নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ৩২

🟢

পেরিয়ে গেছে কয়েকটি দিন এর মাঝে হঠাৎই একদিন রায়ান দেশে ফিরে আসলো।

অরিন বেশ অবাক হয়েছিল কারন তার জানামতে তার ফিরতে

এখনো ছয়মাস দেড়ি ছিলো তবে সে বেশ খুশি হয়েছে।

রায়ান আসতেই সে হোস্টেল থেকে তার ফ্ল্যাট এ উঠেছে।

অরিন আরও অবাক হয়েছিলো কারন সে জানতো না রায়ান ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনেছে।

তবে রায়ান তাকে বলেছে এটা নাকি তার জন্য সারপ্রাইজ।

ফ্ল্যাট টা সুন্দর তিনটা রুম সাথে এটাস্ট বাথরুম। রুমের সাথে বেলকনি।কিচেন রুম ড্রইং রুম। বেশ গোছানো।

অরিন চলে আশায় মেঘার বেশ মন খারাপ হয়েছিলো।

তবে অরিন তাকে বলে এসেছে খুব তাড়াতাড়ি তাকে পার্মানেন্ট তাদের ফ্ল্যাট এ নিয়াসবে।

এতে মেঘা বেশ লজ্জা পেয়েছিলো।

অরিন জানে তার ভাই মেঘাকে পছন্দ করে আর মেঘাও।

মেঘার আত্মীয় স্বজন কেউ নেই।

অরিন ভাবলো ভাইয়ের সাথে বিষয় টা নিয়ে কথা বলবে।

এসবি ভাবছিলো অরিন ফোনের শব্দে ভাবনাচ্যুত হলো।

আননোন নাম্বার তবুঔ ফোনটা উঠালো সে সালাম দিতেই ওপাশ থেকে ভেসে আসলো

"" কেমন আছো নিলাম্বরী?

ওহ সরি অরিন।

"" অরিনের বুকটা ধক করে উঠলো আরিয়ানে কন্ঠস্বর শুনে।

"" কি হলো কথা বলছো না যে?

"" অরিন গভীর শ্বাস ফেললো বললো

হুম ভালো আছি।আপনি?

"" আমার তো ভালোই থাকার কথা তাইনা?

"" অরিন কিছু বললো না।

"" তুমি আসছো তো?

"" কো,,কোথায়?

"" আমার হলুদের অনুষ্ঠানে।

আমার উড-বি ওয়াইফ তোমাকে এতো করে আসতে বললো অবস্যই আসবে কিন্তু আমি অপেক্ষায় থাকবো।রায়ান কেও বলেছি সে আসবে।

"" উড-বি ওয়াইফ শব্দটা শুনে অরিনের চোখ ছলছল করে উঠলো।বুকে চিনচিন ব্যাথা অনুভব করলো যেনো।

তবে নিজেকে শক্ত করে বললো অবস্যই আমি যাবো আরিয়ান,,,,ভাইয়া।

"" আরিয়ান কল কেটে দিলো।

আসো নিলাম্বরী তোমাকে যে আসতেই হবে।তোমার জন্য অনেক বড়ো সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে।

”"তারপর ফ্রেশ হয়ে বাহিরে গেলো এয়ার্পোরটের উদ্দেশ্যে।

"" সামনে আসতেই কিছুক্ষণ পর একটা মেয়ে তাকে জরিয়ে ধরলো।

আরিয়ানের মুখে কিছুটা হাসি ফুটলো।

"" আই মিস ইউ ভাইয়া এন্ড আই লাভ ইউ।

"" মিস ইউ টু বাচ্চা।

এতো বছর ভাইয়াকে ছাড়া কিভাবে ছিলি তুই বনু।

অন্য একজনকে শাস্তি দিতে গিয়ে আমাদের সবাইকে শাস্তি দিলি তুই।

ভাইয়াকে বললে কি ভাইয়া সল্ভ করতো না সবটা।

জারা একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো।

সরি ভাইয়া।

তখন মাথায় কিছু আসেনি মন চাইছিলো সব কিছু থেকে দুরে সরে যাই।

কিন্তু তুমি এসব কি করছো শুনলাম নেহাকে বিয়ে করছো?আর অরিন

তাকে তো তুমি ভালোবাসো ভাইয়া সে তোমার জীবন ছিলো।তাকে রেখে অন্যকাউকে মেনে নিতে পারবে তুমি?

"" উফ একসাথে কতগুলো প্রশ্ন করলি বলতো আগে বাসায় চল মম তের জন্য অপেক্ষা করছে তারপর নাহয় সবটা জানবি।

"" হুম চলো।

----------------------

অরিন এর খুব কান্না পেলো তবে সে কান্না করলো না এটাই তো স্বাভাবিক সে তো আরিয়ানকে ছেড়ে এসেছিলো।

এখন আরিয়ান অন্যকাউকে বিয়ে করলে তার তো খারাপ লাগা উচিৎ না।

রায়ান দেখলো তার বোনের ছটপটানো।

"" তুই যাবি?

"" অরিন চমকে উঠলো। ভাইয়া তার মানে সবটা শুনেছে।

"" অরিন কিছুটা হাসার চেষ্টা করে বললো অবস্যই যাবো ভাইয়া।

আর তুমিও যাবে।

"" রায়ান সায় জানালো বেড়িয়ে যেতে যেতেই আরেকবার শুধালো

তুই ঠিক আছিস তো বোন।

"" অরিন তার মাথা কাত করলো।

রায়ান চলে গেলো রুম থেকে।

অরিন ধপ করে বসে পরলো।আমি ঠিক নেই ভইয়া আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।

মানতে পারছিনা আমি।ভালোই তো ছিলাম তবে কেমো উনি আবার এই শহরে আসলেন পুরোনো সৃতি মনে করালেন।

---------------

দেখতে দেখতে আরিয়ান আর নেহার গায়ে হলুদ এর দিন চলে আসলো।

অরিন তৈরি হচ্ছে আজ হলুদের অনুষ্ঠান হলেও আজ রায়ান তাকে

বিজ্ঞাপন

একটা নেভিব্লু রঙের গ্রাউন এনে হাতে ধরিয়ে দিয়েছে।

অরিন অবশ্য বলেছিলো সে শাড়ি পরবে তবে রায়ান তাকে বারন করেছে।

আজ তাদের সাথে মেঘাও যাবে তিনজন একসাথে বের হলো।

গাড়ি থেকে নামতেই চোখে পরলো আরিয়ানদের ঢাকার বাসাও বিশাল বড়ো।

অনেক বড়ো করে সবটা আয়োজন করা হয়েছে। চোখে লাগার মতোই।

চারপাশে চোখধাঁধানো সুন্দর সবটা।

অরিন গাড়ি থেকে কিছুটা দুরে আসতেই আচমকা কেউ জরিয়ে ধরলো।

সে আর কেউ না জারা।

কেমন আছিস তুই আমাকে তিনবছরে একবারো মনে হয়নি না?কতো কল করেছি তোকে নাম্বারটাও চেঞ্জ করে নিয়েছিস।

"" অরিনের চোখ ছলছল করে উঠলো। তার কাছে কোনো উত্তর নেই।

সে শুধু সরি বললো।

সামনে তাকাতেই নাহারকেও দেখতে পেলো।

সে এখন প্রেগন্যান্ট ছয় মাসের।পেট কিছুটা ফুলে উঠেছে।

যা দেখেই বুঝলো অরিন জারাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আবার তাকে জরিয়ে ধরলো।

দুর থেকে সবাই তিনজনের এই দৃশ্য দেখলো।কেউ কেউ হয়তো কিছুই বুঝলো না আর জারা এদের বন্ধুত্ব সম্পর্কে জানে তারা দেখলো আর বুঝলো শুধু।

আচ্ছা চল ভেতরে যাই।

অরিন ভেতরে গেলো সেখানে নেহাকে একপাশে বসানো হয়েছে তাকে দেখতে আজ অসম্ভব সুন্দর লাগছে।

তবে অন্যপাশে আরিয়ানের যায়গাটা ফাঁকা।হয়তো আসবে কিছুক্ষণের মধ্যেই।

"" নেহা অরিনকে দেখেই সয়তানি হাসলো ভেতরে একটু জেলাস ফিল করাতে চাইলো তাকে

"" আরে অরিন যে আসো এদিকে এসো।

আমাকে কেমন লাগছে বলোতো।

"" অরিন এগিয়ে গেলো তার কাছে তার ভেতরটা পুরে গেলেও বাহিরেটা শান্ত দেখাচ্ছে।

আপু তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।

"" আচ্ছা আমাকে আরিয়ানের পাশে মানাবে তো দেখো এই ড্রেসটা কিন্তু আরিয়ান ই পছন্দ করেছে।

"" হ্যা আপু অবস্যই মানাবে।

জারা পাশ থেকে কটমট করে তাকালো।কতো বড়ো মিথ্যুক তার ভাই কখন পছন্দ করলো এই ড্রেস।

"" অরিন কিছুটা সময় কাটালো এখানে আচমকা তার গায়ে একটা বাচ্চা হলুদ ফেলে দিলো।

জারা পাশে বসে থাকায় তাকে ওয়াসরুমটা দেখিয়ে দিলে অরিন ভেতরে গেলো।

ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে আসতেই সামবে আরিয়ানাকে দেখে চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো।

নিচে তো সবাই আরিয়ানকে খুজছে সবাই জানে সে বাড়িতে নেই কিন্তু তিনি তো বারিতেই আছে।

আ,,,আপনি এখানে?

-------------------------

জারা অরিনকে রেখে বাহিরে আসতেই একজোড়া হাত তার কোমর জরিয়ে ধরলো। প্রথমে সে চমকালেও পরবর্তীতে নিজেকে শান্ত করে নিলো।

রেহান জারার কাধে নাক ঘসতে ঘষতে হাস্কি স্বরে বললো।

অভিমানি আমাকে দেখে খুশি হওনি তুমি।

রেহানের এমন অযাচিত স্পর্শ আর কন্ঠস্বরে কিছুটা কেপে উঠলো জারা।

রেহান জারার ঘারে অনবরত চুমু দিয়ে যাচ্ছে।

কি,,কি করছেন টা কি ছারুন আমাকে।

ইচ্ছে করছে না।আমার ইচ্ছে করে সবসময় তোর সাথে এমন চিপকে থাকি।

অসম্ভব।

তুই সম্ভব করে দে জান।বিয়ে করে নে আমায়।

জীবনেও না আপনাকে বিয়ে করতে আমার বয়েই গেছে।

রেহান আরেকটু নিবিড়ভাবে চেপে ধরলো জারাকে।

এতেই যেনো জারার কথা হারিয়ে গেলো।তার শরীর কাপতে শুরু করলো।

আবারো শুনতে পেলো

"" আর কতো শাস্তি দিবি জান।তোর অভিমান ভাংতে ভাংতে আমি বুড়ো হয়ে যাবো।

তিনটা বছর কি কম ছিলো।

কথাটা শুনে জারার যেনো হাসি পেলো।

আসলেই তো সে এই লোকটাকে কম নাকানিচুাবানী খাওয়ায়নি তিনটা বছর এখনো খাওয়াচ্ছে বলতে গেলে।

এই দেশ ছাড়ার কিছুদিন পরই আচমকা

রেহান সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়।জারা তো প্রচন্ড অবাক হয়েছিলো।

রেহান গিয়েই জারার কাছে তার ভুল স্বীকার করে মাফ চেয়েছিলো তাকে যে ভালেবাসে এটাও বলেছিলো।

জারা খুশি হলেও তার এতগুলো বছরে পাওয়া কষ্টের কিছুটা অনুভব করানোর জন্য রেহানকে আজ পর্যন্ত মেনে

নেয়নি সে।তবে এতে রেহানের ভালোবাসা একটুও কমেনি।

অনেক ভেবে জারা ঠিক করেছে তার ভাইয়ের বিয়ের ঝামেলা মিটলেই তার আর রেহানের বিষয় টা স্বাভাবিক

করবে।আর বাসার সবাই তো জানেই তাদের বিষয় টা।তারা অনেক খুশিও শুধু সে রাজি না বলেই কেউ কিছু বলেনা।

এই জান কথা বলছিস না কেনো?

মাফ করিসনি এখনো আমাকে।আর কতো শাস্তি দিবি বল?

তার থেকে তুই আমাকে বিয়ে করে নিয়ে শাস্তি দে তাও তুই আমার হয়ে যা প্লিজ।

"" হু।

"" কি সত্যি? উচ্ছসিত কন্ঠে বললো রেহান।

"" জারা মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো।

"" রেহান টুপ করে জারার গালে একটা চুমু খেয়েই রুম থেকে চলে গেলো।

"" জারা সেদিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প