয় আমার মেয়ে আমার অংশ অন্য কাউকে বাবা বলে ডাকবে আর আমি সেটা মেনে নেবো।
আরিবা কেঁপে উঠল জায়ানের শান্ত গলায় ও কিছু একটা ছিলো।
একটা কথা মনে রেখো আমার মেয়ে আমারি থাকবে বলেই সে চলে গেলো।
আরিবা সেখানেই পাথরের মতো জমে গেলো।
"" কি হয়েছে আরিবা,,,আরিবা,,
চমকে উঠলো আরিবা পাশেই তুষারকে দেখলো
আমি বাসায় যেতে চাই।
কিন্তু আরিবা আমাদের তো শপিং শেষ হয়নি প্লিজ আপনার জা মন চায় আপনি নিয়ে নিন কিন্তু আমি বাসায় যেতে চাই বলেই বেরিয়ে গেলো সে।
তুষার কে কিছু বলার সুযোগ টাও দিলো না।
--------------------------
দুইদিন পর,,
আরিবা বধু সেজে বসে আছে।
কোলে তার মেয়ে।
তার মুখের অভিব্যাক্তি বোঝার উপায় নেই।
তুষার আসতেই সে একবার তাকালো।
তুষার সাদা পাঞ্জাবী
পরেছে।তাকে দেখতে সুন্দর লাগছে। তবে আরিবা তার মাঝে সৌন্দর্য খুঁজে পেলো না।পাবে কি করে তার মনে যে অন্য কারো বসবাস।
সে যে নিরুপায়। বিয়েটা তাকে করতেই হবে নিজের জন্য না হোক তার মেয়ের জন্য।
ভেবেই মনে করলো কাল রাতের কথা।
সেদিন রাতেই তুষার জায়ানের বাসায় ডিভোর্স পেপার পাঠিয়েছিলো।
কেন জায়ান কেন আপনি আমায় ভালেবাসলেন না। আপনার শুধু আপনার মেয়েকেই চাই আপনি একবারো ভাবছেন না আমি কি
নিয়ে বাচবো। আপনি আমায় ভালোবাসলে আমাদের সুন্দর একটা সংসার হতো আমার মেয়েও অন্য কাউকে বাবা বলে ডাকতো না।
কান্নায় ভেঙে পরলো আরিবা।
আচমকাই কেউ দরজা খুলে ভেতরে আসলো আরিবা মাথা তুলে তাকাতেই দেখলো তুষার দাড়িয়ে।
কিছু বলার আগেই তুষার বললো।
তুমি শুধু আমাকে বিয়ে করো আরিবা আয়রাকে তোমার কাছে রাখার দায়িত্ব আমার।
বলেই সে বেড়িয়ে গেছিলো।
বর্তমান,,,
বিয়েতে পরিবারের লোক ছাড়া কেউ উপস্থিত নেই।
আজকের দিনে আরমান ও নেই।
এর মাঝেই তুষারের বাবা তাড়াতাড়ি বিয়ে পড়াতে বললে কাজি সাহেব বিয়ে পড়ানো
শুরু করলো।
কবুল বলার কিছু মূহুর্ত আগেই আচমকা ঘড়ের লাইট চলে গেলো,,,,