জায়ান ওটা কে ছিলো রে?
"" আরিবা।
"" নুর বিরক্ত নিয়ে বললো
আচ্ছা তোরা ফিরবি না?
মানে এখানকার কাজ তো শেষ। আমরা তো ঢাকায় কবে ফিরছি।
রহিত নুরের কথায় জায়ান এর দিকে তাকালো।
"" ফিরছি না।
"" মানে?
অবাক হয়ে দুজনে।
"" মানে ফিরছিনা।
অনেক দিন হলো ছুটি নেই না পাঁচ বছর এর ছুটি যদি নিতে তবে তোদের সরকারকে আমায় বসে খাওয়াতে হবে এক বছর।
"" জায়ান তুই এই সামান্য মেয়েটার কারনে নিজের কাজ,,,
সি ইজ মাই ওয়াইফ ডেম ইট এই একটা কথা মাথায় ঢুকিয়ে নে।
মানেটা কি ওই মেয়ে,,মানে তোর ওয়াইফ সে তোর সামনে একটা বাচ্চাকে নিজের মেয়ে বলছে আবার একটা ছেলের হাত ধরে বেরিয়ে যাচ্ছে তাকে তুই নিজের ওয়াইফ বলছিস।
সিরিয়াসলি জায়ান তোর এতোটা অবনতি কি করে হলো।
"" নুর আমার বিষয় নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না।আর আমি যদি খুব ভুল না হই ওই বাচ্চাটা,, আমাকে খোজ নিতে হবে ঠিকঠাক,,
জায়ান বেরিয়ে গেলো।
মানে তুই দেখলি ওই বাচ্চাটা ওর কি করে হতে পারে ওরা তো কখনো সংসার ই,,,
"" রহিত নুরের দিকে তাকিয়ে কিছু ইশারা করতেই নুরের চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো।
"" কিহ এটা কিভাবে সম্ভব।
আমি এতো করে ওই মেয়েটাকে বুঝিয়েছিলাম মিথ্যা বলেছিলাম যে জায়ানের থেকে দুরে থাকতে তারপরও,,,,
নুরে রাগে নিজের মাথার চুল টেনে ধরলো
"" What,,,তুই এসব আরিবাকে বলেছিস জায়ানের নামে।
তুই জানিস জায়ান জানলে তোকে কি করবে একবারো ভেবে দেখেছিস।
আর তুই এসব কেনো করেছিস ব্যায়াদব বল আমায়?
"" কারন আমি জায়ানকে ভালোবাসি,,,
চিৎকার করে বললো নুর
হ্যা ভালোবাসি আমি ওকে কিন্তু ও তো বুঝতেই চায় না।
"" রাহিত অবাক হয়ে তাকালো নুরের দিকে নুর ততক্ষণে চলে গেলো
নুরের কথায় কি রহিতের কোথাও খারাপ লাগলো।
হ্যা লাগলো তো কারন সেও নুর কে পছন্দ করে। হ্যা হয়তো কখনো বলেনি কিন্তু করে তো।
-------------------------
তুষার ছারুন কি করছেন আপনি?
"" তুষার হাতটা ছেড়ে দিলো। আসলে আরিবা
"" প্লিজ স্যার,,
আরিবার প্রচন্ড রাগ হচ্ছে। তার মনে হচ্ছে জায়ান কিছু একটা করবে জায়ান যদি তার মেয়েকে কেড়ে নেয় তার থেকে সে তখন কি করবে। সে তো পাগল হয়ে যাবে।
বাঁচতে পারবে না আয়রাকে ছাড়া।
"" কি হয়েছে আরিবা আপনি ঘামছেন প্রচুর পানি খান
"" আরিবা এক ঢোকে পানি শেষ করলো।
অফিস শেষ হলে সে বাসার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলো।
-------------------------
আয়রা কোথায় মা?
"" ও তো তোর বাবার সাথে পার্কে গেছে।
ওহ আচ্ছা।
আয়রা খেলছিলো পার্কে আচমকা সামনে একজন ব্যাক্তিকে দেখে মুখ তুলে চাইতেই তার মুখে হাসি ফুটলো
আরে আনতেল তুমি?
"" জায়ান দু হাটু মুড়িয়ে বসলো আয়রার সামনে।
হুম আমি আচ্ছা মা তোমার নাম কি?
"" সাথে সাথে আয়রার মুখে আধার নেমে এলো ঠোঁট ফুলিয়ে ফেললো
এতে জায়ান ভরকে গেলো তাড়াতাড়ি আয়রাকে কোলে তুলে বললো কি হয়েছে আম্মা আমি কি ভুল কিছু বলেছি তোমায়?
"" আয়রা কাঁদো কাঁদো গলায় বললো
তুমি একনো আমাল নাম জানোনা,,,
"" জায়ান অবাক হলো এই বাচ্চা তার ওপর অভিমান করেছে সে তো ভেবেছিলো ভুলেই গেছে তাকে।
সরি আম্মা আমার মনে ছিলো না আপনাকে জিজ্ঞেস করার কথা
আয়রা গম্ভীর গলায় বললো বলতে পালি তবে তোমায় আমায় সলি বলতে হবে।
"" জায়ান পরলো মহা ফ্যাসাদে এই বাচ্চাটার প্রতি তার এতো টান কেনো তা জানতেই আসা তার আর সত্যি যদি বাচ্চাটা তার হয় তবে সে ছাড়বে না আরিবাকে থাপড়িয়ে সোজা করবে,,
কি করতে হবে আম্মা
"" কান দলে তলি বলতে হবে,,
"" জায়ানের চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো এই মেয়ে বলে কি,,
"" দলো,,
"" হুম ধরছি,,
বলেই জায়ান এক হাত দিয়ে নিজের কান ধরতেই আয়রার মুখে হাসি ফুটলো
দুর থেকে এ দৃশ্য দেখে রহিত নুরের চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো
একি দেখছে তাড়া
"" শোনো আমাল নাম আয়লা,,
"" জায়ানের কপাল কুচকে গেলো এ কেমন নাম
আয়লা,,,উচ্চারণ করতেই
আয়রা তা সুধরে দিয়ে বললো নাহ আয়লা,,
"" জায়ান এবার কি বলবে,,,
সে তো বুঝতে পারছে না
কোনোরকমে বললো আচ্ছা আম্মা বুঝেছি কিন্তু আপনার আম্মুর নাম কি
আলিবা খান
জায়ান এবার বুঝলো আয়রা আসলে র এর উচ্চারণ ল বলছে
ওহ আর তোমার বাবা,,
এ প্রশ্নে আয়রার কপাল কুচকে গেলো বাবা আবার কি সে তো শোনেনি কখনো
তাই সে অবুঝের মতো তাকালো জায়ানের দিকে
জায়ান আবার জিজ্ঞেস করলো
"" বাবা কি?
জায়ান যা বোঝার তা বুঝে গেলো।
তার চোখ ভোরে উঠলো এটা তার মেয়ে তাইতো তার সাথে এতো মিল আর সে জানেইনা
সে আয়রাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো মেয়ের কপালে গালে আদর করলো।
আয়রা কিছু না বুঝলেও এটা বুঝলো জায়ান তাকে আদর করছে তাই সে খুশি হলো।
আচ্ছা আম্মা আপনি থাকুন হ্যা।এতেই যেনো ছোট্ট আয়রার মন খারাপ হয়ে গেলো।
জায়ান তা বুঝে হাসলো।
আয়রার গাল টেনে বললো আমি আবার আসবো আম্মা।
আয়রার মুখে এবার হাসি ফুটলো।
জায়ান হাসি মুখ নিয়ে রহিত আর নুরের সাথে গাড়িতে গিয়ে বসলো।
"" তোরা ফিরে যা আমি পরে ফিরবো।
"" এ কথায় রহিত বললো আমি থাকবো তোর সাথে নুর ও সায় জানালে জায়ান কিছু বললো না।
এখন সবারই ব্রেক প্রয়োজন কদিন আগে এতো বড়ো অপারেশন এ সফল হয়েছে তাড়া।
তাই ছুটি পাবে।
-----------------------------
আরিবা আয়রাকে খাওয়ানো শেষ করে তাকে পাশে বসিয়ে কাজ করছিলো।
"" জানো মাম্মা আজ ওই আনতেল তার সাথে দেতা হয়েছিলো উনি থুব ভালো।
"" আরিবার মনোযোগ সম্পূর্ণ ল্যাপটপ এ থাকলেও মেয়ের কথায় সে ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে মেয়ের দিকে কপাল কুচকে তাকালো
"" কোন আংকেল মা।
"" ওই যে,,,হঠাৎই ছোট্ট আয়রার মনে পারলো জায়ান তাকে বলছিলো তার কথা কাউকে না বলতে।
কিতু না মাম্মা।
আরিবার কপাল কুচকে গেলো সে স্পষ্ট শুনলো তার মেয়ে কোন আংকেল এর কথা। এখন মিথ্যা কেন বললো।
"" মাম্মা কার সাথে দেখা হয়েছিল বলো?
"" উফ মাম্মা তুমি অনেক ততা বলো।
বলেই আয়রা দৌড়ে বাহরে চলে গেলো।
আরিবা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো।
"" আরিবা মা আসবো?
"" আরে বাবা এসো তুমি পারমিশন কেন চাচ্ছো।
আরিবার বা ভেতরে আসলেন মেয়ের পাশে বসলো।
"" কিছু বলবে বাবা?
"" আব হ্যা মা।আমি বলছিলাম কি এবার অন্তত নিজের জীবন নিয়ে
ভাব তোর কথা না ভাবিস আয়রার কথা ভাব।সে বড়ো হচ্ছে কদিন পর
স্কুলে যাবে তখন তার বাবার কথা জিজ্ঞেস করলে তুই কি বলবি?
"" কিন্তু বাবা।