নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ২৭

🟢

অরিন খাবার টেবিলে বসে আছে।

সে খেতে চাইছিলো না কিন্তু বাবার ডাক ফেলতে পারেনি আর

ভাই ও অনেক্ক্ষণ ধরে ডাকছিলো তাই বাধ্য হয়ে খেতে বসেছে।

তবে সে খাচ্ছে কম নারছে বেশি খাবার।খাবারে তার কোনো মনোযোগ নেই।

অরিনের বাবা মিজানুর রহমান বেশ কিছুক্ষণ মেয়ের দিকে খেয়াল করলেন।তবে মেয়ের খাবারে অমনোযোগী দেখে তিনি বলে উঠলেন

"" অরিন মা কিছু হয়েছে তুমি কি কিছু নিয়ে চিন্তিত?

"" অরিন হঠাৎ প্রশ্নে বেশ চমকে উঠলো হকচকিয়ে বললো আব না বাবা তেমন কিছু না।

বাবার কথা শুনে রায়ান ও এবার বোনের দিকে নজর দিলো।

সে বুঝলো হয়তো আরিয়ানের সাথে কিছু হয়েছে।কিন্তু অরিন তার ছটো বোন তাই সে তাকে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারবেনা এতে সে অপ্রস্তুত হয়ে পরবে।

যা জানার আরিয়ানের থেকে জেনে নেবে ভাবলো।

"" কিন্তু আমার মনে হচ্ছে তুমি কিছু নিয়ে চিন্তিত খাবারে মনোযোগ নেই।

"" অরিন কিছুটা হাসার চেষ্টা করে বললো ওই আসলে বাবা পড়াশোনা নিয়ে একটু টেনশনে আছি এই আরকি।

"" ওহ।বলে মিজানুর রহমান আবার খাবারে মনোযোগ দিলেন।

অরিন যেনো হাপ ছেড়ে বাচলো।তারপর ভাইয়ের দিকে তাকালে দেখলো ভাই ও তার দিকে তাকিয়ে আছে। সে চোখ নামিয়ে নিলো।

কোনোরকমে নিজের খাবার শেষ করে উঠে গেলো।

নিজের রুমে গিয়ে আবার একটু পড়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু কিছুতেই পড়ায় মন বসছে না তার।

বার বার আদিত্য এর কথা মনে পরছে আর তার চোখ ভোরে আসছে। তার কি দোষ ছিলো এখানে।

জারাই তো তাকে বলতে বারন করেছিলো।নাহলে সে তো চেয়েছিলো আদিত্য কে সবটা জানাতে।

এসব ভাবতে ভাবতেই সে কয়েকবার ফোন দিলো আরিয়ানকে কিন্তু কোনোভাবেই আরিয়ান ফোন তুলছে না।

আরিয়ানকে ফোন তুলতে না দেখে অরিন ঠোঁট ভেঙে জোরে কেঁদে উঠলো।

------------------

"" কিরে শালা তুই আমার বোনকে কি করেছিস?

"" আস্তাগফিরুল্লাহ দোস্ত আমি ওমন ছেলেই নই।তুই আমাকে ওমন ভাবিস ছি।

"" রায়ান যেনো বোকা বনে গেলো সে অবাক হয়ে বললো কি বলছিস তুই এসব।

"" আমি আবার কি বললাম যা বলার তুই তো বললি।আর আরেকটা কথা তআমি তোর শালা নই তুই আমার শালা।

"" রায়ান এবার ভাব নিয়ে বললো হুহ তুই ভুল বলছিস আমি তোর শালা নই সুমুন্দি তাই রেসপেক্ট দিয়ে কথা বলবি নাহলে বোন দিবো না।

"" তুই আমার বা*লের সুমুন্দি।আর আমি তোরে বা*ল দিয়া রেসপেক্ট দিবো।

আর তুই বোন দিবিনা মানে তোর বোনরে উঠায় নিয়ে যাবো আমারে চিনোস তুই।

"" হ্যা সে দেখা যাবে এখন তুই আমারে এইটা বল যে আমার বোনরে কি করছোস তুই?

"" ছি আমি যে বললাম আমি ওমন ছেলে নই আমি যা করার বিয়ের পর করবো।

"" চুপ শালা।আমার বোনের মন খারাপ কেনো তাই বল।

"" তুই আমারে আবার শালা বলিস। আর তোর বোন অনেক ব্যায়াদব হইছে তাই ওরে একটু শাস্তি দেওয়া দরকার তুই সুমুন্দি তুই এসবের থেকে দুরে থাক।

বলে খট করে ফোন কেটে দিলো আরিয়ান।

"" আরে শোন,,,যাহ

রায়ান একটা তপ্ত শ্বাস ফেললো।

---------------------

"" কল কাটতেই অরিনের কল আসলো যা দেখেই আরিয়ানের মুখে হালকা হাসি ফুটে উঠলো।

তুমি কি ভেবেছো জান তোমার ওপর আমি রাগ করে আছি এইটা একদমি ভুল।

আমি আমার বোনকে জানি আর তোমাকেও হয়তো তুমি আমাকে জানাতে চেয়েছো কিন্তু জারা বারন করেছে।

আমি দেখতে চাই তুমি আমার জন্য কতোটা ডেস্পারেট। পাঁচ বছর আগে তোমার নীল চোখের মায়া পরেছিলাম আমি।পাচ

বছর ধরে তোমাকে ভালোবেসেও দুরত্ব সহ্য করেছি।আমি চাই আমার কষ্ট তুমিও

কিছুটা ফিল করো।

মনে মনে ভেবে বিছানায় শুয়ে পরলো।

-----------------------------

পেরিয়ে গেছে কয়েকটি দিন।এই কয়েক দিন অরিনের কাছে যেনো

কয়েকটি বছরের সমান।না ঘুমিয়ে না খেয়ে চোখমুখ শুকিয়ে ফেলেছে একদম।চোখের নিচে কালি পড়েছে ফর্সা মুখে।

অরিন ভেবে পায়না সে এই কয়দিনে এতোটা কি করে ভালোবাসলো আদিত্য কে।

তার নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

"" কেনো এমন করছেন আদিত্য আপনার নীলাম্বরী আপনাকে অনেক মিস করছে।

আপনার অভাবে তার

জীবনটা শুকনো মরুভুমির ন্যায় ঠেকছে।আমি জানিনা কিভাবে এতোটা ভালোবাসলাম আপনাকে।

আপনি না আমায় ভালোবাসেন আমার বলার আগেই আমার সব কষ্ট মুছে

দেন তবে আজ কেনো আপনি এতোটা নিষ্ঠুর হয়ে আছেন।আপনার

কি আপনার নিলাম্বরীর কথা মনে পরছে না একটুও।

বিজ্ঞাপন

আপনার যদি আমাকে মনে না পরে তবে আমিও আর মনে করবো না আপনাকে।ভুলে যাবো আপনাকে।

বলেই আবার ঠোঁট ভেঙে কেদে ফেললো।

--------------------

রায়ান বোনের রুমের পাশ দিয়ে যেতেই ফোপানোর আওয়াজ পেলো যা শুনেই তার কলিজা কেপে উঠলো।

কতো কষ্ট পাচ্ছে তার কলিজার বোনটা আর এই ছেলে কিনা তার

পানিশমেন্ট এর মেয়াদ শেষ করছে না।আজ ওর এক দিন কি আমার একদিন।

"" তুই যদি আমার বোনকে কষ্টই দিবি তাহলে আমার বোনের পেছনে এতো ঘুরার কি ছিলো।নাকি ওকে আর

ভালো লাগছে না। একটা কথা মনে রাখিস তোর জন্য যদি আমার

বোনের কোনো ক্ষতি হয় তাহলে তোকে ছেড়ে কথা বলবো না আমি।বলেই আরিয়ানকে কিছু বলতে না দিয়ে ফোন রেখে

দিলো।

-----------------

আরিয়ান ফোস করে দম ছারলো নাহ অনেক হয়েছে মেয়েটাকে হয়তো বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলছে সে।আর সুমুন্দি টাও

খেপেছে শেষে দেখা যাবে আমার না হওয়া বউটাকে আমার থেকে কেরে

নিলো তখন আমি কাকে নিয়ে থাকবো।আর এই বেটা যে আমার বেস্টফ্রেন্ড তা ভুলেই গেছে।শালা বন্ধু নামের কলংক।

"" আর আমার কি কম কষ্ট হচ্ছে। যাকে একটা দিন না দেখে থাকতে পারিনা.।

আজ কতোদিন হয়ে গেলো ভয়েজটাও শুনিনাই।সবাই শুধু নিজেরটাই ভাবে।আর চুলোয়

যাক আমার ভালোবাসার পরিক্ষা। ও আমাকে ভালো না বাসলেও আমার না বাসলেও আমার। হুহ।

----------------------

রেহান হারে হারে টের পাচ্ছে জারার অনুপস্থিতি তাকে কতোটা পোরায়।আসলে যে জিনিসটা সবসময়

আমাদের সামনে থাকে তার কদর

আমরা তখনি বুঝতে পারি যাখন তা আমরা হারিয়ে ফেলি।

রেহানের অবস্থা ঠিক তেমন।

তার ওপর আরিয়ানটাও কথা বলছেনা এতো চেষ্টা করলো তার সাথে কথা বলার কিন্তু সে সবসময় মুখ ঘুরিয়ে চলে।

রেহান জারার নাম্বার নিয়ে তাকে কল ও করেছে তবে সেই মেয়ে ধরলে তো।রেহানের বুকটা হাহাকার করছে। না খাওয়া না ঘুম।

তিনটা মানুষ তিনদিক ৎেকে ভেঙে পরেছে একদম।

রেহান আজ নেশা করে ফিরেছে তবে অনেক রাত হওয়ায় আয়রা আহমেদ তা

খেয়াল করেন নি তিনি শুয়ে পরেছেন আগেই নাহলে অনেক কষ্ট পেতেন।

তবে আরিয়ান ঠিকি তাকে দেখেছে।

সে টলোমলো পায়ে হাটতে হাটতে বিছানায় গিয়ে ঠাস করে পরলো

তারপর ফিচেল কষ্ট মাখা হাসি নিয়ে হঠাৎ করেই গেয়ে উঠলো

জীবন ভুলে চলতে শেখা ওই হাতেরই ছোয়ায়,আজ ভাঙা বুক

খুজে হাসি মুখ দেখি জলে সে

চিতায়। প্রেম আমার হো...ও প্রেম

আমার,,,,,।

প্রেম আমার হো... ও প্রেম আমার,,!

"" আরিয়ান রেহানের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। ভেতরে এসে তার গায়ে কম্ফর্টার টেনে দিলো।

তারপর রুমে চলে গেলো।

সে ইচ্ছে করে রেহানের সাথে কথা বলছে না তার ফুলের মতো

বোনটা কতোটা কষ্ট পেয়ে দেশ ছেড়েছে।শুধু এই গাধাটার জন্য।অথচ গাধাটা কখনো বোঝেইনি।এখন বুঝুক ঠেলা।

--------------------

""অরিন?

"" জি জি স্যার বলেই লাফিয়ে উঠলো।

"" কি ব্যাপার মনোযোগ কথায় তোমার?

"" আসলে স্যার,,

"" থাক বসো আর ক্লাস শেষে আমার সাথে দেখা করবে।

"" ওকে স্যার।

"" অরিন আজ একাই এসেছে ক্লাসে নাহারকেও দেখছে না। ফোনেও পাচ্ছে না তাকে।তাই তার ক্লাসে মন বসছে না।

ক্লাস শেষে বাসায় যাওয়ার জন্য গেট দিয়ে বের হতেই।

অরিনের ডাক পরলো।

"" কি ব্যাপার তোমাকে আমি ক্লাস শেষে আমার রুমে ডেকেছিলাম।

অরিন নানান চিন্তায় কথাটা একদমি ভুলে গেছিলো। আর মনে থাকলেও যে সে যেতো এমনটা নয়।এই স্যারের

অরিনের ওপর এক্সট্রা কেয়ার।বিষয়টা সে অনেকদিন খেয়াল করেছে তাই এরিয়ে চলে।

তাছাড়া অন্যদিন জারা নাহার সাথে থাকে তাই তেমন কিছু বলেওনা কিন্তু আজ তো সে একা।

"" আসলে স্যার বিষয় টা একদম মাথা থেকে বেরিয়ে গেছিলো।

"" ওহ তোমার কি কিছু হয়েছে? তোমাকে আজকাল অনেক চিন্তিত দেখা যায়।

"" আব না স্যার তেমন কিছুনা।

"" দেখো তুমি আমাকে বন্ধু মনে করে বলতে পারো বলে অরিনের দিকে এগিয়ে আসতে নিলেই কেউ একজন বলে উঠলো

""আমরা বন্ধুরা থাকতেও তোর এতো বন্ধুর কি প্রয়োজন,,,

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প