বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ১২

🟢

পেরিয়ে গেছে কয়েকটি দিন।

সময় সময়ের গতিতে স্বাভাবিক ভাবে চলছে। সময় তো কারো জন্য থেমে থাকে না।

সবার জীবন স্বাভাবিক ভাবেই চলছে।আরিবাও স্বাভাবিক ভাবেই চলাফেরা করে সবার সাথে যেনো তার সাথে কিছুই হয়নি।তার দুষ্টমিও চলে আগের মতোই।

তবে দিন শেষে নিজের ভেতরে গুমরে মরে আরিবা।সবার সামনে

স্বাভাবিক ব্যাবহার করলেও যখন একলা থাকে তখন তার চোখ দিয়ে অঝর ধারায় পানি পরে।

সেদিনের পর অনেকবার চেষ্টা করেছে জায়ানের সাথে কথা বলার।

তবে প্রতিবারই ব্যার্থ হয়েছে। জায়ান কখনোই তার ফোন তুলে না এতোদিনে

অজস্র বার কল অজস্র বার ম্যাসেজ করেছে সে।তবে কোনো ফল পায় নি।

কাল কল তুলেই তাকে ধমক দিয়ে বলে তার মতো মেয়ের সাথে সে

কখনোই যোগাযোগ রাখতে চায় না তার নাকি রুচিতে বাধে।

কথাটা শুনে আরিবা কোনো যবাব না দিয়েই কল কেটে দেয়।

তার জীবন টা কেনো নষ্ট করলো ওই নোংরা লোক।সে তো চেয়েছিলোই

তার থেকে দুরে যেতে।শেষ মূহুর্তে এসে এই লোকটা সব শেষ করে দিলো।

জায়ান যদি নুর ম্যামকেই ভালোবেসে থাকে তবে তার সাথে কেনো ইন্টিমেট হলো।তার জীবন টা নষ্ট করলো।

এগুলো ভেবে মাঝে মাঝে তার ঘৃনায় গা গুলিয়ে ওঠে।

এর মধ্যে নুর একদিন কল দিয়ে আবার তার আর জায়ান সম্পর্কে নানান

কথা বলেছে।তবে আরিবা নিশ্চুপ সে কোনো উত্তর করে নি।

আরিবা মাঝে মাঝে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে সে ভেবে পায় না একটা মানুষ কতোটা পাষাণ হতে পারে।

তবে আরিবাও ঠিক করেছে সে আর কখনো জায়ানকে কল করবে না যতই কষ্ট হোক।

আরিবার বেশিরভাগ রাতেই ঘুম হয় না।যেগে থাকার কারনে সে নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ পরে।

মাঝে মাঝে কুরআন শরীফ ও পরে সে।

অন্তরা বেগম মেয়ের এমন উন্নতি দেখে খুশি হলেও আফজাল খান সন্তুষ্ট

হতে পারে না। তিনি বুঝেন তার মেয়ে কষ্টে আছে।তবে তার কিছু

করার নেই তিনি শুধু অপেক্ষায় আছেন মেয়ে কখন মুখ খুলবেন।

অন্তরা বেগম অবশ্য স্বামীর মনের অবস্থা বুঝতে পারেন এতে খানিকটা

ভয় পান তিনি বিয়ে হওয়া বয়স থেকে তিনি দেখে আসছেন আফজাল

খান বেশ শান্ত প্রকৃতির মানুষ তবে রেগে গেলে তাকে কেউ শান্ত করতে পারেন না।

-----------------------

সকাল সকাল আজ আরিবা তৈরি হয়ে নিলো ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য আজ তারা ঘুরতে যাবে বলে ঠিক করেছে।

তাই সাদা থ্রিপিস কালো ওরনা পাজামা সাথে কালো হিজাব পরে তৈরি হয়ে নিলো।

যাওয়ার সময় বাবাকে বিদায় জানিয়ে বেড়িয়ে গেলো।

ভার্সিটিতে আসতেই দেখলো রাইসা দরিয়ে আছে তবে আরমানের কোনো খোজ নেই।

কল দিলে সে জানালো তার আসতে দেরি হবে।

রাইসা আরিবা দুজন মিলে ক্লাস শেষে ক্যান্টিনে বসলো আরমান জানিয়েছে তার আসতে আরেকটু সময় লাগবে।

এর মধ্যে রাইসার ফোনে কল আসলো। কল আসতেই তার চোখমুখ শুকিয়ে উঠলো।

এর মধ্যে আরমান ও ফিরে আসলো।

"" কিরে বান্দরনী তোর চোখমুখ এমন হয়েছে কেনো?

রাইসাকে জিজ্ঞেস করলো আরমান।

"" আমাকে দেখতে আসছে।

"" কিহ বাহ তাহলে তো আমরা একটা বিয়ে খাচ্ছি।

"" রাইসা অগ্নি চোখে তাকালো আরমানের দিকে।

"" আরমান ক্যাবলার মতো হাসলো।

"" আরিবার মুখটা মলিন হয়ে গেলো।

তাকেও তো জোর করে বিয়ে দিয়েছে।

"" আমি বিয়ে করতে চাইনা প্লিজ কিছু একটা কর।

"" আরমান ও এবার ভাবনায় পরে গেলো কি করা যায়।

সে আরিবার দিকে তাকালে দেখলো সে নিজের ভাবনায় মগ্ন।

আরমান কপাল কুচকে বললো তুই কি ভাবছিস বল তো? কোনো আইডিয়া দে।

"" আরিবা নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে বললো আরেহ এটা কনো বেপার হলো চিল।

"" রাইসা আরমান চোখ বড়ো বড়ো করে বললো কি বল।

"" বলবো তবে সেটা শুধু আরমানকে।

"" কেনো আমাকে বলবিনা কেনো?

"" কারন আছে।বলে আরিবা আরমাকে এক সাইডে ডেকে নিয়ে গেলো।

বিজ্ঞাপন

সবটা বুঝিয়ে দিতেই আরমান লাফ দিয়ে বললো বইন আমারে তুই

মাফ কর রাইসা আমারে কাঁচা চিবিয়ে খাবে পরে।

আরিবা আরমানে আশ্বাস দিয়ে ভুজুংভাজুং বুঝিয়ে রাজি করালো।

"" চল।

"" কোথায়?

"" তোর বাসায়।

"" আমি যাবো না।

করুন মুখে বললো রাইসা।

"" এই ছেমড়ি একদম ঢং করবি না।

আমি থাকতে তোর বিয়ে কখনো হবে না আমার ওপর বিশ্বাস আছে না তোর।

"" রাইসা ঘার নাড়ালো।তবে মনে মনে বললো তোরা দুইটা সয়তান যে

কি পাকালি আল্লাহ ভালো যানে।রক্ষা করো খোদা আমাকে।

বলে বেড়িয়ে গেলো।

"" আরমানকে যেতে না দেখে রাইসা বললো ও যাবে না?

"" যাবে পরে।

"" কেনো?

"" এতো যেনে কাজ নেই তোর চল।

-----------------------

রাইসার মা রাইসার সাথে আরিবাকে দেখে খুশি হলেন।

"" মা তুমিও এসেছো ভালোই হলো ওকে একটু তৈরি করে দাও।

"" আরিবা হাসি মুখে মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো রুমে এসে রাইসাকে তৈরি করতে লাগলো।

"" তুই কি করতে চাচ্ছিস আরিবা বল আমাকে।

"" আরিবা চুপ করে আছে।

রাইসাও আর কিনছু বললো না। তার খুব টেনশন হচ্ছে।

আরিবা রাইসাকে তৈরি করে পাত্র পক্ষের সামনে নিয়ে গেলো।

পাত্র পক্ষ নানা রকম প্রশ্ন করলো রাইসা তার উত্তর দিলো এক পর্যায়ে

ছেলে পক্ষ বলে উঠলো তাহলে এবার বিয়ের পাকা কথা সেরে নেই।

"" রাইসা অলরেডি ঘামতে শুরু করেছে।

হঠাৎ কই থেকে আরমান এসে রাইসাকে জরিয়ে ধরলো। বলতে শুরু করলো

জান তুমি এটা কি করে করতে পারো তোমার সাথে আমার এতোদিনের

সম্পর্ক সামান্য মানঅভিমান করে তুমি বিয়ের পিরিতে বসছো।

রাইসার চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেছে।

পাত্র পক্ষ উঠে দারালো।

রাইসার বাবাকে বলে উঠলো এসব কি শুনছি মেয়ে একজনকে ভালোবাসে

আর আপনি তা না জেনেই আমার ছেলের সাথে বিয়ে দিতে চাচ্ছেন।

রাইসার বাবা মাথা নিচু করে নিলেন।পাত্র পক্ষ আরো অনেককিছু বলতে বলতে বেড়িয়ে গেলো।

রাইসা দাড়িয়ে তেকে ভয়ে কাঁপছে।

চোখ দিয়ে পানি পরছে তার।না জানি বাবা এখন তাকে কি বলে।

তবে তাকে অবাক করে দিয়ে তার বাবা বলে উঠলো তেমরা সম্পর্কে আছো আমাকে জানাওনি কেনো?

আমিকি ভিলেন টাইপ বাবা নাকি যে মেয়ের প্রেম মেনে না নিয়ে তাকে অন্য কোথাও বিয়ে দিবো।

তবে হ্যা মাথায় রেখো এখনি তোমাদের আমি বিয়ে দিচ্ছি না।পড়াশোনা

শেষ করো নিজের পায়ে দারাও তারপর বলে তিনি চলে গেলেন।

রাইসা অবাক হয়ে বাবার গমন পথের দিকে তাকিয়ে রইলো।

সে তো ভেবেছিলো তার গালে চর পরবে কয়েকটা।

আরমান আরিবাও অবাক তারা ভাবতেও পারেনি রাইসার বাবা বিষয় টা মেনে নেবে।

"" এটা কি করলি তোরা?

"" দেখ আমার কোনো দোষ নেই সব আরিবার দোষ।

"" এখন আমি বাবাকে কিভাবে বলবো যে এসব মিথ্যা।

"" আরে চিল কয়েক বছর যাক আপাতত বিয়েটাতো বন্ধ হয়েছে পরেরটা পরে ভাবা যাবে।বললো আরিবা।

"" রাইসারও কিছু করার নেই তাই সায় জানালো।

আরমান বেচারা লজ্জা পেয়েছে তাই চলে গেলো আংকেল আন্টি

তাকে কতো বিশ্বাস করতো আগে এখন আর করতে পারবেনা ভেবেই তার কষ্ট লাগছে।

আরিবা চলে যেতে চাইলে রাইসা যেতে দিলো না।

আারিবা রাইসা দুজন গল্প করছিলো। আরিবার ওয়াসরুম যাওয়ার প্রয়োজন চিলো।

রাইসাও নিজেদের কাবার ঘরে আনতে বেড়িয়ে গেলো।

রুমে আসতেই তার চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো সে চিৎকার দিয়ে বললো

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প