আরিবা কিছুক্ষণ পর ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে আসলো।
"" সেদিকে তাকাতেই জায়ানের চোখ আটকে গেলো।
আরিবা একটি মিষ্টি রঙের থ্রিপিস পরেছে। ফর্সা গায়ে মিষ্টি রঙটা উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠেছে। কোমর ছাড়িয়ে
যাওয়া চুল গুলো থেকে টপটপ করে পানি পরছে।মুখ দিয়ে তখনো ফোটা ফোটা পানি ছড়িয়ে আছে মুক্তোর দানার মতো। সব মিলিয়ে তাকে দেখতে খুবই আকর্ষনিয় লাগছে।
নিজের বিরক্তিকর বউয়ের এই রুপ দেখে জায়ানের পুরুষ সত্তা নড়ে উঠলো।
মনের মাঝে কিছু অবাধ্য ইচ্ছে রা উকি দিচ্ছে। জায়ান একটা ঢোক গিললো।
নিজেকে সামলানোর জন্য চোখ সরিয়ে নিতে চাইলো কিন্তু বেহায়া চোখ যেনো ঘুরে ফিরে সেদিকেই চলে যাচ্ছে।
আরিবা নিজের মাথার চুলগুলো তোয়ালে দিয়ে মুছতে মুছতে বেলকনির দিকে এগিয়ে গেলো।
জায়ান সেদিকে তাকিয়েই বিরবির করে বলে উঠলো কি হচ্ছে এসব আমার সাথে ডিজগাস্টিং।
এই মেয়েটাকে দেখে এমন ফিল হচ্ছে কেনো।এগুলো ঠিক না পরক্ষণেই
মনে হলো নিজের বউয়ের প্রতি এমন ফিলিংস রাখা তার জন্য ঠিক বরং না রাখাটাই ভুল।
তবে এই মেয়েটা খুবই বিরক্তিকর তাকে জালিয়ে মেরেছে এই ক'দিন।
আর কিছু না ভেবেই জায়ান বাইরে চলে গেলো।এখানে থাকলে সে ভুলভাল কিছু করে ফেলবে।
জায়ান চলে যেতেই আরিবা ঘুরে দারালো।রুমের ভেতরে আসলো।
সে এতক্ষণ এই অপেক্ষায় ছিলো কখন জায়ান বের হবে। কারন জায়ান এর সামনে গেলেই এখন তার কান্না পাচ্ছে।
আরিবা অনেকটা সময় নিয়ে নিজেকে সামলালো।
তারপর বাহিরে গেলো।রুমে বেশিক্ষণ থাকলে চলবে না।তার শশুর
বাড়ির লোকজন সবাই আছে এতক্ষণ রুমে থাকলে কি না কি ভাববে।
---------------------------
আরিবা যেতেই সবাই খেতে বসলো।
আরিবা তেমন কথা বলছে না।চুপচাপ খেয়েই যাচ্ছে।
"" কি ব্যাপার মা তুমি এতো চুপচাপ কেনো?আর মুখ চোখ ও শুকনো লাগছে তোমার কি মন খারাপ?নাকি জায়ান কিছু বলেছে মা বলো তো আমায়?
প্রশ্ন করলো জায়ানের মা জয়া আহসান।
"" জায়ান মায়ের কথা শুনে থতমত খেলো।
সে আবার কি করলো।
"" আরিবা অপ্রস্তুত হেসে বললো না আন্টি তেমন কনো বিষয় না।
আসলে একটু মাথা ব্যাথা করছে।
"" কি বলছিস কখন থেকে মাথা ব্যাথা করছে মেডিসিন নিয়েছিস?নাকি শেষ হয়ে গেছে।আমাকে বলবি না।
বললো আরিবা।
"" আরিবা বাবার কথায় মলিন হেসে বললো উফ বাবা তুমি চিন্তা করো না তো ঠিক হয়ে যাবে।
চিন্তা করবো না মানে তুমি এতো অযত্ন করো কেনো নিজের।
"" উপস্থিত সবাই বাবা মেয়ের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছে। বাকি সবার বুঝতে বাকি রইলো না মেয়েটা বাবার যত্নের পাখি।ননির পুতুল বলা চলে।
"" জাফরিন এর চোখ ছলছল করে উঠলো সে তার বাবা কে দেখেনি কখনো।তার জন্মের আগেই তাট বাবা মারা গেছে। তার বাবাও একজন কর্নেল ছিলেন।
তবে সে তার বড়ো দুই ভাইয়ের চোখের মনি।তাকে খুব আদরে মানুষ করেছে তার দুই ভাই কখনো বাবার অভাব বুঝতে দেয়নি।
"" আরিবা হঠাৎ জাফরিন এর দিকে তাকাতেই দেখলো তার চোখে পানি সে অবাক হয়ে বললো
কি ব্যাপার জাফরিন তুমি কাদছো কেনো উপস্থিত সবাই জাফরিনের দিকে তাকালো।
"" আরিবার বাবা বললো
কি হয়েছে মা তুমি কাদছো কেনো?
"" নাহ আংকেল কাদছি না আসলে চোখে কি যেনো পরেছে।
"" ওহ।
সবাই খাবারে মনোযোগ দিলো।
--------------------------
খাওয়া শেষে আরিবা অনেকটা সময় জাফরিনের সাথে আড্ডা দিলো।
তারা সবাই চলে যাবে যাওয়ার আগে ঠিক করা হলো কাল সবাই
বিয়ের শপিং এ যাবে যেহেতু জায়ান আর ছুটি পাবে বা এখন পেয়েছে তাই এখনি কেনাকাটা শেষ করবে।
"" গাড়ির দিকে এগিয়ে দিয়ে আসতে জায়ান নিজের বোনকে কাছে ডাকলো।
জাফরিন একটু অবাক হলো। জায়ান এমন ভাবে তাকে কাছে ডাকে না সে এগিয়ে আসলে জায়ান বললো
তার মাথায় হাত রেখে বললো
""আমি জানি বাবার অভাব কখনো আমরা পুরন করতে পারবো না তবে আমি আমার সবটা দিয়ে চেষ্টা করবো।তোর ইচ্ছে পূরণ করার।তোকে খুশি রাখার জন্য তোর এই ভাই নিজের সবটা দিয়ে চেষ্টা করবে।ভাইয়া থাকতে কখনো নিজেকে একা ভাববি না।ভাইয়া কখনো তোর চোখে পানি আসতে দিবো না কথা দিলাম।
জাফরিন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ভাইয়ের দিকে। তার ভাই বুঝলো কি করে তার বাবার কথা মনে পরেছে।
কিন্তু সেই প্রশ্ন করার জন্য জায়ানকে পেলো না। সে ততক্ষণে চলে গেছে সেখান থেকে।
দুর থেকে আরিবা দু'জনের কথা শুনে মুচকি হাসলো।
ভাবলো জায়ান কতটা দায়িত্বশীল একজন মানুষ সবাইকে কতোটা ভালোবাসে। আগলে রাখে। পরক্ষণেই নিজের কথা মনে আসতেই আনমনে বলে উঠলো তবে আমার বেলায় এতো অবহেলা কেনো?
তবে সেই প্রশ্নের উত্তর পেলো না আরিবা।
-------------------
সারাদিন আর জায়ানের সামনে যায়নি আরিবা।তবে রাতে না
গিয়ে পারলো না। তার মা তাকে বকবে।তাই গেলো নিজের রুমে।
"" আরিবা রুমে আসলে একটু পর জায়ান ও আসলো।
তবে আরিবা তাকালো না সে তার ফোন ঘাঁটতে ব্যাস্ত।
একটু পর চোখের সামনে ঔষধ দেখলে তার নাকমুখ কুঁচকে এলো।
বিরক্ত নিয়ে সামনে তাকালেই দেখলো জায়ান।সে অবাক হলো সে তো ভেবেছিলো তার বাবা হবে।
"" কি হলো নাও।
"" আরিবা নাখ কুঁচকে বললো ছি আমি ঔষধ খাই না। আর আমি কেনো খাবো কিসের ঔষধ এটা।
"" তোমার মাথা ব্যাথার।
আরিবা অবাক এর চরম পর্যায়ে চলে গেলো।
এই লোকটা তার যত্ন করছে ভাবা যায়।
""কি হলো নাও।
""নাহ।
""কেনো?
""কারন আমার ঔষধ খেতে ভালো লাগেনা।
"" উফ আরিবা তুমি খুবি বিরক্তিকর।
"" আমি জানি সেটা।আর আমার মাথা ব্যাথা নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না।আমি কে?
"" জায়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে আসলো।
দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,
তুমি কি খাবে ঔষধ টা নাকি?
"" আরিবা বাঁকা চোখে তাকিয়ে বললো
নাহলে?নাহলে কি করবেন?
"" কি করবো।
জায়ান আরিবার অনেকটা কাছে চলে আসলো হঠাৎ করেই কাছে আসায়
আরিবা ও সাথে সাথে পেছনের দিকে ঝুকে পরলো।
চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো জায়ানের দিকে।
জায়ানের গরম নিঃশ্বাস আরিবার মুখে আছরে পরছে সে ভয়ে ঢোক গিললো।
""জায়ান আরেকটু ঝুকে পরলে আরিবা চোখ খিচে বন্ধ করে নিলো।
"" জায়ান তাকিয়ে আছে সামনের মেয়েটির দিকে যাকে সে একটুও পছন্দ করে না।রীতিমতো সহ্য করতে পারেনা।যে তার বিয়ে করা বউ।
সে টুপ করে আরিবার গালে চুমু খেলো।সাথে সাথে আরিবা চোখ খুলে ফেললো।
"" কি,,,কি করছেন টা কি পাগল হয়ে গেছেন?
"" না তুমি করছো।জায়ান যেনো একটা ঘোরের মধ্যে আছে।
"" কি?
"" হঠাৎ ই সম্মতি ফিরে পেলে জায়ান মুখ গম্ভীর করে বললো হয় ঔষধ খাবে নাহলে আবার সকালের মতো,,,
"" না,,,চিৎকার করে উঠলো আরিবা
আমি খাবো ঔষধ দিন
""জায়ান বাকা হেসে ঔষধ হাতে ধরিয়ে দিলো।
"" আরিবা নাকমুখ কুঁচকে খেয়ে নিলো।
"" তারপর ফোনটা হাতে নিলেই জায়ান টান মেরে কেরে নিলো আরিবা আঁতকে উঠলো।
"" কি হলো? অসহায় কন্ঠে বললো আরিবা।
""ঘুমাও এখন ফোন চাপলে আরো বেশি মাথা ব্যাথা করবে।
""" না আপনার সব কথা শুনতে বাধ্য নই আমি। রেগে বললো আরিবা।
"" কি বললে তুমি।
গম্ভীর গলায় বললো জায়ান
তুমি হয়তো সকালের কথা ভুলে গেছো।তুমি চাইলে আমি আবার মনে করাতে পারি আমার সমস্যা নেই।
"" আরিবার মুখটা আবার ঝুলে গেলো সে চট করে বিছানার একপাশে শুয়ে
পরলো।মনে মনে জায়ানকে একশো একটা গালি দিলো।
"" জায়ান বেশ মজা পেয়েছে। মেয়েটাকে জব্দ করতে পেরেছে ভেবেই তার শান্তি লাগছে।
সেও কিছু না ভেবে অন্যপাশে শুয়ে পরলো।
"" জায়ান বিছানায় বুঝতে পেরে আরিবা আরো গুটিয়ে গেলো।
"" তা দেখে জায়ানের মুখের হাসি আরেকটু চওড়া হলো।