নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ৩১

🟢

আরিয়ান হসপিটাল থেকে ফিরে এলো রাত দশটায়।

সে এখানে এসেছে আজ একমাস হলো। কিন্তু হসপিটাল এ জয়েন করেছে সাতদিন হলো।তার মামি নেহা যখন

থেকে যানতে পেরেছে সে ঢাকা এসেছে তখন থেকে তারা মামা বাসায়

থাকার জন্য জোরাজুরি করছেন।তবে আরিয়ান সেখানে থাকবে না বলে দিয়েছে।

"" আরিয়ানের বাবাও ওখানে থাকার জন্য জোর করছিলো কিন্তু আরিয়ান সেসবে পাত্তা দেয় নি।

আপাতত কিছুদিন সে এই ফ্ল্যাট এ থাকবে।তাছাড়া ঢাকা আরিয়ানদের নিজস্ব বাসা আছে।

আরিয়ানের মা বাবাও ঢাকায় সিফট হবেন।ঢাকায় তাদের আগে থেকেই ব্যাবসার একটি শাখা আছে।

আর বাসার কিছু কাজ চলছে ততোদিন আরিয়ান এই ফ্ল্যাট এই থাকবে

"" ফ্রেশ হয়ে আসতেই আরিয়ানের মা অধরা বেগম এর ফোন আসলো।

"" হ্যা আম্মু বলো কেমন আছো?

"" আমি ভালো আছি বাবা তুই কেমন আছিস ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছিস তো।আর ঔষধ খাচ্ছিস ঠিকঠাক।

আমি কতোবার বললাম সবাই একসাথে যাই ঢাকা। নাহলে তুই তোর মামা বাড়িতে থাক।

"" উফ মা তুৃ্মি একসাথে কতোগুলো প্রশ্ন করে ফেলেছো একটু দম নাও প্লিজ।আর আমি একদম ঠিক আছি

ঔষধ ও খাচ্ছি ঠিকঠাক। আর রইলো বাকি মামা বাড়ি যাওয়া তুমি জানো সেখানে আমি কেনো যাই না।

"" হুম ঠিক আছে।

"" কল কাটতেই আবার কল আসলো কল করা ব্যাক্তির নাম দেখেই আরিয়ান বিরক্ত হলো।তারপরও তুললো ফোনটা।

"" হ্যা বল নেহা।

"" হেই আরিয়ান কি করছিস বাসায় ফিরেছিস?আমাদের এখানে থাকলে ভালো হতো না আমরা একসাথে টাইমস্পেন্ড করতে পারতাম।

"" দেখ নেহা তোর সাথে আমার কনো প্রেমের সম্পর্ক নেই যে আলাদা করে তোর সাথে টাইমস্পেন্ড করতে হবে।

"" কথাটায় যেনো নেহার ইগো হার্ট হলো সে দাতে দাত চেপে বললো তুই হয়তো ভুলে যাচ্ছিস তোর সাথে আমার এনগেজমেন্ট হয়েছে আমি তোর হবু স্ত্রী।

"" হবু স্ত্রী মাই ফুট!

নেহা রাগে হাতের ফোনটা ছুরে মারলো।

রাগে তার শরীর কাপছে।

কেনো কেনো ওই মেয়েটা দুরে গিয়েও আমার আরিয়ানকে আমার থেকে কেড়ে রেখেছে।

"" আশেপাশে না থেকেও যেনো মেয়েটা আরিয়ানকে আকরে রেখেছে।

এতোগুলো বছর হয়ে গেছে তবুও আরিয়ান ওই মেয়েটাকে ভুলতে পারছে না।

"" What happened baby,,,কেনো এতো টেনশন নিচ্ছো তুমি।

তোমার আংকেল তো কথা দিয়েছেন আরিয়ানের সাথেই তোমার বিয়ে হবে।তাহলে কেনো এতো টেনশন নিচ্ছো।

""তুমি বুঝতে পারছোনা মম। আরিয়ান হঠাৎ করে ঢাকায় সিফট কেনো হলো?এর কোনো না কোনো কারন নিশ্চয়ই আছে।

তাছাড়া ওই মেয়েটা ওই মেয়েটাও তো কথায় আমরা জানিনা।যদি আবার

আরিয়ানকে ওই মেয়েটা কেরে নেয় মম। আমি তখন কি করবো মম।আরিয়ানকে ছাড়া আমি বাচবো না মম।

"" মেয়ের হঠাৎ প্যানিক করায় ঘাবরে গেলেন নেহার মা।নেহার চিন্তাটা অহেতুক নয়।আরিয়ান তো

ইচ্ছে করে এনগেজমেন্ট করেনি তাকে জোর করা হয়েছে।

তবুও তিনি মেয়েকে শানতনা দিলেন।

তার অনেক চিন্তা হচ্ছে কোনোভাবে যদি আরিয়ান নেহাকে বিয়ে না করে তবে তিনি কি করবেন।

-------------------------

আরিয়ান নিজের জন্য ব্ল্যাক কফি বানিয়ে বেলকনিতে বসলো।

সেখানে হালকা চাদের আলো পরছে।

সেই চাদের দিকে তাকিয়ে সে ভাবতে লাগলো বিগত তিনটি বছরের কথা।

যে তিনটি বছর সে মরার মতো কাটিয়েছে।

প্রথম দিকে যখন অরিন হারিয়ে গেছিলো তার বাসায় খোজ নিয়ে জানা যায় তার বাবা-মা এর মৃত্যু হয়েছে।

তার মাথায় যেনো আকাশ রায়ান ও হঠাৎ করে উধাও হয়ে গেছিলো।

একটা বছর সে উন্মাদ এর মতো কাটিয়েছে।

তারপর জানতে পারে রায়ান বিদেশে।

ধিরে ধিরে সে অরিনের খোজ ও পেয়ে যায় সে চাইলেই আরো

দুবছর আগেই অরিনের সামনে আসতে পারতো তবে সে আসেনি।তার অনেক হিসেব বাকি আছে।

যা নেওয়ার সময় এসে গেছে।

"" আরিয়ান বিরবির করে বললো

""তৈরি হও নিলাম্বরী তোমার প্রেমিকের উন্মাদনা দেখতে,তার শান্ত মেজাজ দেখে তুমি অভ্যস্ত হলেও এবার সময় এসেছে তার পাগল রুপ দেখার""

বাকা হেসে সে নিজের ফোন হাতে নিলো।ডায়াল লিস্ট থেকে নাম্বার বের করে ডায়াল করলো।

"" হুম কবে আসছিস?

"" তাড়াতাড়ি আয়।

ফোন রেখে আবার চাদ দেখায় মনোযোগ দিলো।

---------------------

"" অরিনের সন্ধা থেকেই শরীর ঝাকিয়ে জ্বর চলে এসেছে।

তবে সে কাউকে কিছু জানায়নি।

"" মেঘ এর শরীর টা ভালো হওয়ায় সে অরিন এর রুমে আসলে দেখে

মেঘ কাথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে।

মেঘ কপাল কুচকে তাকিয়ে বললো কিরে অরিন তুই এই গরমের মাঝে এমন কম্বল মুড়ি দিয়ে আছিস কেনো বলে গায়ে হাত দিতেই চমকে উঠলো।

জ্বরে গা পুরে যাচ্ছে।

এই অরিন তোর জ্বর আসলো কিভাবে এখন কি করবো আমি।

"" মেঘ অরিনের মাথায় জল পট্টি দিয়ে দিলো তারপর ও তার জ্বর কমছে না।

অনেক ভেবে সে রায়ানকে ফোন করবে বলে ঠিক করলো।

""রায়ান এমন অসময়ে মেঘ এর ফোন পেয়ে অবাক হলো আরো

বেশি অবাক হওয়ার কারন এতোদিনেও মেঘ নিজে থেকে কখনো

তাকে ফোন করেনি।এসব ভাবতে ভাবতেই ফোনটা তুললো।

"" কি ব্যাপার ম্যাডাম হঠাৎ এই অধমকে ফোন দেওয়ার কারন।

"" রায়ান,,,

বিজ্ঞাপন

"" মেঘ এর ভাঙা গলার ডাক শুনে রায়ান চমকে উঠলো।

বিচলিত গলায় বললো

কি হয়েছে মেঘ কাদছো কেনো?কোনো সমস্যা? কেউ কিছু বলেছে?

"" মেঘ কাদতে কাদতে বললো

অরিন,,

"" হ্যা বলো বনুর কি হয়েছে?

"" অরিনের প্রচন্ড জ্বর এসেছে কোনোভাবেই জ্বর কমছে না।

"" রায়ান শস্তি পেলো।

তেমন কিছু হয়নি ভেবে সে তো ভয় পেয়ে গেছিলো।

"" আচ্ছা শোনো তুমি চিন্তা করোনা আমি তোমাকে একটা নাম্বার দিচ্ছি,, এই নাম্বারে ফোন দাও আর কান্না বন্ধ করো।

মেঘা একটু বিরক্ত হলো।

সে রাগি গলায় বললো আচ্ছা অরিন আপনার নিজের বোন তো?

মানে ওকে আপনি ভালোবাসেন তো?

"" রায়ান অবাক হলো এই মেয়েটা এসব কি বলছে।তার বোন তার কলিজা।

কেনো মেঘা কি হয়েছে?

"" আপনি কিসের কি কোনো ঔষধ বা কোনো আইডিয়া দিবেন তা না করে আপনি কার না কার নাম্বার ধরিয়ে দিচ্ছেন।

"" রায়ান ফিচেল হসে বললো এটা কার না কার নাম্বার নয়।আমার বোনের জন্য সবচেয়ে

নিরাপদ আর বিশ্বস্ত যায়গা যার কাছে গেলে আমার বোনকে কোনো বিপদ ছুতে পারবে না।

"" মেঘা একটু অবাক হলো সে কোনোকিছু না বলে ফোনটা রেখে দিলো।

তারপর রায়ানের দেওয়া নাম্বারে ফোন করে সবটা খুলে বললো।

ওপাশের ব্যাক্তিটি যেনো ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে উঠলো।

অবশেষে এই মাঝরাতে কোনো উপায় না পেয়ে কিছু ঘোরোয়া ট্রিকস দিলো আর কিছু ঔষধ নিয়ে আসলো ব্যাক্তিটি।

মেঘা ব্যাক্তিটিকে দেখেই অবাক হলো।

"" ডক্টর আরিয়ান আপনি?

"" হ্যা এখন কোনো প্রশ্ন করবেন না আপনাকে সবটা রায়ান জানাবে আর অরিনকে এ বিষয়ে কিছু জানাবেন না।

"" মেঘা শুধু নিজের মাথাটা ঝুকিয়ে সম্মতি জানালো।

"" আরিয়ান গারি চালাতে চালাতে বললো এতোদিন পর আমাকে দেখে

তোমার এই হাল নিলাম্বরী তবে ভাবো আমার কি অবস্থা হচ্ছে।

তোমাকে তো এর জন্য একটু শাস্তি দিতেই হবে।

Just wait and see,,,,,

বলেই বাকা হাসলো আরিয়ান।

--------------------

পেরিয়ে গেছে প্রায় একটি মাস এর মাঝে আরিয়ানের সাথে অরিনের আর দেখা হয়নি।

""কিরে তুই রেডি হোস নি?

"" আমি না যাই মেঘা প্লিজ।

"" তো কে যাবে হ্যা তুই ছাড়া আর কে আছে আমার কাঁদো কাঁদো গলায় বললো মেঘা।

"" অরিন আর না করতে পারলো না।

আসলে আজ মেঘার

ডক্টর দেখানোর দিন।অরিন যেতে চায় না পরতে চায় না আরিয়ানের

সামনে কিন্তু মেঘা শুনলে তো।

"" হতাশ শ্বাস ফেলে তৈরি হয়ে নিলো সে।

"" যাক ভালোই ব্ল্যাকমেইল করতে শিকেছিস তুই মেঘা বাহ বাহ।

নিজের মনে মনে বললো মেঘা।

তাকে রায়ান সবটাই খুলে বলেছে।সে প্রথম দিকে খুব রাগ করেছিলো তবে সময়ের সাথে সাথে বুঝতে পেরেছে।

দুজন রিক্সা নিয়ে রওনা দিলো।

----------------

অনেকটা সময় বসে থাকার পর আরিয়ান আসলো।

মেঘাকে চেকাপ করা শেষ হলে তাকে কিছু পরিক্ষা করতে দিলো আমি পাশেই বসে ছিলাম।

আচমকা একটা মেয়ে এসে আরিয়ানকে জরিয়ে ধরলো।

"" ওহ আরিয়ান মিস ইউ।

"" আরিয়ান বিরক্ত হয়ে নেহাকে ছড়াতে যাবে কিন্তু অরিনের দিকে তাকিয়ে।

কিছু একটা ভেবে সে নিজেও আলতো করে জরিয়ে ধরলো নেহাকে।

"" মিস ইউ টু,,,

"" নেহা পাশে তাকাতেই অরিনকে দেখে চমকে উঠলো কিছুটা হাসার চেষ্টা করে বললো আরেহ তুমি অরিন না?

কেমন আছো?

এখানে কি মনে করে?

"" অরিন এতক্ষণ আরিয়ান আর নেহার দিকেই তাকিয়ে ছিলো।

কিছুটা হাসার চেষ্টা করে বললো

আমি ভালো আছি আপু।

আসলে আমার বান্ধবীর চেকআপের জন্য এসেছি।

"" ওহ আচ্ছা ভালোই হলো।

শোনো সামনে মাসে আমার আর আরিয়ানের বিয়ে।

জারাও আসছে এতোদিন পর বিদেশ থেকে।

তোমার দাওয়াত থাকলো।সাথে তোমারো মেঘাকে দেখিয়ে বললো।

"" হুম আপু চেষ্টা করবো যাওয়ার।

"" আরিয়ান শক্ত মুখে তাকিয়ে আছে।

এই মেয়েটা এতোটা স্বাভাবিক থাকার নাটক করছে কিভাবে।

আমিও দেখি তুমি কতোদিন সহ্য করতে পারো।

সবটা যেনো মেঘার মাথার ওপর দিয়ে গেলো।তবুও কিছু বললো না সে।

অরিন মেঘা হস্টেলে ফিরে আসলো।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প