বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ৬

🟢

"" চুপ ইডিয়ট চিৎকার কেনো করছো?

"" আ,,আপ,,আপনি কথা থেকে আসলেন কেনো আসলেন?

আর আমার রুমে কি করছেন?

"" জায়ান কপাল কুচকে তাকিয়ে আছে আরিবার দিকে।

"" বেরোন আমার রুম থেকে আমার রুমে পারমিশন ছাড়া কেনো এসেছেন?

আম্মু আম্মু বলে চিৎকার করতে লাগলে জায়ান তার মুখ চেপে ধরলো

"" ইডিয়ট গাধা একটা চিৎকার কেনো করছো ব্যায়াদব।

"" কি হয়েছে আরিবা মা চিৎকার কেনো করছিস? কিছু হয়েছে কি?দরজা খোল?

"" জায়ান বিরক্তি নিয়ে আরিবার দিকে তাকালো।

গাধা বলো যে কিছু হয়নি।

"" উম,,,উম,,,

"" কি উম উম করছো বলো।

"" আরিবা জায়ানের হাতের দিকে ইশারা করতেই জায়ান আরিবার মুখ ছেড়ে দিলো।

"" আরিবা যেনো জান ফিরে পেলো আরেকটু হলেই মারা যেতো।

আপনি কি পাগল মুখ চেপে ধরে কথা বলতে বলছেন।

"" এর মধ্যে আবার অন্তরা বেগমের ডাক শোনা গেলো।

"" হ্যা মা তুমি যাও কিছু হয় নি।

"" অন্তরা বেগম ও চলে গেলো। তিনি রান্না ফেলে চলে এসেছেন।

নতুন জামাই এসেছে তার জন্য নানা পদ রান্নায় ব্যাস্ত তিনি।

-------------------

"" হ্যা এবার বলো তুমি কি যেনো বলছিলে?

"" আরিবা তাকালো জায়ানের দিকে।এতোক্ষণ চিৎকার করলেও এবার তার হুস ফিরলো তার গায়ে ওরনা নেই।

তাই তাড়াতাড়ি ওরনা খুজতে লাগলো।একসময় বিছানার একপাশে পেয়েও গেলো।

তাড়াতাড়ি তা নিজের গায়ে জরিয়ে নিলো।

"" এতোক্ষণ জায়ান আরিবার দিকেই তাকিয়ে ছিলো।তার ভাব ভঙ্গিমা অবলোকন করছিলো পুরো সময়।

"" আপনি কখন আসলেন?

"" মাঝরাতে।

"" কিহ?

"" চুপ ধিরে কথা বলো ইডিয়ট।

"" আপনি রাতে কোথায় ছিলেন?

"" পাগলের মতো প্রশ্ন করছো কেনো?

আমি আমার বউয়ের পাশেই ছিলাম।

"" What,,,কিন্তু কেনো?

অসহায় গলায় বললো আরিবা।

""তোমার মনে হয় না তুমি পাগলের মতো কথা বলছো?তোমার মা

নিশ্চয়ই আমাকে আলাদা রুমে থাকতে দিবেন না তার মেয়ের রুমেই থাকতে দিবেন।

"" হ্যা কিন্তু আপনি থাকবেন কেনো?আপনার লজ্জা করলো না একটা মেয়ের সাথে এক রুমে থাকতে ছি আপনি এতো নির্লজ্জ হলেন কেনো?

"" কি কথা এটা আমার কেনো লজ্জা লাগবে। পুরুষ মানুষ যদি নিজের বউয়ের কাছে থাকতে লজ্জা পায় তবে সে পুরুষ নয় কাপুরুষ।

"" আরিবা হা হয়ে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। তারপর আমতা আমতা করে বললো কিন্তু আমি আপনাকে ডিভো,,,

"" যাইহোক সকাল সকাল তোমার অনেক বাজে কথা শুনেছি।

যাই ফ্রেশ হয়ে আসি।বলে উঠে যেতে লাগলো।

"" কিন্তু,,,

"" জায়ান আবার আরিবার দিকে তাকিয়ে বললো যাইহোক কিন্তু তোমার শোয়ার স্টাইলটা দারুন,,,বলেই চোখ মারলো।

"" আরিবা হতবাক হয়ে অস্ফুটে বলে উঠলো অসভ্য,,,

"" ততক্ষণে জায়ান ওয়াসরুমে চলে গেছে।

-----------------------

আরিবা রুম জুড়ে পাইচারি করছে।মূলত সে ভাবছে এখন সে কি করবে।

সে ভাবতেই পারেনি লোকটা এভাবে হঠাৎ করে বাসায় চলে আসবে। সে তো ভেবেছিলো তার হাতে এখনো তিন মাস সময় আছে।

কিন্তু এখন সে কি করবে।

"" অনেক ভেবে সে আরমান কে কল করলো।

"" দোস্ত,, কাঁদো কাঁদো গলায় বললো আরিবা।

"" তোর আবার কি হইলো বোন সকাল সকাল ঘুমের বারোটা বাজিয়ে এমন মরা কান্না শুরু করছিস মনে হচ্ছে তোর ভাতার তোর রুমে বসে আছে।

"" রুমে না ওয়াসরুমে।

"" মানে?

"" মানে তুই যে বললি ভাতার ওইটা আমার ওয়াসরুমে।

"" What,,,তুই কোনোভাবে এটা বলছিস না তো যে জায়ান ভাই তোর ওয়াসরুমে?

"" হ্যা।

পর্ব ৬

"" তুই মজা করছিস বোন।

"" এই ছেমরা তোর মনে হয় সকাল সকাল মজা করছি আমি,, তাও এসব অলক্ষুণে বিষয় নিয়ে।

"" হ্যা তাও ঠিক।

কিন্তু কখন আসলো ওই ব্যাটা?

"" মাঝরাতে।

"" মানে তোরা দুইজন একরুমে ছিলি?

বিজ্ঞাপন

"" হ্যা।

"" কিহ নাউজুবিল্লাহ দোস্ত তুই এই কাম কেমনে করলি মানে আমারে ছাড়াই তুই বাসর কেমনে করলি?

ন্যাকা গলায় বললো আরমান।

"" আরিবা হতভম্ব হয়ে গেছে আরমানের কথায়,,

বাসর মানে,,?

"" মানে ওইটা?

"" আরিবা দাঁতে দাঁত চেপে বললো মানে তোর সাউ**য়া শালা রাখ ফোন।

"" আরে বইন কিন্তু,,, যাহ কেটে দিলো।

---------------------

আরিবা ফুসছে শুধু রাগে।

এই ছেলেটা এতো ফাজিল কোথায় তাকে প্ল্যান দিবে তা নয় উল্টো পাল্টা বকে।

"" হঠাৎ টেবিলে থাকা জায়ানের ফোনটা বেজে উঠল,,,

আরিবা কি ভেবে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো মেজর নুর লেখা।

আরিবার বুকটায় চিনচিনে ব্যথা করে উঠলো যেনো।

এর মাঝেই জায়ান বেড়িয়ে আসলো কোমরে শুভ্র সাদা টাওয়াল জরানো।

গোসল করার কারনে মাথার চুল বেয়ে ফর্সা সরিরে পানি গরিয়ে পরছে টপটপ করে।

বহিরে বেলকিনর আলোয় তা জেনো মুক্তোর দানার মতো ঝলমল করছে।

"" আরিবা সেদিকে তাকিয়ে একটা শুষ্ক ঢোক গিললো।

চোখের সামনে ভেসে উঠলো ট্রেনিং এর সময়ের জায়ানের সেই পেটানো সরিরটা।

"" জায়ান নিজের মাথা মুছতে মুছতে এগিয়ে এলো আরিবার দিকে তার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে কানে ধরলো,,

Yes major noor,,,?

ওপাশের কথা আরিবা শুনতে পেলো না।

"""আমি তিনদিনের ভেতর ফিরে আসবো।বিষয় টা আপনাকে ভাবতে হবে না আমি আমার দায়িত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন।

গম্ভীর গলায় কথাটা বলে ফোন রেখে দিলো।

"" আপনার লজ্জা করেনা?

"" মানে?

জায়ান কপাল কুচকে বললো।

"" সঙ্গে সঙ্গে আরিবা নিজের হুসে ফিরে এলো কি বলতে কি বলে ফেলেছে তা বুঝতে পেরে কথা ঘুরানোর জন্য বললো,,

মানে আপনার লজ্জা করে না। একটা মেয়ের সামনে এমন অর্ধ-উলঙ্গ হয়ে চলে এসেছেন।

"" জায়ান একবার নিজের দিকে তাকালো তারপর আরিবার দিকে তাকালো যে বর্তমানে মাটির দিকে তাকিয়ে পা দিয়ে মেঝেতে নখ খুটছে।

বাঁকা হেসে বললো কেনো ম্যাম আপনি কি আপনার স্বামীর হটনেস দেখে লজ্জা পাচ্ছেন?

"" আরিবার শরীর ঝাকিয়ে উঠলো কথাটায় সে চট করে মাথাটা তুললো সাথে সাথে নজরে এলো জায়ানের বাঁকা হাসির দিকে।

বেশিক্ষণ স্থায়ী করতে পারলো না নিজের দৃষ্টি সেদিকে।

"" কি হলো কথা বলছেন না কেনো?

"" আপনি এতো অসভ্য কেনো?

কই আমি তো অসভ্যের মতো কিছু করনি এখনো ম্যাডাম তাহলে আপনি লজ্জা পাচ্ছেন কেনো?

"" ক,,কই আমি মোটেও লজ্জা পাচ্ছিনা।

"" তাই বলতে বলতে বরিবার দিকে এগোতে লাগলো জায়ান।

"" আ,,আাপনি এগোচ্ছেন কেনো?

"" কোথায়,,জায়ানের ঘোর লাগা কন্ঠ শুনে আরিবা চমকে উঠলো।

জায়ানের দৃষ্টি স্থীর সামনের মেয়েটির গোলাপি রাঙা ঠোঁটের দিকে।

যা বর্তমানে তার ভয়ে তিরতির করে কাপছে। যে বর্তমানে দেওয়ালের সাথে সেটিয়ে দারিয়ে আছে।

জায়ান একটা ঢোক গিললো তা দেখে।

তার গলা শুকিয়ে আসছে।

আরিবাকে ভয় দেখানোর জন্য এতোক্ষণ এতোকিছু করলেও এখন যেনো

নিজেই পাগল হয়ে যাচ্ছে। নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করেও পারছে না।

"" আপ,,আপনি,,প্লিজ

"" বকি কথা শেষ করতে পারলো না আরিবা তার আগেই সামনের মানুষ টি তার ওষ্ঠ জোরা পুরে নিলো নিজের ওষ্ঠের মাঝে।

"" আরিবা চোখ খিচে বন্ধ করে নিলো।

নিজের জামার দুইপাশ চেপে ধরে রাখলো।

নিজের সাথে কি হচ্ছে তা বুঝতে পেরেই নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো তবে সামনের মানুষটির জন্য তা সম্ভব হলো না।

"" জায়ান আরিবার দুই হাত চেপে রেখে তার ওষ্ঠের স্বাদ নিতে লাগলো।

"" আরিবা অনেকক্ষণ চেষ্টার পরেও নিজেকে ছাড়াতে না পেরে স্থীর হয়ে গেলো।

"" প্রায় পাঁচ মিনিট পর জায়ান তাকে ছেড়ে দিলো।

আরিবা জেনো দেহে প্রান ফিরে পেলো।

জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে সে।

জায়ান ও তাই করছে।

"" আরিবা মা একটু এখানে আয় তো?

মায়ের শব্দ কানে আসতেই আরিবা ছুটে পালালো সেখান থেকে। আপাতত এই লোকের সামনে পরবে না।

আরিবা চলে যেতেই জায়ান রাগে দেওয়ালে ঘুসি মারলো।

শিট কি করলো সে। নিজেকে কন্ট্রোল কেনো করতে পারলো না ভেবেই তার রাগ হচ্ছে।

রাগে নিজের মাথার চুল টেনে ধরলো।

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প