বিলম্বিত উপলব্ধি

পর্ব - ৩২

🟢

রাত বারোটা আরিবারা নিজের বাসায় চলে এসেছে। আরমানের বাবা মা থাকতে অনেক রিকুয়েষ্ট করেছিলেন তবে তাদের থাকা হয়নি মুলত জায়ান থাকতে চায়না তার নাকি গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ রয়েছে। আরিবা এতে বিরক্ত বটে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু দুজনের বিয়ে আর সেই ঠিকঠাক এটেন্ড করতে পারলো না।আর এই লোক কি রাজকার্য করবে আল্লাহ জানে।আয়রা গাড়িতে ঘুমিয়ে পরেছে জাফরিন তাকে নিজের সাথে নিয়ে গেছে ঘুমানোর জন্য।

জায়ান অনবরত পায়চারি করছে তার ভেতরটা ছটপট করছে সে বারবার বাথরুম এর দিকে তাকাচ্ছে মুলত আরিবা গেছে চেঞ্জ করতে।এই মেয়ের এতো কেন সময় লাগছে।

আরিবা বের হতেই সামনে জায়ানকে দেখে চমকে উঠলো।

জায়ান কেমন অস্থির হয়ে আছে।চোখমুখ লাল।

"" কি হয়েছে আপনার?

"" ক,,কই কিছুনা।

"" তাহলে আপনার চোখমুখ এমন লাগছে কেন?

"" এমনি।

"" তাহলে শুয়ে পরুন।

জায়ান ভেতরে ভেতরে রাগে ফেটে পরছে। তবে সে কিছু না বলে চট করে শুয়ে পরলো।

আরিবা বুঝলো না জায়ানের মনোভাব সে নিজেও তার পাশে শুয়ে পরলো। জায়ানের থেকে বেশ দুরত্বে। তবে এটা বেশ বুঝলো জায়ান কোনো বিষয় নিয়ে রেগে আছে।সে জিজ্ঞেস করার জন্য তার দিকে ফিরতেই চমকে উঠলো জায়ান একদম তার পাশে শুয়ে আছে।

"" জায়ান আপনি,,,

"" চুপ আগামিকাল চলে যাবো আমি।বলেই আরিবার গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো।

"" আরিবা জমে গেলো এমন ছোয়ায় জায়ান তাকে এভাবে ছোয় না কাছেও আসে না তবে আজ সকালে আবার এখন।আবার জায়ানের বলা কথা মনে পরতেই আরিবার চট করে মন খারাপ হয়ে গেলো। কো,,কোথায় যাবেন?

"" ছুটির মেয়াদ শেষ। বেশি না এক মাসের জন্য যাবো তারপর সিলেট ট্রান্সফার হয়ে যাবো।বলতে বলতে আরিবার ঘারে নাক ঘসলো।

"" আরিবা যেনো জমে যাচ্ছে। সে শক্ত হয়ে আছে।

"" What happened,, Jan এমন শক্ত হয়ে যাচ্ছো কেন?

"" আব,,কই,,তা কাল আপ,,আপনি কখন যাবেন?

আরিবার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম। তার বুকটা ক্রমশ উঠানামা করছে।

"" উম,,সকালে।কিন্তু তার আগে তোমাকে শাস্তি দেওয়াটা জরুরি জান।

"" আরিবা ভয় পেয়ে গেলো।

শা,,শাস্তি,, কিসের জন্য,,

"" ওমা ভুলে গেলে তোমার ভুলের জন্য যে আমি পাচটি বছর নিজের মেয়ে নিজের বউয়ের থেকে দুরে থাকলাম তার শাস্তি।

"" কথাটা শোনার সাথে সাথে আরিবার চোখ ভিজে উঠলো,, নিজের করা ভুলের জন্য জায়ান কত কষ্ট পেয়েছে।

জায়ান সবটাই বুঝলো তবে আপাতত সে আরিবাকে কোনো শান্তনা দিলো না।

"" আরিবা কাপা কাপা স্বরে বললো আমি সরি জায়ান,, আমি বুঝতে পারিনি নুর ম্যাম এমনটা করবে আমিতো।ঠোট ভেঙে শব্দ করে কেদে ফেললো।

"" হুম তবে আমি তোমায় ক্ষমা করতে পারি এক শর্তে যদি তুমি রাজি থাকো।

"" আরিবা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে মুখ তুলে চাইলো।

জায়ান আরিবার ঠোটে শব্দ করে চুমু খেলো। আরিবা তখনো তাকিয়ে আছে।

"" জায়ান চট করে আরিবার ঠোটে ঠোট ডুবিয়ে দিলো। আরিবা হতবাক সে তো জানতে চেয়েছিলো যে কি শাস্তি।

কিছুক্ষণ পর ঠোঁট জোরা ছেড়ে দিয়ে গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো।

I need you Jan,,I desperately need you,,

"" এমন কন্ঠ শুনে আরিবার গলা শুকিয়ে আসলো। জায়ান আমার ভয়,,ভয় করছে।

বিজ্ঞাপন

"" ভয়ের কিছু নেই জান এটা তোমার প্রথম নয়।হ্যা তবে অনেক বছর পর। কিন্তু আমি চেষ্টা করবো ডেস্পারেট না হওয়ার।কিন্তু না করো না।আমি মরে যাবো।

""আরিবার মনে পরলো পাচ বছর আগের সেই রাতের কথা। কলিজা শুকিয়ে আসলো তার সেই রাতে জায়ান কতোটা হিংস্র রুপ নিয়েছিলো ভেবে তার চোখ ভিজে উঠলো।

""I know,, আমি আগেরবার অনেক রুড ছিলাম কিন্তু তার যথেষ্ট কারন ও ছিলো।বলেই আরিবার বুক থেকে ওরনা শরিয়ে নিয়ে তার বুকের কাছটায় ঠোঁট ছুইয়ে দিলো।

আরিবা কেঁপে উঠল খানিকটা খামচে ধরলো জায়ানের চুল। এতে জায়ান আরো বেসামাল হয়ে উঠলো অনবরত ঘারে গলায় তারপর আরো খানিকটা নিচে নিজের ঠোঁটের স্পর্শে আরিবাকে বেসামাল করতে লাগলো।

তার হাত অনবরত আরিবার শরিরের নিষিদ্ধ স্থান গুলো ছুয়ে যাচ্ছে। নাহ নিষিদ্ধ নয় তার জন্য সবটা হালাল এই অসহ্যকর মেয়েটা সম্পূর্ণ হালাল তার জন্য। আরিবা সহ্য করতে পারছে না তার শরীর অনবরত কুকরে যাচ্ছে। একসময় বুঝতে পারলো তার শরীরের সমস্ত বস্ত্র শরিয়ে ফেলেছে।লাজ্জায় কুকরে উঠলো চোখ খিচে বন্ধ করে নিলো।

আজকের এই রাতে দুজনের মন প্রান দেহ মিলে একাকার হয়ে গেলো।দীর্ঘ পাচটি বছর ধরে যে দহনে পুছিলো তার সবটাই নিবারন হলো।

একটা সময় ক্লান্ত হয়ে জায়ানের বক্ষ তলে ঘুমিয়ে পরলো আরিবা।জায়ান ও তাকে জরিয়ে ঘুমের দেশে পারি জমালো।

সকালের মিষ্টি রোদের আলো পরতেই পিটপিট করে চাইলো জায়ান উঠতে নিলেই কেউ তাকে শক্ত করে জরিয়ে নিয়ে আছে বুঝতে পারলো।তাকাতেই দেখলো তার প্রানপ্রিয় অর্ধাঙ্গিনী, অসহ্য থেকে ভালোবাসায় পরিনত হওয়া নারী তার বক্ষে ঠোঁট পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে।

জায়ান খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগলো।

আরিবার পরনে জায়ানেরই সাদা শার্ট যা তার হাটুর একটু ওপরে উঠে আছো হালকা গোলাপি ঠোট জোরা বাচ্চাদের মতো ফুলিয়ে, তারপর তার নাক, কপালে এক গাছি চুল পরে আছে জায়ান তা পরম আবেসে সরিয়ে দিলো।বিরবিয়ে বললো,,

তুমি কখন আমার এতোটা আপন হয়ে গেলে জান।তোমায় তো আমি সহ্যই করতে পারতাম না। তবে অসহ্যকর থেকে আমার ভলোবাসা হয়ে উঠতে আর তোমাকে বুঝতে আমি বড্ড বিলম্ব করে ফেলেছি।তবে সব শেষে নিজের #বিলম্বিত_উপলব্ধি তে তোমাকেই পেয়েছি।

আলতো করে আরিবার কপালে চুমু খেলো। তবে এতে আরিবার স্বাদের ঘুম হাওয়া চোখ পিটপিট করে চাইতেই দেখলো জায়ান তাকিয়ে আছে তার দিকে

"" গুড মর্নিং জায়ান,, ঘুমু ঘুমু কন্ঠে মিষ্টি হাসি মুখের এই ডাক শুনে জায়ান যেনো কয়েকটা হার্টবিট মিস করে ফেলেছে।চট করে বুকে হাত রাখলো সে,,

আরিবা হকচকিয়ে উঠলো অস্থির হয়ে জানতে চাইলো,,কি হয়েছে তোমার?

"" বুকে ব্যাথা।

আরিবা অস্থিরতা যেনো আবার বেড়ে গেলো ঝটপট উঠতে চাইলো,,আপনি বসুন আমি আম্মা আর ডক্টরকে কল দিচ্ছি।

জায়ান তারাক আরিবাকে টেনে নিজের বুকে ফেললো।তার কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো,,

তোমার ওই স্নিগ্ধ মুখে ঘুমঘুম চোখে মাদকীয় কন্ঠে আমার বুকে ব্যাথা করছে জান। এ ব্যাথা যে ডক্টর সারাতে পারবে না।তবে চাইলে তুমি আমায় তোমার গোলাপি ঠোট দারা একটা চুমু দিতে পারো তাহলে তোমার স্বামীর বুকে ব্যাথা যদি ঠিক হয়।

"" আরিবা হতবাক,, আবার তার রাগ ও হলো সে কতো চিন্তায় পরেছিলো আর এই লোক তার সাথে মজা নিচ্ছে। সে জায়ান এর বুকে একটা কিল দিলো

অসভ্য লোক আমি ভয় পেয়ে গেছিলাম।

"" জায়ান শব্দ করে হেসে ফেললো।আরিবা নিরলস তাকিয়ে রইলো সেই হাসির দিকে। কি সুন্দর সেই হাসি।

মাম্মা,, বাবা,,

মেয়ের কন্ঠ পেয়েই আরিবা চট করে উঠে পরলো ওয়াশরুম এ চলে গেলো সে।

মায়রা গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এলো। বিছানায় উঠে বাবার গলা জরিয়ে ধরলো।

"" কি হয়েছে আমার মা টার? মন খারাপ কেন?

তুমি আজ চলে যাবে পাপা আবার আমায় রেখে যাবে?

সাথে সাথে জায়ান এর মন টা কেমন করে উঠলো আরিবাও ততক্ষণে বেরিয়ে এসেছিলো মেয়ের কথা শুনে তার ও বুকটা ভার হয়ে আসলো।

"" জায়ান মেয়ের চুল গুলো ঠিক করে দিতে দিতে বললো আমার মায়ের এর জন্য মন খারাপ?

আয়রা নিজের মাথা ঝাকালো।

"" কিন্তু বাবা তো কিছু দিন পরেই চলে আসবে তখন আমরা অনেক মজা করবো মা।

আয়রা মাথা ঝুকালো আরো কিছু সময় বাবার সাথে কাটিয়ে চলে গেলো।তখন হায়ানের চোখ পরলো আরিবার দিকে যে ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে। জায়ান একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো,, নিজের অর্ধাঙ্গিনী কে জরিয়ে নিলো নিজের সাথে। তার গালে নাক ঘসতে ঘষতে ধির গলায় বললো,, মন খারাপ করে না জান আমি তারাতাড়ি ফিরে আসবো।আর তাছাড়া এতো গুলো বছর নিজের স্বামী ছাড়া ছিলে একটা মাস তো কোনো বেপার না কি বলো?

"" আরিবার চোখের জল গুলো গরিয়ে পরলো। পরম যত্নে জায়ান তা মুছে দিলো।

বিজ্ঞাপন
বিলম্বিত উপলব্ধি গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় হৃদয়স্পর্শী সাংসারিক গল্প