নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ১৬

🟢

"" তার কথা শুনে আখি বললো আমরা একটু ইউনিক।

"" আরিয়ান বললো আইসক্রিম চকলেট এখন কথায় পাবো।আর ক্যাশ এতো কে সাথে রাখে।

"" ক্যাশ না থাকলে কার্ড দিয়ে দিন আমাদের কোন সমস্যা নেই।

"" এই মেয়ে বলে কি একলক্ষ টাকায় কতগুলো শুন্য হয় যানো তুমি।

"" হুম জানি তো৫টা ভাইয়া।

"" একটু কম করো বইনা।

"" তাহলে বিয়ে করার দরকার নেই চলে যান।

"" এই কথা শুনে নাহিদ বলে উঠলো নাহহ আমি বউ নিয়েই যাবো।

"" আরিয়ান বললো ছি তুই আমার ভাই হয়ে বিয়ের আগে বউ পাগল হয়ে গেছিস।আমার তো লজ্জা লাগছে বলেই নিজের কার্ড এগিয়ে দিয়ে ভিতরে আসতে চাইলেই।বললো আমাদের ডিমান্ড এখনো পুরন হয়নি।

"" মানে?

"" মানে আমাদের আইসক্রিম ও চকলেট।

"" রেহান এবার কাঁদো কাঁদো গলায় বললো অরিন মা আমার এবার ছেড়ে দাও অটা নাহয় বাকি থাক।

"" তারপর অনেক্ক্ষণ তর্কের পর তারা গেট ছড়ে দিলো।

বিয়ের পর্ব শেষ আপাতত যে যে যার মতো গল্পে লেগে আছে।

আর তাদের কারোরই বাসায় যাওয়ার কোনো তারা নেই তাই যে যে যার মতো পার্টি এনজয় করছে।

আর কাল সবাই যারযার মতো রিসোর্ট থেকে বাসায় চলে যাবে।

অরিন আর জারা একপাশে গল্প করছিলো এর মাঝে সেখানে রেহান উপস্থিত হয়।

"" জারা তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে একটু এসো তো।

"" অরিন ও তাকালো রেহানের দিকে।

"" আমি একটু ব্যাস্ত ভাইয়া তাই যেতে পারবো না।

"" রেহান শক্ত করে তাকিয়ে চলে গেলো।

"" অরিন এবার বললো সেই তখন থেকেই দেখছি তুই ভাইয়াকে ইগনোর করছিস ভাইয়া তোর পিছু পিছু ঘুরছে তুই তো এমন ছিলি না জারা।

"" জারা মুখে হালকা হাসি টেনে বললো

জানিস হুমায়ুন আহমেদ এর একটা কথা আছে

প্রতিটি মেয়ে নিষ্ঠুর হওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়,তবে কে কতটা নিষ্ঠুর হয়,

সেটা তার সাথে ঘটে যাওয়া কারনের উপর নির্ভর করে।

আচ্ছা আমি একটু আসছি তুই দ্বারা বলে জারা সেখান থেকে চলে গেলো।

"" তবে অরিন স্পষ্ট দেখতে পেলো জারার চোখে জল ছিলো।সে হতাশ শ্বাস ফেললো। সে তো কখনো কারো প্রেমে পরেনি কাউকে এতো ভালোবাসেনি তাই জারার কষ্ট টা অনুভব করতে পারছে না।

"" কিরে পে*ত্নী তোর তো কোনো পাত্তা পাওয়া যাচ্ছে না বললো আরাফাত।

"" অরিন তার পিঠে চাপর মেরে বললো সয়তান তুই আবার আমাকে পে*ত্নী বলছিস দেখিস তোর বউ হবে পে*ত্নী।

তারা আরো অনেক কথা বলছিলো আর হাসাহাসি করছিলো।

"" কিন্তু দুর থেকে একজন রাগে ফেটে পরছিলো তাদের এই হাসাহাসি দেখে।সেটা আর কেউনা বরং আরিয়ান।

"""অরিনের নিচে ভালোলাগছিলোনা আর ড্রেস অনেক ভারি হওয়ায় সে চেঞ্জ করার জন্য উপরে যাচ্ছিলো হঠাৎই তার হাত ধরে কেউ টেনে একটা ঘরে নিয়ে গেলো।সে ভয়ে চিৎকার করার আগেই তার মুখ চেপে ধরলো।

অরিন ছোটাছুটি করছে ছাড়া পাওয়ার জন্য কিন্তু তার এই ছোটাছুটি তে যেন সামনের লোকটার কোন ভাবান্তর নেই।

"" Don't Shout,,

"" অরিন আরিয়ানের গলা পেয়ে একটু শান্ত হয়ে তার চোখ খুললো।এতক্ষণ সে ভয়ে চোখ বন্ধ করে ছিলো।চোখ খুলতেই সে হতবাক সামনে আরিয়ান তার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে।

"" অরিন তার চোখ দেখে কিছুটা ভয় পেলো।সে কিছু বলবে তার আগেই আরিয়ান তার গলা চেপে ধরে বললো,খুব ভালোলাগে না ছেলেদের সাথে হেসে হেসে কথা বলতে হ্যা।

কই আমার সামনে তো কখনো হাসিস না তুই। আমাকে চোখে পরেনা তোর হ্যা আমি বাদে দুনিয়ার সবার সাথে ভালোভাবে কথা বলিস তুই কিন্তু আমাকে দেখলেই পালিয়ে বেরাস হ্যা।

"" অরিনের চোখ দিয়ে অনর্গল জল গরিয়ে পরছে তার শ্বাস আটকে আসছিলো কিন্তু সে বুঝতে পারছেনা কেন আরিয়ান এতো রেগে গেছে আর কখন সে বাহিরের কারো সাথে হেসে হেসে কথা বললো।আর সে কথা বললেই তাতে আরিয়ানেরি বা কি?

"" কিছুক্ষণ পর আরিয়ান অরিনের গলা ছেড়ে দিলে সে কাশতে শুরু করলো।আরিয়ান নিজের রাগকে কন্ট্রোল করতে চাইছে।সে কয়েকটা শ্বাস টেনে আবার অরিনের দুই বাহু শক্ত করে ধরে বললো।এই মেয়ে তাকা আমার দিকে তুই বুঝতে পারিসনা আমি তোকে ভালোবাসি হ্যা কেন বুঝিস না তুই।

অরিন যেন অবাক হলো আরিয়ান তাকে ভালোবাসে।এটা কি শুনছে সে।

"" সোন তুই শুধু আমার তোর মুখের হাসি শুধু আমার জন্য থাকবে নেক্সট টাইম তোকে অন্য কারো সাথে দেখলে তোকে শেষ করে ফেলবো আমি তারপর নিজেকে শেষ করে দিবো।বলে তাকে ঝারি মেরে হনহন করে চলে গেলো।

"" কিন্তু অরিন তখনও থম মেরে আছে। কিছুক্ষণ পর সে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো।

বিজ্ঞাপন

-----------------

তুমি আমাকে ইগনোর কেন করছো জানতে পারি?

"" দেখুন ভাইয়া আমি আপনাকে ইগনোর করছিনা।আপনি আমার ভাইয়ার ফ্রেন্ড সেই হিসেবে যতটুকু প্রায়োরিটি প্রয়োজন আপনার বা আপনাকে দেওয়া উচিত বলে মনে হয়েছে তার থেকে বেশি দিয়েছি আমি।

তবে আপনি নিজেই তা ত্যাগ করেছেন। আমাকে বারন করেছেন আপনার আশেপাশে থাকতে আর আমি সেটাই করছি।

"" রেহান আচমকা জারার দুই বাহু শক্ত করে চেপে ধরে বললো তাই বলে তুমি অন্য ছেলেদের সাথে মিশবে আর এটা আমি মেনে নেব।

'"""আমার লাগছে ভাইয়া বলে রেহানের হাত ঝারি মেরে ফেলে দিলো জারা।

"" আমি কার সাথে কথা বলবো মিশবো সেইটা সম্পুর্ন আমার ব্যাক্তিগতো ব্যাপার। এখানে আপনার এই অযাচিত কথার মানে হয় না ভাইয়া।

"" তাই পরেরবার এই ভুলটা করবেন না। তাহলে আমি ভুলে যাবো আপনি আমার ভাইয়ার ছোটবেলার বন্ধু।

"" বলে জারা সেখান থেকে চলে গেলো।

"" রেহান স্তব্ধ হয়ে দারিয়ে আছে সে জারার এমন ব্যাবহার মেনে নিতে পারছেনা তার বুকের কোথাও একটা চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে কিন্তু তার কারন কি তা তার জানা নেই।

-------------------

রায়ান অনেক্ক্ষণ ধরে অরিনকে খুজছে কিন্তু তার কোন খোঁজ নেই।

তাই সে রুমের দিকে গেলো।

রুমের দরজা খুলতেই দেখলো অরিন গুটিশুটি হয়ে শুয়ে আছে।

"" সে বোনের মাথয় হাত দিতেই অরিন ঘুরে তাকালো।

তোর কিছু হয়েছে বনু?

"" নাহ ভাইয়া এমনি ভালো লাগছিলো না আর মাথাটাও ঘুরছিলো তাই শুয়ে পরলাম।

"" বলিস কি আমি ঔষধ নিয়াসার ব্যাবস্থা করছি।

"" আরে নাহ ভাইয়া একটু শুয়ে থাকলেই ভালো লাগবে।

"" ঠিক তো?

"" একদম।আচ্ছা তুই ঘুমা আমি আছি তোর পাশে।

"" হুম ভাইয়া।

-----------------------------

"" পেরিয়ে গেছে কয়েকটা দিন অরিনেরা সবাই বিয়ের পর্ব শেষ করে বাসায় চলে এসেছে।

"" তবে সেদিনের পর থেকে আরিয়ানের সাথে অরিনের দেখা হয়নি।

"" আরিয়ান অনেকবার জিজ্ঞেস করেছে জারাকে কলেজের সামনে কোচিং এর সামনেও দারিয়ে থেকেছে মেয়েটাকে একবার দেখার জন্য।কিন্তু তার কোন পাত্তা নেই।আরিয়ান যেনো পাগল হয়ে যাচ্ছে। অরিনকে দেখতে না পেয়ে।

রায়ানকেও কিছু বলতে পারছে না কারন বলে তো লাভ নেই।

"" এদিকে রায়ান ঠিকই বুঝতে পারছে তার বোনের কিছু হয়েছে নাহলে যে মেয়ে সারাদিন বাড়িটাকে মাতিয়ে রাখে। এটা ওটা আবদারের শেষ নেই।সে এতো চুপচাপ কিভাবে।

"" কলেজ কোচিং এও নিয়ে যেতে পারছে না।

"" প্রথম কদিন অতটা গুরুত্ব না দিলেও এবার জাহানারা খান ও চিন্তিত হয়ে পরলেন।

"" রায়ান তাকে আসস্ত করলেন।সে নিজে কথা বলবে অরিনের সাথে।

"" বিকেলে রায়ান অরিনের ঘরে গিয়ে দেখলো রুম অন্ধকার করে অরিন শুয়ে আছে। না ঘুমিয়ে নেই সে কিছু একটা ভাবছে।

"" সে রুমের লাইট জালালেও এতে অরিনের কোনো ভাবান্তর হলোনা।যেনো সে এই দুনিয়াতেই নেই।

"" অরিন।অরিন,,,দুবার ডাকার পরেও যখন সে কোনো জবাব দিলো না।

তখন সে কাছে গিয়ে তাকে হালকা ধা*ক্কা দিলে অরিন লাফিয়ে বসে পরলো।

"" আরে রিল্যাক্স আমি ভাইয়া।

"" হ্যা ভাইয়া বলো কি হয়েছে কিছু বলবে।

"" রায়ান তাকালো বোনের মুখশ্রীর দিকে মুখটা কেমন শুকিয়ে গেছে চোখের নিচে কালিও পরেছে। সে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললো।

"" ঘুরতে যাবি? শুনলাম এখানে নতুন একটা রেস্টুরেন্ট খুলেছে সেখানকার বিরিয়ানির টেস্ট নাকি সেই।

"" না ভাইয়া ভালো লাগছে না।

"" রায়ান মুখ কালো করে ফেললো।

"" অরিন ভাইয়ের মুখের দিক তাকিয়ে বললো আচ্ছা তুমি যাও আমি আসছি।

"" রায়ান এবার খুশি হলো।

আচ্ছা তুই তারাতাড়ি আয়।বলে বেরিয়ে গেলো।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প