নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ৪

🟢

গড়িটি এসে থামলো বিশাল একটা বাড়ির সামনে। বড়ি বললে ভুল হবে অনেকটা রাজপ্রাসাদ এর মতো।নিরিবিলি জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে স্বপ্নের মতো এক বাড়ি—প্রাসাদের মতো বিশাল, অথচ আধুনিকতায় ভরপুর। সাদা আর হালকা ধূসর রঙে মোড়ানো পুরো বাড়িটা যেন নরম রোদের আলোয় ঝলমল করে ওঠে।

প্রবেশপথে রয়েছে চওড়া মার্বেলের সিঁড়ি, দুই পাশে সাজানো ফুলের টব আর ছোট ফোয়ারা থেকে জল ছিটিয়ে পড়ে। মূল দরজাটা বড়, কাঠ আর কাচের সংমিশ্রণে তৈরি, যা খুললেই সামনে পড়ে এক প্রশান্ত শূন্যতা।

বাড়ির ভিতরটা উজ্জ্বল আলোয় পরিপূর্ণ, দেয়ালজুড়ে হালকা টেক্সচার আর সাদা-সোনালি ছোঁয়া। মেঝেতে চকচকে টাইলস, ছাদের মাঝখানে ঝুলছে একটা বড় ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি—যেটা সন্ধ্যার পর আলো ছড়িয়ে দেয় চারদিকে।

বসার ঘরে বিশাল সোফা সেট, নরম কুশন, কাচের টেবিল আর বড় কাঁচের জানালা—যার ওপাশে সবুজ গাছপালা আর বাগানটা দেখা যায়।

বাড়ির একপাশে রয়েছে খোলা বারান্দা—যেখান থেকে দেখা বাহিরের সবটাই। বারান্দার এক কোণে রাখা আছে দুটি আরামদায়ক চেয়ার আর এক কাপ কফির মতো নিঃশব্দ সময়।

বাড়িটির প্রতিটি ঘরে হালকা পারফিউমের সুবাস, সাজানো গাছ, পর্দার আলতো দুলে ওঠা, আর একটি ভালোবাসাময়, শান্ত পরিবেশ।

এটা বাড়ি নাকি রাজপ্রাসাদ।

এক মুহূর্তের জন্য আমার মনে হল আমি কোন স্বপ্নলোকে চলে এসেছি।যেন একটু পরেই স্বপ্নটা ভেঙে যাবে এত সুন্দর বাড়িও হয়।

""হঠাৎ আরিয়ানের ডাকে অরিনের ধ্যান ভাঙলো।

""দাঁড়িয়ে আছো কেন ভিতরে আসো।

"" অরিন আরিয়ানের পিছু পিছু যেতে লাগলো।

কিছুক্ষণ পর একটি কাজের লোক এসে বললেন।

ছোট সাহেব আপনি এসে পড়েছেন। আমি বড় ম্যাডামরে ডাকতেছি তিনি জারা আপামনির রুমে আছেন।

""থাক ডাকতে হবে না আমরাই যাচ্ছি।

অরিন এসো আমার সাথে।

"" সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে গিয়ে মনে হলো অরিন নতুন করে স্বপ্নে চলে এসেছে।

""একটা রুমের সামনে এসে দারালো।

""আম্মু আসবো।

""ভেতর থেকে একজন মহিলা খুব সুন্দর কন্ঠে জবাব দিলেন। কে আরিয়ান এসেছিস? আয় বাবা ভিতরে আয়।

"" আরিয়ান অরিনকে চোখ দিয়ে ইশারা করে ভেতরে যেতে বললেন। অরিন গুটি গুটি পায়ে তার পিছু পিছু গেলো।

""একজন খুব সুন্দর মহিলা বয়স ৫০ছাড়িয়েছেন কিন্তু দেখে এখনো মনে হয়৩০ বছরের মহিলা।

তাকে দেখিয়ে বললেন ইনি আমার আম্মু "আয়রা আহমেদ। আম্মু ও হলো অরিন।জারার বান্ধবী। জারাকে দেখতে এসেছে।

তিনি অরিনের দিকে তাকিয়ে একটি মুচকি হাসলেন।

তার হাসিটা ঠিক আরিয়ানএর মতই সুন্দর ।

বুঝলাম আরিয়ান এর মুখটা অনেকটাই তার মায়ের মতো।

অরিন তাকে সালাম দিলা।

""তিনি সালাম এর উত্তর নিলেন।বললেন আয় বস দেখতো কি একটা কথা হঠাৎ করে জ্বর বাধিয়েছে। একটুও যত্ন নেয় না মা মরা মেয়েটা ছোট বেলা থেকেই আমার সাথে থাকে।

"" ওহ তোকে তুই করে বলাতে কি তুই রাগ করলি।

""না না আন্টি। আমি কিছু মনে করিনি আমার মা ও তো আমাকে তুই বলে আর আপনি তো আমার মায়েরি মতো।

""তোমরা কথা বলো আমি আসছি।বলেই আরিয়ান চলে গেলো।

আমি অনেক্ষণ আন্টির সাথে গল্প করে অরিন বুঝলো তিনি বেশ মিশুক।এতো বড়লোক হয়েও তার কনো অহংকার নেই।

ওই দেখ তোকে কতক্ষণ ধরে খালি মুখে বসিয়ে রেখেছি। তুই থাক আমি তোর জন্য খাবার নিয়ে আসছি।

""ব্যস্ত হবে না আন্টি আমি খেয়ে এসেছি।

""তা বললে কি হয় নাকি তুই থাক।বলে তিনি চলে গেলেন।

এর মধ্যে জারা ঘুম থেকে উঠে পরেছে।সে আমাকে দেখে ভূত দেখার মত করে চমকে উঠলো।

বলল তুই কোথা থেকে আসলি।কে নিয়াসলো তকে।

"আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকে সবকিছু খুলে বললাম।

""হায় আল্লাহ আমি যাইনি আর আজকেই এসব হতে হলো।

""তোর খুব ব্যাথা লেগেছে তাই নারে?

বিজ্ঞাপন

অরিন কিছু বললো না।

""কিন্তু ভাইয়া তোর সাথে এরকম ব্যবহার কেন করল।ভাইয়া একটু রাগি ঠিক আছে কিন্তু এতোটা না । ভাইয়া তো খুব হাসি খুশি।

"" হয়তো তার আমাকে পছন্দ নয় তাই এমন করে।

""তুই বল তোর হঠাৎ জর আসলো কেন এখন ঠিক আছিস?

"হুম।

জারা মনে মনে ভাবছে কোথাও তো একটা গন্ডগোল আছেই। নাহলে ভাইয়া হঠাৎ কেন অরিনের সাথে এমন ব্যাবহার করছে।

"এর মধ্যে মিসেস আয়রা আহমেদ কিছু খাবার নিয়ে এসে রাখলেন।

"আমি বললাম আন্টি এসবের কোনো দরকার ছিলোনা। আমি তো এক্ষুনি চলে যেতাম।

"কি বলো এখুনি কেন যাবে আজকের দিনটা থাকো।

"না আন্টি আমি বাসায় বলে আসিনি

আর আমার আব্বু আম্মু আমাকে একা কোথাও যেতে দেয় না।

"হ্যা তা অবশ্য ঠিক এখনকার যে দিনকাল মেয়েরা কোথাও সেভ না। তাই একা কোথাও না যাওয়াই ভালো।

"হুম।

"আচ্ছা তুমি খাবারটা শেষ করো লজ্জা পাবে না কিন্তু। আমি আরিয়ানকে বলছি তোমাকে যেন রেখে আশে বাসায়।

"না আন্টি সমস্যা নেই আমি একাই যেতে পারবো।

আসলে অরিন আরিয়ানের সাথে যেতে চাচ্ছিলো না তার ব্যাবহারের জন্য।

"কেন আবার রাস্তায় কোনো ছেলে প্রপোজ করবে হাত ধরে টানাটানি করবে বিষয় টা তোমার খুব ভালোলাগবে তাই-না আসলে তোমরা তো এই ধরনেরি মেয়ে খুশি হও এসবে।

"আরিয়ানের কথায় আয়রা বেগম তাকে ধমকে উঠলেন।এসব কি ধরনের কথা আরিয়ান আমি তোমাকে এই শিক্ষা দিয়েছি।যে একটা মেয়ের সাথে তুই এমন ব্যাবহার করবি।ছি আমার ভাবতেও লজ্জা লাগছে।

""মায়ের কথায় আরিয়ান কিছু না বলে চলে যেতে যেতে বললো ওকে বলো তারাতাড়ি বাহিরে আসতে।আমার অনেক কাজ আছে।

"এদিকে জারা ভাবছে তার শান্ত শিষ্ট ভাইটা হঠাৎ এমন কেন করছে কি হয়েছে তার।

"আরিয়ানের কথায় অরিনের চোখে পানি টলোমলো করছে।সে বুঝতে পারছে না তার ভুলটা কোথায় আর কেনইবা আরিয়ান তার সাথে এমন করছে।

"" তুই কিছু মনে করিস না মা আমার ছেলেটা এমন নয় তারপরও কেন যে এমন ব্যাবহার করলো বুঝতে পারছি না।

"আমি কিছু মনে করিনি আন্টি আমি আসছি।বলেই বেরিয়ে আসলো অরিন।

তার কিছু ভালোলাগছেনা

একটা অজানা অচেনা ব্যাক্তি তার চরিত্র নিয়ে কথা বললো বিষয় টা সে কোনোভাবে মেনে নিতে পারছে না।

সে হাটতে হাটতে বেরিয়ে আসলো তাকে যে আরিয়ান গাড়িতে করে দিয়ে আসবে বলেছিলো বিষয়টা তার মাথাতেই নেই।

হাটতে হাটতেই আচমকা তার সামনে একটা গাড়ি এসে দারালো সে চমকে তাকালো।

"আরিয়ান গাড়ি থেকে নেমে আসছে বোঝাই যাচ্ছে সে অনেক রেগে আছে কিন্তু কেন রেগে আছে বিষয় টা বুঝতে পারছে না অরিন।

"আরিয়ান তার ভাবনার মাঝেই বলে উঠলো ব্যায়াদপ মেয়ে তোমাকে না বললাম আমি তোমাকে নামিয়ে দিয়ে আসবো।অরিন বুঝতে পারলো আরিয়ান কেন রেগে আছে। কিন্তু সে এটা বুঝতে পারছেনা যে তার মতো একটা বাজে মপয়ের জন্য এই লোক কেন এতো চিন্তা করছে।

তার হঠাৎ ই মনে হলো কিছুক্ষণ আগে আরিয়ানের করা অপমানের কথা।

"রাগে তার মুখ লাল হয়ে উঠলো সে শক্ত গলায় বললো আমার ইচ্ছে আমি কিভাবে যাবো কোথায় যাবো আপনি বলার কে।আপনাকে এতো চিন্তা করতে কে বলেছে? কে আপনি আমার। আর আপনি তো বললেন যে আমাদের মতো মেয়েরা এমনি বাজেএএএ।

"ঠাসসসস আরিয়ানের চোখ মুখ একদম রাগে লাল হয়ে আছে তাকে এখন যে কেউ দেখলেই ভয় পাবে।তাকে দেখতে এতটাই হিংস্র লাগছে।

"অরিন ভয়ে জরসর হয়ে গেলো।

""রাগে তার মাথার চুল টেনে ধরলো কিছুতেই সে নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারছেনা।আচমকা সে অরিনের গাল শক্ত করে চেপে ধরলো।হিসহিসিয়ে বললো আমি কে সেটা তোকে পরে বুঝিয়ে দিবো।আর কখনো আমার সামনে এই ধরনের কথা বলবিনা।

"অরিনের চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পরছে।তার মনে হচ্ছে তার চোয়াল ভেঙে যাবে এতোটাই শক্ত করে চেপে ধরেছে আরিয়ান।সে অনেক কষ্টে বললো আমার ব্যাথা লাগছে আরিয়ান।

"হঠাৎ আরিয়ানের হুস ফিরতেই সে অরিনকে ছেরে দিলো তারপর গাড়ি থেকে পানি এনে অরিনকে দিলো।অরিন তা নিতে না চাইলে আরিয়ান দাতে দাত চেপে বললো আরেকটা খাবি থাপ্পড়।

"ভয়ে অরিন তারাতাড়ি পানির বোতলটা হাতে নিলো।

চোখে মুখে সামান্য পানি দিলো একটু।

"গাড়িতে গিয়ে বসো।অরিনের যেতে ইচ্ছে না করলেও ভয়ে সে গাড়িতে উঠে বসলো।

আরিয়ান গাড়ি চালাতে শুরু করলো। গাড়ি তাদের গলির সামনে আসতেই গাড়ি থামিয়ে দিলো

আরিয়ান। অরিন গাড়ি থেকে নেমেই গটগট করে হেটে চলে যেতে লাগলো।

"আরিয়ান বললো এই ব্যায়াদপ সামান্য আদব কায়দা জানোনা একজন তোমাকে সাহায্য করেছে তাকে ধন্যবাদ না দিয়েই চলে যাচ্ছো!

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প