পেরিয়ে গেছে এর মাঝে বেশ কিছু দিন।এর মাঝে আরিবার বাবাও এসেছিলেন এরবার জয়া বেগম নিজে তাদের বুঝিয়ে এনেছেন। আরিবাও জায়ানকে যে সে ভুল বুঝেছিলো সবটা জেনিয়েছে। সবটা জেনে নিজের আদরের মেয়ের থেকে আর দুরে থাকতে পারেন নি আরিবার বাবা।তার একটা মাত্র মেয়ে তার ওপর আবার নাতনিও আছে।আর সব থেকে বড়ো কথা জায়ান ভালো ছেলে তার মেয়েকে ভালোবাসে।সেদিন এসে একটা দিন ছিলো তারা তারপর আবার সিলেট ফিরে গেছে।
আজ দুদিন হলো আরিবারাও ফিরে এসেছে তার নিজ শশুর বাড়ি।এখানে এসে নিজের সংসার গুছিয়ে নিচ্ছে সে। একদম পাকা গৃহিনীর মতো হয়ে গেছে।জাফরিন জোভান এর সাথে সম্পর্ক একদম বন্ধুর মতো। আয়রা কে তার তেমন সামলাতে হয় না জাফরিন জয়া বেগম জোভান এদের কাছেই থাকে বেশিরভাগ সময়।
আজ আরমান আর রাইশার বিয়ে তাই আরিবা তৈরি হচ্ছে তার আগে মেয়েকে সে তৈরি করে দিয়েছে।
আজ সে কালো রঙের শাড়ি পরছে শাড়িটা জায়ান এনে দিয়েছে তাকে।তাদের ভেতর আগের মতো ঝামেলা আর নেই তবে মান অভিমান পুরোপুরি শেষ ও হয়নি এসব ভেবেই দির্ঘশ্বাস ফেললো নিজেকে আয়নায় আরেকবার দেখে নিলো। নাহ সব ঠিকঠাক আছে।পেছনে তাকাতেই তার চোখ আটকে গেলো।
জায়ান দাড়িয়ে আছে পরনে তার কালো ব্লেজার চুলগুলো এখন কিছুটা বড়ো হয়েছে আগের মতো ছোট নেই গালে খোচা খোচা চাপ দাড়ি মারাত্মক সুন্দর লাগছে।
জায়ান এতক্ষণ আরিবার দিকেই তাকিয়ে ছিলো কালো শাড়িতে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে তাকে মনে হলো জায়ান নিজের কয়েকটা হার্টবিট মিস করে ফেলেছে। আপাতত তার ধ্যান সম্পুর্ন আরিবার টকটকে লাল ঠোটের দিকে।এসব ভাবনার মাঝেই জায়ান একদম আরিবার কাছে চলে এসেছে।
"" আরিবার ধ্যান ভাংতেই,, জায়ানের স্থির দৃষ্টি দেখে একটা ঢোক গিললো আরিবা।জায়ানের চোখের ভাষা সে বেশ বুঝতে পারছে,,
জায়ান আপনি,,,
"" হুসসসসসস,,আরিবার কথা শেষ হওয়ার আগে জায়ান নিজের আঙুল আরিবার ঠোঁটে রাখলো।আরিবার ঠোট তিরতির করে কেপে উঠলো।
আমাকে খুন করতে চাও জান।তোমার এমন সৌন্দর্য দেখে আমার বুকে ব্যাথা করছে যে এই ব্যাথা কিভাবে নিবারন করবো বলো।তোমার এই ঠোঁট আমাকে বড্ড জালাচ্ছে জান।
"" আপনি,,,
শেষ করতে পারলোনা আরিবা তার কথা তার আগেই তার ঠোঁট দুটি জায়ানের পুরু ঠোঁটের মাঝে আবদ্ধ হলো।আরিবা খিচে চোখ বন্ধ করে জায়ানের পিঠ খামচে ধরলো।তার মেয়েলি কায়া শিরশির করে উঠলো।জায়ান খুব সফ্টলি নিজের স্পর্শ রেখে যাচ্ছে যার কারনে আরিবার অবস্থা প্রায় বেসামাল।প্রথম বারের মতো আরিবা নিজেও জায়ানের স্পর্শে সায় জানালো।এতে জায়ান জেনো আরো উন্মাদ হয়ে উঠলো তার হাতদুটো আরিবার শাড়ি ভেদ করে উন্মুক্ত পেটে চলে গেলো।অনেকটা সময় পর জায়ান আরিবার ঠোট থেকে মুখ তুলে তার গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো অনবরত নিজের ঠোঁটের স্পর্শে আরিবার বেহাল অবস্থা। গলা থেকে মুখ নামিয়ে আরিবার বুকে স্পর্শ দিতে লাগলো জায়ান। ততক্ষণে তাদের স্থান হয়েছে বেডে আরিবার শাড়ির আচলও মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। দুজন দুজনের মাঝে এতোটাই হারিয়েছে যে তাদের যে বেড়োতে হবে সে কথা তাদের মাথায় নেই।সবে জায়ান আরিবার ব্লাউজের হুকে হাত রেখেছে এর মাঝেই,,
"" মাম্মা,বাবা তোমরা এসো আমরা যাবোতো।মেয়ের ডাকে আরিবার হুস ফিরলো তবে তার অবস্থা খুবই খারাপ এদিকে জায়ানের কানে যেনো কিছুই যাচ্ছে না।
"" জায়ান প্লিজ থামুন আমাদের যেতে হবে।
জায়ান বেজায় বিরক্ত হলো,, প্লিজ জান আই নিড ইউ হাস্কি স্বরে বললো।
আরিবার মন চাইলো না জায়ানকে সরাতে কিন্তু তার ও কিছু করার নেই তার মেয়ে অনবরত ডেকে চলেছে কিছুক্ষণ পর বাকিরাও আসবে।
জায়ান প্লিজ ডাকছে আমাদের যেতে হবে।
জায়ান চট করে নিজের হুসে ফিরলো।
"" সিট সরি জান।তুমি তারাতাড়ি তৈরি হও আমি যাচ্ছি। আরিবার মন চাইলো জায়ানের মাথার চুলগুলো ছিরতে সে কত সুন্দর তৈরি হয়েছিলো সব শেষ করে দিলো।
"" কি হলো?
"" আরিবা কাদো কাদো গলায় বললো আপনি এটা কি করলেন আমি কত সুন্দর তৈরি হয়েছিলাম।
জায়ানের কপাল কুচকে গেলো সাথে সাথে।আবারো আরিবার দিকে তাকালো।
ঠোঁটের লিপস্টিক একদম ঘেটে গেছে চুলগুলোও এলোমেলো যা কিছুক্ষণ আগেও গোছানো ছিলো শাড়ির তো বেহাল দশা ব্লাউজের হুক খোলা ওপরের দুইটা।জায়ান ঠোট কামরে হাসলো।
সেই হাসির কারন বুঝতে পেরে সাথে সাথে আরিবা নিজের আচল ঠিক করে নিলো।
নাকমুখ কুঁচকে বললো আপনি বড্ড অসভ্য।
ওয়াসরুম এ গেলো সে তৈরি হতে।জায়ান নিজেকে আরেকবার আয়নায় দেখলো লিপস্টিক দিয়ে ঠোঁটের খুবি বাজে অবস্থা টিস্যু দিয়ে মুছে নিলো।
------------------------------
বিয়ের পর্ব শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ আগে এখন বাসর ঘরে ঢোকার পালা তবে সামনে আরিবা যে দরজায় বড়ো তালা দিয়ে রেখেছে। আরমানের আর কোনো ভাই বোন নেই যা আছে তারা অনেক দুরের তাই সবাই আসেনি।
"" কি চাই বইন?
"" টাকা দে?
"" কিহ?কিন্তু কিসের জন্য,,
"" ওমা বউ নিবি টাকা দিবি না?
"" লাগবে না আমার বউ এমনিতেও ভেতরে গেলে আমি কেলানি খাবো দরকার নেই বইন বলে সে চলে যেতে নিলে আরিবা ধরে ফেললো।
""আরিবা ঠোট কামরে হাসলো। এই কিপ্টে টাকা বের কর বললাম।
"" কেন বইন তোর বড়ের তো অনেক টাকা আমার টাকার দিকে কেন নজর দিচ্ছিস।
"" আরিবার আর ধৈর্য হলো না।ঠাস করে সে আরমানের কলার চেপে ধরলো প্যান্টের পকেট থেকে কার্ড বের করে নিয়ে চলে যেতে নিলো শুনতে পেলো,,
বইন আমারেও নিয়ে যা ও আমারে আজ কাচা চিবিয়ে খাবে।আরিবার প্রচন্ড হাসি পেলো তবে সে পাত্তা না দিয়ে চলে গেলো।
আরমান বেচারা বুকে দুবার ফু দিয়ে একবার নিজের ঘরের দিকে উকি মারলো এমন সময় কোথা থেকে আরিবা এসে তাকে ধাক্কা দিলে ঠাস করে মেঝেতে পরে গেলো। আরিবা বাহিরে থেকে দরজা লাগিয়ে দিলো।
রাইসা কোনোকিছু পড়ার শব্দে ঘুরে তাকালো আরমানকে পরে যেতে দেখে এগিয়ে তাকে উঠতে সাহায্য করলো।
"" তোর বালের বান্ধবী আমারে ফেলে দিলো।
রাইসা কিছু বললো না।
"" নামায পরে আয়।আরমান এবার পুর্ন দৃষ্টিতে চাইলো রাইসার দিকে তার পরনে লাল শাড়ি মাথায় ঘোমটা বেশ বু বউ লাগছে তাকে।তবে অন্যদিনের তুলনায় সে বেশ শান্ত।
আরমান তার কথা মানলো চুপচাপ অযু করে এসে নামাজ পরে নিলো রাইসাও নামাজ পরছে।
নামাজ শেষে জায়নামাজ রেখে দিলো।
"" তুই কাউকে ভালোবাসিস রাইসা?
এমন কথায় কপাল কুচকে তাকালো রাইসা।
"" আরমান একটা ঢোক গিলে,, না আমাকে মানতে তোর এতো সমস্যা তাই জিজ্ঞেস,,
"" ঠাসসসসসসসস,,আরমান নিজের গালে হাত রেখে হা করে তাকিয়ে রইলো রাইসার দিকে।
"" রাইসা থাপ্পড় দিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো।
আরমান বুঝতে পারছে না কি বলবে আর কেনইবা তাকে থাপ্পড় দিলো।
"" কাদছিস কেন?তুই সত্যি ভালোবাসলে আমায় বল আমি নিজে তোকে তার সাথে,,
"" ঠাসসসসসস,,,,ঠাসসসসস,,,ঠাসসসসস,,,
আরমান চট করে রাইসার হাত ধরে ফেললো তবে রাইসা চাচ্ছে হাত ছাড়াতে,, ছার আমায় ব্যায়াদব অন্যজনের কাছে দিবি আমায় হ্যা?
"" আরে এমন করছিস কেন চুপ কর বইন আরমান চট করে রাইসাকে নিজের বুকে জরিয়ে ধরলো তবে রাইসা কি শোনার মানুষ সে অনবরত নিজেকে ছারানোর চেষ্টা করছে।
"" আচ্ছা তোকে আমি কারো কাছে দিবো না তুই শুধু আমার। আমার বউকে কেন অন্যের কাছে দিবো আমি। তুই শান্ত হো প্লিজ রাই।
"" আমাকে তোর কাছেই রেখে দিবি।
"" হুম।
"" আমাকেই ভালোবাসবি।
"" হুম।
"" কখনো অন্যকাউকে দিবি না।
"" হুম।
রাইসা অনবরত কিছু না কিছু বলেই চলছে আর আরমান তার জবাব দিচ্ছে। সে বেশ বুঝেছে রাইসাও তাকে ভালোবাসে।এসব ভেবে সে আরেকটু শক্ত করে জরিয়ে ধরলো রাইসাকে তাকে বেডে শুইয়ে নিজেও শুলো তারপর আবারো বুকে জরিয়ে নিলো।রাইশা এসবের ধ্যানে নেই সে ফুপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে আর কথা বলছে।একসময় কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পরলো রাইসা।আরমান তা বুঝতে পেরে রাইসার কপালে একটা চুমু খেলো। তারপর রাইসাকে বুকে নিয়ে নিজেও পারি দিলো ঘুমের দেশে।