আরিবা মেয়েকে জরিয়ে ধরে আদর করতে লাগলো,,
মাম্মা কেমন আছো তুমি তোমার কোথাও লাগেনি তো শোনা।ওরা তোমায় মেরেছে বাচ্চা।
আরো নানান কথা বলে মেয়েকে আদর করতে লাগলো।
উপস্থিত সবাই তাকিয়ে দেখছে মা মেয়ের ভালোবাসা।
"" মাম্মা ওলা আমাকে একানে মেলেচে।
নিজের গাল দেখিয়ে বললো আয়রা।
আরিবাও কান্নামাখা গলায় বললো
"" চলো বাচ্চা মাম্মা এসে গেছে এখন আর কেউ কিছু বলবে না।
"" আ,,আরিবা।
"" আচমকা অপ্রিয় অপ্রত্যাশিত কন্ঠস্বরক শুনে থমকে গেলো আরিবা।
নিজের মনের ভুল হবে ভেবে ধিরে ধিরে পেছনে ঘুরে তাকাতেই তার চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো।
""জায়ান অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে আছে আয়রা আর আরিবার দিকে।
সে কিছুটা এগিয়ে আসতে চাইলেই
আরিবা নিজের মেয়েকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।
অবুঝ আয়রা কিছু না বুঝলেও মায়ের বুকের মাঝে গুটিয়ে রইলো।
ততক্ষণে আরমান,তুষার ও চলে এসেছে। আরমান জায়ানকে দেখে ঠিকই চিনতে পারলো।
তবে তুষার আরিবার এমন রিয়াক্ট এর কারন বুঝলো না শুধু বুঝলো সামনের ব্যাক্তটিকে আরিবা সহজ ভাবে নিচ্ছে না।
জায়ান ধির পায়ে এগিয়ে আসলো আরিবার দিকে।
আরিবা ও,,,
"" আরমান আমি বাসায় যাবো।আর আপনারা আমার মেয়েকে রক্ষা করেছেন তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আরিবা মুখ শক্ত করে বললো।
এমন কথায় জায়ান এর পা ও মুখ দুটোই থেমে গেলো।
"" হঠাৎই তুষার এগিয়ে এসে এক হাতে আরিবাকে আগলে নিলো,,
হ্যা আরিবা চলো। আয়রার দিকে তাকিয়ে বললো মা তোমায় আমরা অনেক মিস করেছি।
বলে আরিবা আয়রাকে নিয়ে বেড়িয়ে আসলো তুষার।
আরিবার তুষারের স্পর্শে অস্বস্তি হলেও সে কিছু বললো না আপাতত তার এখান থেকে যাওয়াটা প্রয়োজন।
তাদের পেছন পেছন আরমান ও বেড়িয়ে আসলো।
তার চিন্তায় এখন মাথা কাজ করছে না।
"" জায়ান তখনও স্তব্ধ চোখে তাকিয়ে আছে আরিবার যাওয়ার দিকে।
তার সাথের ছেলেটা যখন তাকে জরিয়ে ধরলো তখন হয়তো জায়ানের চোখ মুখ কোথাও একটা শক্ত হয়ে উঠলো।
উপস্থিত সব সেনা সদস্য দেখলো সবটা নির্বাক হয়ে তাদের মনে
হাজারো প্রশ্নেররা উকি দিলেও মুখে আনার সাহস পেলো না।
তবে নুর সবটাই দেখলো।
জায়ানের অভিব্যাক্তি তাকে কষ্ট দিলেও আরিবার সাথের ছেলেটাকে দেখে কোথাও একটা সস্তি পেলো।
জায়ান সবাইকে রেস্ট করার কথা বলে নিজের ভাড়ি পদক্ষেপ ফেলে কোথাও একটা চলে গেলো,,
--------------------
বাহিরে আসতেই আরিবা নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো।
সরি আরিবা।
"" ইট’স ওকে।
ততক্ষণে আয়রা ঘুমিয়ে গেছে আরমান চিন্তিত মুখ নিয়েই আয়রাকে কলে নিলো।
আরিবার মুখ খুবই থমথমে বোঝা যাচ্ছে না তার মনে কি চলছে।
আরিবার কি কষ্ট হচ্ছে এতোদিন পর নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে দেখে।
আরমান আর কিছু ভাবলো না।
"" তুষার ও অনেক কিছু ভেবে চলছে তবে এখন সময় নয় এসব প্রশ্নের।
ভেতর থেকে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল সে।
বাসায় আসতেই আরিবা গটগট পায়ে রুমে গিয়ে দরজা আটকে দিলো।
অন্তরা বেগম আর আরিবার বাবা মেয়ের এমন ব্যাবহারের কারন বুঝলো না।
আরমানের দিকে তাকালে আরমান আয়রাকে কোলে দিলো।
অন্তরা বেগম নাতনিকে তাদের রুমে শুইয়ে দিলেন।
কি হয়েছে বাবা আমার মেয়েটার।
আন্টি আজ জায়ান আহসান এর সাথে দেখা হয়েছিলো।
অন্তরা বেগম আর আরিবার বাবা চমকে উঠলো।
কিহ?
"" হ্যা।
ইনফ্যাক্ট জায়ান ই আয়রাকে বাঁচিয়েছে এই
পুরো অপারেশন জায়ানের আন্ডার এ ছিলো।
"" আব কিছু মনে না করলে একটা প্রশ্ন করতে পারি?
চমকে তাকালো সবাই।
"" হ্যা বাবা বলো?
তুষারের প্রশ্নে উত্তর দিলো।
জায়ান টা কে?
আরিবার হাসবেন্ড।
আরিবার বাবা উত্তর দিলো।
তুষারের বুক কেপে উঠলো। বুকের কোথাও চিনচিন ব্যাথা অনুভব করলো।
আর কিছু জিজ্ঞেস করোনা বাবা।
আব আচ্ছা আংকেল আমি আশি তাহলে।
আরমান বাবা ওনাকে এগিয়ে দিয়ে আসো।
আর তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। তুমি না থাকলে হয়তো।
"" নাহ আংকেল এসব বলবেন না প্লিজ।
-----------------------
আরিবা দরজা আটকে ধপ করে বসে পরলো তার চোখে পানিরা বাধ মানছে না।
কেনো জায়ান কেনো আপনি আবার আমার সামনে এলেন।আমি তো আমার লাইফ নিয়ে সুখি ছিলাম।আপনিও হয়তো সুখে আছেন নুর ম্যাম কে নিয়ে।
আমি চাই নি আপনার সাথে আমার দেখা হোক।
আপনি আবার আমার তাজা ঘা মনে করানোর জন্য সামনে এসে দারালেন।
কেনো কেনো।আমার যে খুব কষ্ট হচ্ছে।
আরিবা কাদতে কাদতে তার প্যানিক অ্যাটাক এর মতো অবস্থা হয়ে গেছে।
এই রোগটা তার আগে ছিলো না।তবে আয়রা পেটে থাকা অবস্থায় বা অতিরিক্ত কষ্ট টেনশনে তার এমন হয়।
কিছুক্ষণ পরেই আধো আধো গলায় ডাক শোনা গেলো
মাম্মা,,মাম্মা,,দজজা কুলো,, মাম্মা
মেয়ের গলা পেয়ে হকচকিয়ে উঠলো আরিবা তাড়াতাড়ি চোখমুখ মুছে দরজা
খুলতেই।
সামনে মেয়ের আদুরে মুখটা ভেসে উঠলো। যেই মুখে তার আদলের থেকে
জায়ানের আদল পাওয়া যায় বেশি।
"" মেয়ের পিছনে নিজের মা বাবাকে দারিয়ে থাকতে দেখলো আরিবা।
যারা করুন চোখে চেয়ে আছে।
আরিবা বুঝলো আরমান সবটা বলে দিয়েছে।
আরিবা হেসে মেয়েকে কোলে তুলে নিলো।
"" কি হয়েছে আমার মা টার?সে কান্না করে কেনো?
"" মাম্মা ওলা আমাকে ব্যাতা দিয়েচে।
আরিবার বুক কেপে উঠলো তার মেয়েটাকে সে ফুলের টোকাও লাগতে দেয়নি।
হঠাৎ আয়রা আবার বললো
"" জানো মাম্মা ওই আনতেল তা থুব ভালো।।
"" কোন আংকেল মা?
"" ওইযে তুপি পলা
"" আরিবা বুঝলো মেয়ে জায়ানের কথা বলছে কারন জয়ানের মাথায় তখন টুপি ছিলো।
আরিবা মেয়ের মাথায় চুমু খেলো।
মাম্মা লাভস ইউ সো মাচ মা।
আয়রাও মায়ের গলা জরিয়ে ধরে বললো
লাব ইউ টু মাম্মা।
আরিবা হাসলো।এইতো তার সুখ শান্তি।আর জায়ানের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে দেখা হয়েছে তার হয়তো চলেও যাবে কাল।
ও তো এসেছিলো এই অপারেশন এর জন্য।
দুর থেকে আরিবার বাবা মা চোখ ভোরে দেখলো মা মেয়ের খুনসুটি।
আরিবাও লেগে গেলো মেয়েকে খাওয়াতে।
--------------------------
জায়ান হাটতে হাটতে একটা লেকের সামনে এসে দারালো।
যদিও এখন রাত পুরোটা অন্ধকার তবে তার কাছে ভালো লাগছে হয়তো এই পরিবেশ।
পকেট থেকে সিগারেট বের করে লাইটার খুজতে গিয়ে পেলো না প্যান্ট এর দু পকেট খুজেই জখন পেলো না বিরক্ত হয়ে উচ্চারণ করলো
ওহ ফা***ক,ডিজগাস্টিং।
তখনি তার সামনে একজন লাইটার ধরলো।
সে সেটা হাতে নিয়ে সিগারেট ধরিয়ে বললো
তুই এখানে কেন?
রহিত সামনে এসে বললো
আমার বন্ধুর মুখে চিন্তার ছাপ আর আমি তার ভাগ নেবো না। এটা কেমন কথা।
যা এখান থেকে। একা থাকতে দে আমায়।
উফ প্লিজ জায়ান ইয়ার আমরা বন্ধু হয়তো কর্মক্ষেত্রে তুই আমার থেকে
উচ্চপদস্থ কিন্তু ছোট বেলা থেকে এই পর্যন্ত আমাদের জার্নি একসাথে ছিলো।
এখন পর্যন্ত যেকোনো সমস্যা হলে তুই আর আমি একসাথে সামলেছি।
তাহলে কেনো এমন করছিস।
জায়ান কিছু বললো না।
রহিত জানে জায়ান বলবে তাকে হয়তো একটু সময় নিচ্ছে।
"" ওই মেয়েটা কে জায়ান?
জায়ান তাকালো।
সিগারেট এ শেষ টান দিয়ে নদীর জলে ফেলে দিয়ে সেদিকে তাকিয়েই বললো।
"" সি ইজ মাই ওয়াইফ,, আরিবা,
মিসেস আরিবা জায়ান আহসান,,
"" রহিত অবিশ্বাস্য চোখে তাকালো জায়ানের দিকে।