সকাল হতেই আরিবার মাথাটা বেশ ভার মনে হলো।হয়তো সারারাত কান্নার ফলে এমনটা হয়েছে।
আরিবা বিষয় টাকে পাত্তা না দিয়ে কলেজে যাওয়ার জন্য তৈরি হলো।অন্য সময় হলে যেতো না কিন্তু তার ইম্পর্ট্যান্ট ক্লাস আছে।তাই যাবে বলে ঠিক করলো।
ক্লাসে গিয়ে দেখলো আরমান আসেনি রাইসা আর সে ক্লাস শেষে তার ফোনে কল আসলেই জানতে পারলো আরমান হসপিটালে।
আরিবার মনে বার বার খচ খচ করছিলো।তারা দুজন হন্তদন্ত হয়ে হয়ে চলে গেলো হসপিটালের উদ্দেশ্য।
তারা কেবিনে ডুকতেই দেখলো আরমানের কপালে আর মাথায় ব্যান্ডেজ করা।
কাছে যেতেই রাইসা বললো।
"" কিরে এসব কিভাবে হলো।তোর মতো বলদ কার পাকা ধানে মই দিলো যে এভাবে কুত্তার মতো পিটিয়েছে?
"" আরমান এতোক্ষণ মাথায় হাত রেখে শুয়ে ছিলো।রাইসার কথায় চোখ খুলে তাকিয়ে বসতে সাহায্য করলো।
"" আরমান আরিবার দিকে তাকালেই আরিবা তার মুখটা অসহায় করে নিলো।
"" রাইসা দুজনের ভাব বুঝে বললো এই সত্যি করে বলতো তোরা কি করেছিস। আমার মনে হচ্ছে এখানে আরিবার কোনো কাহিনি আছে তোরা দুজন কি পাকিয়েছিস।
আরমান এবার হেসে বললো আসোলে অন্যের বউয়ের সাথে লাইন মারছিলাম তো তাই তার বর গুন্ডা দিয়ে কেলিয়েছে।
"" রাইসা বিস্ফোরিত চোখে তাকালো আরমান আর বিবাহিত মহিলা অসম্ভব আর সে অনেক ভদ্র একটা ছেলে।
শুধু তাদের সাথে একটু সয়তানি করে।আর মেয়েদের থেকেও দুরে থাকে সবে একটা প্রেম করছিলো।তাহলে কি সেই মেয়ে বিবাহিত ছিলো।
তার এতো ভাবনার মাঝে আরিবা বলে উঠলো সরি দোস্ত আমার জন্য তোর সাথে এমন হলো।
আমি বুঝতে পরিনি ব্যাপারটা এতোদুর চলে যাবে। তার চোখে পানি ছলছল করছে।
এই তোরা কি করেছিস সত্যি করে বল তো আমার মাথায় তো কিছুই ঢুকছে না।
আরিবা এবার মাথা নিচু করে সবটা বললো।
রাইসা তো প্রচন্ড রেগে গেলো আরিবার ওপর একটা মেয়ে এতোটা পাগল কিভাবে হয়।
সে আরিবাকে কয়েকটা কথাও শুনিয়ে দিলো।
আরিবা তুই প্লিজ যা এখান থেকে তোর ওপর আনার প্রচন্ড রাগ হচ্ছে।
আারমানের কথায় রাইসা আরিবা দুজনেই হতবাক।
আরমান এই কথা বললো তাও আবার রাইসাকে। এরা দুজন ছোটবেলা থেকে এমন দুষ্টু আর রাইসা একটু শান্ত তাদের তিন জনের বন্ধুত্ব সেই ক্লাস পঞ্চম থেকে।
তুই এসব কি বলছিস আরমান।
তুই চুপ কর রাইসা এর জন্য আমার গার্লফ্রেন্ড ও আমার সাথে ব্রেকআপ করেছে।ওকে যেতে বল।
রাইসা কিছু বলতে যাবে তবে আরিবা তাকে বলতে না দিয়ে চলে যেতে নিলো।
আরিবা গেট খুলতে যাবে তখনি আরমান বলে উঠলো। বুঝলাম না এই ভন্ড মেয়ে কবে থেকে এতো নাটকবাজ হইলো।বিয়ের পর এর এতো উন্নতি হইছে নাকি।আমি যেতে বললাম আর চলে যাচ্ছে।
আরিবা থেমে গেলো সে ঘুরে তাকালো।
আরমান দাত বের করে বললো আরে তোকে কি আমি সত্যি বলছি নাকি।
আর ওই শালির মেয়ে গার্লফ্রেন্ড সবটা সত্যি জানার পরেও ব্রেকআপ করেছে তার মানে বুঝছোস শালি নতুন মাল পেয়েছে।
আর ওই শালি এই একমাসে তিনবার দেখা করে আমার ২০ হাজার টাকা খাইছে।তাহলে ভাব ও আমারে ভবিস্যতে
কি করবে।তাই ওর মতো শালিরে আমার দরকার নাই।আমার জন্য তোরা দুই পাগলি দোস্ত ই ঠিক আছিস।
তার কথা শুনে রাইসাও হেসে উঠলো আর আরিবাও।
তিনজন কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আরমানকে রিলিজ করিয়ে বাসায় দিয়ে আসলো।
তারপর আরিবাও বাসায় ফিরলো।বাসায় আসতেই তার মা প্রশ্ন করলে আরমানের কথা বললো যে সে এক্সিডেন্ট করেছে।
তাই তিনি আর কিছু বলেন নি।
আরিবা খাবার শেষ করে রুমে গেলে তার ফোন বেজে উঠলো।
ফোন হাতে নিতেই দেখলো বড়ো বড়ো অক্ষরে লেখা নুর ম্যাম।
আরিবার মনটা নিমিষেই খারাপ হলো।সে ফোনটা তুললো।
"" ওপাস থেকে মিষ্টি কন্ঠে ভেসে আসলো।আরিবা কেমন আছো?তোমার কাজ কতো দুর চলছে মানে ডিভোর্স টা দিচ্ছো তো তুমি।তুমি কিন্তু জানো জায়ান
স্যার তোমাকে পছন্দ করে না তোমাকে বিয়েটাও উনি চাপে পরে
করেছেন।তাছাড়া উনি আমাকে কথা দিয়েছিলেন আমাকে বিয়ে করবেন।কিন্তু মাঝখানে তুমি চলে এসেছো।
তুমি সবটা বুঝতেই পারছো তুমি ট্রেনিং এর সময় দেখেছো উনি কতোটা কেয়ার করতেন আমার ।
শোনো তোমাকে কথাটা বলছি কারন আমি চাইনা তোমার লাইফটা নষ্ট হোক।
"" আরিবার চোখ দিয়ে পানি গরিয়ে পরছে।তার বুকটা ফেটে যাচ্ছে যে মানুষটাকে সে প্রথম দেখাতেই নিজের মন
দিয়ে বসেছিলো।ভাগ্যের পরিহাসে তার সাথেই বিয়ে হলো আরিবার।সে অনেক
খুশি হয়েছিলো। আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া আদায় করেছিলো।
"" কিন্তু তার পরেই জানতে পারলো তার ভালোবাসার মানুষটা তাকে নয় বরং অন্যকাউকে ভালোবাসে তাকে বিয়ে করেছে সুধু মায়ের কথা রাখতে।
তখন আরিবার বুক ফেটে যাওয়ার মতো কষ্ট হয়েছিলো।
নুর ম্যাম ছিলো জায়ান এর সাথে তাদের গাইড জরতো।আরিবা কোনো দুষ্টুমি করলে শাস্তির হাত থেকে তিনি বাচাতেন।
জায়ান নুর ম্যাম এর কথায় তাকে ছেড়েও দিতো নুর ম্যাম এর
অনেক কেয়ার করলেও আমরা ভাবতাম বিষয় টা ফ্রেন্ডলি হবে।
"" আরিবা তুমি শুনতে পাচ্ছো আমার কথা।
""আরিবা নিজেকে সামলিয়ে বললো হ্যা ম্যাম বুঝতে পারছি।আপনি চিন্তা করবেন না আমি চেষ্টা করছি।
"" ওপাশ থেকে ভেসে আসলো আমি জানি আরিবা এটা তোমার ভালোর জন্যই বলছি।
"" আরিবার আর যেনো সহ্য হচ্ছিল না।
তাই বাহানা দিয়ে বললো
ম্যাম আসোলে মা ডাকছে আমি পরে কথা বলবো।বলেই কল কেটে দিলো।
""ফোন রেখেই আরিবা দৌড়ে ওয়াশরুম এ চলে গেলো ঝরনা ছেড়ে দিতেই শব্দ করে কান্না করে উঠলো।
তার কি করা উচিৎ যে মানুষটা
অন্যকারো তাকে নিজের করার সপ্ন সে কখনোই দেখতে পারে না।তাই তো এতো চেষ্টা।
নিজের মনের গহিনে যার জন্য প্রথম অনুভুতি সৃষ্টি করেছিলো।একটা বছর ধরে
যাকে নিয়ে মনের মাঝে
সপ্ন বুনলো।সেই মাুষটাকে পেয়েও পাবে না আরিবা।ভাবলেই তার বুকটা ফেটে উঠছে।
নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে সে কিভাবে অন্যের কাছে সঁপে দিবে।
"" অনেকটা সময় ওয়াসরুমে কাটিয়ে আসলে দেখলো তার মা ডাকছে এই অসময়ে ডাকার কারন বুঝলো না।
"" কান্নার কারনে তার চোখমুখ ফুলে উঠেছে। ফর্সা মুখটা ফুলে টমেটোর মতো হয়ে গেছে।
"" সে মুখটা একটু ঠিকঠাক করে দরজা খুললো।
মায়পর মুখ থেকে শুনলো।তার শাশুড়ী ও ননদ এসেছে।
"" আরিবা একটু অবাক হলো হঠাৎ তাদের আগমনের কারনটা কি??