অরিন দাড়িয়ে আছে আয়নার সামনে। পরনে তার লাল রঙা শাড়ি।স্লিভলেস ব্লাউজ। চুল গুলো ছেরে দেওয়া।
মুখে হালকা মেকআপ। নীল মনির চোখে কাজল টানা।
তাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। এটা ভেবে সে লজ্জাও পাচ্ছে। আর পাবে নাই বা কেনো
এমন সাজে সে কখনো আরিয়ানের সামনে যায়নি।
আচমকা নিজের মেদ হীন পেটে ঠান্ডা হাতের ছোয়া পেতেই চমকে উঠলো অরিন।
কেঁপে উঠল অরিনের সারা শরীর।
আরিয়ান নিজের নাক ঘসলো অরিনের কাধে এতে কেপে উঠলো অরিন।
নিজের হাস্কি স্বরে বললো
"" কি ব্যাপার ম্যাডাম আমাকে পাগল করার পায়তারা করছেন।
আমি পাগল হলে সামলাতে পারবেন তো ম্যাডাম।
সিউরে উঠলো অরিন।
"" শুনুন না?
"" বলুন না।
"" আপনার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে?
"" হুম।
ততক্ষণে আরিয়ান অরিনকে নিজের দিকে ঘুড়িয়ে তার গলায় মুখ ডুবিয়ে দিয়েছে।
"" আগে শুনুন প্লিজ?
"" ডিসটার্ব করছো তুমি নীলাম্বরী।
""অরিন না পেরে আরিয়ানের সামনে কিটটা ধরলো।
"" আরিয়ান চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে আছে অরিনের দিকে।
"" অরিন ভয় পেলো। আরিয়ান কি খুশি হয়নি।তার কি বাচ্চা চাই না।
অরিনের মুখটা চুপসে গেলো।
কি হইছে আরিয়ান আপনি খুশি হননি?
"" আরিয়ান আচমকা অরিনকে কোলে তুলে নিয়ে তাকে ঘোড়াতে শুরু করলো।
খুশি হইনি মানে আমি খুব খুশি হইছি।
আমার আরেকটা নীলাম্বরী আসবে।
"" অরিনের মুখে হাসি ফুটলো।
"" সবাইকে জানিয়েছো নীলাম্বরী?
"" আপনাকেই প্রথম বললাম ঠোঁট উল্টো বললো অরিন।
আপনি খুশি হয়েছেন আরিয়ান।
"" উম অবস্যই জান।
পেরিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি মাস এর মাঝে রেহান জারারও বিয়ে হয়ে গেছে তবে জারার পড়াশোনা শেষ হয়নি তাই আবার বিদেশে আছে সে।
তার সাথে রেহান ও আছে।
রায়ান আর মেঘার ও বিয়ে হয়েছে তারা তাদের ফ্ল্যাট এ আছে।
অরিন আরিয়ান ও সংসার করছে।
কিন্তু নেহা আরিয়ান কে না পেয়ে পাগল হয়ে গেছে।
জানা গেছে তাকে দরজা বন্ধ করে রাখা হয় ডক্টর তার ট্রিটমেন্ট করছে।
নেহার পরিবার অনেক ভেঙে পরেছে।
নিজের সুস্থ মেয়ের এমন অবস্থা কোন বাবা মা মাতে পারে।
অরিনের এর জন্য মাঝে মাঝে নিজেকে দায়ি মনে হয়।
তবে আরিয়ান তাকে বার বার ই বোঝায় এখানে তার কোনো দোষ ছিলো না।
তাই অরিন ও নিজেকে সমলে রাখে।
এই তিন জুটি এখন সংসার নিয়ে ব্যাস্ত।
----------------------
কি ব্যাপার আন্টি সকাল সকাল এতো তলব যে।
কিজানি বাবা তোমার বোন আর তোমার বন্ধুই সবটা যানে।
মা মেঘা বসো তুমি।
জী আন্টি।
আপনার শরীর কেমন আছে আর আংকেল কোথায়?
তোমার আংকেল আসছে।
এর মধ্যে আরিয়ান নিচে নেমে আসলো।
"" কি হয়েছে রে অরিন জরুরি তলব করলো কোন সমস্যা কি?
রায়ান এর কথায় আরিয়ান হেসে বললো যে তলব করেছে তার থেকেই জেনে নে।
ইশ তোরা তো দেখছি আমাকে টেনশনে মেরে দিবি ভাই।
আর মারবো না ভাইয়া আমি চলে এসেছি।
এইতো অরিন এসে গেছে তার থেকেই জেনে নে।
হুব বল তো?
আসলে ভাইয়া তুমি মামা হতে চলেছো।
ওহ আচ্ছা,, কিহ,,,
অরিন হেসে উঠলো ভাইয়ের এক্সপ্রেশন দেখে।
রায়ান এবার আরিয়ানের দিকে তাকালো।
আরিয়ান মাথা ঝুকাতেই রায়ান লাফিয়ে উঠলো।আয়রা বেগম ও অনেক খুশি সাথে আরিয়ান এর বাবা মেঘাও।
তোমরা সবাই খুশি হয়েছো তো?
সবাই একসাথে বলে উঠলো অবস্যই।
--------------------
ছয় মাস পর,,,,,,
এখন অরিনের পেট অনেকটাই উচু হয়েছে।
তবে হাঁটা-চলা করতে সমস্যা না হলেও আরিয়ান তা করতে দিলে তো।
তিন মাসের মাথায় আরিয়ান তার রুম নিচে সিফট করিয়েছে এখন সে হসপিটালেও তেমন যায়না জরুরি অপারেশন ছাড়া।
অরিন অবাক হয় মাঝে মাঝে আরিয়ানের যত্ন দেখে ধৈর্য দেখে।
অরিন মাঝ রাতে মাঝে মাঝে বায়না করে এটা ওটা খাওয়ার জন্য আরিয়ান নির্দিধায় সবটা মেনে নেয়।
রাতের খাওয়া শেষে আরিয়ান রুমে আসলে দেখলো অরিন মুখ ভার করে নিয়ে আছে।
"" কি হয়েছে আমার নিলাম্বরীর?
"" কিছুনা।
বলেই মাথা নিচু করে নিলো।
"" আরিয়ান অরিনকে ঘুড়িয়ে নিজের দিকে ফিরালো তাকে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে তার কাধে ঠোঁট রাখলো।
এতে অরিন ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো।
আরিয়ান হকচকিয়ে গেলো।
কি হয়েছে পাখি কোথাও ব্যাথা করছে।খারাপ লাগছে বলো আমায়।
ফুপাতে ফোপাঁতে অরিন বললো আমি যদি না থাকি তবে আপনি আবার বিয়ে করবেন।আমার বেবিকে রেখে?
আরিয়ান বিরক্ত হলো। এসব কেমন কথা অরিন এটাই কথা আপনি বলুন না বিয়ে করবেন আবার?
কখনো নাহ আমি তো সারাজীবন তোমার নীল_চোখের_অপেক্ষায় থেকে যাবো। তাছাড়া কম তো অপক্ষা করাওনি তুমি আমায়।
বলেই অরিনের নাকে নাক ঘসলো।
অরিন খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো।
সত্যি তো মানুষ টা তাকে প্রথম যখন ভালোবাসলো তখন তিন বছর অপেক্ষা করেছে আবার যখন পেলো আবার হারিয়ে গেলো সে তারপর আবার ভেবেই হাসি পেলো অরিনের।
--------------------
আরো তিন মাস পেরিয়ে গেছে
অরিনের প্রেগ্ন্যাসির নয় মাস চলছে।
আজ হঠাৎই নেহার মা এসেছে তাদের বাসায়।
অরিন তার পাশেই বসে আছে।
নেহা কেমন আছে আন্টি?
"" এই তো ভালো।
তা তোমার কি অবস্থা কয় মাস।
নয় মাস। আয়রা বেগম জবাব দিলো।
এর মাঝে আয়রা বেগমের ফোন আসায় তিনি উঠে গেলেন।
অরিন আমার জন্য এক গ্লাস পনি আনবে?
জী আন্টি।
অরিন পানি গ্লাস এ ঢেলে ঘুরে দারাতেই হঠাতই
পিছলে পরে যেতেই চিৎকার করে উঠলো।
আয়রা বেগম দৌড়ে এসে ধরলেই দেখলে অরিনের ব্লিডিং হচ্ছে।
তিনি তাড়াতাড়ি ড্রাইভার কে ডেকে অরিনকে ধরে হসপিটাল নিয়ে গেলেন এর মাঝে আরিয়ান হসপিটাল এই ছিলো।
তাকে নিয়াসতেই ওটিতে ঢোকানোর আগেই অরিন চিৎকার করে বললো
আরিয়ান আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি আরিয়ান।আপনার সাথে এই জনম টা কাটিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও তা আর পূরন হবে না আরিয়ান।আমাকে ক্ষমা করুন আপনি।
আপনি আমার বাচ্চাটাকে দেখে রাখবেন।
কিছু হবে না তোমার নীলাম্বরী আমি আছি তো,,,
-------------------
নীল পাখি নীল পাখি কোথায় তুমি?আমাদের লেট হচ্ছে তো মা।
মাম্মা ওয়েট করছে আমাদের জন্য।
"" আসছি পাপা দারাও।
গুটি গুটি পায়ে হেটে আসতে দেখা গেলো একটা মিষ্টি মেয়েকে যার চোখ গুলো হালকা নীল।
আরিয়ান মেয়েকে নিয়ে বেড়িয়ে পরলো।
গাড়ি এসে থামলো একটা কবরস্থানের সামনে।
যার ফলকে বড়ো বড়ো করে করে লিখা।
মিসেস অরিন আহমেদ।
আরিয়ান একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কবরটার দিকে।
পাপা মাম্মা উঠে না কেনো?তার কি আমাদের কথা মনে পরে না।
আরিয়ান মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো পরে তো মাম্মা। তবে সে না আমরা একদিন তার কাছে যাবো।
দুর থেকে সেই দৃশ্য দেখচে আর চোখের পানি ফেলছে রায়ান-মেঘা, জারা-রেহান।
সেদিন নেহার মা এসেছিলেন অরিনকে শেষ করার জন্য আর তিনি সফল ও হয়েছিলো।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এর কারনে অরিনের মৃত্যু হয় আর তার একটি মেয়ে হয় যার নাম নিলা।
এর মাঝে পেরিয়ে গেছে পাঁচ বছর।
নেহার মা জেলে আছে।
তিনি মেয়ের পাগল হওয়ার জন্য অরিনকে দায়ি করতেন আর এটাই ছিলো তার অরিনকে মারার কারন।
আর আরিয়ান সে তার নীলাম্বরী কে হারিয়ে প্রথম প্রথম নিলাকে নিজের কাছে রাখতে চাইতো না পাগলের মতো
ব্যাবহার করতো। তবে তার একবছরের মাথায় সে স্বাভাবিক ভাবে মেয়েকে দেখাশোনা শুরু করে এখন এই মেয়েই তার প্রান।
রাতে মেয়েকে ঘুম পারিয়ে বেলকনিতে গিয়ে বসলো আরিয়ান।
অরিনের একটা ছবি বুকে নিয়ে বির বির করে বলতে লাগলো,,,
আজ পাঁচ টা বছর তোমার অপেক্ষায় আছি আমি আর কতো অপেক্ষা করালে তোমার দেখা পাবো।
আমার যে আর সহ্য হয়না। তুমি বড্ড পাশান নিলাম্বরী সারাটাজীবন আমায় তোমার নীল_চোখের_অপেক্ষায় রাখলে শুধু...