এনিথিং রং আরিবা!কি হয়েছে।
আরিবার শরীর যেনো থরথর করে কাপছে।
সে ফোনটা নামিয়ে কাপা কাপা স্বরে বললো
স্যার প্লিজ আমাকে যেতে হবে।
তুষার তারাতারি এসে আরিবাকে ধরতে চাইলো কিন্তু ইতস্তত করে বাড়ানো হাতটা নামিয়ে নিলো।
টেবিলে রাখা পানির গ্লাসটা বাড়িয়ে দিলো আরিবার দিকে
আপনি প্লিজ পানিটা পান করুন একটু শান্ত হোন।
আরিবা পানির গ্লাসটা হাতে নিয়েই বললে প্লিজ স্যার আরমানকে ডেকে দিন।
"" ওকে।
তুযার একজন কে কল করে আরমানকে ডাকলো।
কিছুক্ষণ পর আরমান আসলে আরিবার এমন অবস্থা দেখে ভরকে গেলো।
"" কি হয়েছে আরিবা কাঁদছিস কেনো?
আরমান আয়রাকে পাওয়া যাচ্ছে না আরমান ওর কিছু হলে আমি মারা যাবো আরমান ও আমার একমাত্র বাচার সম্বল।
"" কি বলছিস এসব পাওয়া যাবে না কেনো?
তুষার কিছুই বুঝতে পারছে না।আয়রাটা আবার কে?কার জন্য আরিবা এতোটা উতলা হলো।
স্যার প্লিজ কিছু মনে না করলে আমরা বাসায় যেতাম।
"" হ্যা অবস্যই আমি বুঝতে পারছি তোমাদের অনেক কাছের কেউই হবে যে হারিয়ে গেছে চলো আমিও যাবো তোমাদের সাথে।
"" স্যার আপনি,,না মানে,,
"" আরে কোনো না মানে নেই চলো।
তিনজন বেড়িয়ে পরলো বাসার উদ্দেশ্য।
আরিবার কান্না যেনো তুষারের সহ্য হচ্ছে না।
বাসায় পৌঁছাতেই আরিবা দৌড়ে ভেতরে গেলো।
পেছন পেছন আরমান আর তুষার ও ভেতরে গেলো।
"" মা আয়রা কোথায়।
আরিবার বাবা বললেন মা আমি তো আয়রাকে নিয়ে পার্কে গেছিলাম। ও ওখানে খেলছিলো কিছু বাচ্চাদের সাথে।
আমি এক লোকের সাথে গল্প করতে করতে একটু ব্যাখেয়ালি হয়েছি কি।
তাকিয়ে দেখি অন্য সব বাচ্চারা আছে কিন্তু আয়রা নেই।
আংকেল আপনি ভালো করে খুজে দেখেছেন।
"" হ্যা আরমান বাবা আমি সব যায়গায় দেখেছি।
"" আমার মনে হয় আমাদের থানায় ডায়রি করা উচিৎ।
তুষারের কথায় সবাই সায় জানালো।
আরিবা আরমান তুষার আবার রওনা হলো থানার উদ্দ্যসে।
তুষারের জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করলো আয়রা কে তবে এমন সিচুয়েশনে প্রশ্নটা করলো না।
"" থানায় অফিসারকে সবটা জানালে তিনি ডায়েরি লেখার সময় জিজ্ঞেস করলো বাচ্চাটা কার,,
"" আমার।
আরিবার কথায় তুষারের যেনো মাথা ঘুরে উঠলো। কি বলছে এই মেয়ে
তার মেয়ে মানে।আরিবার সব পেপার্সে দেওয়া আছে সে অবিবাহিত
তাছাড়া তার নামের আগে মিস দেওয়া।তাহলে বাচ্চা কথা থেকে আসলো।
আর তার হাসবেন্ড ই বা কোথায়?
আজকাল অনেক বাচ্চাই অপহরণ হচ্ছে সিলেট শহরে এই ছ'মাস
এ প্রায় ৫০ টার ওপরে বাচ্চা অপহরন হয়েছে আপনারা নিউস দেখেন না খেয়াল রাখা উচিৎ ছিলো আপনাদের।
অফিসারের এসব কথায় আরিবা ডুকরে কেঁদে উঠলো।
"" অফিসার আপনি ভয় দেখাবেন না।কি অ্যাকশন নিচ্ছেন আপনারা।আপনারা শাড়ি চুড়ি পরে বসে থাকেন।
তুষারের রাগি কথায় অফিসার দমে গেলো।তুষারকে সবাই চিনে।তার এখানে যথেষ্ট পাওয়ার আছে।
"" দেখুন স্যার আমরা কাজ করছি তাছাড়া দুদিনের মধ্যেই সেনাবাহিনীর
ফোর্স আসার কথা অনেক বড়ো অফিসার আসবেন।আর এটা অনেক
বড়ো রেকেটের কাজ এতো সহজে ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয়।
তারপরেও আপনারা আশুন আমরা দেখছি বিষয় টা।
"" আমি না শুনতে চাই না অফিসার।
অফিসার মাথা নাড়ালো।
আরিবা আরমান তুষার গাড়িতে এসে বসলো।
আরিবার বাসায় আসলে সবটা জানালো।সবাই মাথায় হাত দিয়ে বসে পরলেন।
"" আচ্ছা আরিবা আমি আসি তাহলে তুমি কিছুদিন ছুটিতে থাকো।
বাবা তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ তুমি অনেক সাহায্য করেছো।
নানা আংকেল এসব বলে লজ্জা দিবেন না।
"" স্যার চলুন আমিও যাবো,,
আরমান তুমিও আরিবার সাথে থাকো ওর সাপোর্ট এর প্রয়োজন আরমান সায় জানালো তবে তুষারকে এগিয়ে দিতে তার পেছন পেছন আসলো সে,,
"" গাড়ির কাছে আসতেই তুষার ঘুরে দারালো,,
তাকে উসখুস করতে দেখে আরমান বললো,,
"" কিছু নলবেন স্যার?
"" আব হ্যা মানে আরিবার মেয়ে মানে ঠিক বুঝলাম না।
ওতো আনমেরিড ছিলো তাইনা?
যদি বিয়ে হয়েই থাকে তবে ওর হাসবেন্ড কোথায়?
"" আরমান এবার ঠিক কি বলবে বুঝতে পারলো না।তার বলাটা ঠিক হবে কিনা সেটাও বুঝতে পারছে না।
সে বললে আরিবা কিছুই বলবে না সে জানে কিন্তু তারপরও,,
"" আব স্যার আরিবা বিবাহিত আর বাকিটা প্লিজ ওর থেকে জেনে নিবেন,,
আসোলে বুঝতেই পারছেন,,
"" ইট’স ওকে।
"" আরমান না মাথা নাড়ালো।
তুষার চলে গেলো গাড়ি নিয়ে।
------------------------
গাড়ি ড্রাইভ করছে তুষার তার কোথাও একটা কষ্ট হচ্ছে। নিজের প্রেয়সী সে তার জীবনের দশটা বছর দেশের বাহিরে
থেকেছে সেখানে অনেক মেয়ের সাথেই তার পরিচয় হয়েছে তবে কারো
প্রতি কখনো তেমন টান খুজে পায়নি।কিন্তু আরিবাকে প্রথম দেখেই তার হৃদয় থমকে গেছিলো।
তার এতো কেনো কষ্ট হচ্ছে খুব অল্প সময়ে মেয়েটাকে সে খুব বেশি ভালোবেসে ফেলেছে।
সে একটা দম ফেললো তার দম আটকে আসছে যেনো।
তবে এখন তার মনে একটাই প্রশ্ন আরিবার হাসবেন্ড কোথায়।মেয়ে হারিয়ে গেছে তবে তার কথা একবারের জন্য উচ্চারণ করলো না কেউ।
তার ভিষণ কষ্ট হচ্ছে কোথাও। তার জীবনের প্রথম ভালোবাসা কি পুরন হবার নয়।
সে আর অফিস গেলো না সোজা বাসায় চলে গেলো।
"" কিরে বাবা এতো তাড়াতাড়ি চলে আসলি।শরির ঠিক আছে তো?
তোর চোখমুখ এমন লাগছে কেনো?
তুষারের মা জিজ্ঞেস করলো।
"" আমি ঠিক আছি মা।
বলেই সে নিজের রুমে চলে গেলো।
তুষারের মায়ের যেনো কথাটা বিশ্বাস হলো না।
-------------------
তুই চিন্তা করিস না আরিবা আয়রার কিছু হবে না।
পুলিশ খুঁজছে তো ওকে।
"" আরিবা কাদতে কাদতে বললো,,
তুই শুনলি না ওরা কি বললো এমন আরে অনেক বাচ্চা হারিয়ে গেছে যাদের কোনো খোজ পাওয়া যায়নি।
যদি আয়রাকে ওরা পাচার করে দেয় আমি কি নিয়ে বাচবো বাবা।
ওছাড়া আমর জীবনের কোনো মানে হয় না।
"" আরিবার বাবা নিজেও ভেবে পাচ্ছে না কি বলবেন।তার নিজেকেই অপরাধী মনে হচ্ছে শুধু।
ওদিকে অন্তরা বেগম ও অসুস্থ হয়ে গেছেন।
আমার মেয়েটা আমাকে ছাড়া খায়না বাবা।আমি না ঘুম পারালে ওতো ঘুমাতে পারেনা ও কিভাবে থাকবে আমাকে ছাড়া।
আমার মেয়েটা তো যেকোনো খাবার খায়না।বাবা ওরা আমার মেয়েকে খেতে দিবে তো?
বলেই কান্নায় ভেঙে পরলো।
আরমান বুঝতে পারছে না কি বলে শান্তনা দেবে আরিবাকে।
আরমান আবার পুলিশ কে ফোন করলো।
"" দেখুন আমরা খুজছি আর সেনাবাহিনীর ফোর্স অলরেডি রওনা দিয়েছে আশা করি পাওয়া যাবে আপনাদের বাচ্চাকে।
"" আরিবা মেয়ে হারিয়ে প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে গেলো।না কিছু খাচ্ছে না কথা বলছে।
তাকে এখন সেলাইন দিয়ে ঘুম পারিয়ে রাখা হয়েছে।
এর মাঝে পেরিয়ে গেছে এক সপ্তাহ।
কিন্তু আয়রার কোনো খোজ পাওয়া যায়নি।
তুষার প্রতিদিন ই আশে আরিবাকে দেখতে।নিজের প্রেয়সীর এমন অবস্থা মেনে নিতে পারছে না সে।
আরিবা যতই তার না হোক সে তো আরিবাকে ভালোবেসেছে। আর আরিবার অংশ আয়রা তাকে তো ঘৃণা করতে পারে না তুষার।
সে নিজের ক্ষমতা ও কাজে লাগাচ্ছে আয়রাকে খুজতে।
""আরিবা প্লিজ এমন করবেন না খেয়ে নিন কিছু।
"" স্যার আপনি বুঝতে পারছেন না আয়রা ছাড়া আমি বাচতে পারবো না। আমার বাচ্চাটার না জানি কি অবস্থা।
তুষার কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না,,,