এয়ারপোর্টের সামনে দারিয়ে আছে অরিন রায়ান, নাহার, আয়রা বেগম আজাদ আহমেদ তাছাড়া রেহানের বাবা মা সবাই আছে।আয়রা বেগম সেই তখন থেকে কেদেই যাচ্ছে।
আরিয়ান আজাদ আহমেদ অরিন বাকি সাবারও একি অবস্থা।
জারা একে একে সবার থেকে বিদায় নিলো।আয়রা আহমেদকে জরিয়ে ধরে হেসে বললো মামনি তুমি এমন করলে আমি যাবো কিভাবে বলোতো।প্লিজ আর কেদোনা।
আয়রা আহমেদ চোখের পানি মুছে বললো যা সাবধানে থাকবি পৌঁছে ফোন দিবি ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করবি।তোকে ছাড়া থাকবো কিভাবে আমি।
জারা হেসে বললো কেনো ফোনে সবটা বলে দেবে আমায় তাহলেই হবে।
সবশেষে সে অরিন আর আরিয়ান কে জরিয়ে ধরে বললো আমি না আসা পর্যন্ত প্রেম চালিয়ে যাও তারপর কিন্তু তোমাদের বিয়ে দেবো আমি।আমার একটা মাত্র ভাইয়ের বিয়েতে আমি অনেক মজা করবো কিন্তু।
হুম।বলে অরিন আর আরিয়ান হেসে দিলো।
এর মধ্যে জারার চেকিং এর সময় হলে সে একবার পিছনে তাকালো।
আমি চলে যাচ্ছি রেহান।আপনাকে আর কেউ জালাবে না।কেউ আর আপনাকে জালাবে না আপনি ভালো থাকবেন।সুখে সংসার করবেন তিশা আপুর সাথে।জারা বলে কেউ কোনোদিন আপনার জন্য পাগল ছিলো তাও ভুলে যাবেন।
ভেবে সে আর একবার সবার দিকে তাকিয়ে হাসলো।তারপর বায় বললো।
আজ থেকে আপনার মুক্তি। কখনো আমাকে দেখে বিরক্ত হবেন না।কেু আর আপনার পেছনে পরে থাকবে না।আপনি ভালো তাকবেন আপনার ভালোবাসা নিয়ে।
প্লেনে উঠেই সে শব্দ করে কেদে ফেললো।এতক্ষণ যেনো অনেক কষ্টে নিজের কান্নাকে লুকিয়ে রেখেছিলো।এবার আর চোখের পানি বাধ মানলো না।
কেনো ভালোবাসলেন না আমায় রেহান?কেনো?একটু ভালোবাসলে কি খুব ক্ষতি হয়ে যেতো।
কি দোষ ছিল আমার। আমাকে কি একটু ভালোবাসা যেতো না।
আমি কি এতোটাই অযোগ্য ছিলাম আপনার।এমন একটা সময় আসবে যখন আপনি আমায় ভালোবাসবেন আমার জন্য হাহাকার করবেন কিন্তু সেদিন আমায় পাবেন না।
------------------------
রেহান বার বার সবাইকে ফোন দিচ্ছে কিন্তু কারো ফোনই লাগছে না।মুলত সবার ফোনই সাইলেন্ট করা।
রেহানের হাত পা কাপছে।সে অনেক কষ্টে ড্রাইভিং করে এয়ারপোর্টের সামনে আসলো।
"" দৌড়ে ভেতরে গেলে দেখলো আরিয়ান অরিনেরা সবাই দারিয়ে আছে।সে আরিয়ানকে দৌড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো জারা কোথায় আরিয়ান।কোথায় যাচ্ছে ও কেনো যাচ্ছে? কোথায় ও।
"" আরিয়ান সহ উপস্থিত সবাই রেহানের অবস্থা দেখে অবাক হলো।রেহানের চুল গুলো উষ্কখুষ্ক চোখ লাল হয়ে আছে যেনো কান্না করেছে মুখটাও ফ্যাকাসে হয়ে গেছে তাকে অনেক অস্থির লাগছে।
"" রিল্যাক্স তোর কি হয়েছে? এমন অবস্থা কেনো?আর তুই ছিলি না তাই জানিস না জারা পড়াশোনার জন্য দেশের বাহিরে যেতে চেয়েছিলো সেখানেই গেলো।
"" রেহান স্তব্ধ হয়ে ধপ করে নিচে বসে পরলো।হঠাৎ সে চিৎকার করে কেদে উঠলো
"তুই কেনো চলে গেলি জারা,কেনো।আমি অন্যায় করেছি আমাকে শাস্তি দিবি তুই কেনো চলে গেলি।আমি শুধু পরিস্থিতির জন্য বুঝতে পারতাম না তোকে ভালোবাসি।
"" রেহানের কথা শুনেই সবাই স্তব্ধ হয়ে গেছে। আরিয়ান যেনো কথা বলতে ভুলে গেছে।
"" অরিন আর নাহার ও অবাক চোখে তাকিয়ে আছে রেহানের দিকে।
"" অরিন মনে মনে ভাবলো সেই বুঝলেন ভাইয়া তবে সময় থাকতে বুঝলেন না।
"" কেউ কিছুই বুঝতে পারছেনা যে আসোলে হয়েছেটা কি। তবে সেটা যে রেহান আর জারার মধ্যেকার ব্যাক্তিগত কিছু তা বেশ বুঝতে পারছে।
"" আরিয়ান হয়তো বুঝেও বুঝছে না।তবুও সে এখানে কনো সিনক্রিয়েট করতে চায়না তাই সে চুপচাপ রেহানের কাছে গিয়ে বলে
বাড়ি চল।
"" রেহান কি শুনতে পেলো আরিয়ানের কথা হয়তো হ্যা আবার না।সেই তখন থেকে সে নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে সেখানেই।
আশেপাশের মানুষ অদ্ভুত চোখে অবলোকন করেছে তাকে।তবে সেদিকে রেহানের কোনো খেয়াল নেই। প্রেয়সীর এতবড় শাস্তি সে মেনে নিতে না পেরে অনেকটা পাথরের মতোই হয়ে আছে।
তার অভিমানির অভিমান এতোটাই তিব্র যে তাকে ফেলে যেতেও তার বুক কাপেনি।সে তো ছোট্টো বেলা থেকে দেখে আসছে জারা তিব্র অভিমানী
কারো কনো কথায় যদি সে কখনো কষ্ট পায় তা প্রকাশ না করেই তার প্রতি তিব্র
অভিমান নিয়ে থাকে।তাই ছোটবেলায় রেহান তাকে অভিমানী বলে ডাকতো।
রেহানের কাছে ভালোলাগতো জারার এই অভিমান করা।
তবে আজ কেনো সহ্য করতে পারছে না।কেনো?
"" এতক্ষণে আরিয়ান বাড়ির আর সবাইকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছে সবাই অনেক প্রশ্ন করলেও আরিয়ান নিজে বুঝে নেবে বলে সবাইকে আসস্ত করেছে।
"" তুই কি উঠবি নাকি এভাবেই থাকবি।
রেহান তাকালো একবার আরিয়ানের দিকে।আরিয়ানের চোখেমুখে সে অদ্ভুত শান্ত ভাব দেখতে পাচ্ছে যা আগে কখনো দেখেনি।সে উঠে দারালো অনেকটা জড়বস্তুর মতো।
"" সিয়াম নাহারকে তখন জোর করে নিয়ে গেছে তবে অরিন এখানে এখনো উপস্থিত আছে।
অরিন ভেতরে ভেতরে কিছুটা ভয়ও পাচ্ছে। কারন আরিয়ানকে সে কিছু বলেনি আর এই বিষয় টা নিয়ে যে আরিয়ান তার ওপর রাগ করবে এটা সে বেশ বুঝতে পারছে।
---------------------
আরিয়ান বাড়ি এসেছে তবে এটা আহমেদ ভিলা নয়। অন্য একটি বাড়ি। অরিন জানেনা এটা কার বাড়ি হয়তো আরিয়ানের হবে।তবে এটা নিয়ে এতো ভাবার সময় সে পেলো না।
"" চল।
"" রেহান ও পিছু পিছু ভেতরে গেলো।
"" এবার আমাকে সবটা খুলে বল।
তারপর অরিনের দিকে শক্ত চোখে তাকিয়ে বললো বেস্ট ফ্রেন্ড যেহেতু তাই আপনিও নিশ্চয়ই সবটা যানেন তাই কোনোরকম ভনিতা না করে যদি বলতেন আমি খুশি হতাম।
"" অরিন অসহায় কন্ঠে বললো আদিত্য প্লিজ তুমি,,,,
"" আরিয়ান ধমকে উঠলো সাথে সাথে বললো আমি কনো এক্সকিউজ শুনতে চাইনি।
"" অরিন আরিয়ানের ধমকে কিছুটা কেপে উঠলো তার চোখে জল চলে এসেছে
"" তা দেখে রেহান বলে উঠলো ওকে বকছিস কেনো ওর তো কনো দোষ নেই দোষি তো আমি যা বলার আমাকে বল।
"" অরিন করুন চোখে তাকালো রেহানের দিকে
"" তা দেখে আরিয়ান তাচ্ছিল্য হেসে বললো বাহ খুব ভালো তোদের ভাই বোনের ভালোবাসা আর সিমপ্যাথির খেলা বন্ধ করে আমাকে সবটা খুলে বল
আর একটা কথা মনে রাখিস আমি আমার বোনের চোখের জল সহ্য করতে পারিনা আর সেই চোখের জলের কারন যদি আমার প্রানপ্রিয় বন্ধু হয় তাকে ছারতেও আমি ভাববো না।
"" রেহান করুন চোখে তাকালো। তারপর একটা নিশ্বাস নিয়ে বললো তুই আমাকে ভুল বুঝিস না প্লিজ আমি বুঝতে পারিনি নিজের ভেতরের ফিলিংস।
"" তোর এসব কথা আমি শুনতে চাচ্ছি না।
"" আমি বলি।
"" হ্যা ম্যাম প্লিজ আপনি বলুন বলে আমাকে উদ্ধার করুন প্লিজ।আমি তখন থেকে অধির আগ্রহ নিয়ে এখানে দারিয়ে আছি আপনাদের কথা সোনার জন্যই।
"" অরিন জিভ দিয়ে ঠোট ভিজিয়ে বললো আসলে জারা রেহান ভাইয়াকে ভালোবাসে।
"" আরিয়ান ফট করে তাকালো রেহানের দিকে তারপর আবার শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো অরিনের দিকে।
"" কতোদিন ধরে ভালোবাসতো।
"" প্রায় পাঁচ বছর। তারপর অরিন একে একে সবটা বলে।
"" আরিয়ান অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে আছে রেহানের দিকে।
আমার বোন তোকে ভালোবাসতো আর তুই তা আবেগ বলে চালিয়ে দিয়েছিস।
"" প্লিজ ভাই বোঝার চেষ্টা কর আমি নিজের ফিলিংস টা কখনো বুঝতে পারিনি।আর তখন ও অনেক ছোটো ছিলো।
আচ্ছা এখনো কি ছোট চিলো ও।
""আরিয়ান কিছু না বলে অরিনের দিকে তাকিয়ে বললো ম্যাম আপনি প্লিজ আসুন আপনাকে বাসায় পৌঁছে দেই।
তার কন্ঠে স্পষ্ট অভিমান প্রকাশ পেলো।
""অরিন অসহায় চোখে রেহানের দিকে তাকিয়ে আরিয়ানের পিছু পিছু চলে গেলো।
"" গাড়িতে পুরোটা সময় অরিন অনেক চেষ্টা করছে কথা বলার কিন্তু কমো লাভ হয়নি।
এর মধ্যে বাড়িতে পৌঁছে গেলে অরিন তাকালো তার দিকে।
"" এসে গেছি।
"" আদিত্য প্লিজ আমি,,
"" আমি কিছু সুনতে চাইনা।
"" অরিন নেমে পরলো তার ভিষণ কান্না পাচ্ছে। সেতো চেয়েছিলো বলতে কিন্তু জারা বলতে দেয়নি।