নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ৩

🟢

হ্যা ভাইয়া শোনাও না।

অরিন তাকালো আরিয়ান এর দিকে।

""আরিয়ান বিরক্ত হয়ে তাকালো একবার।তারপর বললো তোরা কি চুপ করবি এতো কথা বলিস কেন।

তার কথা শুনে জারা রেহান দু-জনে চুপ হয়ে গেল।

অরিন মুখ ভেংচি কাটলো এ কোন আাজব দুনিয়ার মানুষ এতো attitude আসে কই থেকে।

""কিছুক্ষণ পর রেহান ভাইয়া বললো তুই কথা বলবিনা ভালো কথা আমাদের কেন বারন করছিস আজিব।

""আচ্ছা অরিন তোমার বাসায় কে কে আছেন।

""মা বাবা আর আমার ভাইয়া তবে ভাইয়া দেশের বাহিরে আছে এখন।

"""এখানেই নামিয়ে দিন।

""আরিয়ান গাড়ি থামিয়ে দিলো।

বললো এখানে কথায় তোমার বাসা?

""আর একটু সামনেই।একটু হেটে গেলেই হবে।বলে নেমে পরলাম।

""আমি নেমে রেহান ভাইয়াকে বললাম একদিন আসবেন আমাদের বাসায়।ভাইয়া ""বোন যখন হয়েছো তখন তো আসতেই হবে।

জারাকে বলে একবার আরিয়ান ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বললাম আসছি ভাইয়া।

সে একবার তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলেন।

""আমিও কিছু না ভেবে চলে আসলাম।বাসায় এসে দেখি বাবা এখনো ফিরেনি আমি ফ্রেশ হয়ে খেয়ে ঘুমিয়ে পরলাম। বিকেলের দিকে বাবা আসলে আমি তার কাছে গিয়ে বসলাম।

""বসতেই তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে মুচকি হেসে বললেন।তোমাকে কিছু কথা বলি আম্মু।

""আমি বললাম জী বাবা বলো।

""তিনি বললেন এখন সময় খুব একটা ভালোনা।আর আশেপাশের মানুষ তিলকে তাল বানাইতে এক্সপার্ট তাই সাবধানে চলাফেরা করবে।

""তোমাকে কেউ কিছু বলেছে বাবা?

""শুনলাম কে নাকি তোমাকে আজ গাড়ি করে নামিয়ে দিয়ে গেছে।

"" হ্যা বাবা আমার বান্ধবী ছিল।

""তিনি বললেন আমার তোমার প্রতি বিশ্বাস আছে আশাকরি তুমি কনো ভুল করবে না।

""আমি মাথা নেরে রুমে চলে আসলাম।

আসলে আজকালকার মানুষ গুলো এমন নিজে কি করছে সেটা দেখবেনা আরেক

জনের মেয়ে কি করলো কার সাথে পালিয়ে গেল এগুলো নিয়েই পরে থাকে।

কিন্তু তারা এটা ভাবে না অন্যের দিকে একটা আঙুল উঠালে বাকি চারটা আঙুল নিজের দিকেই উঠে ।

রুমে এসে ভাবলাম অনেকদিন কোনোকিছু লিখি না আজ একটু লিখি

""ভালোবাসা যদি নদী হয়

আমি তার পার তুমি আসো

ছুয়ে যাও, আবার সরে যাও

তবুও প্রতীক্ষায় থাকি

কারণ তুমি আসবে

এই বিশ্বাসেই বাঁচি।

থাক আর কিছু মনে পরছে না।ভেবে ফোন নিয়ে

বসে পরলাম দেখলাম জারা মেসেজ দিয়েছে।

ওর মেসেজ দেখে হঠাৎ আরিয়ান

ছেলেটার কথা মনে পরলো।কেন নিজেও জানিনা।

হঠাৎ ই তার বিষয়ে জানতে ইচ্ছে করলো।

এর মধ্যে জারাও আমাকে ফোন করলো।কথায় কথায় জানতে পারলাম রেহান আর আরিয়ান

দুজন ছোট বেলার বন্ধু আর দুজনেই বরিশাল মেডিকেল কলেজ এ পড়াশোনা করে।

আর কিছুক্ষণ কথা বলে ঘুমিয়ে পরলাম।

""পরদিন সকালে নিচে যেতেই বাবা বললেন বিকালে নাকি ভাইয়া আসবে। আমি তো অনেক খুশি কতদিন পর ভাইয়াকে দেখবো।সেই তিন বছর আগে হঠাৎ করে একদিন ভাইয়া এসে বললো সে নাকি বিদেশ যাবে পরতে। আমরা সবাই তো অবাক বাবাও রাজি ছিলেন না কিন্তু তার জেদের কাছে হার মেনে তাকে পাঠাতেই হলো।

তারপর রেডি হয়ে কলেজে চলে আসলাম

আজ একটু ভয় ভয় করছে কারণ ১ম দিন বাবা রেখে গয়েছিলেন।

আর ২য় দিন তো নবীন বরন ছিলো।

""ভয়ে ভয়ে কলেজের ভেতরে ডুকতেই কয়েকজন ছেলে আমার সামনে এসে দারালো।আমি মনে মনে ভয় পেলেও সামনে তা প্রকাশ না করে জিজ্ঞেস করলাম কি চাই তোমাদের।

বিজ্ঞাপন

তাদের মধ্যে একজন এগিয়ে এসে বললো

"তোমাকে"।

"" জ,, জি।

তাদের মাঝখান থেকে একজন এসে হাঁটু গেড়ে বসে আমাকে প্রপোজ করলো আমিতো হতবাক। বললো দেখ নীল পরি কাল তোমায় নীল শাড়িতে দেখেই প্রেমে পড়ে গেছি I love you.

""দেখুন আমার এসব পছন্দ নায়।

""কিন্তু আমার তোমাকে পছন্দ হয়েছে।আর এই হারুন এর যাকে পছন্দ হয় তাকে তার হতেই হয়।আর এখন তার তোমাকে পছন্দ হয়েছে।

""আমি তাদের পাশ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে গেলেই ছেলেটি আমার হাত ধরলো আমি রেগে তাকে থাপ্পড় মারলাম।রেগে থাপ্পর তো মারলাম এখন নিজেরি ভয় করছে।

""বুঝলাম ছেলেটা প্রচন্ড রেগে গেছে।সে রেগে আমার হাত মোচড় দিয়ে ধরে বললো তোর এতো বড় সাহস তুই আমাকে এই হারুনকে থাপ্পড় মারছিস।

""আমি হাতের ব্যাথায় ফুপিয়ে কেঁদে উঠলাম।এর মধ্যেই একটা থাপ্পড় এর শব্দ পেয়ে তাকাতেই আশ্চর্য হলাম।ইনি কথা থেকে এলেন?

আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম আপনি,,,,!

""আরিয়ান একবার অরিন এর দিকে তাকিয়ে আবার সামনের ছেলেটার দিকে তাকালো।

তারপর তাকে কোনো কথা ছাড়াই মারতে শুরু করলো। আমি তখনও ফুপিয়ে কেঁদে যাচ্ছি। আর অবাক হয়ে দেখছি।

আরিয়ান কোনোভাবেই থামছেনা মনে তো হচ্ছে ছেলেটাকে মারতে মারতে মেরেই ফেলবে।

সবাই যখন দেখলো যে আরিয়ান থামছে না তখন কয়েকজন এগিয়ে এসে তাকে ছারানোর চেষ্টা করতেই তিনি হুংকার দিয়ে উঠলেন আর বললেন। এখন কেন এগিয়ে আসছেন এতোক্ষণ তো তামাশা দেখছিলেন,সিনেমা চলছিলো এখানে তাইনা।আর আপনারা তাEnjoy করছিলেন।

""তার কথায় সবাই মাথা নিচু করে নিলেন।

ততক্ষণে আমার কান্না থেমে গিয়েছে।এখন তো আমার আরিয়াকে ভয় লাগছে।

তিনি সেই ছেলেটা র দিকে এগিয়ে গেলেন তারপর তার সাথে থাকা ছেলেদের দিকে তাকিয়ে বললেন

আর দ্বিতীয় বার যদি দেখেছি ওর দিকে কেউ চোখ তুলে তাকিয়েছিস তবে সেই চোখ আমি উপরে ফেলবো।

""তারপর তিনি আমার দিকে তাকালেন। পকেট থেকে রুমাল বের করে দিয়ে বললেন।ছিচকাদুনিদের মতো কাদছো কেন।

""আমি তার দিকে একবার তাকিয়ে রুমালটা নিলাম।তারপর চোখ মুছে।নাকটাও মুছে নিলাম।

তারপর তার দিকে রুমাল এগিয়ে দিতেই তিনি বিরক্ত হয়ে বললেন রুমালের যা অবস্থা করেছো

ওটা তোমার কাছেই রাখো।

""আমার রাগ হলো আরে ভাই এতোই যখন সমস্যা তাহলে আমাকে রুমাল দিলি কেন। এখন আবার ভাব দেখাচ্ছিস। কথাটা মনে মনে বললাম যতই হোক তিনি তো আমাকে সাহায্য করেছেন।

""এর মধ্যে সেখানে কিছু শিক্ষক

উপস্থিত হলেন।

আরিয়ান কে দেখে বললেন। কি হয়েছে আরিয়ান? কোন সমস্যা?

""আমি বুঝলাম এই কলেজে আরিয়ান অনেক জনপ্রিয়। তাকে কম বেশি সবাই চেনে এবং ভালোবাসে।

""আরিয়ান আমাকে তার পেছনে আসতে বললেন।

আমি তার পিছু পিছু গেলাম তিনি আমাকে প্রিন্সিপাল স্যার এর রুমে নিয়ে গেলেন।

তারপর প্রিন্সিপাল স্যারকে সবটা খুলে বলেন।

তিনি বিষয়টা ভেবে দেখবেন বলে জানালেন।

তারপর আমরা বাহিরে চলে আসলাম।

""আমি বললাম ভাইয়া আজ জারা আসবেনা।

তিনি আমার দিকে ভয়ংকর এক চাহনি দিয়ে বললেন আমি যার তার ভাই নই।তাই আমাকে ভাই ডাকা বন্ধ করো।

আমি একটু অপমানিত বোধ করলাম। যার তার বলতে তিনি কি বুঝিয়েছেন? মনে মনে কষ্ট পেলাম।

তারপর বললাম সরি।

"" জারা একটু অসুস্থ তাই সে আসেনি।

"" কি হয়েছে তার?

জ্বর তুমি চাইলে দেখা করে আসতে পারো।

আমি ইতস্ত করে বললাম আমি তোর বাসা চিনি না।

""আমি নিয়ে যাচ্ছি চলো আমার সাথে।

আমি তার পিছু পিছু গেলাম।

গাড়ির কাছে যেতেই আমি গাড়ির পেছনের সিটে বসে পড়লাম।

""তোমার কি আমাকে ড্রাইভার মনে হয়।

"" অরিন কথাটি ঠিক বুঝলো না। তাই জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকালো আরিয়ানের দিকে।

তিনি ধমক দিয়ে বললেন সামনে এসে বসো।

আমার কিছুটা খারাপ লাগলো সামান্য একটা বিষয় তিনি আমাকে ধমক দিবেন। তিনি তো আমাকে ঠিক ভাবে চিনেন ও না।

তারপর সামনে গিয়ে বসলাম।

গাড়ি চলতে শুরু করলো। পুরো রাস্তা কেউ কারো সাথে কথা বললাম না।

কেনই বা বলবো তিনি একটা অচেনা মেয়েকে কিভাবে ধমক দিতে পারেন। কে হন তিনি আমার তাকে এত অধিকার কে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প