নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ২২

🟢

অরিন নিজের ভাই আর বাবা ছাড়া কখনো কোনো ছেলের এতোটা কাছে আসে নাই।তার ভেতর অদ্ভুত এক অনুভুতি হচ্ছে।

তবুও সে আরিয়ানের চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে তার অস্বস্তির সাথে ভালোও লাগছে।

হাত বুলিয়ে দিতে দিতে সে কখন ঘুমিয়ে গেছে বুঝতেই পারেনি।তার যখন চোখ খুললো দেখলো সে আরিয়ানের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে।সে লাফিয়ে উঠে পরলো।

"" এটা কি করে হলো উনি তো আমার কোলে মাথা রেখে শুয়েছিলেন তাহলে উল্টোটা হলো কিভাবে।এসবি ভাবছিলো।

"" আরিয়ান বেশ বুঝতে পেরেছে তার নিলাম্বরী গভির চিন্তা সাথে অস্বস্তিতে ভুগছে।তাই সে আরেকটু লজ্জা দেওয়ার জন্য বললো কি ব্যাপার ম্যাডাম নিজের শাস্তি নেওয়ার নামে আমাকে শাস্তি দিয়ে দিলেন।কিন্তু আমার বেশ ভালোই লেগেছে চাইলে আমার কোলে মাথা রেখে আপনি আরেকটু ঘুমাইতে পারেন আমি মাইন্ড করবো না বলেই এক চোখ টিপ মারলো।

"" অরিন লজ্জায় যেনো কুকরে গেলো মনে মনে আরিয়ানকে অসভ্য, নির্লজ্জ উপাধি দিতে ভুললো না।

"" থাক আর লজ্জা পেতে হবে না।আপনার তো খাওয়াও হয়নি আর আপনার জন্য আমারো খাওয়া হয়নি।

"" অরিন তার কথা শুনে অপরাধীর মতো করে বললো আপনি কখন উঠেছেন?আমাকে ডাকলেই পারতেন।ভাইয়া খুজবে হয়তো আমাকে।

"" না ম্যাম আপনার ভাই আপনাকে খুজবে না,আর জারা নাহার ওরাও যানে আপনি আমার সাথে আছেন।

"" কিহ, ছি ওরা কি ভাববে।

"" কি ভাববে ম্যাডাম এক ভ্রু উচু করে বললো আরিয়ান মুখে তার দুষ্টু হাসি।

"" আব না মানে।

"" মানে ভাবার মতো কিছু কি করেছি আমি ম্যাডাম আপনার সাথে।

"" অরিন যেনো মনে হলো মাটি ফাক হয়ে যাক আর সে ঢুকে যাক তার ভেতর এই ছেলে এতো অসভ্য হলো কিভাবে আগে তো পাত্তাই দিতো না।

"" আপনি এসব কি বলছেন?

"" কি বললাম যা বলার তো আপনিই বললেন।বলেই আরিয়ান ইনোসেন্ট ফেইস করলো।

"" আপনি তো গোমড়ামুখো ছিলেন হঠাৎ এমন নির্লজ্জের মতো ব্যাবহার করছেন কেনো।আমার লজ্জা লাগছে।

"" আমি আগে থেকেই নির্লজ্জ জান আগে তো তুমি আমার গার্লফ্রেন্ড ছিলেনা তাই জানতে না।আর নির্লজ্জর সর্বোচ্চ উচ্চতায় আপনাকে ঘুড়িয়ে নিয়ে আসবো আমি তবে সেটা বিয়ের পর। বলেই বাকা হাসলো।

"" অরিন হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে আরিয়ানের দিকে। এই ছেলে তো আগেই ভালো ছিলো ভালোবাসার কথা বলেই যেনো তার আসোল রুপ বের হচ্ছে। তার ভবিষ্যত কেমন হবে ভাবলেই তার কান্না পাচ্ছে।

"" আরিয়ান অরিনকে ভাবনায় বিভোর দেখে বললো। যা ভাবার যা উপাধি দেওয়ার পরে দিয়েন আপাতত খাবার খাওয়াটা জরুরি। আপনি এখানেই বসুন বলে দরজা পর্যন্ত গিয়ে আবার ফিরে আসলো আচমকা অরিনের কপালে একটা চুমু খেয়ে বেরিয়ে গেলো।

"" অরিন স্তব্ধ হয়ে তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।

বিজ্ঞাপন

----------------------

"" হেই পাটকাঠি পাহার।

"" নাহার জারার থেকে একটু দুরে দারিয়ে ছিলো।হঠাৎ এমন ডাক শুনে সে কটমট করে তাকালো সিয়ামের দিকে।

"" আপনার সমস্যাটা কি বলুন তো?

"" সিয়াম অবাক হওয়ার ভান করে বললো সমস্যা সেইটা আবার কি খায়না মাথায় দেয়?

"" আপনার মতো ষার সেটা বুঝবে না।আর আপনি এতোগুলো মানুষের সামনে আমাকে কিসব বলে ডাকছেন ছি।আমার একটা মানসম্মান আছে আর তাছাড়া পার্টিতে কতো কিউট কিউট হট ছেলে এসেছে আপনি তাদের সামনে একদম এইগুলা বলবেন না।

"" সিয়াম চোখ বড়ো বড়ো করে বললো তুমি তো ভারি লুচ্চা। তোমার না বয়ফ্রেন্ড আছে?তাও অন্য ছেলেদের দিকে নজর দাও।ছি নিজেকে সামলে রাখতে হবে দেখছি।

"" এই দেখুন একদম বাজে কথা বলবেন না। আমি এমন না। আর ওইটা আমার বয়ফ্রেন্ড না বেশ।বলে চলে যেতে নিলেই

"" সিয়াম বলে উঠলো এটাই জানতে চাচ্ছিলাম। যাইহোক তোমাকে সুন্দর লাগছে বলে সে চলে গেলো।

"" নাহার যেনো বোকা বনে গেলো।এই ছেলে তার পেট থেকে কথা বের করার জন্য এইসব বললো।ছি নাহার তুই কতো বোকা।

------------------------

পার্টি প্রায় শেষের দিকে ইতোমধ্যে সব গেস্ট রা চলে গেছে শুধু আরিয়ানের বন্ধু জারার বন্ধু আর কাছের কিছু আত্মীয় আছে। তার মধ্যে সবাই চলে যাবে শুধু নেহার ফ্যামেলি আর রেহানের ফ্যামেলি থেকে যাবে।

"" এর মধ্যে রেহানের রুম থেকে ভাংচুর এর আওয়াজ পেলে সবাই আতংকিত হয়ে উঠলো।

সবাই ওকে আটকাতে চাইলে ওহ বলে উঠলো আমার লাইফ এ আমি কি করবো কাকে রাখবো সেটা আমার বিষয় তোমরা কে আমার বিষয় ডিসিশন নেওয়ার।আজ পর্যন্ত বাবা মা হওয়ার কোনো দায়িত্ব পালোন করোনি তোমরা তাহলে কেন আমার লাইফের ডিসিশন তোমরা নিবে বলেই আয়নায় ঘুসি মারলো।

"" তিশা সহ রেহানের মম ড্যাড হতবাক হয়ে গেছে।জারাও প্রচন্ড ভয় পেয়েছে রেহান খুবি শান্ত ছেলে আজ পর্যন্ত কেউ তাকে এতোটা রাগতে দেখেনি।

"" এর মধ্যে আয়রা বেগম এগিয়ে আসলো বাবা দেখ আমি তো তোর আরেক মা বল ছোট বেলা থেকে আমার কাছে বড়ো হয়েছিস তুই এমন করিস না কতো রক্ত ঝরছে হাত থেকে।

"" আন্টি তুমি ওদের চলে যেতে বলো আমি সহ্য করতে পারিনা এদের।

"" আয়রা আহমেদ করুন চোখে তাকালো রেহানের মম ড্যাড এর দিকে।তিশা ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে সে রেহানকে অনেক ভালোবাসে সে ভাবতো রেহান ও হয়তো তাকে ভালোবাসে কিন্তু সে ভুল ছিলো।সে একবার রেহানের দিকে এগিয়ে যেতে গেলেই রেহান পিছিয়ে গেলো।

"" তোর মতো ছ্যাচরা আমি আমার লাইফে দেখিনি।তোকে এতো এরিয়ে চলি আমি তবুও চিপকে থাকিস কেনো তুই।

"" তিশার চোখ দিয়ে পানি গরিয়ে পরলো সে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো সেখান থেকে।তার পিছন পিছন রেহানের মম ও বেরিয়ে গেলো।

রেহানের ড্যাড ছেলেকে বোঝানোর জন্য এগিয়ে গেলেই।রেহান বলে উঠলো মি.চৌধুরী একদম কাছে আসবেন না।আপনি আপনার বিজনেস সামলান আমি নিজেকে সামলে নিবো।

"" রেহানের বাবা ছেলের দিকে একবার তাকিয়ে সরি বলে বেরিয়ে গেলো।তিনি আসলেই বাবা হিসেবে ব্যার্থ তিনি টাকার পেছনে ছুটতে ছুটতে নিজের ছেলের দিকে তাকান নি।শুধু টাকাই দিয়ে গেছেন ছেলেকে।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প