বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ১৪

🟢

আয়রা কোথায় তুমি আম্মু।মা তোমাকে ডাকছি।

এই মেয়েটা এতো দুষ্ট কেনো হয়েছে।তুমি তাড়াতাড়ি খাবার শেষ করলে আমায় অফিস যেতে হবে মা।

"" তোর ই তো মেয়ে তোর মতোই হবে।তুই কি কম দুষ্ট ছিলি নাকি ছোট বেলায়।

আমাকে জালিয়ে মেরেছিস।

মায়ের কথায় রমনীটি বললো

"" মা প্লিজ এই কথা বলে বলে তোমরা ওকে মাথায় তুলে রেখেছো আমার একটা কথা শুনেনা ও।

"" হ্যা আন্টি ওর দুষ্টামিতে টিকতে পারিনি আমরা আর ওর মেয়ে একটু দুষ্টামি করলেই মানতে চায়না ও।

বললো একটি ছেলে যার বয়স আনুমানিক ২৭-২৮ হবে

ছেলেটির কাধে চরে আসতে দেখা গেলো একটা ছোট পাঁচ বছরের মিষ্টি বাচ্চাকে।

""এই তুই কথা কম বল তো আর নামা ওকে এতো বড়ো মেয়ে হয়ে মামার কাধে কেনো চরেছো তুমি?

"" মায়ের কথায় ছোট্ট বাচ্চা মেয়েটি খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো।

"" আমার নানুভাইকে একদম বকবিনা তাহলে কিন্তু আমি তোকে বকে দেবো।

রমনীটি হাল ছেড়ে দিলো।

তোমরাই সামলাও ওকে আমি চললাম।

"" তুই একা যাবি কেনো আমিও যাবো তোর সাথে দ্বারা।বলে ছেলেটি মেয়েটির পিছু ছুটলো।

তাতেই মেয়েটি চেতে উঠলো।

"" একদম না অফিসে অনেক কাজ তোর তুই যা আমাকে ড্রাইভার নিয়ে যাবে।

"" কিন্তু

"" কোনো কিন্তু না।

"" ছেলেটি মুখ ভার করে চলে যেতে লাগলেই

বাচ্চাটি বললো

মামা তুমি একদম মন খারাপ করোনা আমি মাম্মাকে বকে দেবো।

চেলেটি বাচ্চা মেয়ের কথায় হাসলো আবার খেলায় মেতে উঠলো বাচ্চাটির সাথে।

দুর থেকে সেই দৃশ্য দেখে মুচকি হাসলো রমনীটি।

সে আর কেউ না আরিবা।

আরিবা এখন একা নয় তার সাথে আছে তার মেয়ে আয়রা যাকে নিয়েই তার দুনিয়া।

একুশ বছরের রমনীটি এখন ছাব্বিশ বছরে পরেছে।

তার ভেতরের বাচ্চামো ভাব গুলোও চলে গেছে সে একজন কঠোর দায়িত্বশীল মেয়ে।এখন আর আগের মতো উড়নচণ্ডী নেই সে এখন সে একটি কম্পানির ম্যানেজার।

আরিবা আয়নার সামনে দরালো তার পরনে গ্রে রেঙের শাড়ি।

সে ভাবতে লাগলো সেদিনের কথা

অতীত,,,,

সকাল দশটা বাজতেই আরিবা হসপিটাল এ পৌছালো।

দেখলো রাইসা আরমান দুজনেই সেখানে উপস্থিত।

আরিবা জানতো এমনটাই হবে দুনিয়ায় যেকোনো পরিস্থিতিতে এই দুজন আরিবার পাশে সবসময় থাকে।

রাইসা আরমান দুজনের মুখ ই থমথমে।

আরিবা আসতেই রাইসা আরমান তাকে বোঝাতে চাইলো তবে আরিবা নির্বিকার সে যেনো পাহাড়ের মতো শক্ত হয়ে আছে।

ডক্টরের কেবিনে গেলে।ডক্টর আরিবার হাসবেন্ড এর কথা জিজ্ঞেস করলো।

আরিবা আরমানের দিকে তাকালো।

আরমান এগিয়ে এলো।

ডাক্তার ভেবেই নিলো আরমান ই হয়তো আরিবার হাসবেন্ড।

"" আপনারা এতো অসতর্ক কেনো বলুন তো?দেখে তো শিক্ষিত ভালো ঘরের মনে হয় তাহলে বাচ্চা যখন নিবেন না প্রপার প্রটেকশন নিতেন।একন একটা প্রানকে মেরে ফেলার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।

এই বাচ্চা অভিশাপ দেবেনা তার কি দোষ ছিল। ভুলতো আপনারা করেছেন।

ডক্টর যদিও এবর্সন করাতে চাচ্ছিলো না তবে অনেক কষ্টে তারা রাজি করিয়েছে।

তবে আরিবা সেই তখন থেকে চুপচাপ হয়ে আছে।তার মাথায় কি চলছে কে জানে।মেয়েটার মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না।

কিছুক্ষণ পরই তাকে কেবিনে নেওয়া হবে।

আরিবা হঠাৎই ঘামতে শুরু করলো।

""এই আরিবা তোর কি খারাপ লাগছে।

"" পানি?

"" আরমান চট করে তাকে পানির বোতল এগিয়ে দিলে সে পুরো বোতল শেষ করে দিলো।

"" রাইসা আরমান আন্দাজ করতে পারছে মেয়েটার মনের অবস্থা। কিন্তু আরিবা সবটা বুঝেও অবুঝের মতো আচরণ করছে।

আরিবার ডাক পরলে সে নিজেকে শক্ত করে ঢুকে গেলো কেবিনে।

বিজ্ঞাপন

নার্স তাকে কেবিনে শুইয়ে দিয়ে ছুরি কাচি সব রেডি করতে শুরু করলো

কিছুক্ষণ পর ডাক্তারও আসলো।

ডাক্তার তার দিকে এগিয়ে আসলেই আচমকা আরিবা শোয়া থেকে উঠে পরলো

"" নাহ,, আমি এটা করতে পারিনা আমার ভুলের মাসুল ওই পবিত্র সত্তা কেনো পাবে তার তো কোনো দোষ নেই।

আমি কতোটা যঘন্য মা কিভাবে নিজের বাচ্চাকে হত্যা করতে পারি এসব বিরবির করতে করতে দৌড়ে বেরিয়ে

এলো কেবিন থেকে। রাইসা আরমান বহিরেই দারিয়ে ছিলো আরিবাকে এমন ছুটে আসতে দেখে তারা ভয় পেয়ে গেলো।

আরমান তাকে ধরে বললো এই আরিবা কি হয়েছে কাদছিস কেনো?

আমি কিভাবে নিজেকে ক্ষমা করবো আরমান।আমি মা হিসেবে কতোটা যঘন্য তুি ভাব নিজের সন্তান কে মেরে ফেলতে চাই।

আমি কতোটা নিকৃষ্ট। বলে চিৎকার করে কাদতে লাগলো।

রাইসার চোখে জল চিকচিক করছে তবে সে এটা ভেবে খুশি হলো যে শেষ মূহুর্তে এসে আরিবা নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে সে কাছে এসে আরিবাকে বসালো।

তারপর তাকে শান্ত করতে বললো

তুই তো বেস্ট মা হবি আরিবা।হ্যা তুই হয়তো একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলি

ঝোকের বসে তবে তা থেকে তুই বেড়িয়ে এসেছিস এখন তোর নিজেকে

স্ট্রং বানাতে হবে।নিজের খেয়াল রাখতে হবে তাছাড়া জায়ান ভাইকেও তো,,,

না।ওনাকে কিছু জানাবো না।নিজের পেটে হাত রেখে ফুপিয়ে বললো ও

শুধু আমার সন্তান আমার অস্তিত্ব জায়ান আহসান বলে ওর কেউ ছিলো না আর হবেও না ওকে আমি একাই মানুষ করবো।

"" কিন্তু,,,

"" কোনো কিন্তু নয় ওনার মতো চরিত্র হীন লোকের ছায়া আমি আমার সন্তান এর আসেপাশে চাইনা।

"" বেশ তবে তার আগে আংকেল আন্টিকে সবটা বলতে হবে তো চল বাসায় যাই।

তারপর আরিবা রাইসা আরমান আরিবার বাসার উদ্দেশ্য রওনা হলো।

-----------------------

স্তব্ধ হয়ে নতাকিয়ে আছেন অন্তরা বেগম ও তার স্বামী নিজেদের মেয়ের দিকে।

মেয়ের এমন অবস্থা মানতে কষ্ট হচ্ছে তাদের।

অন্তরা বেগম তো নিজের মেয়েকে সুখি দেখতে চেয়েছিলেন সেখানে মেয়েটা সংসার শুরুর আগেই এমন ভেঙে গেলো।

আরিবার বাবা নিজের বুকের কথাও একটা চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করলেন।

তার প্রিন্সেস এতোদিন কতো কষ্ট সহ্য করেছে।ভাবতেই তার চোখ জলে উঠছে।তার কি কান্না পাচ্ছে হয়তো পাচ্ছে কিন্তু বাবাদের যে কাদতে নেই।কেনো নেই তা তিনি জানেন না।তবে আজ তার খুব কাদতে ইচ্ছে করছে।

অন্তরা বেগম তো নিজের মেয়ের জন্য কেঁদে যাচ্ছে তবে তিনি কেনো পারছেন না।

সোফায় আরিবা ফুপিয়ে চলেছে।

আরিবার বাবা কাঁপা কাঁপা হাতে নিজের মেয়ের মাথায় হাত রাখলেন তিনি কি বলে শান্তনা দেবে নিজের মেয়েকে।

"" আমায় তুই ক্ষমা করে দে মা।আমার জন্য তোর জীবনটা নষ্ট হয়ে গেলো

তুই তো চাস নি ওকে বিয়ে করতে আমি জোর করেছি নিজের জেদ

রাখতে গিয়ে নিজের মেয়েকে শেষ করে দিয়েছি।বলে ডুকরে কেঁদে উঠলেন অন্তরা বেগম।

এখন আর এসব বলে কি হবে মা তুমি হয়তো আমার ভালোই চেয়েছিলে।

"" আরিবার বাবা মেয়েকে জরিয়ে ধরে বললেন

তুই চিন্তা করিস না মা তোর বাবা এখনো বেচে আছেন।তুই যা চাস তাই হবে।

"" বাবা আমি এই শহর থেকে দুরে যেতে চাই যেখানে আমাকে কেউ চিনবেনা।ওই জায়ান আহসান কখনো আমার কাছে পৌঁছাতে পারবে না।

কাঁদতে কাদতেই কথাগুলো বললো আরিবা।

ঠিক আছে মা তাই হবে।

"" রাইসা মা ওকে একটু রুমে দিয়ে আসো।

"" রাইসা মাথা নাড়ালো।

তার কিছুদিন এর মাঝেই আরিবার বাবা সিলেট সিফট হোন।সেখানেই আরিবা একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম দেয় যার না আরিবা।

তারপর আরিবা এখানকার ভার্সিটিতে পড়াশোনা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে।

বর্তমান,,,,,,

ভাবতে ভাবতেই আরিবার শাড়ির পিন করা হয়ে গেলো।

বাহিরে আসলে দেখলো তার মেয়ে তখনো আরমানের সাথে খেলতে ব্যাস্ত।

সেদিকে তাকিয়ে আরিবা কান্নামাখা গলায় বিরবিরিয়ে বলে উঠলো,,,

তোমার মাম্মা খুব পচা বাচ্চা সে তোমাকে রাখতে চায়নি।

তবে এটাও যেনে রাখো তুমি তার দুনিয়া।

মাম্মা লাভস ইউ সো মাচ।

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প