নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ১৯

🟢

রাতে আয়রা বেগম আর সুহানা চৌধুরী রান্না করছিলেন আর গল্প করছিলো।

"" সুহানা চৌধুরী হলো রেহানের মা।তিনি আজ সন্ধায় দেশে ফিরেছেন।

"" রেহান আর আরিয়ান বাসায় আসতেই সুহানা চৌধুরী রেহানকে দেখে খুশিতে গদগদ হয়ে তাকে জরিয়ে ধরতে গেলেই রেহান দুরে সরে গেলো।

"" এতে সুহানা চৌধুরী কিছুটা অপমানিত বোধ করলেন।

কি হয়েছে বেটা এতোদিন পর তোমার মম এসেছে তুমি তাকে জরিয়ে ধরলে না।

"" ওফ প্লিজ মম তোমার এই নাটকিয় ভালোবাসা তোমার কাছেই রাখো প্লিজ।

আর তোমরা এখানে কেন এসেছো আমি বুঝতে পারছি না।

"" আমরা তোমার সাথে দেখা করতে এসেছি বেটা।আমি কি নিজের ছেলের সাথে দেখা করতে আসতেও পারবো না বলো।

"" হ্যা অবস্যই পারো দেখা হয়ে গেছে সকাল বেলা চলে যাবে।

"" এটা কেমন কথা রেহান উনি তোমার মা বললেন আয়রা বেগম।

"" হ্যা আমি জানি মামনি উনি আমার মা তবে সেই দায়িত্ব উনি কোনোদিন ও পালন করেননি।আর তুমি আমার কেউ না হয়েও আমার ওপর সব দায়িত্ব পালন করেছো।বলে হেটে চলে গেলো নিজের রুমে।

তাই অনার এই সো কল্ড ভালোবাসা আমাকে দেখাতে বারন করবে।

"" আরিয়ান আর জারা একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। এটা নতুন কিছু না যতোবারি রেহানের বাবা মা তার সাথে দেখা করতে আসে ততোবারি এমন হয়।

"" সুহানা চৌধুরী রাগে ফোসফাস করছেন আর মনে মনে ভাবলেন রেহানের বাবা আসলে ছেলের সাথে কথা বলবেন।

"" কারন রেহান তাকে না মানলেও তার বাবাকে মানে।

আর যে করেই হোক তিনি তিসার সাথে রেহানের বিয়েটা দিতে চান।

----------------------

কি করছিস বনু?

"" তেমন কিছু না ভাইয়া সামনে এক্সাম তাই পরতে বসলাম।মাঝখানে আপির বিয়ের কারনে ওনেক গ্যাপ পরে গেছে।

"" আচ্ছা শোন তোকে একটা গল্প শোনাই। ছাদে চল।

"" কিসের গল্প ভাইয়া।আর আমি এখন ছোট আছি যে তুমি আমাকে গল্প শোনাবে।

"" আরে চলনা ছাদে চল আর দুই কাপ কফি নিয়াসবি সাথে।

"" ওকে তুমি যাও আমি আসছি।

"" হুম বলো।কি গল্প বলবা আমার অনেক পড়া বাকি আছে।

"" হ্যা হ্যা তুমি তো অন্য সময় পড়ে আমাদের উদ্ধার করে ফেলো না।

"" ভাইয়া আমার পড়া নিয়ে কিছু বলবা না।আমি তোমার মতো ব্রিলিয়ান্ট না।

"" আচ্ছা মন দিয়ে শুনবি কিন্তু। তারপর রায়ান বলতে শুরু করলো কেন সে এই দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিল।

সবটা শুনে অরিনের চোখ ছলছল করছিলো।অরিন ভাবছে তার ভাইটা কতো কষ্ট নিয়ে এই দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিল কাউকে বলেই নি।

সেও তো ছোট ছিলো তাই বুঝতেও পারেনি।ইস সে যদি একটু বড়ো হতো।

"" রায়ান অরিনের চোখে পানি দেখে বললো আরে পাগলি কাদছিস কেন?

"" তোমার খুব কষ্ট হয়েছিল তাইনা ভাইয়া।

"" হ্যা তা একটু হয়েছিল আর সবথেকে বেশি কষ্ট হয়েছিলো আরিয়ানের ওপর ও আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড ছিলো কিনা।আমরা এক আত্মা এক প্রান চিলাম।

"" আরিয়ানের কথা শুনে অরিনের মুখটা মলিন হয়ে গেলো।

"" ওহ তারমানে এইজন্য তুমি আরিয়ান ভাইয়াকে সহ্য করতে পারতে না?

"" হুম।প্রথম এ ওর ওপর রাগ হলেও পরে বুঝলাম ওর কোনো দোষ ছিল না।

"" ওহ।

"" হ্যা এবার বল তোর কি হয়েছে?আমি তোর ভাই মাঝখানে কয়েকবছর হয়তো তোর কাছে ছিলাম না তবে তোকে আমি চিনি।

।তুই আরিয়ানকে ভালোবাসিস এইটাও বুঝি।তাহলে কেন ওকে রিজেক্ট করেছিস?

"" রায়ানের এমন সরাসরি প্রশ্নে অরিন হকচকিয়ে গেল।সে ভাবতে পারেনি তার ভাই তাকে সরাসরি এভাবে প্রশ্ন করবে।

না ভাইয়া আসলে তেমন কিছু না।

"" তাহলে কেমন কিছু। তুই জানিস আরিয়ান তোকে কতো বছর হলো ভালোবাসে।তারপর রায়ান আরিয়ানের করা পাগলামির কথা খুলে বললো।

"" সব শুনে অরিন হতবাক চোখে তাকিয়ে রইলো। সে তো জানে আরিয়ান তাকে কিছুদিন হলো চিনে। মানে কলেজেই প্রথম দেখা।

আরো আগে থেকে যে তাকে চিনে তাকে ভালোবাসে তা তো অরিন জানতো না।

বল এবার আমাকে কি হয়েছে তোর?

"" অরিন এবার ভাঙা গলায় বলতে শুরু করলো

ফ্ল্যাশব্যাক:

সেদিন অরিন যখন ড্রেস চেঞ্জ করতে উপরে এসেছিলো,,,,,,

বিজ্ঞাপন

""দারাও।

"" অরিন দারিয়ে গেলো।

"" আমাকে কিছু বলবেন আন্টি?

"" হ্যা তুমি তো অরিন তাইনা।তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বললেন কামিনি রায়।

"" জি হ্যা আন্টি।কোনো সমস্যা।অরিন ইতস্তত করে বললো।

"" কামিনি রায় অরিনকে একবার উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ভালোবাবে দেখে বললেন।

তা দেখতে শুনতে তো ভোলাভালাই লাগে। চেহারাও ভালো তা এই রুপ দেখিয়েই বড়োলোক ছেলেদের ফাসাও নাকি?

"" মানে আমি আপনার কথা ঠিক বুঝতে পারলাম না আন্টি।

"" হ্যা তা কেন বুঝবে।এখন তো এমন ব্যাবহার করবে যেনো ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানোনা।শোনো আরিয়ানের থেকে দুরে থাকবে তুমি।তোমাদের মতো দুইটাকার মেয়েদের আরিয়ান টিস্যুর মতো ব্যাবহার করে ছেড়ে দিবে বুঝলে।

আরিয়ানের সাথে আমার মেয়ে নেহার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে।

তাই ওর দিকে আর ওর সম্পত্তির দিকে নজর দেওয়া বন্ধ করো।

"" অরিনের চোখ দিয়ে অনর্গল পানি পরছে সে কি করেছে তাও বুঝতে পারছেনা তার তো আরিয়ানের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।

কিন্তু এই মহিলা তাকে এসব কি বলছে।সে কিনা তার রুপ দেখিয়ে ফাসিয়েছে বলছে।

আর কি বললো নেহার সাথে যদি আরিয়ানের বিয়ে ঠিক হয়েই থাকে তাহলে আমার সাথে এমন ব্যাবহার করার কারন কি?মনে মনে ভাবলো অরিন।

"" অরিন নিজের চোখের পানি মুছে বললো। আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে আন্টি আমার সাথে আরিয়ানের কনো সম্পর্ক নেই আর না কখনো হবে।

বলে অরিন ওপরে চলে আসে।

বর্তমান :

রায়ানের চোখমুখ লাল হয়ে গেছে। সে অনেক কষ্টে নিজের রাগকে কন্ট্রোল করতে চাইছে।

"" অরিন ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে ভয় পেলো বেশ।

ভাইয়া উনি তো ঠিকি বলেছে তাইনা ওনারা কতো টাকা পয়সার মালিক আমাদের তো কিছু নেই আর নেহা আপির সাথেও ওনার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। তাহলে আমার সাথে এমন করার মানে কি।

"" তুই আমাকে বলিস নি কেন বনু? তোর আমাকে বলা উচিৎ ছিলো কথাটা।শক্ত কন্ঠে বললো রায়ান।

"" অরিন মাথা নিচু করে বললো আমি চাইনি কোনো ঝামেলা হোক তাই তোমাকে বলিনি ভাইয়া।

"" আচ্ছা তুই নিচে যা।

"" কিন্তু

"" আমি যেতে বলেচি তো তোকে।

"" অরিন কিছু না বলে নিচে চলে আসলো।

--------------------

আজ জারার জন্ম দিন।প্রত্যেকবার আরিয়ান জারার জন্মদিন অনেক সুন্দর করে পালন করে পাশাপাশি রেহানেরাও থাকে।

তাই জন্মদিন উপলক্ষে আজ সবাই এসেছে নেহা, নেহাল,এক কথায় আরিয়ানের নানার বাড়ির সবাই আসবে এদিকে অরিন নাহার রায়ান এরা সবাই আসবে অরিন প্রথমে আসতে চাইছিলো না তবে রায়ান তাকে অনেক কষ্টে মানিয়েছে।

"" অরিন অনেক ভেবে বুঝলো সে না গেলে জারাও অনেক রাগ করবে। তাই সে রাজি হয়ে গেলো।

-----------------

এদিকে রেহানের বাবা মা ও কিছু একটা প্ল্যান করে রেখেছেন বিকেলের জন্য।

"" আরিয়ান সকাল থেকে কাজ করছে। সাথে রেহান, নেহাল আর আদিব এর একটা কাজ থাকায় সে আসতে পারবে না তাই আদ্রি ও আসেনি।

"" আপাতত বাসার ড্রইংরুমে জারা, নেহা,তিসা বসে আছে একটার পর একটা ড্রেস দেখাচ্ছে কিন্তু জারার কোনোটাই পছন্দ হচ্ছে না।

"" এর মধ্যে সেখানে আরিয়ান আর রেহান এসে উপস্থিত হলো।

"" উফ ভাইয়া দেখো না আমার কোনো ড্রেস পছন্দ হচ্ছে না।

""তার কথা শুনে একবার আরিয়ান রেহানের দিকে তাকালো তারপর সবগুলো ড্রেস থেকে একটা রেড গ্রাউন হাতে নিলো।

"" তার হাতের ড্রেস দেখেই জারার মুখে হাসি ফুটলো।এতক্ষণ সে এতো ড্রেস দেখলো কিন্তু কনোটাি পছন্দ হলো না অথচ এই ড্রেসটা কত সুন্দর।

"" সে আরিয়ানের হাত থেকে ড্রেসটা নিয়ে বললো ভাইয়া তোমার চয়েস সবসময় বেস্ট। এতোক্ষণ আমাদের চোখে পরে নি।

"" হ্যা তোর তো কাজ আমাকে দিয়ে খাটানো তাছারা আর কি।

"" তার কতা শুনে জারা হেসে দিলো।

আচ্ছা ভাইয়া শুনো না তুমি একটু নাহার আর অরিনকে নিয়াসার ব্যাবস্থা করবে প্লিজ।

"" তার কথা শুনে নেহা ফুসে উঠে বললো জারা তুমি এতো হাই ক্লাস এর মেয়ে হয়ে তোমার বান্ধবী রা এমন কেনো বলতো। যাদের কনো ক্লাস নেই।

"" তার কথা শুনে আরিয়ান কিছু বলবে তার আগেই জারা বলে উঠলো।

সোনো আপু তোমার কাছে ফ্রেন্ড বড়োলোক গরিব দেখে হলেও আমার কাছে তা না।আর তাছাড়া ওরা গরিব হলেও মন মানসিকতা তোমাদের থেকে ভালো আছে।

বলে সে হাতের ড্রেস নিয়ে রুমে চলে গেলো।

"" কামিনি রায় জারার এমন উত্তর শুনে রাগে ফুসছেন।তিনি জারাকেও তেমন একটা সহ্য করতে পারেন না শুধু শুধু এই বাড়িতে পরে থাকে।

আর এরাও এমনভাবে রাকে যেনো নিজের মেয়ে।শুধু একবার বেহাকে এই বাড়িতে বিয়ে দিয়ে নিয়াসতে পারলে জারাকেও বাড়িথেকে বের কটে দিবেন।

"" আয়রা আহমেদ কে এবিষয়ে ফুসলিয়ে কোনো লাভ হয় না।

"" আরিয়ান আর রেহান আর কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেলো।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প