নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ১১

🟢

অনেক্ষন ধরে অরিন আর আাখি বসে আছে। দুজন কফি ও খেয়েছে এবার অরিন বিরক্ত হয়ে বললো কিরে এখানে আর কতক্ষণ থাকবি?বাসায় গিয়ে আবার লাগেজ প্যাক করতে হবে কাল তো তোদের বাসায় যাবো নাকি?

আরে দারা ভাইয়া আসবে।

"" ভাইয়া আসবে মানে?আমাকে তুই আগে কেন বলিস নাই সয়*তান ছে*মরি আমি তাহলে আসতামি না।

"" কেন রে বইন কি এমন হইচে যে তুই ভাইয়ের সাথে কথা বলছিস না।

"" অরিন এবার সবটা খুলে বললো।

"" আজব ছেলেটা নিশ্চয়ই বাজে তাই ভাইয়া দুরে থাকতে বলেছে।

"" আরিয়ান কে খারাপ বলায় অরিনের একটু খারাপ লাগলো তারপর ও তেমন কোন রিয়াক্ট করলো না বললো দেখ আমি জানি উনি ভালো শুধু রাগটা একটু বেশি।আর ভাইয়া আমাকে বুঝিয়ে বলতে পারতো তানা করে আমাকে ধমক কেন দিলো।

"" পুরো কথা রায়ান পেছন থেকে শুনলো তবে কিছু বললো না।সে এসে একটা চেয়ারে বসে পরলো অরিন তাকে দেখেই মুখটা ঘুরিয়ে নিলো।

"" এর মধ্যে একজন ওয়েটার আসলো ওর্ডার নেওয়ার জন্য। সে তার জন্য কফি আর অরিন এর জন্য মিল্ক শেক Order করতেই অরিন চমকে তাকালো ভাইয়ের দিকে। রায়ান ও তার দিকে তাকিয়ে ছিলো।সে তাকাতেই মৃদু হেসে বললো কি ভেবেছিলি আমি ভুলে গেছি।

অরিন সত্যি ভেবেছিলো তার ভাই হয়তো ভুলে গেছে।এতে যেন অরিনের সব রাগ পরে গেলো।

আখি তা বুঝতে পেড়ে বলল আরে

বাবা অনেক হইছে তোমাদের ভাই বোনের অভিমান।আমার খুব ক্ষুধা পেয়েছে

কিছু অর্ডার করো তো। রায়ান তার দিকে তাকিয়ে হাসি দিয়ে অর্ডার করলো তাদের পছন্দ

মতো খাবার।খাওয়া শেষ হতেই তারা গেলো শপিং মলে। শপিং শেষে বাসায় ফিরলো তারা।

--------------------

জারা বসে গল্প করছে আজ আরিয়ানদের বাসায় তার মামাতো বোন নেহা আর তার ভাই নেহাল এসেছে।জারা বসে নেহাল এর সাথে গল্প করছিলো।আর নেহা আয়রা আহমেদ এর সাথে এর মধ্যে সেখানে রেহান আর আরিয়ান উপস্থিত হলো।

আরিয়ানকে দেখেই নেহা যেন খুশি হয়ে গেলো।নেহা আর আরিয়ান

সমবয়সী নেহা ঢাকা মেডিকেল কলেজ এর স্টুডেন্ট। সে ছোটবেলা থেকেই আরিয়ানকে পছন্দ করে সবসময় তার সাথে চিপকে থাকে আর তার এই চিপকে থাকাটাই রেহান

সহ্য করতে পারে না। আর নেহাল নেহার থেকে দুই বছরের ছোট সে ঢাকা ভার্সিটির স্টুডেন্ট। সেও জারাকে ওনেক পছন্দ করে

কিন্তু তা বুঝতে দেয় না।

আরিয়ান আসতেই নেহা তার দিকে এগিয়ে এসে বললো আরে আরিয়ান কই ছিলি তুই এতোক্ষণ তোকে কতো মিস করেছি জানিস?

"" না আমি কিভাবে জানবো।আমার কি জানার কথা ছিলো।আর আসার পর থেকেই এমন গায়ে পরছিস কেন তোকে না বলেছি আমার

থেকে দুরে থাকবি।

"" আরিয়ান এর কথায় নেহা কষ্ট পেলেও কিছু বললো না সে তার থেকে কিছুটা দুরে গিয়ে বললো এমন করে বলছিস কেন।

"" ঠিকি তো বলেছি।

আরিয়ান ও নেহার এই গায়ে পরা স্বভাব পছন্দ করে না। বিরক্ত হয়ে বার বার অপমান করলেও নেহা নির্লজ্জ এর মতো তার পেছনেই পরে থাকে।

"" আরিয়ান এর অপমান করায় রেহান যেন খুশি হয়েছে।সে মনে মনে বললো বেশ হয়েছে ঢঙ্গী বেডি,বেহায়া।তারপর তার চোখ গেলো জারার পাশে থাকা নেহাল এর দিকে।যেখানে জারা

আর নেহাল হেসে হেসে গল্প করছিলো।সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ সেদিকে।সে এটাও খেয়াল করলো জারা আজ তার দিকে তাকিয়ে নেই।অন্য সময় হলে জারা তাকে দেখলেই তার চোখ

যেন চকচক করে উঠতো।কিন্তু কিছুদিন হলো জারা যেন রেহানকে অবহেলা করছে।

এরমধ্যে নেহা তাকে ডেকে উঠলো আরে রেহান যে কেমন আছো?

"" রেহান কিছুটা হাসার চেষ্টা করে বললো হ্যা ভালো তা কি মনে করে হঠাৎ এখানে আসলে?

তার কথার উত্তর না দিতে দিয়েই সে নেহাল এর দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো কি ব্রাদার কেমন আছো দিনকাল কেমন চলছে?

"" হ্যা ভাইয়া ভালো।

বিজ্ঞাপন

রেহান এগিয়ে এসে নেহাল এর পাশে বসলো।রেহান বসতেই জারা উঠে দারিয়ে বললো আমার কিছু কাজ আছে আমি আসছি বলে চলে গেলো।

রেহান ঠিকই বুঝতে পারলো জারা তাকে দেখেই উঠে গেছে।

তারপর সে তার রুমে চলে গেলো।রেহান এর বাসা আরিয়ান দের বাসার পাশেই কিন্তু আরিয়ান আর আয়রা আহমেদ এর অনুরোধ

এ সে এখানে থাকে আর তার বাবা মা ব্যাবসার কারনে ঢাকা থাকে।আরিয়ান এর বাবা ও রেহান এর বাবা একে অপরের বিজনেস পার্টনার। আর আরিয়ান এর বাবা ছয় মাসের জন্য ব্যাবসার কাজে

কানাডা গেছেন।রেহান এর বাবা মা সবসময় তাদের নিজের লাইফ নিয়েই বিজি থাকতো

ছোট বেলা থেকে সে মেড দের কাছে বড়ো হয়েছে আর যেটুকু ভালোবাসা তা আয়রা আহমেদ এর কাছ থেকেই পাওয়া।

--------------------

সকালে ঘুম থেকে উঠলো অরিন তার মা জাহানারা খান এর ডাকে। তিনি সেই সকাল থেকে সবাইকে ডেকেই যাচ্ছে না আখি উঠছে না

রায়ান না অরিন।

তিনি এবার বিরক্ত হয়ে নিজের স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললো আমার যতো হয়েছে জালা আমি তো দাসি হয়েছি তোমাদের এতোদিন পর নিজের

ভাইয়ের বাসায় যাবো তাও এদের সহ্য হচ্ছে না আপনি কিছু বলবেন আপনার ছেলে মেয়েদের। এই আপনার ছেলে মেয়েদের জন্য আমি কোথাও গিয়ে

শান্তি পাই না।জীবনটা শেষ করে দিলো আমার।

মিজানুর রহমান খান তার কথায় তেমন একটা কান দিলেন না। তিনি শান্তভাবে চা খাচ্ছেন

আর খবরের কাগজ পরছেন।এর মধ্যে সেখানে অরিন এসে বসলো।

"" গুড মর্নিং আব্বু।

"" মিজানুর রহমান খান মেয়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন গুড মর্নিং।

"" অরিন তার মায়ের বকবকানি শুনে একপলক বাবার দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বললো কি ব্যাপার আব্বু সকাল সকাল আম্মু এমন গান শুনচ্ছে কেন বলোতো।

"" তিনি মেয়ের আরেকটু কাছে এসে বললেন এ গানের উৎস তুমি আর তোমার ভাই মা।

"" অরিন এবার একটা ঢোক গিললো।তার মা একবার শুরু করলে আর থামবে না।

এর মধ্যে আখি এসে জাহানারা বেগমের পাশে দারিয়ে বললো ফুপি সকাল সকাল কি শুরু করলে বলোতো।জাহানারা বেগম নিজের ভাইয়ের মেয়েদের খুব ভালোবাসেন তারা যতো ভুল ই

করুক না কেন তাদের সাত খুন মাপ।তাই তিনি চুপ করে গেলেন এবং আঁখির মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন তুই উঠেছিস মা যাতো অরিন আর রায়ানকে ডেকে দে।আরে ফুপি অরিন তো উঠে

পরেচে আর রায়ান ভাইয়াকেও আসার সময় ডেকে এসেছিস।

তিনি খুশি হয়ে বললেন তুই আমার সোনা মা।আর যতো সতো হয়েছে আমার ছেলেমেয়ে।

তাদের কথোপকথন শুনে অরিন মুখ

বাকালো।আর মিজানুর রহমান খান যেন হাপ ছেড়ে বাচলেন।আর যাই হোক তার স্ত্রী থেমে গেছেন।

--------------------------

অরিন এরা ঢাকায় এসেছেন কিছুক্ষণ আগে অরিন এর মায়েরা দুই ভাই এক বোন।অরিন এর মামারা

একসাথেই থাকেন তার বড় মামা রোশান ইসলাম এর দুই মেয়ে বড় আদ্রি আর ছোট মেয়ে আখি।আর তার ছোট মামা রিসাব

ইসলাম তার এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে অরিন এর বয়সি নাম রাফসান।আর মেয়ে অনার্স এ পরে নাম রিয়া।অরিন এর কাজিন

মহলের সবার খুব ভাব।এর মধ্যে আদ্রি,রায়ান,রিয়া সমবয়সী আর আখি রাফসান আর অরিন সমবয়সী। তারা সবাই নিজের ভাই বোনের মতোই মেলামেশা করে।

আর অরিন এর দুই মামি, বড় মামি মাহিরা বেগম আর ছোট মামি মেহনাজ বেগম।অরিন আর রায়ানকে খুব স্নেহ করেন।

সবার সাথে কুশল বিনিময় করেই তাদের মামা বললেন তোমরা আজ খাওয়া দাওয়া করে তারাতাড়ি ঘুমিয়ে পরো কাল সকালে সবাইকে রিসোর্টে যেতে হবে।

আসলে আদ্রির বিয়েটা রিসোর্টে হবে তাদের দুই পরিবার মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তাই সবাই রাতের খাবার শেষ করে যার যার রুমে চলে গেলো।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প