নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ১৪

🟢

সকাল থেকে বিয়ের তোরজোর শুরু হয়েগেছে।তোরজোর বলতে তেমন তো কিছুই করতে হচ্ছে না শুধু কনে রেডি হবে আর কাজিনরা জারা গেইট ধরবে তাদের তো আনন্দের

শেষ নেই।

সকাল থেকেই শুরু হয়েগেছে নেহার ফেসিয়াল ফেস মাস্ক আরো জা থাকে আর রেহান জারা নেহাল বসে বসে শুধু দেখছে।

নেহা যদিও জারাকে বলেছিলো তার সাথে করতে কিন্তু জারা না করে দিয়েছে।নেহাল তো সবসময় জারার পেছনে লেগেই আছে জা

নিয়ে জারা কিছুটা বিরক্ত তবে তা প্রকাশ করছে না।

রেহান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সব খেয়াল করছে আর রাগে ফেটে পরছে। তার রাগটা মুলত জারার ওপর জারা কেন নেহাল কে কিছু বলছে না।হঠাৎ ই রেহান জারার হাত ধরে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে

লাগলো আরে ভাইয়া কোথায় নিয়ে যাচ্ছো আমি পরে যাবোতো।নেহাল ও অবাক হলো।তবে রেহানের কোন ভাবান্তর নেই।

সে জারাকে নিয়ে এক কোনায় এসে দার করে শক্ত করে তার দুই বাহু চেপে ধরলো। বললো সমস্যা কি তোর কিছু বলছিস না কেন।

"" জারা একটু অবাকই হলো কারন রেহান তাকে তুই বলেছে যা আগে কখনো হয়নি।সে বললো আমার লাগছে ভাইয়া ছারো।

"" লাগুক লাগার জন্যই ধরেছি আর তুই আমাকে ইগনোর করছিস।

"" জারা বললো আশ্চর্য তোমাকে কেন ইগনোর করবো আমি আজব।আর কিসব বলছো কাকে কি বলবো আমি।

"" কেন নেহালকে পাশে পেয়ে খুব ভালো লাগছে না।তোদের মতো মেয়েকে খুব ভালো করে জানা আছে আমার।বলেই ঝারি মারলো জারাকে ফলে তার কপালে লাগলো।তবে রেহান তা

খেয়াল করলো না।সে রাগে ফোসফাস করে চলে গেলো।তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে জারা কষ্টেরএক হাসি দিয়ে মনে মনে বললো:

কেন এমন করছো ভাইয়া তুমি বলেছো বলেই তো তোমার থেকে দুরে আছি তোমার তাও সহ্য হচ্ছে না কি চাও তুমি আমি মারা যাই।

তার চোখ দিয়ে দু ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো।

-------------------------

অরিন একটার পর একটা ড্রেস দেখে যাচ্ছে কিন্তু তার কিছুই পছন্দ হচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর রায়ান এসে বোনের এই অবস্থা দেখে বললো কি করছিস বনু এগুলো।

"" দেখো না ভাইয়া আমার একটা ড্রেস ও পছন্দ হচ্ছে না।

"" রায়ান একটু হাসলো তারপর ধুসর রঙের একটা ড্রেস ধরিয়ে দিয়ে বললো যা এটা পরে আয়। অরিন ও দেরি করলো না ড্রেসটা পরে বুঝলো তাকে বেশ মানিয়েছে ধুসর রঙের জামায়।

সে সাজতে শুরু করলো,,,,,,,

রয়ান হাটতে হাটতে বাগানের দিকে এগিয়ে গেল এখানেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।যেহেতু বর পক্ষ কনে পক্ষ একি রিসোর্ট এ আছে তাই শুধু দুই দিকে আলাদা গেইট করা হয়েছে।

রায়ান এগিয়ে গিয়ে দেখলো সেখানে রেহান আর আরিয়ান দারিয়ে আছে তা দেখে সে ঘুরে চলে আসতেই রেহান ডেকে উঠলো

"" রায়ান,,,?

"" রায়ান ঘুরে তাকালো।

"" আরিয়ান ও তাকালো তাতে চোখাচোখি হলো দুজনের,রায়ান চোখ সরিয়ে নিয়ে বললো আমি এমনি ঘুরতে আসছিলাম।

"" আমরাও তো ঘুরতেই আসছি তুই ও আয়।

"" নাহ।

"" আর কতো রেগে থাকবি রায়ান?একটা ভুল হয়ে গেছে এখন সেই সময়টাতো ফেরত পাব না আমরা বল?

পুরোটা সময় আরিয়ান চুপ ছিলো।

"" হুম সেটাই সেই সময়টা তোদের এই টিপিক্যাল সরি দিয়ে আমি ফিরিয়ে নিয়াসতে পারবোনা।

"" হঠাৎ অরিন কথা থেকে ছুটে এসে রায়ানের সামনে দারিয়ে বললো উফ ভাইয়া তোমায় কতো যায়গায় খুজছি। খুজতে খুজতে শহিদ হয়ে গেলাম যেন।

এখন বলোতো আমাকে কেমন লাগছে বলেই সে সামনে তাকালো এতোক্ষণ সে নিজের কথায় ব্যাস্ত ছিলো।সমনে রায়ান ছারাও যে আরিয়ান আর রেহান দারিয়ে আছে তা সে খেয়াল করেনি এখন চোখে পরতেই খানিকটা লজ্জা পেলো।

"" তার কথায় রায়ান কিছু বলবে তার আগেই আরিয়ান বলে উঠলো "মাশাআল্লাহ"

বিজ্ঞাপন

রায়ান তাকালো আরিয়ানের দিকে। রেহান কেশে উঠলো। অরিন ও তাকালো।

রেহান ভাবছে এখন না জানি এই দুজনের যুদ্ধ লেগে যায়। তাই সে বলে উঠলো।

আরে অরিন বোন আমার তোমাকে একদম প্রিন্সেস এর মতো লাগছে মাশাআল্লাহ দেখতে লাগছে।তাই তো আরিয়ান বললো কথাটা।তাইনা রায়ান।অরিনের হঠাৎ করেই কাল হলুদের সময়ের কথা মনে পরে গেলো। তাতেই তার লজ্জা খানিকটা বেড়ে গেলো সে দৌড়ে সেখান থেকে চলে গেলো।

অরিন যেতেই রায়ান বলে উঠলো তুই আমার বোনের থেকে দুরে থাকবি।

"" পারবোনা।বলেই শান্ত চোখে তাকালো রায়ানের দিকে।তারপর আবার বললো তুই তো বলেছিলি তোর বোন শুধু আমার তাহলে কথার খেলাপ করছিস কেন? তুই তো কখনো এমন করিস না।

"" তুই আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছিস?

"" না আমি শুধু তোকে মনে করালাম আমি জানি যেটা আমি তোর সাথে করিছি তা অন্যায় আর সেটা আমি মানি।আর সেই অপরাধ বোধ নিয়েই

আমি এই ৩টা বছর কাটিয়েছি কতো টেক্সট ইমেইল করেছি তোকে কিন্তু কোন উত্তর পাইনি।

তোর বিষয় টা এমন যেন আমি ইচ্ছে করে করেছি তোর সাথে এমন।

তুই একবার ভাব যে তুই আমার যায়গায় থাকলে কি করতি।বলেই সে সেখান থেকে চলে গেলো।

"" রেহান বলে উঠলো একটাবার ভাবিস।বলে সেও চলে গেলো।

"" রায়ান তাদের কথায় নিজের অতীত এ ফিরে গেলো..

৩বছর আগে;

রায়ান আরিয়ান একদম ছোট বেলা থেকেই বেস্ট ফ্রেন্ড। তাদের সেই ফ্রেন্ডশীপ

কলেজ পর্যন্ত রয়ে গেছে।

রেহান এর ছোটবেলা টা খুব ডিস্টার্ব কেটেছে তারপর

কলেজে সে বরিশাল আরিয়ানের সাতে ভর্তি হলে রায়ান আরিয়ান মিলে তাকে স্বাভাবিক করে তোলে।পাশাপাশি সিয়াম রবিন ও তাদের খুব ভালো ফ্রেন্ড ছিলো।

তাদের কলেজে অনেক শুনাম ছিলো কারন তারা যেমন দুষ্টু তেমন ব্রিলিয়ান্ট। তাই স্যারেরা তাদের পঞ্চপান্ডপ বলে ডাকতেন।

কিন্তু

কলেজের একদল মানুষ ছিলো যারা তাদের এই বন্ধুত্ব সহ্য করতে পারতোনা।এরা পাচজন সব বিষয় এগিয়ে থাকে তারা মেনে নিতে পারতো না।

আরিয়ান আগে থেকেই খুব ডিসেন্ট ম্যান সে অন্যায় সহ্য করতে পারেনা।পাশাপাশি ফ্যামেলি পাওয়ার তো ছিলোই তাই

তাদের নজর পরে রায়ানের ওপর ভাবে কোনভাবে ওকে ফাসিয়ে দিলেই চলবে।আর এতেই ফাটল ধরে তাদের বন্ধুত্বর।

"" সেই কলেজেই এক মেয়ে ছিলো নাম "নিশা"সে রায়ানকে খুব পছন্দ করতো এককথায় পাগল ছিলো তার জন্য কিন্তু রায়ান তাকে পাত্তা দিতো না।বার বার ফিরিয়ে দিতো।

আর শত্রুরা সেই নিশাকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যাবহার করে।

প্রতিদিন এর মতো সেদিন ও রায়ান কলেজে আসে আরিয়ানদের আসতে সেদিন কিছুটা দেরি হয় তাই সে লাইব্রেরি রুমে চলে যায়। লাইব্রেরি অন্যান্য দিনের তুলনায় ফাকা ছিলো।

রায়ান একটা বই নিয়ে পরতে শুরু করে।

কিছুক্ষণ পর নিশা আসে সেখানে রায়ান দেখেও না দেখার ভান করে।

"" কি করছো রায়ান।

"" দেখতেই পরছো পরছি।

"" আমার বিষয় টা একটু,,,

"" রায়ান হঠাৎ ই রেগে যায় তোমার বিষয় কি হ্যা তোমার কি লজ্জা নেই।মেয়েদের তো প্রচুর লজ্জা থাকে আল্লাহ তোমাকে দেইনি নাকি বুঝিনা।

"" নিশা রাগ উঠে যায়।সে হঠাৎ করেই চিৎকার শুরু করে দেয়।নিজের জাৃার এক অংশ ছিরে ফেলে।নিজের হাত দিয়েই আচর কাটে।

রায়ান তো হতবাক সে তাকে থামাতে তার হাত ধরে এতেই যেন বিপদ আরেকটু বেড়ে যায়,,

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প