নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ৯

🟢

আরিয়ান ভাবছিলো আজ সে জারাকে কোচিং থেকে নিয়াসতে যাবে। তাই সে রেহানকে বললো তুই জাবি আমার সাথে জারাকে আনতে যাবো?

"" তুই কেমন জারাকে নিতে জাবি ওইটা আমার জানা আছে জাবিতো সেই অরিনকে দেখতে তা যা, আমাকে কি দরকার?বলে রাগ করার ভান করলো।

"" দেখ রেহান তুই ভালোভাবে জানিস আমি তোকে কেন এসব বিষয় জানায়নি। প্রথম কারন আমি সিওর ছিলাম না যে আমি অরিনকে ভালোবাসি ।আর দ্বিতীয় যতদিনে আমি বুঝতে পেরেছি যে আমি ওকে ভালোবাসি ততোদিনে রায়ানের সাথে ওইসব ঘটনা ঘটে। তাই পরে আর বলার সুযোগ হয়ে ওঠে নি।

তোর এসব রাগ প্লিজ সাইডে রাখ।

"" রেহান আরিয়ানকে জরিয়ে ধরতে ধরতে বলে আরে দোস্ত আমি তো রাগ করিনি জাস্ট তোর সাথে একটু নাটক করছিলাম বলেই সয়তানি হাসি দলো।

"" উফ ছারতো তোর কি আমাকে ইয়ে মনে হয় ভাই যে এমন জোরাজোরি করছিস নাকি তুই আমার বিয়ে করা বউ বলেই চলে আসতে নেয়।

"" আর রেহান থতমত খেয়ে তাকিয়ে থাকে সামান্য জরিয়ে ধরায় আরিয়ান তাকে ইয়ে বানিয়ে দিলো ছি।বলেই সে মনে মনে ভাবলো জারাকে একটা সরি বলা দরকার সেদিন কোনো কারন ছাড়াই ময়েটার ওপর রাগ দেখিয়েছে সে।মেয়েটা বড্ড অভিমানি হয়তো অভিমান করে আছে ভেবেই একটু ফিচেল হাসলো।

"" তারপর বললো আরে আমাকে নিয়ে যা আমিও যাবো।দারা ভাই।

----------------------------------

অরিন,নাহার,জারা তিনজন দারিয়ে আছে। জারাকে নিতে আসছে আরিয়ান ফোনে জানিয়েছে তাই তারা দারিয়ে আছে।

জারাকে নিতে আসলে অরিন ও নাহারের বাসা একই দিকে তারা রিকশা নিয়ে একসাথে যাবে।আগে অরিন এর বাসা তারপর নাহারের বাসা।

অরিনের ভেতর মিশ্র অনুভুতি হচ্ছে সেদিন রিক্সা করে ওইভাবে চলে বসার পর সে আর আরিয়ান কে দেখেনি।তবে তার অবচেতন মন কেন জানি শুধু আরিয়ান এরি খোজ করেছে। কেন সে তা জানেনা।সে তো পছন্দ করে না ওই খাটাস টাকে।

ওই ছেলেটাতো তার কাছে খুবই বাজে। তার পরেও ওই মুখটা বার বার মনে পরে তার।

তার এক মন চায় তাকে দেখতে আরও এক মন তাকে সহ্যই করতে পারে না।এসব নিয়ে সে আজকাল খুব বিরক্ত।

এর মধ্যে আরিয়ান এর গাড়ি তাদের সামনে এসে দারালো। আরিয়ান নেমে আসলো গাড়ি থেকে তার পরনে কালো সার্ট চুল গুলো সবসময়ের মতো কপালে পরে আছে। চোখে কালো সানগ্লাস।স্বভাবতই মুখে গম্ভীর ভাব।সবকিছুর মাঝেই এক অদ্ভুত সৌন্দর্য আছে।

তারপরেই বের হলো রেহান। রেহানকে দেখে জারার মুখটা শুকিয়ে গেলো।সে চায়না রেহানের সাথে দেখা করতে।রেহান সামনে এসে তাকালো একবার জারার দিকে।সাথে সাথে জারা মুখ ফিরিয়ে নিলো।

রেহান হালকা হেসে অরিন কে বললো আরে অরিন কেমন আছো তুমি?

"" হ্যা ভাইয়া ভালো।আপনি কেমন আছেন?

"" আমিতো ভালো আছি আর তোমাদের সাথে এইটা কে?নতুন ফ্রেন্ড?(নাহারকে দেখিয়ে)

"" নাহার একটু হেসে বললো হ্যা ভাইয়া আমি নাহার।আপনি নিশ্চয়ই রেহান ভাইয়া।আর আপনি আরিয়ান ভাইয়া।তাইতো?

"" আরিয়ান হালকা হেসে বললো হুম আমি জারার ভাইয়া।

"" দেখ দেখ এখন ঠিকই হাসছে।কিন্তু আমার কাছে আসলেই তার হাসি নাই হয়ে যায় ।মনে মনে ভেবে মুখ ভেংচালো অরিন।

আরিয়ান একবার তাকালো অরিন এর দিকে তার পরেই বললো তোমাদের আজ প্রথম কোচিং কেমন গেলো?

"" কোচিং এর কথা বলতেই জারা আর নাহার মিটি মিটি হাসা শুরু করলো।

আরিয়ান আর রেহান বেপারটা বুঝতে না পেরে বললো কি ব্যাপার তোমরা হাসছো কেন?

"" অরিন আগে আগেই বললো আরে না ভাইয়া কিছুনা ওদের মুখে আজ পোকা পরেছে তাই হাসি থামছে না।বলেই চোখ গরম করে তাকালো দুজনের দিকে।

"" What পোকা!আরিয়ান বললো।

"" নাহার আর জারা চোখমুখ শক্ত করে তাকালো অরিনের দিকে।

অরিন মেকি হাসলো।

"" রেহান তাদের সবাইকে পর্যবেক্ষণ করে বললো তোমরা সত্যি করে বলোতো কি হয়েছে আর কিসের পোকা পোকা করছো বলোতো।

"" এবার নাহার হাসতে হাসতে পুরো ঘটনা খুলে বললো। রেহান হা করে তাকিয়ে আছে অরিনের দিকে।

কিছুক্ষণ পর হাসতে হাসতে বললো বাহ বাহ অরিন তুমি তো সেই একটা কাজ করছো মানে প্রথম দিনই স্যারকে থাপ্পড় বাহ বাহ।

"" আরিয়ান এবার মুখটা গম্ভীর করে বলে উঠলো গাধা হলে এমনি হয়।আগে থেকেই এক লাইন বেশি বুঝে।

"" অরিন এবার আঙুল তুলে বলে উঠলো আপনি আমাকে গাধা বললেন।

"" আরিয়ান তার হাতটা নিজের আঙুল দিয়ে নামিয়ে বললো গাধাকে গাধা বলবো নাতো কি বুদ্ধিমান বলবো।

বিজ্ঞাপন

অরিন আবার কিছু বলার জন্য হাত তুলতেই একটা আওয়াজে পেছনে তাকালে।

দেখলো দুরে গাড়ি নিয়ে রায়ান দারিয়ে আছে রায়ানকে দেখে সে কিছুটা অবাকি হলো।

এর মধ্যে রায়ান তাদের দিকে এগিয়ে আসলো।সবার দিকে একবার তাকিয়ে বললো কি ব্যাপার তোর কোচিং শেষ হইছে ৩০ মিনিট হইছে তুই এখোনো বাসায় যাসনাই কেন?

"" আসলে ভাইয়া জারার গাড়ি আসতে দেরি হচ্ছিল তাই Wait করছিলাম।এখুনি চলে যেতাম।

"" এর মধ্যে নাহার বলে উঠলো এটা কেরে অরিন।অরিন একবার সবার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো উনি আমার ভাইয়া রায়ান খান।

ভাইয়া এরা সবাই আমার ফ্রেন্ড। আর উনি (আরিয়ানকে দেখিয়ে)জারার ভাই আর (রহানকে দেখিয়ে)উনি ওনার ফ্রেন্ড।

"" রায়ান সবার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো Hi I'am rayan khan.

আরিয়ান তার সাথে হাত মিলিয়ে বললোI'am ariyan.রেহান বুঝতে পারছে না এরা এমন অপরিচিতর মতো ব্যাবহার কেন করছে।তারা তো একে ওপরকে চিনে তারপরেও সে একবার আরিয়ান এর দিকে তাকিয়ে হাই বললো।

"" বনু তুই গাড়িতে যা।

"" কিন্তু ভাইয়া নাহারকে রিকশায় উঠিয়ে দিতে হবে।

আচ্ছা তুই যা আমি তাকে রিক্সায় উঠিয়ে দিচ্ছি। অরিন চলে গেলো।

অরিন যেতেই রায়ান আরিয়ানের দিকে কিছুটা এগিয়ে এসে বললো"

""আমার বোনের থেকে দুরে থাকবি তুই।আমি চাই না তোর ছায়া ওর ওপর পরুক।

বলে চলে যেতে লাগলেই আরিয়ান বলে উঠলো,,

""ও আমার নীলাম্বরী ওর থেকে দুরে থাকার পথ অনেক আগেই ভুলে গেছি আমি"""

এবার পুরোপুরি কাছে পাওয়ার পালা শুধু,

যা তুই কেন পৃথীবির আটকাতে পারবেনা"""

""" আমিও দেখবো।বলে রায়ান চলে গেলো।

"" আরিয়ান ও বললো পারলে চেষ্টা করিস আলাদা করার।

"" রায়ান হালকা বাকা হেসে স্থান ত্যাগ করলো।

রায়ান আর আরিয়ান এর কথোপকথন এ পুরোটা সময় রেহান জারা আর নাহার হা করে তাকিয়ে ছিলো।রেহান ভাবছে রায়ান কি আগে থেকে জানতো আরিয়ান অরিনকে ভালোবাসে।

এদিকে নাহার ভাবছে তার মানে আরিয়ান ভাইয়া কি অরিনকে ভালোবাসে।

সে একবার জারার দিকে তাকালো।সে তাকাতেই জারা তার মনের কথা হয়তো বুঝতে পারলো তাই সে চোখ দিয়ে ইশারা করে আস্বস্ত করলো পরে সব বলবে।

রেহান কিছুটা গলা খাঁকারি দিয়ে বললো নাহার চলো আমি তোমাকে রিকশা তে উঠিয়ে দিই।নাহার তার কথায় চলে গেল।

"" রেহান আসতেই আরিয়ান বলে উঠলো গাড়িতে উঠ। জারা আর রেহান ও কিছু না বলে গাড়িতে উঠে বসলো।

--------------------------

"" ভাইয়া আজ তোমার ইন্টার্ন এর ফাস্ট দিন ছিলো।কেমন লাগলো?

"" হুম ভালো।

"" অরিন খেয়াল করলো রায়ান মুখটা গম্ভির করে রেখেছে তাই সে জিঙ্গেস করলো।

কি ব্যাপার ভাইয়া তুমি কি কোনো কারনে আমার ওপর রেগে আছো?

"" না।

"" কিন্তু আমার তো মনে হচ্ছে তুমি রেগে আছো মুখটাও গোমরা করে রেখেছো কিন্তু আমি তো কিছু করিনি ভাইয়া।

"" এমনি, তারপর একটু থেমে বললো তুই আরিয়ান এর থেকে দুরে থাকবি।

"" অরিন চমকে তাকালো বললো ভাইয়া তুমি আগে থেকে চিনতে ওনাকে?তাহলে বললে না কেন?কিভাবে চিনো অনাকে তুমি?

"" আব,,,না। হ্যা একটু আধটু।

অরিন তার কৌতুহল থেকে একটার ওর একটা প্রশ্ন করেই যাচ্ছে।

""" রায়ান হঠাৎ করেই ধমক দিয়ে বললো এতো কথা বলিস কেন তুই তোকে যতটুকু বলা হয়েছে ততটুকু ই কর আমি বলেছি ওর থেকে দুরে থাকবি তো দুরে থাকবি আর একটা কথাও শুনতে চাইনা আমি।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প