নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ২৩

🟢

""আরিয়ান অরিনকে খাবার খাইয়ে দেত

অরিন অবস্য নিজে হাতে খেতে চেয়েছিলো।কিন্তু আরিয়ানের চোখ রাঙানিতে আর কিছু বলে নি।অরিনকে খাওয়ানোর পাশাপাশি আরিয়ান নিজেও খেয়ে নিলো।খাওয়া শেষে অরিনের মুখ মুছে দিয়ে। সার্ভেন্টকে দিয়ে প্লেট নিচে পাঠিয়ে দিলো।

"" আরিয়ান এবার অরিনের মুখটা তার দুই হাতের আজলায় নিয়ে বললো তুমি জানোনা নিলাম্বরী তুমি আমার কতো শখের এক জীবনে তোমাকে পাওয়ার কতো ইচ্ছে আমার।

তাই ঠুনকো কনো কারনে আমাকে কখনো ছেড়ে যেওনা প্লিজ।বলে অরিনকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।যেনো কখনো তাকে ছারবে না।

"" অরিন ও পরম আবেশে চোখ বুজে নিলো।সে জানে আরিয়ান তাকে কতেটা ভালোবাসে। সেও হয়তো আরিয়ানকে অনেক ভালোবাসে।

অনেকক্ষণ এভাবে কেটে যাওয়ার পর অরিন বললো আপনি আমাকে এতো ভালো কেনো বাসেন আরিয়ান?

""তোমাকে ভালোবাসার আমার কাছে নির্দিষ্ট কোন কারণ নেই।শুধু জানি তোমার ওই নীল চোখে চোখ পরলে আমি হারিয়ে যাই।তোমার ঠোঁটের হাসি আমার শান্তির কারন।

""অরিন এবার আরিয়ান এর বুক থেকে মাথা উঠিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বললো যদি হারিয়ে যাই।

""তবে আমিও হারিয়ে যাবো।

"" অরিন এবার চোখ ছলছল করে তাকালো।

"" আরিয়ান ফিচেল হাসলো তা দেখে।বললো অনেক হয়েছে এবার আপনাকে যেতে হবে তা না হলে আপনার ভাই সত্যি আমার গর্দান নিয়ে নেবে।ভাববে সত্যি আমি তার বোনের সাথে কিছু করে দিয়েচি বলে দুষ্ট হাসলো।

"" অরিনের ও এবার মনে পরলো অনেকটা সময় হলো সে এসেছে। সে আরিয়ান কে ছেড়ে দুরে দাড়ালো।

আরিয়ান ফোন বের করে রায়ানকে ফোন লাগালো।

চলো তোমাকে গেট পর্যন্ত পৌঁছে দেই।

"" অরিনের পা যেনো চলছে না যতো যাই হোক রায়ান তার বড়ো ভাই তার ভিষণ লজ্জা লাগছে।

"" কি হলো চলো।

"" হুম বলে সে ধিরে ধিরে আরিয়ানের পিছনে চলতে শুরু করলো।

"" নিচে গিয়ে দেখলো রায়ান তার জন্য অপেক্ষা করছে।তাবে রায়ানের ভাবভঙ্গি একদম স্বাভাবিক তাই অরিনের তেমন অস্বস্তি হলো না।

সে ভাইয়ের সাথে চলে গেলো।

---------------------

কথায় আছে আমরা যতই আত্মসম্মানি হই। যতই কঠোর হই।কিন্তু কোনো এক নির্দিষ্ট মানুষের কাছে আসলে সেইসব কঠোরতা ভেঙে যায়।আত্মসম্মান ভুলে তার কাছেই বার বার ফিরে যাই।

জারার বিষয়টাও তেমন। সে রেহানের অপর যতই অভিমান করুক।দিনশেষে সে তাকে প্রচন্ড ভালোবাসে।তার কষ্ট সে কোনোভাবেই সহ্য করতে পারেনা।সেইসময় রেহানের রাগ ঠান্ডা হওয়ার আশায় সবাই রুম থেকে বেরিয়ে আসে।

"" কিন্তু রেহানের হাত থেকে রক্ত পরছিলো যা জারার সহ্য হচ্ছিল না।তাই সে কিছুক্ষণ পরে আবার ফাস্ট এইড কিট নিয়ে আসে তার হাতে ব্যান্ডেজ করার জন্য।

রুমে এসে দেখে রেহান এখনো স্থির হয়ে বসে আছে চোখমুখ শক্ত করে। জারার কিছুটা ভয় ও করছিলো কারন সে রেহানকে এতোটা রেগে যেতে দেখেনি কখনো। সে ধিরে ধিরে রেহানের পাশে বসলো তারপর কাঁপা কাঁপা হাতে তার হাতটাদিয়ে রেহানের হাত ধরলো।

রেহান এতে কিছুটা বিরক্ত হয়ে পাশ ফিরতেই জারাকে দেখলো তার হাতের দিকে তাকিয়ে আছে।

জারা পরম যত্নে তার হাত ব্যান্ডেজ করে দিলো।পুরোটা সময় রেহান জারার দিকে তাকিয়ে ছিলো।

আচমকা সে তার বাম হাত দিয়ে জারার গলা চেপে ধরে বললো কেনো এসেছিস এখানে দরদ দেখাচ্ছিস আমাকে নাকি এসব করে আমাকে ইমপ্রেস করতে চাচ্ছিস হ্যা। আমি জানি কেউ আমাকে ভালোবাসেনা আর আমিও কাউকে ভালোবাসি না মনে রাখিস।তোকেও না।বলেই জারার গলা ছেড়ে দিলো।

"" জারা কাশতে শুরু করলো। জারা অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে আছে রেহানের দিকে রেহান এর এমন ব্যাবহার হয়তো জারার জন্য অভাবনীয় ছিলো।তার ভেতর যে ক্ষিন আশা ছিলো তাও হয়তো রেহান আজ শেষ করে দিলো।

"" এদিকে রেহান ফোঁপাতে ফোপাঁতে বললো Just get Lost, and out of my life.

"" জারা কাদতে কাদতে তার রুমে চলে যায়।গিয়েই নিজের রুমের দরজা আদকে জোরে জোরে কান্না করতে শুরু করে।সে ভাবছে সে কি এমন করলো সে তো শুধু রেহানের হাত ব্যান্ডেজ করতে গেছিলো।

কাদতে কাদতে তার হেচকি উঠে গেছে।রাতে তার প্রচন্ড জ্বর ও আসলো।

বিজ্ঞাপন

আরিয়ান বোনকে ডাকতে এসে হঠাৎ করে এতো জ্বর দেখে ভয় পেয়ে যায়।পরে ডাক্তার আনা হলে মেডিসিন দিয়ে ঘুম পারিয়ে দেয়।

"" রেহানের কানে কথাটা গেলেও সে তেমন গুরুত্ব দেয় নি।সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো তখোনি।

আরিয়ান এসবের কিছুই জানে না।

--------------------------

সকাল হলে জারার জ্বর কিছুটা কমলেই সে নিচে আসে। সেখানে আরিয়ান, আজাদ আহমেদ আয়রা আহমেদ তিনজনেই উপস্থিত ছিলো।

জারা নামলেই আরিয়ান বোনকে কাছে ডেকে তার জ্বর চেক করে মেয়েটার চোখ লাল হয়ে আছে মুখটাও কেমন ফ্যাকাশে হয়ে আছে।

বাড়ির আর সব গেস্ট এখনো ঘুম থেকে উঠে নি। দেখে জারা বললো ভাইয়া মামা আমি তোমাদের থেকে একটা জিনিস চাইবো। ধরো এইটা আনার জন্মদিন এর গিফ্ট।

"" কি চাই আমার মামনিটার তুমি শুধু বলে দেখো।

""" তোমরা কিন্তু না করতে পারবা না।

"" করবো না।

"" আমি পড়াশোনার জন্য দেশের বাহিরে যেতে চাই।এক সপ্তাহের মধ্যে। তোমরা ব্যাবস্থা করো।

"" কি বলছিস তুই এসব মা।তোকে ছাড়া আমরা থাকবো কিভাবে আর তুই বা থাকবি কিভাবে তুই কখনো আমাদের ছাড়া একা থেকেছিস।

"" আমি সব ভেবেই বলছি মামনি আমি যাবই আর নাহলে আমি বাড়ি থেকে দুরে চলে যাবো আর খুজে পাবে না আমায়।

"" তার কথায় সবাই চমকে উঠলো।

আরিয়ান বললো রিল্যাক্স তুই যা বলছিস তাই হবে।

"" জারা এবার কিছুটা শান্ত হলো।তবে আজাদ আহমেদ তার কথায় সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। তবুও মেয়েকে হারানোর ভয়ে মেনে নিলেন সবটা।

"" রেহান বুঝলো না তার ছোটো অভিমানির অভিমান আজ এতোটা তিব্র হয়েছে যে তাকে ছেড়ে দুরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।কারন রেহান কাল রাতেই কোথাও চলে গেছে তবে কথায় তা কেউ জানে না।

--------------------------------

"" পেরিয়ে গেছে ৩টি দিন

"" হেই পাটকাঠি পাহার?

"" নাহারের পা থেমে গেলো।তবে সে পেছনে ঘুরলো না।এই কয়েক দিনে তার অভ্যাস হয়ে গেছে।সে জানে এইটা কে।এই তিন দিন সিয়াম কে তার আশেপাশেই পাওয়া যায়।এই ছেলের ভাবসাব তার কাছে বুঝার বাহিরে চলে গেছে।আগের মতো ঝগড়াও করে না।

"" পাহার কথা বলছো না কেন?সামনে এসে বললো সিয়াম।

"" নাহার এবার তার মাজার দুই পাশে হাত রেখে বললো আপনার সমস্যা কি বলেন তো?

"" সমস্যা কিসের সমস্যা। আমার তো কনো সমস্যা নেই।

"" তাহলে আমার পিছু পিছু ঘুরেন কেন?

"" সিয়াম এবার আশ্চর্য হওয়ার ভান করে বললো কিহ ছি আমার এতো খারাপ দিন এসে গেছে যে তোমার পিছু ঘুরবো।

"" দেখেন ভাইয়া একদম না জানার ভান করবেন না আমি সকালে কলেজ যাওয়ার সময় ও আপনার দেখা পাই আশার সময় ও দেখা পাই বাসা তেকে বের হওয়ার সময় ও দেখা পাই।

"" ওহ এই কারনে তুমি ভাবো আমি তোমার পিছু নেই? দেখো পাহার আসলে আমার হসপিটাল যাওয়ার রাস্তাটা তোমার বাসা দিয়ে হয় তাই দেখা পাও।

"" নাহার এবার দাঁতে দাঁত চেপে বললো ওহ আচ্ছা কিন্তু আমার জানা মতে আরিয়ান ভাইয়াও ওই হসপিটাল এই ইন্টার্নিশিপ করছে কিন্তু সে উল্টো দিক দিয়ে যায়।আর আরেকটা কথা হলো আপনার গাড়ি কই আপনি না গাড়ি নিয়ে যাওয়া আশা করেন।

""সিয়াম এবার আমতা আমতা করে এদিক ওদিক চোখ ঘুরিয়ে বললো দেখো পাহার তুমি খুব বেশি বলছো।আর আমার গাড়ি আমার ইচ্ছে আমি চালাবো কি না চালাবো।আর তাকো আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। বলে এক প্রকার পালিয়ে গেল সেখান থেকে।

"" আরে দাড়ান বলেই ফিক করে হেসে দিলো নাহার।তারপর কলেজের উদ্দেশ্য পা চলালো।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প