বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ১৩

🟢

রাইসা খাবারের প্লেট টেবিলে রেখেই ছুটে এলো আরিবার কাছে।

"" এই আরিবা কি হয়েছে তোর।

"" কিরে চিৎকার করলি কেনো?বললো রাইসার মা।

"" দেখো না মা আরিবা পরে আছে এখানে। হয়তো জ্ঞান হারিয়েছে ।

""রাইসার মা আর রাইসা মিলে আরিবাকে ধরে খাটে শুইয়ে দিলো।

মুখে পানির ছিটা দিলে কিছুক্ষণ পর আরিবা পিটপিট করে চোখ খুললো।

"" রাইসা বিচলিত গলায় বললো কিরে কি হয়েছিলো তোর এমন অজ্ঞান হয়ে গেলি কেনো?

"" আরিবা উঠে বসতে চাইলে আরিবা তাকে সাহায্য করলো।

হয়তো শরির একটু দুর্বল তাই এমনটা হয়েছে চিন্তা করিস না ঠিক হয়ে যাবো আমি।

"" কিন্তু আমার তো তা মনে হচ্ছে না মা।

"" মানে?

"" মানেটা আমি পরে বলছি রাইসা ওকে কিছু খাইয়ে দে।

আমি একটু আসছি।

বলে বেড়িয়ে গেলো রাইসার মা।

"" রাইসা মায়ের যাওয়ার দিকে কপাল কুচকে তাকিয়ে বললো বাদ দে তো।

নে খেয়ে নে।আচ্ছা আমি তোকে খাইয়ে দেই।

"" আরিবা মাথা নারালো।তারও কিছু ভালোলাগছে না।

তাদের খাওয়া শেষ হতেই।

এর মাঝে রাইসার মা আসলো।

আরিবার হাতে থাকা জিনিসটা তার দিকে বাড়িয়ে দিলো।

আরিবা জিনিসটা হাতে নিয়ে বিস্ফোরিত চোখে তাকালো।

রাইসারও চোখ ছানাবড়া।

"" কি হলো যাও টেস্ট করে আসো।

"" মা তুমি এসব কি বলছো।

""তুই চুপ কর বেশি বুঝিস তুই।বিয়ে হয়েছে ওর এটা অস্বাভাবিক কিছু না।

রাইসা চুপ করে গেলো।

"" আরিবা অনুভূতি শুন্য হয়ে প্রেগন্যান্সির কিট নিয়ে ওয়াসরুমে চলে গেলো।

রাইসা চিন্তিত হয়ে নখ কামরাচ্ছে সে ভাবেছে সত্যি কি জায়ান এর সাথে

আরিবার এমন কোনো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে কখনো।তাহলে আরিবা কি করবে।

তার মাথা কাজ করছে না।

কিছুক্ষণ পর আরিবা বেড়িয়ে আসলো।

তার মুখচোখ স্বাভাবিক তবে রাইসার কাছে তা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।

"" কই দেখি।

"" আরিবা কিট টা বাড়িয়ে দিলো রাইসার মায়ের হাতে সেখানে

স্পষ্ট দুটো লাল দাগ।

রাইসার মায়ের চোখমুখ চকচক করে উঠলো।

"" দেখেছো আমি ঠিক সন্দেহ করেছিলাম।

আর তুমি এমন মুখ করে রেখেছো কেন মা।তোমার তো খুশি হওয়ার কথা।

আচ্ছা দ্বারাও তোমার আংকেলকে খবরটা দিয়ে আশি বলে তিনি চলে গেলেন।

"" রাইসা আরিবার দিকে তাকিয়েছিলো।

রাইসার মা যেতেই

আরিবা ঝাপিয়ে পরলো রাইসার গায়ের ওপর হাউমাউ করে কেদে উঠলো।

রাইসার চোখ ছলছল করে উঠলো। সে ভাবতে পারেনি আরিবার

দ্বারা এতবড় ভুল হতে পারে।কি বলে শান্তনা দেবে মেয়েটাকে।

"" আমি এবার কি করবো রাইসা আমার যে সব শেষ হয়ে গেলো।

উনি তো আমায় মেনে নেবেন না।উনি আমার ফোন ও ধরেন না আমি এমন একটা কাজ করেছি।

"" কি করেছিস তুই আর এতো চিন্তা করছিস কেনো?ভাইয়াকে ফোন

করে বল সে বুঝবে নিজের সন্তানের কথা তো তিনি ভাববেন।

""তিনি বুঝবেন না । সেদিন

"" রাইসা সবটা শুনে খুব রেগে গেলো।

তোরা এসব কেনো করেছিস বলতো দ্বারা এই আরমানের বাচ্চাকে আগে কল দে।

"" আরিবা ফোপাতে ফোপাতে আরমানকে কল দিলো

"" কই তুই?

"" এইতো বাহিরে আছি তোর গলা এমন লাগছে কেনো?

""তুই একটু রাইসাদের বাসায় আসবি প্লিজ।

আরমান বারন করতে চাইলো যে কাহিনিটা করেছে জীবনে সে রাইসাদের

বাসায় যেতো না কিন্তু আরিবার কন্ঠ তার ঠিক লাগছে না।

তাই বললো আসছি।

রিক্সায় উঠে হতাস স্বরে বির বির করে বললো

আল্লাহ কইরা দুইটা বেডি মানুষ বান্ধবী আছে জীবনডা তেজপাতা করে দিলো।

বিজ্ঞাপন

------------------

রাইসা অনেক বুঝিয়ে আরিবার কন্না থামিয়েছে আপাতত সে ফোঁপাচ্ছে শুধু।

"" আরমান আসলে রাইসার মা দরজা খুলে দিলো।

আরমান কাচুমাচু করে ভেতরে আসলে তিনি বললেন যাও আরিবারা ভেতরে আছে।

আরমান গটগট করে হেটে গেলো।

ভেতরে আসলে দেখলো রাইসা আরিবা দুজনেই দাঁত দিয়ে নখ কামরাচ্ছে।

কিরে তোদের এমন অবস্থা কেনো?

রাইসা আরিবাকে ইশারা করলো

আরিবা আমতা আমতা করে বললো দোস্ত একটা সমস্যা হয়ে গেছে?

আরমান কপাল কুচকে বললো কিসের সমস্যা আর আমি থাকলে তোরা সমস্যায় পরবি এটা হতেই পারে না

ইয়ে মানে আমি প্রেগন্যান্ট দোস্ত।

"" এই বলিস কি মা**গি তোর মাথার কি এন্টেনায় টান পরেছে।

সাথে সাথে চর পরলো আরমানের গালে।

"" ওই সয়তান তুই আমারে মা**গি কইলি কেন?আর আমি কি বিয়ে না কইরা প্রেগন্যান্ট হইছি নাকি ফুঁসতে ফুঁসতে বললো আরিবা

রাইসা পাস থেকে বলে উঠলো একটা দিয়ে থামলি কেনো?

আরেকটা দে ওরে ভাষার কি ছিড়ি।

আরমান গাল ডলতে ডলতে কাঁদো কাঁদো গলায় বললো যতো দোষ আরমান

ঘোষ তোরা তো পারিস শুধু আমারে মারতে আর মার খাওয়াইতে।

রাইসা তবু থামলো না আরিবা পাশ থেকে কান্না শুরু করে দিয়েছে।

আরমান এবার সিরিয়াস হলো সে ছোটবেলা থেকে আরিবা আর রাইসার কান্না সহ্য করতে পারে না।

আচ্ছা দোস্ত তুই কান্না করিস না আমরা বরং কথাটা জায়ান ভাইকে বুঝিয়ে বলি।

আরিবা হঠাৎই বললো আমার ভালোলাগছে না আমি বাসায় যাবো

রাইসা আরমান ভাবলো আরিবাকে কিছুটা সময় দেওয়া উচিৎ তাই আরমান তাকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো।

-------------------------

বাসায় আসতেই আরিবা দেখলো তার শশুর বাড়ির সবাই এসেছে।

সবার মুখই থমথমে। আরিবা একটু ভয় পেলো তারা কি ডিভোর্স নিয়ে কথা বলতে এসেছে।

কিরে মা দরজার কাছে দড়িয়ে আছিস কেনো?

ভেতরে আয় কখন থেকে তোর জন্য অপেক্ষা করছি।বললেন জয়া আহসান।

তোর চোখ মুখ এমন হয়েছে কেনো?

"" কিছু না আন্টি এমনি এমন হয়েছে।

"" ঠিকঠাক খাওয়াদাওয়া করছিস না?

আচ্ছা যা ফ্রেশ হো।

আরিবা রুমে এসেই কান্নায় ভেঙে পরলো।সারা বিকেল তার কান্নার ওপর দিয়েই গেলো।

রাতে অনেক ভাবার পর সে চিন্তা করলে জায়ান কে একটা ফোন করলো।

ফেন তুলতেই গম্ভীর কন্ঠ ভেসে আসলো

"" বলো?

"" আরিবার গলায় কান্নারা আটকে আসছে।সে কি বলবে বুঝতে পারছেনা।

"" যদি চুপ থাকার জন্য ফোন দিয়ে থাকো তবে মনে রেখো আমার সময়ের অনেক দাম তোমার মতো ফালতু মেয়ে মানুষের কল ধরে রেখে সময় নষ্ট করতে পারবো না।বলে কল কেটে দিলো।

"" আরিবা ডুকরে কেঁদে উঠলো।

কিছুক্ষণ পরেই আরিবার ফোনে ম্যাসেজ আসলো

ম্যেসেজ অপেন করেই আরিবা থমকে গেলো

সেখানে নুর আর জায়ান এর কিছু ছবি আছে যেখানে তারা অনেকটা ক্লোজ হয়ে বসে আছে।

সে আবার জায়ানকে কল করলেই ওপাস থেকে ভেসে আসলো নুরের কন্ঠ

"" হ্যা আরিবা জায়ান আমার সাথে ব্যাস্ত আছে তুমি প্লিজ ডিসটার্ব করো না।

"" আরিবার কলিজা যেনো ফেটে যাচ্ছিলো।ছি লোকটা এতো নিচ।সে কখনো ভাবতে পারেনি।

কাদতে কাদতে তার দম আটকে আসছিলো।আরিবা সারারাত কাদলো।

আজানের শব্দে তার হুস ফিরলো।

উঠে নামাজ পরে নিলো আরিবা।

সে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সে আরমান আর রাইসাকে কল দিলো।

"" দুজনেই কল ধরতেই আরিবা বলে উঠলো

"" আমি এই বাচ্চা রাখবো না। আমি অ্যাবর্সান করাতে চাই।

"" আরিবা তুই পাগল হয়ে গেছিস কি বলছিস তুই এসব এটা অনেক বড়ো পাপ আরিবা।

"" আরিবা দাতে দাত চেপে বললো আমি জা বলেছি সেটাই হবে

লাইফ আমার বাচ্চা আমার রাখবো কি না রাখবো সেটাও আমার

ব্যাপার।তোরা আমার সাথে যেতে চাইলে সকাল দশটায় হসপিটালের সামনে দারাস।

আরিবার শক্ত কন্ঠে আরমান রাইসা দুজনেই দমে গেলো।

ফোন রাখতেই আরিবা আবার কান্নায় ভেঙে পরলো।

আপনার মতো চরিত্রহীন লোকের সন্তান আমি আমার গর্ভে ধারণ করবো না জায়ান।

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প