বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ২৮

🟢

খাবার টেবিলে উপস্থিত হয়েছে সবাই।

আয়রার খুশি যেনো ধরছে না একবার জোভান একবার জাফরিন তো একবার বাবা দাদু এর কাছে ওর কাছে ছুটছে।

আরিবা মনোযোগ দিয়ে মেয়ের কান্ড দেখছে।

আরিবা সবাইকে খাবার বেড়ে দিয়ে পাশে দারালে

জয়া বেগম বলে উঠলো কি হলো মা তুমি বসছো না কেন?

"" আম্মু আপনা খাওয়া শেষ করুন আমি বসছি,,

জয়া বেগম তা শুনলেন না আরিবাকে টেনে বসালেন পাশে প্লেটে খাবার বেড়ে দিয়ে খেতে ইশারা করলেন।

"" তোমার বাবার সাথে কথা বলে আমাকে জানাও আর তাদের বাসায় আসতে বলো।

জয়া বেগমের কথা শুনে আরিবা থমকে গেলো সেই যে এসেছে এতোগুলা দিন হয়ে গেছে তার বাবা তার সাথে কথা বলেনি,,

"" কি হয়েছে আরিবা,,

তার কথায় সবাই আরিবার দিকে তাকালো,,,

বাবা আমার সাথে কথা বেলেন না আম্মু।বলতে গিয়ে আরিবার চোখ ছলছল করে উঠলো জায়ান তখনো শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আরিবার দিকে,,

"" ঠিক আছে আমি নিজে যাবো,,

আরিবা মাথা নাড়ালো।

"" আম্মা আমি আরিবাকে নিয়ে একটু বের হবো আজ আপনি একটু আয়রাকে সামলে রাখবেন।

"" ঠিকআছে।

খাবার টেবিলে আর কেউ কোনো কথা বললো না খাওয়া শেষে জায়ান নিজের রুমে গেলো আরিবা সব ঠিকঠাক করে রুমে গেলে ।জায়ান বলে উঠলো পাঁচ মিনিটে তৈরি হয়ে বাহিরে এসো।

"" আব,,আমরা কোথায় যাচ্ছি,,?

"" গেলে দেখতে পাবে,,

আরিবা আর কনো প্রশ্ন করলো না চুপচাপ তৈরি হতে লাগলো,,

-----------------------------

গাড়িতে বসে আছে আরিবা জায়ান ড্রাইভ করছে।

আরিবার মনে বার বার একটা চিন্তাই ঘুরছে তারা কোথায় যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্নটা করতেও পারছে না।একটু পরপরই জায়ানের দিকে তাকাচ্ছে সে কিন্তু কিছু বলতে পারছে না।জায়ানের মুখাটাও বেশ গম্ভীর।

"" এতো উসখুস করছো কেন? গেলেই দেখতে পাবে কোথায় যাচ্ছি আমরা।

জায়ানের কন্ঠ বেশ গুরুগম্ভীর। আরিবা নিজের ভেতরের অস্থিরতা চাপিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলো।

দেখতে দেখতে তারা চলে আসলো একটা পাচতলা বিল্ডিং এর দিকে তবে বিল্ডিংটা এখনো সম্পূর্ণ নয় কিছু কাজ বাকি আছে এমন একটা অদ্ভুত যায়গায় নিয়াসায় আরিবা অবাক হয়ে তাকালো জায়ানের দিকে। জায়ান তার দিকে তাকিয়ে তার হাত মুঠোয় পুরে নিলো।

"" এসো,,,

একটা অন্ধকার ঘরের সামনে একজন লোক দাঁড়িয়ে জায়ান সামনে আসতেই লোকটি দরজা খুলে দিলো।

ভেতরে যেতেই আরিবা বিস্ফোরিত চোখে অবাক হয়ে তাকালো।নিজের চোখে যেনো বিশ্বাস করতে পারছে না সে। কারন তার সামনেই নুর কে একটা চেয়ারে বেধে রাখা হয়েছে। মুখ বেধে রাখায় সে কিছু বলতে পারছে না। তবে জায়ান আর তাকে দেখে নুরের ছটপটানি বেড়ে গেলো।

জায়ান আরিবার হাত ছেড়ে দিয়ে নুরের মুখের বাধন খুলে দিলেই সে চেচিয়ে উঠলো,,

"" জায়ান তুই কেন বেধে রেখেছিস আমায়? তুই তো বলেছিস তুই আমায় ভালোবাসিস।আরিবাকে শুধু তোর মেয়ের জন্য তোর কাছে রেখেছিস তাহলে এসব কি?

আরিবা চোখ বড়ো বড়ো করে শুধু দেখছে সবটা।

"" মিথ্যা,,?

বিজ্ঞাপন

"" জায়ানের কথায় নুর অবাক হয়ে গেলো মিথ্যে কিন্তু জায়ান এটা মিথ্যা হতে পারে না তুই তো আরিবাকে সহ্য করতে পারিস না।আর আমার বাধন খুলে দে।

"" সবটা শুধু তোকে এখানে আনার জন্য নাটক ছিলো।

এবার বল তুই আরিবাকে কি বলেছিস পাঁচবছর আগে যে সে আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলো।

ফ্ল্যাসব্যাক,,,

তুই ঠিক বলেছিস নুর।আরিবার মতো মেয়েকে ভালোবাসা যায়না ও ঠিক আমার সাথে যায়না।এমন কথা শুনে রহিত নুর পেছনে তাকালে জায়ানকে দেখতে পেলো।রহিত অবাক হয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো জায়ানের দিকে। নুর জায়ানের এমন কথা শুনে খুশিতে যেনো পাগল হয়ে উঠলো আচমকা জায়ানকে জরিয়ে ধরলো।

"" তুই এতোদিনে বুঝলি আমার ভালোবাসা জায়ান আমি আজ প্রচন্ড খুশি।

জায়ান নুরকে ছাড়িয়ে নিলো সে মাথা নাড়িয়ে বললো চল এখন জায়ান বলবে আর নুর আসবেনা তা কি করে হয়ে গাড়িতে এসে বসলেই আচমকা জায়ান নুরের ঘারে আঘাত করলে সে অচেতন হয়ে যায়। তারপর ই নিজেকে বাধা অবস্থায় আবিষ্কার করে।

বর্তমান,,,

রহিতের কেন জানি জায়ানকে সন্দেহ মনে হয়েছে তাই সে লোকেশন ট্র্যাক করে এখানে চলে আসে।

"" নুর ভিত হলো তবুও নিজে সত্য প্রমান করতে উগ্র কন্ঠে বললো আমি কিছু বলিনি।ওই মেয়ে তোকে এসব বলেছে তাই না মিথ্যে বলেছে যাতে তুই আমাকে ছেড়ে চলে যাস আসোলে ও একটা নষ্টা,,,

ঠাসসসস,,

একটা চরে দমলোনা নুর আরো ফুসে উঠে বললো আরমান এর সাথে তুই নিজে ওকে ধরেছিলিনা কি জানি বাচ্চাটাও হয়তো অন্যকা,,,

ঠাসসস,ঠাসসস,,

পর পর তিনটে থাপ্পড়ে নুইয়ে পরলো নুর,, এবার নিজে থেকেই বলে উঠলো,,

হ্যা বলেছি আমি ওকে তোর সাথে আমার সম্পর্ক আছে। তাই ও তোকে ছেড়ে গেছে আমি কি জানতাম যে ও নিজের পেটে তোর বাচ্চাও নিয়ে গেছে নাহলে ওকেও শেষ করে দিতাম আমি।এ পর্যায়ে কেদে ফেললো নুর ধপ করে বসে পরলে জায়ানের পায়ের কাছে তার পা জারিয়ে ধরে কাদতে কাদতে বললো,,

তুই আমার হয়ে যা না জায়ান তোকে সেই ছোট বেলা থেকে ভালোবাসি আমি।কিন্তু তুই কখনো ফিরেও তাকাসনি আমার দিকে।আমি তোর বাচ্চাকেও মেনে নেবো তুই শুধু আমার হয়ে যা প্লিজ জায়ান।আমি তোকে ওর থেকেও অনেক বেশি ভালোবাসি জায়ান প্লিজ।কাদতে কাদতে নুরের গলা ধরে আসছে বারবার।

জায়ান ঝটকা মেরে নিজের পা ছাড়িয়ে নিলে এ পর্যায়ে রহিত এসে ধরলো তাকে।

আরিবা যেনো কথা বলা ভুলে গেছে অনুভূতি শুন্য মনে হচ্ছে তার নিজেকে।এই মেয়েটার জন্য তার জীবনের পাঁচটা বছর নষ্ট হয়েছে তার মেয়েকে বাবা থাকা সত্বেও বাবার আদর পেতে দেয় নি।আর জায়ান তাকেও কতো ভুল বুঝেছে সে।তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরছে অনবরত।

হঠাৎই নুর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে আঘাত করতে আসলেই জায়ান আরিবাকে জারিয়ে নিলো নিজের সাথে। রহিত ও নুরকে ধরে ফেললো,,

ছার ওকে শেষ করে দেবো আমি এই মেয়েকে এর জন্য জায়ান আমাকে ভালোবাসে না।

""জায়ান হুংকার দিয়ে বলে উঠলো ওকে আঘাত করার চিন্তা করলে তোর কলিজা টেনে ছিড়ে ফেলবো আমি।

আমি তোকে কখনোই বন্ধুর বাহিরে কিছু ভাবিনি,, আর আজকের পর থেকে সেটাও শেষ।

আমি জায়ান আহসান এক জীবনে শুধু আমার স্ত্রী, আমার সন্তানের মা, মিসেস জায়ান আহসান অর্থাৎ আরিবা নওশীনকেই ভালোবেসেছি।

চমকে উঠলো আরিবা আবারো অবাক হয়ে তাকালো জায়ানের দিকে,, সবকিছু তার অবিশ্বাস্য লাগছে।তখনো সে জায়ানের বুকে পরে আছে মুলত সে শকে আছে।

জায়ান আর কোনো কথা না বলেই আরিবার হাতধরে বাহিরে হাটা ধরলো।

নুর দৌড়ে আসতে চাচ্ছে কিন্তু রহিত তাকে শক্ত করে ধরে আছে।

ছার আমাকে রহিত জায়ান কখনো ওই মেয়েকে ভালোবাসতে পারে না ও শুধু আমার ও কেন আমায় ভালোবাসবেনা। ওকে বলনা ও শুধু আমার আমায় একটু ভালোবাসতে বলনা প্লিজ।

একপর্যায়ে নুর অজ্ঞান হয়ে গেল ঢলে পরলো রহিতের বুকে।

রহিত নুরের দিকে তাকিয়ে তাকে কোলে তুলে নিয়ে ব্যাথাতুর কন্ঠে বললো

আমিও তো তোকে ভালোবেসেছি নুর তুই আমায় কেন ভালোবাসলি না।যাকে ভালেবাসলি সেও তোকে পোরালো।তবে এক জীবনে আমার ভালেবাসা অপ্রকাশিতই থাকবে।কারন তোর মতো মেয়েকে ভালেবাসা জীবনে সব থেকে ভুল

তার কন্ঠ বড্ড করুন শুনালো এ পর্যায়ে।

--------------------------------

এক সাথে এতো শক যেনো নিতে পারছেনা আরিবা। প্রথমে নুরের সত্যি তারপর জায়ানের বলা কথা গুলো।তারমানে এতোগুলা দিন সে জায়ানকে ভুল বুঝে এসেছে। গাড়িতে স্থির হয়ে বসে আছে সে জায়ানের চোখমুখ খুবই শান্ত যেনো কিছুই হয়নি।

বাসায় আসলে আরিবা রুমে গিয়ে ধপ করে শুয়ে কান্না শুরু করলো।জায়ান কোথাও একটা গেছে বাসার কারো সাথে কেউ কোনো কথা বলেনি জয়া বেগম ছেলে আর ছেলের বউয়ের মুখ দেখেই বুঝলেন কিছু একটা হয়েছে। তাই কিছু বললেন না তাদের আসতে আসতে রাত হয়ে গেছে তাই তিনি আয়রাকে খাবার খাইয়ে ঘুম পারিয়ে দিয়েছেন,,,

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প