নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ২৮

🟢

"" এতোদিন পর এই কন্ঠ শুনে অরিনের চোখ ভিজে উঠলো।তবে সে ঘুরে তাকালো না।ওভাবেই সে শক্ত হয়ে দারিয়ে রইলো কথা বলবে না

সে আদিত্য এর সাথে।কেনো বলবে তার কি কষ্ট হয় নি এতোদিন।

সে কি এতই ঠুনকো যে যখন ইচ্ছে হবে তাকে কাছে টেনে নিবে যখন ইচ্ছে হবে দুরে ঠেলে দিবে।সে ঠোঁট কামরে শক্ত হয়ে দারিয়ে রইলো।

""আরেহ আদিত্য আহমেদ আরিয়ান আজ হঠাৎ আমার কোচিং এর সামনে তা বোনতো আসেনি তাহলে আজ কাকে নিতে এলি।

"" আদিত্য তার কথা শুনে অরিনের দিকে তাকালো সাথে সাথে অরিন মাথা নিচু করে নিলো।

আদিত্য তার দিকে তাকিয়ে বললো অরিন গাড়িতে গিয়ে বসো।

"" ও কেনো তোর গাড়িতে বসবে?

"" সেটা নাহয় তুই একটু পর যানতে পারলি বলেই অরিনের দিকে হিংস্র চাহনি দিয়ে বললো কি হলো তুমি শুনতে পাওনি আমার কথা।

"" তার ধমকে অরিন কেপে উঠলো। তারপর সে কান্না করতে করতে গাড়িতে গিয়ে বসলো।

আরিয়ান সেদিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সামনে থাকা অরিনের টিচার যার নাম তুর্য তার দিতে তাকালো।

তুর্য তখনো মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে

অরিনের যাওয়া দেখছে যা দেখে আরিয়ান দাতে দাত চেপে বললো সেই কলেজ লাইফ

থেকেই তোর আমার জিনিসের দিকে বড্ড বেশি নজর।কেনো বলতো?

"" তুর্য কিছু বুঝতে না পেরে বললো মানে?

""মানেটা এই যে অরিনের থেকে দুরে থাকবি তুই?

"" তুর্য কিছু সময়ের জন্য কপাল কুচকে বিষয় টা বোঝার চেষ্টা করলো। যখন সে বিষয় টা বুঝতে পারলো তখন তার ঠোঁটের কোনে বাঁকা হাসি দেখা গেলো।

আর যদি দুরে না থাকি।

"" আরিয়ান কথাটা বলেই চলে যাচ্ছিলো কথাটা শুনে তার পা থেমে গেলো।

সে আবার ঘুরে তাকালো।

"" তুর্য আবার বলে উঠলো দেখ এমনিতে মেয়েটাকে আমার অনেক পছন্দ হয়েছে ভেবেছিলাম আজ প্রপোজ করবো।না করলেও তেমন কনো বিষয় না মেনে নিতাম।

কিন্তু জিনিসটা যখন তোর তখন সেইটাকে হাতছাড়া করি কিভাবে বল।

"" আরিয়ানের কপালের রগ ফুলে উঠেছে। চোখে স্পষ্ট রাগ তবুও কিছুটা বাঁকা হেসে

বললো তোর তো স্বভাব আমার ব্যাবহিত জিনিস ব্যাবহার করা।অনেকটা কুকুর এর মতো।

""এই কথা শুনেই তুর্যর রাগ যেনো সপ্তম আকাশে উঠে গেলো।

সে রেগে কিছু বলতে যাবে তার আগেই তাকে থামিয়ে দিয়ে আরিয়ান বললো

"" আরে রাগছিস কেনো ভাই দেখ তোর স্বভাব যা তাই তো বললাম।আর রইলো বাকি অরিনের কথা তুই হয়তো ভুলে যাচ্ছিস এখন পর্যন্ত

তুই আমার সেই জিনিস গুলোই পেয়েছিস যা আমি তোকে নিজ ইচ্ছে তে দিয়েছি।আর আমার নিলাম্বরীকে দেওয়ার কনো প্রশ্নই আসেনা।

যাই হোক আমার জানটা আমার অপর অভিমান করে আছে বুঝলি তোর সাথে

বাকি কথাটা অন্যদিন বলবো আজ তাকে সামলাই বলেই চলে গেলো।

"" তুর্য নিজের হাত মুঠ করে রাগি মুখ করে তাকিয়ে রইলো অরিনের দিকে।

--------------------

"" অরিন গাড়িতে উঠেনি। সে কেনো উঠবে সে তো রেগে আছে।সে কনোমতেই কথাও যাবেনা এই লোকটার সাথে তাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে।

"" আরিয়ান অরিনকে দারিয়ে থাকতে দেখে আড়ালে হাসলো তারপর মুখটাকে গম্ভীর করে বললো কি হলো তোমাকে গাড়িতে উঠানোর জন্য কি আবার দাওয়াত দিতে হবে।

"" অরিন তখনো চুপ।

"" আরে আজবতো কথা বলোনা কেনো।তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠো।

"" আমি উঠবোনা আপনার গাড়িতে। অন্য কাউকে উঠান।

"" কাকে উঠাবো।

"" যাকে মন চায় নাহলে নেহা আপুকে উঠান।আমি গেলাম। বলে চলে যেতে নিলেই আরিয়ান তাকে ঘারে তুলে নিলো।

"" অরিন হাতপা ছুড়াছুড়ি করছে আরিয়ানের পিঠে কিল দিচ্ছে কিন্তু আরিয়ান শুনলে তো সে সোজা গিয়ে অরিনকে গাড়িতে বসিয়ে তার সিট বেল্ট লাগিয়ে দিলো।

বিজ্ঞাপন

তারপর ড্রাইভিং সিটে বসে পরলো।

"" আমি বললাম না যাবো না।

"" চুপ।

"" আরিয়ানের ধমকে অরিনের চোখে পানি চলে এলো।সে ঠোঁট কামরে কান্না গেলার চেষ্টা করছে।

"" আরিয়ান গাড়ি স্টার্ট করলো।

মিনিট তিরিশ যাওয়ার পর গাড়ি থামলো। আরিয়ান গাড়ি তেকে

নেমে অরিনকে নামতে বললে অরিন সামনে তাকাতেই ভয় পেয়ে গেলো সে চোখ বড়ো বড়ো করে সামনের পোস্টারের দিকে তাকিয়ে আছে।

যেই পোস্টারে বড়ো বড়ো অক্ষরে লিখা আছে

""কাজি অফিস""

"" কি হলো চলো।

"" না আমি যাবোনা।আপনি এখানে কেনো নিয়ে এসেছেন আমায়।ভয়ে অরিনের গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।

"" কেনো আবার বিয়ে করতে।

"" মানে?

"" আরিয়ান এবার বিরক্ত হয়ে বললো মানুষ কাজি অফিসে যা করতে আসে আমারাও তাই করতে এসেছি বলে টানতে টানতে নিয়ে যেতে লাগলো

"" অরিন হাত ছাড়াতে চাচ্ছে কিন্তু তাও পারছে না তার এখন গলা ফাটিয়ে কান্না করতে ইচ্ছে করছে কিন্তু তাও পারছে না।

"" ভেতরে আসতেই তার চক্ষু চরক গাছ এখানে নাহার সিয়াম

রবিন সহ আরিয়ানের সকল বন্ধু উপস্থিত শুধু তার ভাই ছাড়া।

অরিনের মনে পরলো আরিয়ান আজ তার মামা বাড়িতে গেছে।

"" নাও বসো।

"" কেনো?

"" বিয়ে করতে।

"" কার বিয়ে অসহায় কন্ঠে বললো অরিন।

"" আরিয়ান বেশ মজা পাচ্ছে কিন্তু এখন আর মজা করার সময় নেই।

"" সে ইশারা করে নাহারকে দেখালো যে এখন কাদতে ব্যাস্ত।কাদছে

বললে ভুল হবে সে এখন ফোঁপাচ্ছে।কিন্তু কেনো ভেবেই অরিন নাহারের

কাছে যেতেই নাহার তাকে জরিয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলো।

"" সিয়াম এবার বিরক্ত হয়ে বললো এই কি শুরু করলে বলোতো আগে বিয়ে করো।

"" আপনি চুপ করুন অসভ্য লোক আপনার জন্য আমার আজ এই অবস্থা এ্যাএএএএ

"" অরিন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো সে কিছুই বুঝতে পারছে না শুধু

এইটা বুঝতে পারছে যে সিয়াম ভাইয়া আর নাহারের বিয়ে কিন্তু কেনো।নাহার কি তাকে ভালোবাসতো।

সে প্রশ্ন করতেই যাবে কিন্তু তাকে থামিয়ে দিয়ে আরিয়ান বললো

তোমাদের দুই বান্ধবীর যা জানার আছে পরে যেনে নিও আপাতত।

অরিন আর কিছু না বলে শান্ত হয়ে গেলো।

"" বিয়ে শেষ হতেই সিয়ামকে সব বন্ধুরা জরিয়ে ধরে অভিনন্দন জানালো।

কিন্তু নাহারের মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে না সে খুশি।

তারা ডিসিশন নিয়েছে আজকের মতো আরিয়ানের ফার্ম হাউস

এ থাকবে সবাই মিলে কিছুক্ষণ পর রায়ান ও চলে আসবে আর সে অরিনের ব্যাপারটা বাসায় সামলে নেমে জানিয়ে দিয়েছে।

"" ফার্ম হাউস এ আসতেই অরিন আর নাহারকে একটা রুম দেখিয়ে দিয়েছে আরিয়ান তারপর তারা কোথায় যেনো বেরিয়ে গেছে।

তারা যেতেই নাহার আবার শব্দ করে কেদে উঠলো।

"" অরিন এবার বিরক্ত হয়ে বললো তুই চুপ করবি আর কি হয়েছে বলতো আমায় হঠাৎ বিয়ে কেনো করলি তাও এইভাবে।

"" নাহার এবার চোখের পানি মুছে বললো তুই তো জানিস আমার

বাবা মা কেমন তারা ছেলেদের সাথে মেলামেশা পছন্দ করে না।তাই আমি কখনো কারো সাথে কথাও বলি না তেমন।

"" কিন্তু এর আগে দুই দিন সিয়াম তার গাড়ি করে আমায় পৌঁছে দিয়েছে বাসার অনেকটা দুরেই কিন্তু কে যেনো দেখে বাবা আর ভাইকে সবটা বলে দিয়েছে আর আজ বলেই আবার কান্না শুরু করে দিলো।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প