নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ৮

🟢

অরিন,জারা,নাহার ক্যান্টিনে বসে আছে। তাদের সকলের হাতেই কফি।তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গল্প করেছে।

তবে অরিন অনেক্ক্ষণ ধরে খেয়াল করছে জারার কিছুটা মন খারাপ। অরিন জারা দিকে তাকিয়ে বলল কিরে তোর কি হয়েছে? তোর কি কোন কারনে মন খারাপ?

"" জারা চমকে তাকিয়ে বললো আরে নাহ আমার আবার কি হবে।

তাদের কথা শুনে নাহার ও জারার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে জারার থুতনিতে হাত রেখে বিজ্ঞদের মতো করে বললো।আমি বেশ বুঝতে পারছি এটা আমার বান্ধবীর ছ্যাকা খাওয়ার লক্ষ্মণ।

তার কথা বলার ধরন এতোটাই হাস্যকর ছিলো যে অরিন শব্দ করে হেঁসে ফেললো।

জারাও কিছুটা হাসলো তবে সেই হাসিতে কনো প্রান নেই।

এবার অরিন আর নাহার কিছুটা সিরিয়াস হয়ে জারাকে বললো কি হয়েছে না বললে কিভাবে বুঝবো জানেমান।

তাদের কথা শুনে জারার চোখে পানি চলে আসলো।সে আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলো না কান্না করতে করতে অরিন আর নাহারকে সবটা খুলে বললো।

তবে আরিয়ানের অরিনকে পছন্দ করার বিষয় টা বাদ দিয়ে।আর এটাও বললো রেহান কিভাবে তার ভালোবাসাকে আবেগ বলে দুরে ঠেলে দিয়েছিলো।

অরিন আর নাহার কিছু সময় থম মেরে বসে থেকে অরিন হঠাৎ করে জারাকে জরিয়ে ধরলো। তার চোখেও পানি।

"" হঠাৎ নাহার ধমকে বললো এই ছেমরি তোরা এইরকম মরা কান্না শুরু করলি কেন বল তো।কিছু একটা ভাবতে হচ্ছে দারা।এই রেহানকে তো আমি দেখে নেব আমার বান্ধবী কে কাদানো।

এর মধ্যে জারা ফোনে কল আসলো। সে কল রিসিভ করতেই আরিয়ান বলে উঠলো

""" জারা আমি একটু ব্যাস্ত তাই যেতে পারছিনা রেহানকে পাঠিয়ে দিচ্ছি ও তোকে কোচিং এ ভর্তি করিয়ে দিয়ে আসবে।

"" রেহান আসবে শুনেই জারা বললো তার কোনো প্রয়োজন নেই ভাইয়া আমি আমার বান্ধবীর সাথে চলে যাব। বলেই খট করে ফোন কেটে দিলো।যেন আরিয়ান আর কিছু না বলতে পারে।নাহলে সে রাহানকে পাঠিয়ে তবেই ছারতো। যা সে চায়না।

""" অরিন, নাহার আর জারার দিকে তাকিয়ে বললো চল কোচিং এ যাবিনা দেরি হয়ে যাচ্ছে তো।

"" হ্যা আমিও যাবো তোদের সাথে চল।

কিন্তু তুই তো বলেছিলি তোর খাটাস ভাই আসবে তোকে নিতে তাহলে?

"" নাহ আসবেনা। বলেই মনে মনে বলে উঠলো

আসলে """

যার চোখে আমাদের কষ্ট অদৃশ্য, তার জন্য

সময় দেওয়া মানেই নিজের

অনুভূতিকে অপমান করা,,,,,

------------------------------

রায়ান,আারিয়ান,রেহান, রবিন, সিয়াম সহ আরো ৩জনকে একি গ্রুপ এ একি ওয়ার্ড এ কাজ করতে দেওয়া হয়েছে।তারা আপাতত তারা

তাদের গ্রুপ এর সবার হিস্ট্রি চেক করার কাজ করছে।আরিয়ান সবথেকে মেধাবী হওয়ায় এবং সেই সাথে জনপ্রিয় হওয়ায় তাকে তাদের টিম এর লিডার হিসেবে কাজ করতে দেওয়া হয়েছে।

তারা সকলেই মনোযোগ দিয়ে কাজ করলেও সবার মধ্যেই একটা অস্থিরতা কাজ করছে।রেহান রায়ান,রবিন,সিয়াম,আরিয়ান একসময় অনেক ভালো বন্ধু ছিলো। কলেজে তাদের পঞ্চপান্ডব বলে ডাকতো।আর তারা সকলেই ছিলো অনেক মেধাবী তাই স্যার এরাও তাদের অনেক ভালোবাসতো।

এদের মধ্যে রায়ান, আরিয়ান,রেহানের বন্ধুত্ব ছিলো গভির কারন তারা স্কুল লাইফ থেকেই একসাথে। আর রবিন ও সিয়াম এর সাথে পরিচয় হয় কলেজ লাইফ এ।এদের মধ্যে আরিয়ান ছিলো কলেজে

ফেমাস তার ব্যাবহার ছিলো অনেক ভালো

দেখতেও ছিলো খুবই সুদর্শন। পড়াশোনার পাশাপাশি সে গান ও করতো অনেক ভালো।তাদের পঞ্চপান্ডব বন্ধুদের দেখে তাদের আরো ক্লাসমেট এরা হিংসাও করতো।তাদের মাঝে ঝামেলা

লাগানোর চেষ্টা করতো।এসব ভাবছিলো আরিয়ান ভাবতে ভাবতেই সে রায়ানের দিকে এগিয়ে গেল তার থেকে পেসেন্ট এর হিস্ট্রি চেক করতে যা এখন সিনিয়র ডক্টরকে জমা দিতে হবে।

"" কেমন আছিস?

"" রায়ান আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে আবার তার কাজ করতে শুরু করলো।

"" এতোটা অভিমান আমার অপর!

"" এবার রায়ান আরিয়ানের দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো অভিমান আমরা তাদের ওপর করি যাদের আমরা ভালোবাসি বিশ্বাস করি এবং যাদের সাথে আমাদের কনো গভীর সম্পর্ক রয়েছে।কিন্তু

আপনার সাথে আমার তেমন কোনো সম্পর্ক নেই।তাই এসব আজগুবি কথা না বলে তার হাতের ফাইলটা আরিয়ান কে ধরিয়ে দিয়ে বললো আমরা আমাদের কাজে মনোযোগ দেই।

""" আরিয়ান তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে ভাবছে তার একটা ভুল কি ক্ষমা করা যেত না সেকি এতোটাই খারাপ।

"" রায়ান রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দরজার সামনে রেহান, রবিন,সিয়াম তার পথ আটকে দারালো।রবিন চোখে পানি চিক চিক করছে সে বললো আমাদের অপরাধটাও বলে যা আমরা কি করেছি তোর সাথে যে আমাদের সাথেও কথা বলছিস না।

"" রায়ান তাচ্ছিল্য হাসলো তাদের কথায় বললো তোরা যদি আমাকে বন্ধুই ভাবতি তাহলে সেদিন আমার কথা বিশ্বাস করতি।যাহোক আমি তো খারাপ আমার চরিত্রের সমস্যা আছে তাই আমার থেকে তোরা দুরেই থাক।বলে সে চলে গেলো।

"" আরিয়ান পেছন থেকে সবি শুনছিলো রায়ানের বলা কথাগুলো যেন তীরের মতো বিধছে তার বুকে।

ভাবছে সে যদি একটু সেদিন রায়ান এর কথা বিশ্বাস করতো তাহলে তাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হতো না।কিন্তু সেই বা কি করতো সেতো

বিজ্ঞাপন

নিজের চোখে দেখেছিলো সবটা।আর যখন সে সত্যি জানতে পারলো ততদিনে রায়ান অস্ট্রেলিয়া চলে গেছিলো।

____________________________

অরিন বিরক্ত হয়ে বসে আছে আর নাহার ও জারা মিটি মিটি হাসছে।তারা তাদের কোচিং ক্লাসে বসে আছে তবে ক্লাসে কোনো ভাবেই মনোযোগ দিতে পারছে না কারনটা জারা আর নাহার। দুজনেই অরিন এর দিকে তাকাচ্ছে আর মুখ চেপে হেসে যাচ্ছে।

"" এই পেছনের তোমরা এমন হাসছো কেন? দারাও তিনজন, স্যার বলে উঠলো।

"" স্যার এর কথায় তারা তিনজনই উঠে দরালো।

"" get out.

"" কিহ?অরিন বলে উঠলো।

"" কি বললাম শুনতে পাওনি এটা ক্লাস এখানে মানুষ পড়াশোনা করতে আসে হাসতে আর ভুল ভাল বুঝে মানুষকে থাপ্পড় মারতে নয়।বলেই আবার অরিনের দিকে শক্ত চোখে তাকালেন।

"" তার কথায় অরিন ঢোগ গিলে মিনমিন করে বলে উঠলো স্যার আমি তো হাসি নাই। তাহলে আমাকে কেন বলছেন।

"" আবার কথা বলছো যাও বাহিরে।

"" তারা তিনজন বাহিরে আসতেই জারা আর নাহার শব্দ করে হেঁসে ফেললো তাদের হাসি যেনো থামার নামই নিচ্ছে না।

"" অরিন এবার চিৎকার করে বলে উঠলো তোরা কি চুপ করবি।

"" তার ধমকে জারা নাহার দুজনেই ঠোটে হাত দিয়ে মুখ চেপে হাসতে শুরু করল তাদের হাসি যেন থামছেই না।

"" এবার অরিন রেগে মুখ ফুলিয়ে ক্যান্টিনের দিকে গেলো।

"" আরে জানেমান আমরাও জাবো দারা।বলে নাহার জারা ওর পিছু নিলো।

"" তারা একটা টেবিলে বসে কফি ওর্ডার করলো।

"" নাহার আবারো হাসতে হাসতে বললো।অরিন তুই কি করলি বইন এইটা শেষে কিনা স্যারকে ১ম দিনেই থাপ্পড় বলেই আবার হাসলো অরিন এবার প্রচন্ড বিরক্ত হচ্ছে নিজের ওপরেই ও কি জানতো নাকি জে এইটা ওর টিচার।

জানলে মারতো কখোনো?

কিছুক্ষণ আগে,,,,,,

অরিন নাহার জারা তিনজন ক্লাসে যাচ্ছিলোই হঠাৎ দেখলো একটা মেয়ে কাঁদছে। তারা সেইদিকে এগিয়ে গিয়ে দেখলো মেয়েটা কাদছে আর ছেলেটা তার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে।

এরমধ্যে অরিন এর হঠাৎ ই প্রতিবাদি মনোভাব জেগে ওঠে। ও কোনোকিছু না জেনেই প্রচন্ড জোরে ছেলেটাকে থাপ্পড় মেরেই বলতে থাকে এই আপনার বাসায় মা বোন নেই যেখানে সেখানে মেয়েদের ডিস্টার্ব করেন।সমস্যা কি আপনাদের মেয়েদের দেখলেই নিজের পুরুষত্ব জেগে উঠে।

এবার ওই মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো আর তুমি কেন কাদছো চোখের পানি মুছো আর নিজের বাসায় জাও।মেয়েটা শুধু হা করে তাকিয়েই আছে।

এর মধ্যে সেই ছেলেটা অরিনের টিকে ভয়ংকর চোখে তাকিয়ে চলে গেল।

আশেপাশের সব স্টুডেন্ট রা তাদের দিকে তাকিয়ে ছিল।

এবার মেয়েটি বলে উঠলো আপু আপনাদের কোথাও ভুল হচ্ছে উনি আমাকে কিছু বলেননি উনি তো আরো আমাকে বাচিয়েছে।কয়েকটা ছেলেদের হাত থেকে।

"" কিহ,,,,।জারা নাহার অরিন তিনজনে চিল্লিয়ে বলে উঠলো।

"" হ্যা আর সব থেকে বড়ো কথা উনি খুবই ভালো একজন মানুষ।সবাইকেই অনেক সাহায্য করেন।

"" এবার অরিন পারলে কেদে দেয় এমন অবস্থা করে মেয়েটির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।

"" জারা বলে উঠলো আচ্ছা অরিন তুই নিজের বেলায় প্রতিবাদ করতে পারিস না কিন্তু অন্যের বেলায় ঠিকই একটা ছেলেকে থাপ্পড় মেরে বসলি।তোর সাহসের তারিফ না করে পারছিনা। তোর ভেতর এতো প্রতিবাদি মনোভাব আসলো কই থেকে?

"" চুপ। আমি কি জানতাম নাকি।

"" হ্যা হ্যা তাও ঠিক আচ্ছা যা হবে পরে দেখা যাবে। নাহলে পরে দেখা হলে সরি বলে নিস। এখন কোচিং এ ক্লাস শুরু হবে চল দেরি হয়ে গেছে।

--------------

"" may I come in sir.

"" yes.

"" অরিন এবার চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো। একি দেখছে সে। শেষে কিনা সে একজন টিচারকে থাপ্পড় মেরে বসলো এবার কি হবে তার।

"" কি হলো ভেতরে আসুন।

তারা ভেতরে গিয়ে বসতেই। তিনি বলে উঠলো নাম কি?

"" তারা একে একে বললো।

"" নতুন?

"" জি স্যার।

"" আচ্ছা বসুন।

তারপর তো সবটা জানেনই আপনারা।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প